‘অযোধ্যা নয়, দিল্লি চলো’

Comments

।। কলকাতা ডেস্ক ।।

‘অযোধ্যা নয়, দিল্লি চলো’, ‘মন্দির মসজিদ নয়, রুটি চাই’-স্লোগান তুলে ২৯-৩০ নভেম্বর ভারতের রাজধানী দিল্লির রাস্তা এবং সংসদ মার্গ চত্বর প্লাবিত করে দিল কিসাণ মুক্তি মার্চ।

এই মহামিছিলের উদ্যোক্তা, দু’শরও বেশি কৃষক-খেতমজুর সংগঠনের মঞ্চ ‘কৃষক সংঘর্ষ সমন্বয় সমিতি’-র দাবি, চাষ সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা আলোচনা করতে বিশেষ সংসদীয় অধিবেশনের আয়োজন করতে হবে। পাশাপাশি কৃষক ঋণ থেকে মুক্তি বিল (The Farmers’ Freedom from Indebtedness Bill) এবং ফসলের ন্যূনতম দামের দেড়গুণ সহায়ক মূল্য ধার্য করে বিল পাশ করাতে হবে।

এর আগে জুলাই মাসে ১৪টি খারিফ শস্য ও অক্টোবরে ৬টি রবি শস্যের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু কৃষক সংগঠনগুলোর দাবি তা মোটেও পর্যাপ্ত নয়। সরকার আগে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের হার আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবে মেলেনি। তাই এবার প্রতিশ্রুতির ভরসায় না থেকে নিজেদের দাবি আরও সংগঠিতভাবে সরকারের সামনে তুলে ধরতে চায় তারা। সারা দেশে ঋণের ভারে জর্জরিত কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনা বেড়েই চলেছে। কৃষক সংগঠনগুলির দাবি, চাষিদের অবস্থা এতটাই খারাপ যে তারা রাজধানীতে কিষাণ মুক্তি মার্চ আয়োজন করতে বাধ্য হয়েছে। গত এক বছরে এই নিয়ে বারেবারে কৃষক বিক্ষোভ সংঘটিত হয়েছে ভারতে।

২৯ নভেম্বর তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র, কেরালা, অন্ধ্রপ্রদেশ, পঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরপ্রদেশসহ দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে কৃষকরা দিল্লির রামলীলা ময়দানে জমায়েত হন। মহারাষ্ট্র ও কর্নাটক থেকে দু’টি বিশেষ ট্রেনে কৃষকরা এসেছেন। কৃষক নেতাদের বক্তব্য, বিভিন্ন বামপন্থী দলসহ ২১টি রাজনৈতিক দল তাদের দাবির পাশে আছে। পরের দিন, ৩০ নভেম্বর, বেসরকারী বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই লাখ কৃষক মিছিল করে সংসদ মার্গের দিকে রওনা হন।

রাজধানীর বোট ক্লাবে জমায়েত তো দূরের কথা, ৩০ নভেম্বর রামলীলা ময়দান থেকে সংসদ মার্গ পর্যন্ত কৃষকদের মহামিছিলেরও অনুমতি দিতে প্রথমে রাজি ছিল না দিল্লি পুলিশ। সেইমত প্রায় ৩৫হাজার কৃষককে আটক রাখে তারা, রাস্তায় অবস্থান চলতে থাকে। পরে জন সমাবেশ আরও বাড়তে থাকলে চাপে পড়ে মত পালটায় পুলিশ। রামলীলা থেকে মিছিল করে আসা যাবে না-২৯ নভেম্বর রাতে এই সিদ্ধান্ত বদলে ‘সর্বভারতীয় কিসান সংঘর্ষ সমন্বয় কমিটি’র নেতাদের ছাড়পত্র দেয় দিল্লি পুলিশ। রামলীলা ময়দান-আনন্দ বিহার-নিজামুদ্দিন-সহ বিভিন্ন জায়গায় রাত কাটিয়ে সকাল ১০টায় শুরু হয় ‘কিসান মুক্তি মার্চ’।


যানজটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া রাজধানীর রাস্তায় কৃষকেরা বাস, গাড়ি, অন্য যানবাহনের যাত্রীদের হাতে হাতে ধরিয়ে দেন লিফলেট, তাতে লেখা ‘মাফ কিজিয়ে গা’। ‘আমাদের মার্চের জন্য আপনার অসুবিধা হল। আপনাকে বিরক্ত করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়’। কোথাও বা লেখা ‘আপনি ১ কিলো মুগ ডাল কেনেন ১২০ টাকা দিয়ে, আমরা পাই ৪৬ টাকা, টমেটো আমরা পাই কিলোতে ৫ টাকা, আপনি দেন ৩০ টাকা’। দিল্লির মানুষ মিছিলের মুখেদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। একাধিক গুরুদ্বার লঙ্গর খুলেছে; খাবার, জল ও ওষুধের ব্যবস্থা করেছেন কোথাও ডাক্তার, কোথাও আইনজীবী, কোথাও বা নাগরিক মঞ্চ ও ছাত্রদের সংগঠনগুলি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, আসন্ন লোকসভা ভোটের আগে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের বীজ বুনে দিল কৃষকদের এই বিক্ষোভ সমাবেশ। মোদী সরকারের বিরুদ্ধে চাষিদের ক্ষোভকে সামনে রেখে প্রায় সব বিরোধী দলের নেতারাই সংসদ মার্গের মঞ্চে এককাট্টা হয়েছেন। কৃষক নেতাদের দাবি ছিল একটাই। মঞ্চে এলে তাদের দাবিকে সমর্থন জানাতে হবে। কৃষকদের এই বিক্ষোভ মিছিল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে এ যাবত কালের সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ। এর আগে গত বছর একই ভাবে ভারতের বাণিজ্য রাজধানীতে পদযাত্রা করে এসেছিলেন লক্ষের বেশি কৃষক। বারবার কৃষক বিক্ষোভ স্বভাবতই সরকারের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে।

বাঙালীয়ানা/এসসি/জেএইচ

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.