অভিজিৎ রায় হত্যাকান্ডের চার্জশিট পেশ

Comments

বুধবার, ১৩ মার্চ, ২০১৯, ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ব্লগার ও লেখক অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের মামলায় ছয়জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোজিম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (পরিদর্শক) মো. মনিরুল ইসলাম। আদালত সূত্রে জানা গেছে চার্জশিট দাখিল করলে বিচারক সরাফুজ্জামান আনছারী তা গ্রহণ করে পরবর্তী শুনানির জন্য ২৫ মার্চ দিন ধার্য করেছেন।

সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক এবং ‘উগ্রপন্থি ব্লগার’ সাফিউর রহমান ফারাবীসহ ছয়জনকে আসামি করে এবং ১৫ জনকে অব্যাহতি দিয়ে বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায় হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি)।। চার্জশিটে অভিজিতের স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাসহ ৩৪ জনকে সাক্ষী করা হয়।

অভিযুক্ত আসামিরা হল, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন (সাংগঠনিক নাম শাহরিয়ার), মো. আবু সিদ্দিক সোহেল (৩৪) ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব (সাংগঠনিক নাম সাকিব, সাজিদ, শাহাব), মো. আরাফাত রহমান (সাংগঠনিক নাম- সিয়াম ওরফে সাজ্জাদ) (২৪) ও হত্যাকাণ্ডে উসকানি বা প্ররোচনাদানকারী শাফিউর রহমান ফারাবী (২৯), সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে মেজর জিয়া (চাকুরিচ্যুত মেজর) তার সাংগঠনিক নাম- সাগর, বড় ভাই (৪২) ও আকরাম হোসেন ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে হাসিবুল ওরফে আব্দুল্লাহ (৩০)। এদের মধ্যে মেজর জিয়া ও আকরাম হোসেন পলাতক রয়েছে।

অব্যাহতি প্রাপ্ত আসামিরা হল সাদেক আলী ওরফে মিঠু, মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান, আমিনুল মল্লিক, জাফরান হাসান, জুলহাস বিশ্বাস, আব্দুর সবুর ওরফে রাজু সাদ, মাইনুল হাসান শামীম, মান্না ইয়াহিয়া ওরফে মান্নান রাহি, আবুল বাশার, মকুল রানা, সেলিম, হাসান, আলী ওরফে খলিল, অনিক ও অন্তু। এদের মধ্যে, আসামি সাদেক আলী ওরফে মিঠু, মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান, আমিনুল মল্লিক, জাফরান হাসান, জুলহাস বিশ্বাস, আব্দুর সবুর ওরফে রাজু সাদ ও মাইনুল হাসান শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অব্যাহতি আবেদন করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

মান্না ইয়াহিয়া ওরফে মান্নান রাহি ও আবুল বাশার চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যায়। মকুল রানা খিলগাঁও এলাকায় বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়। অপর পাঁচ আসামি সেলিম, হাসান, আলী ওরফে খলিল, অনিক ও অন্তের নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতি আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

দীর্ঘ চার বছর তদন্তের পর আদালতে জমা দেওয়া এই  অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে,  নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের (আগের নাম আনসারুল্লাহ বাংলা টিম)  নেতা জিয়ার নির্দেশেই অভিজিতের ওপর হামলা হয়। জিয়ার নির্দেশ ছিল, একুশে বইমেলাতেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারী রাত ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশে সন্ত্রাসীরা অভিজিৎ রায় ও তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদকে কুপিয়ে জখম করে। আহত অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অভিজিৎ।

ওই ঘটনায় ২৭ ফেব্রুয়ারী অভিজিতের বাবা অজয় রায় শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

বাঙালীয়ানা/এসএল

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.