অপারেশন ওভারলর্ড থেকে অপারেশন চিলমারী: ইতিহাসের চোখে দেখা । মারুফ আহমেদ

Comments

 


‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ মানব সভ্যতার ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সংঘটিত পৃথিবীর সর্ববৃহৎ এবং সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ। ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল, এই ছয় বছর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়সীমা ধরা হলেও ১৯৩৯ সালের আগে এশিয়ায় সংগঠিত কয়েকটি সংঘর্ষকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। তৎকালীন বিশ্বে সকল পরাশক্তি এবং বেশিরভাগ রাষ্ট্রই এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং দুইটি বিপরীত সামরিক জোটের সৃষ্টি হয়; যা মিত্রশক্তি আর অক্ষশক্তি নামে পরিচিত। এই মহা-সমরকে ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্তৃত যুদ্ধ বলে ধরা হয়, যাতে ৩০টি দেশের সব মিলিয়ে ১০ কোটিরও বেশি সামরিক সদস্য অংশগ্রহণ করে।

হিটলারের নেতৃত্বাধীন অক্ষশক্তির পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ১৯৪৫ সালের ২সেপ্টেম্বর পৃথিবীর ইতিহাসের নৃশংসতম এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। ভয়াবহতা আর নৃশংসতার ইতিহাসে এই যুদ্ধ অনেকগুলো কারণে জায়গা করে নিয়েছে। তেমনই একটি ভয়াবহ অপারেশন ছিল, অপারেশন ওভারলর্ড৷

১.

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে ১৯৪৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মিত্রবাহীনির পরিচালিত অপারেশন ওভারলর্ডকে পৃথিবীর ইতিহাসের সব থেকে সফল ও বৃহৎ নৌ-বিমান-স্থল অপারেশন বলা হয়৷ একদিন পূর্বে ৫সেপ্টেম্বর অপারেশনের পূর্ব-নির্ধারিত তারিখ থাকলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অপারেশনটি স্থগিত করে ১ দিন পরে ৬ সেপ্টেম্বর পরিচালনা করার স্বিদ্ধান্ত নেয়া হয়৷ বিগত সব অপারেশন থেকে ভিন্ন হওয়ায় এই অপারেশনের কৌশলও ছিল পুরোপুরি আলাদা। মার্কিন পাঁচতারকা কমান্ডার ডোয়াইট ডি আইজেনের সুপ্রিম কমান্ডের অধীনে পরিচালিত অপারেশন ওভারলর্ডের কমান্ডকে তিনটি ভাগে বিন্যস্ত করা হয়েছিল৷

পদাতিক বাহিনীর কমান্ডে ব্যনার্ড মন্টিগোমরী, নৌ-কমান্ডে বেন্টার্ম র‌্যামোসী ও বিমান বাহিনীর কমান্ডে ট্যাফর্ড ম্যালোরীর নেতৃত্বে জিরো আওয়ারের আগেই মিত্রবাহিনীর ট্রুপস ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে। অক্ষবাহিনীর প্রতিরক্ষার দায়িত্বে ছিলেন কিংবদন্তি সমরনায়ক ফিল্ড মার্শাল রোমেল।

এই অপারেশনের লক্ষ্য ছিল মূলত ফ্রান্সের উত্তর উপকূল তথা ইউরোপকে নাৎসীমুক্ত করা।

জিরো আওয়ারে জুনো, ইউটা, ওমাহা ও সোর্ড নামক পৃথক পৃথক পাঁচটি টার্গেটে একসাথে আক্রমন চালানো হয়। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর মিত্রবাহিনীর এই অপারেশন সফল হয়। দুই পক্ষ মিলে প্রায় ২০,৫০০জন সৈন্য নিহত হয়। সমগ্র ইউরোপকে নাৎসীমুক্তের এই অপারেশনকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জয়ের প্রথম ধাপ ধরা হয়।

২.

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আরো ২৬ বছর পর অপারেশন ওভারলর্ডের মত আরেকটি অপারেশন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পরিচালিত হয়েছিল৷ সফলতার বিচারে যে অপারেশনটি হয়ত ওভারলর্ডের সফলতাকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার যোগ্যতা রাখে। কিন্তু সে অপারেশনটি ইতিহাসে জায়গা পায়নি, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নিজের ব্যক্তিগত রঙ দিয়ে মাখানোর তালে আমাদের ইতিহাসবিদরা এই অপারেশনটাকে ইতিহাসে জায়গা দেয়ার কথা ভুলেই গেছেন৷ যারা মনে রেখেছেন তারাও খুব সল্প পরিসরে না বলার মত করে বলে গেছেন৷

৩.

