অঞ্জনার হৃদযন্ত্র পেয়ে বেঁচে উঠছে মৃন্ময়

Comments
পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার উদয়নারায়াণপুরের রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা গৃহবধূ অঞ্জনা ভৌমিক (৪৯) এর হৃদযন্ত্র সফল ভাবে প্রতিস্থাপিত হল নদিয়ার তেহট্টের বাসিন্দা মৃন্ময় দাস (৩০) এর শরীরে।
বুধবার, ৩ জুলাই, ২০১৯, সকালে হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনের ঘটনা প্রথমবার ঘটল কলকাতার SSKM-এ।

এসএসকেএম হাসপাতালে (শেঠ সুখলাল কর্ণনী মেমোরিয়াল হাসপাতাল, কলকাতায় পি জি হসপিটাল (প্রেসিডেন্সি জেনারেল হাসপাতাল) বা এসএসকেএম হাসপাতাল নামে পরিচিত) সফল ভাবে হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন হবে কি না, সকাল থেকেই একটা উৎকণ্ঠা ছিল। তবে হতাশ হননি চিকিৎসকেরা। তাঁরা সফল ভাবেই অস্ত্রোপচার করলেন এবং সেই সঙ্গে হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনে নজিরও গড়ে ফেলল এসএসকেএম।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, মৃন্ময়ের অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। এখন গ্রহীতাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তবে ৭২ ঘণ্টা না গেলে, বিপদমুক্ত বলা যাবে না। 

রবিবার, ৩০ জুন, ২০১৯, ব্রেন স্টোকে আক্রান্ত হন অঞ্জনা ভৌমিক। মঙ্গলবার অঞ্জনার ব্রেন ডেথ হওয়ার পর তাঁর অঙ্গদানে সম্মতি দেয় পরিবার। তার পরেই শুরু হয় অঙ্গদানের উদ্যোগ। অঞ্জনার হৃদযন্ত্র, যকৃৎ, দু’টি কিডনি, ত্বক ও কর্নিয়া দান করা হয়। বুধবার হাওড়ার আন্দুল থেকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে মাত্র ১২ মিনিটে গ্রিন করিডর করে আনা হয় হৃদযন্ত্র এবং কিডনি।

নদিয়ার তেহট্টের মৃন্ময় বিশ্বাস অঙ্গদাতা অঞ্জনা ভৌমিকের হৃদযন্ত্র পেলেন। এদিকে যকৃৎ (লিভার) ও বৃক্ক (কিডনী) প্রতিস্থাপনও সফল হয় এসএসকেএম-এ। একটি বৃক্ক পান এসএসকেএম-এর রোগী হারুন রশিদ খান (৬০)। অপর বৃক্কটি পান হাওড়ার বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন যুথিকা বিবি। যকৃৎ পান এসএসকেএম-এরই অপর রোগী বারাসতের বাসিন্দা রিনা সি (৫৩)।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চারটি অঙ্গের গ্রহীতারা সকলেই এখন পর্যন্ত চিকিৎসায় সারা দিচ্ছেন। তাঁদের শারীরিক অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। অঞ্জনার ত্বক রাখা হয়েছে পিজির স্কিন ব্যাঙ্কে, কর্নিয়া রাখা হয় শঙ্কর নেত্রালয়ে।

বাঙালীয়ানা/এসএল

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.