কর্নেল আবু তাহের বীরউত্তম

১৯৭১সালের ১৭ই অক্টোবর ১১নং সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে চিলমারীতে অবস্থানরত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ঘাটিতে একটি অপারেশন পরিচালিত হয়৷ ইতিহাসের যাকে চিলমারী অপারেশন বলা হয়।

আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চা করি তারা যদি অপারেশনের তারিখটার দিকে খেয়াল করি তবে হয়ত অবাক হব৷ অবাক হবার কারণ হচ্ছে, যে সময় এমন একটা আক্রমনাত্নক অপারেশন পরিচালনা করা হল সেটায় মূলত আক্রমনের সময় নয়৷ আরো সহজ করে বলতে গেলে তখনও মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত রুপ পায়নি, তাছাড়া ভৌগলিক অবস্থানের কারনে ১১নং সেক্টরটিকে গেরিলা ওয়ারের নির্দেশ ছিল মুক্তিযোদ্ধা হেড কোয়ার্টার থেকে।

গোটা দেশের মুক্তিযুদ্ধ তখনও এতটা আক্রমনাত্মক অবস্থায় পৌঁছায়নি। ছোটখাট পরিসরে গেরিলা কায়দায় ঝটিকা আক্রমন হচ্ছিল ঠিকই কিন্তু এত বড় পরিসরে দূর্ভেদ্য ঘাটি আক্রমনের ঘটনা আরো পরে ঘটে।

৪.

এতবড় আক্রমন পরিচালনার পেছনে অনেকগুলো কারণ ছিল৷ কর্ণেল তাহের ১১নং সেক্টরের দায়িত্ব পাওয়ার আগে রৌমারী মুক্তাঞ্চলের নিরাপত্তা নির্ভর ছিল জেড ফোর্সের ওপর। ধানুয়া-কামালপুর অপারেশনে ব্যর্থতার জের ধরে জেড ফোর্সকে সিলেটের ছাতকে স্থানান্তর করা হয় ১৯৭১সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে, ক্রমান্বয়ে সিলেট শিফটিং করা হলে ১০অক্টোবরের মধ্যে এগারো নং সেক্টরটি নিয়মিত সৈন্য শূন্য হয়ে পড়ে।

জেড ফোর্সের সিলেটে স্থানান্তরের পর সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্ণেল তাহের পুনরায় কামালপুর জয়ে মনোযোগ দেন। কিন্তু কামালপুর অপারেশনে পুরোপুরি মনোনিবেশ করতে হলে রৌমারী মুক্তাঞ্চলের নিরাপত্তা সবার আগে জরুরী বলে মনে করিছিলেন কর্ণেল তাহের। মুক্তাঞ্চলের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সুবেদার আফতাব বাহিনী ভারতীয় অস্ত্র সহায়তা নিতে অস্বীকৃতি জানায়৷। অন্যদিকে ১লা আগষ্ট আফতাব বাহিনীর চিলমারী থানা এট্যাকের সুত্র ধরে ৪আগষ্ট মুক্তাঞ্চলের একটা বড় অংশ হাতছাড়া হয়ে যায়, ইতিহাসে যা কোদালকাটির পতন নামে বিখ্যাত। আবার চিলমারী বন্দরে পাকিস্তান ক্যাম্পে সদ্য সংযুক্ত তিনটি গানবোট নিয়মিত রৌমারী লক্ষ্য করে ফায়ারিং করতে থাকে, যা মুক্তাঞ্চলের নিরাপত্তার হুমকিস্বরুপ।

সব মিলিয়ে শত্রুপক্ষকে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয়া ও আফতাব বাহিনীকে অস্ত্র সহায়তার মাধ্যমে রৌমারীর নিরাপত্তা জোরদারের কথা চিন্তা করেই চিলমারী অপারেশনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন কর্ণেল তাহের৷

৪.

চিলমারী অপারেশনের সাথে শুরুতে উল্লেখিত অপারেশন ওভারলর্ডের অদ্ভুত রকমের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। আধুনিক সমরবিদগণ এমনকি চিলমারী অপারেশনের কমান্ডার কর্ণেল তাহের নিজেও তার একটি প্রবন্ধে এই অপারেশনকে নরম্যান্ডি ল্যান্ডিং বা অপারেশন ওভারলর্ডের সাথে তুলনা করেছেন৷

অপারেশন ওভারলর্ড যেমন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল, নাৎসীবাহিনীকে ইউরোপ থেকে বিতারিত করে হিটলারীয় অধ্যায়ের সমাপ্ত টেনেছিল তেমনই চিলমারী অপারেশন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছিল, ৬ ও ১১নং সেক্টরের মুক্তিযুদ্ধের পট পরিবর্তন করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিল এই অপারেশন। ১৩ই নভেম্বর রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী কর্তৃক হাতিয়ায় সংঘটিত কাপুরুষোচিত গনহত্যাও চিলমারী অপারেশনে লজ্জাজনক পরাজয়ের প্রতিশোধ।

৫.

অপারেশন ওভারলর্ডের মতই চিলমারী অপারেশনেও একই সময়ে অর্থাৎ জিরো আওয়ারে একই সাথে চারটি টার্গেটে আঘাত হানে মুক্তিযোদ্ধারা, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে যা একমাত্র। অপারেশন ওভারলর্ডের মতই ভোর চারটায় ওয়াপদা ভবন, রাজারভিটা মাদরাসা, চিলমারী থানা ও জোরগাছ স্কুলে তীব্র আক্রমণ চালায় চারটি পৃথক পৃথক দল৷ অপারেশন হেডকোয়ার্টার স্থাপন করা হয় ছালিয়াপাড়া নামক স্থানে, গাজির চরে আর.পি বা রিটার্নিং পোস্ট নির্ধারণ করে অপারেশন চালানো হয়। এই অপারেশন এতটাই সুক্ষ্ণ পরিকল্পনার মাধ্যমে করে হয়েছিল যে তা পরিচালনার জন্য এগার নং সেক্টরের প্রায় সব ক’টি কোম্পানীকে একত্রিত করা হয়েছিল। গাইবান্ধার রঞ্জু কোম্পানী ও ৬নং সেক্টরের দূধর্ষ খাইরুল কোম্পানীর সহায়তা নেয়া হয়েছিল ‘কাট অফ টিম বা সংযোগ বিচ্ছিন্নকারী টিম’ হিসেবে।

ডিনামাইট ব্যবহার করে রেললাইন, ব্রিজ উড়িয়ে দেয়ার জন্য আলাদা টিম গঠন করা হয়েছিল, দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তৎকালী রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ছাত্র সাজুর নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছিল তিন সদস্যের মেডিকেল টিম।

৬.
মূল অপারেশনের দায়িত্বে ছিল আবুল কাশেম চাঁদের কোম্পানী। মূল টার্গেটকে চারটি ভাগে ভাগ করে প্রত্যেক ইউনিটকে কয়েকটি ছোট ছোট দলে বিন্যস্ত করে চারদিক থেকে আক্রমণ চালানো হয়। অপারেশন কমান্ডার কর্ণেল তাহের ছালিয়াপাড়া অপারেশন হেড কোয়ার্টারে অবস্থান নিলেও মাঝামাঝি পর্যায়ে মাত্র একজন দেহরক্ষী নিয়ে সরাসরি অপারেশনে যোগ দেন৷

এই অপারেশন ৯৫ মাউন্টেন ব্রিগেডের এক ব্যাটালিয়ন ভারতীয় সৈন্য অংশ নেয়ার কথা ছিল। কর্ণেল তাহেরের অমতের ফলে ভারতীয় সৈন্যরা ছালিয়াপাড়া অপারেশন ক্যাম্পে অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাদের অংশগ্রহণের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রয়োজন পড়ে নি৷

তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের দিক বাদ দিয়ে যদি সফলতা কিংবা সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করি তবে চিলমারী অপারেশন ওভারলর্ডের থেকেও ঢের বেশী সফল ছিল৷ স্বজাতির ইতিহাস বলে নয়, বিশ্লেষণ সেটাই বলে।

অপারেশন ওভারলর্ডের আক্রমন পরিকল্পনা করেছিলেন সেসময়ের বিখ্যাত সব বাঘা বাঘা সব মার্কিন পাঁচতারকা জেনারেলরা৷ সেখানে চিলমারী অপারেশনের পরিকল্পনা করেছিলেন কর্ণেল তাহের একাই, টার্গেট এরিয়ার ম্যাপ তৈরী হয়েছিল রেকী টিমের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে। সাব সেক্টর কমান্ডার সফিকউল্যাহ চিলমারী রেকি করে মাটি দিয়ে তৈরী করেছিলেন পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর অবস্থানের চিত্র৷

অপারশন ওভারলর্ডে অংশ নিয়েছিলেন দেড় লক্ষাধিক আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত সৈন্য, যাদের প্রত্যেকে অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।অন্যদিকে চিলমারী অপারেশনে অংশগ্রহণকৃত যোদ্ধাদের দিকে যদি তাকাই দেখতে পাই হাতে গোনা তিন-চারটে প্লাটুন বাদে বাকিরা সবার প্রথম অপারেশন ছিল এটি। মাত্র পনেরদিনের প্রশিক্ষণে একবারও সরাসরি রাইফেল হাতে নেয়ার সুযোগ না পেয়ে বাঁশের তৈরী ডামি দিয়ে প্রশক্ষণ নেয়া যোদ্ধারা প্রশিক্ষণ শেষে ক্যাম্পে বসে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে গেছিল৷ পাকিস্তানীদের রক্তের বিনিময়ে স্বজন হারানোর প্রতিশোধে দিশেহারা যোদ্ধাগন কমান্ডারকে ভাতের বদলে অপারেশনের অনুমতি চেয়েছিলেন। চিলমারী অপারেশন পরিচালনার ক্ষেত্রে এই নতুন যুক্ত যোদ্ধাদের উদ্যোম একদিকে যেমন ছিল যুদ্ধ জয়ের মূল হাতিয়ার অন্যদিকে কাঁচা হাতের করা সামান্য ভুলে সর্বোচ্চ মাশুল গোনার সমূহ সম্ভাবানও ছিল।

অংশগ্রহণকৃত যোদ্ধাদের মাত্র ১৫ শতাংশকে অস্ত্র দেয়া সম্ভব হয়েছিল,বাকি ৮৫ শতাংশের হাতে ছিল একটি করে হ্যান্ড গ্রেনেড। পুরো অপারেশন মিলে ভারী অস্ত্র বলতে ছিল একটি রকেট লাঞ্চার, দুইটি লাইট মেশিনগান ও অনধিক দশটি স্টেনগান বাকিগুলো সব ছিল থ্রি নট থ্রি রাইফেল।

৭.
লুঙ্গি আর স্যান্ডো গেঞ্জি পড়ে সেদিন একটি করে হ্যান্ড গ্রেনেড হাতে নিয়ে প্রবল বিক্রমে পাকিস্তানিদের শক্তিশালী ঘাটিয়ে উড়িয়ে দিয়েছিল আমাদের দামাল ছেলেরা৷ উদ্ধার হয়েছিল প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি। মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে গ্রেফতার হয়ে জনতার রায়ে ফায়ারিং স্কোয়াডে নিহত হয়েছিল চিলমারীর দুই কুখ্যাত রাজাকার ওয়ালী মাহমুদ ও পঞ্চু মিয়া৷

৮.

যুদ্ধ কোন প্রি-প্লান গেইম নয়৷ কিংবা ইতিহাস পাতানো ক্রিকেট ম্যাচও নয়৷ তবুও মাঝেমাঝে কাকতালীয়ভাবে ইতিহাসের সাথে ইতিহাস মিলে যায়৷ যেমনটা মিলে গেছে পৃথিবীবিখ্যাত অপারেশন ওভারলর্ডের সাথে চিলমারী অপারেশনের ইতিহাস৷ আফসোস শুধু এটুকুই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একমাত্র ও পৃথিবীর যুদ্ধইতিহাসের অন্যতম সফল এই অপারেশন নিয়ে কাজ করার ফুসরত পান নি আমাদের ইতিহাসবিদগণ৷ অন্যসব ব্যাপারের মতই আড়ালে থেকে গেছে অবহেলিত কুড়িগ্রামের দামাল ছেলেদের বীরত্বগাথা৷

লেখক পরিচিতি:

মারুফ আহমেদ, লেখক, মুক্তিযুদ্ধ বিশ্লেষক

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.