আয়েশা ফয়েজ সাহিত্য পুরস্কার প্রদান

Comments

ঊনিশশো একাত্তর সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বর্বর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর নির্মমতায় হারিয়েছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা স্বামীকে। দেশ স্বাধীনের পর ছয় সন্তানকে আগলে রেখে জীবনসংগ্রাম চালিয়ে গেছেন অবিচল থেকে। তিনি রত্নগর্ভা আয়েশা ফয়েজ। তিনি নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ, শিক্ষাবিদ ও কথাশিল্পী মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং কার্টুনিস্ট ও রম্য লেখক আহসান হাবীবের মা। তিনি নিজেও ছিলেন একজন লেখক। ‘জীবন যে রকম’ ও ‘শেষ চিঠি’ নামে দুটি আত্মজৈবনিক গ্রন্থের মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করেছেন দেশের সাহিত্যাঙ্গনে।

২৩ মার্চ ২০১৯, শনিবার ছিলো তাঁর ৮৯তম জন্মদিন। ২০১৪ সালে প্রয়াত হওয়া এই অসাধারণ নারীর স্মৃতির প্রতি সম্মান রেখে দেশের অন্যতম প্রধান প্রকাশনী সংস্থা তাম্রলিপি ২০১৬ সাল থেকে শুরু করে ‘আয়েশা ফয়েজ সাহিত্য পুরস্কার’ প্রদান। এরই ধারাবাহিতায় ২৩ মার্চ, শনিবার প্রদান করা হলো ২০১৮ ও ২০১৯ সালের আয়েশা ফয়েজ সাহিত্য পুরস্কার। ২০১৮ সালের ৩ মার্চ মুহম্মদ জাফর ইকবাল মৌলবাদী হামলায় গুরুতর আহত হওয়ায় গত বছরের এই অনুষ্ঠানটি স্থগিত রাখা হয়। তাই এবছর একই সাথে ২০১৮ ও ২০১৯ সালের পুরস্কার প্রদানের আয়োজন করে তাম্রলিপি।

২০১৮ সালে সামগ্রিক সাহিত্যিক অবদানের জন্য সালেহা চৌধুরী ও নবীন বিভাগে সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি এবং ২০১৯ সালে সামগ্রিক সাহিত্যিক অবদানের জন্য জাপানী লেখক নাওমি ওয়াতানাবে ও নবীন বিভাগে মিথিলা আকন্দ এ পুরস্কার পেয়েছেন। পুরস্কার হিসেবে তারা পেয়েছেন যথাক্রমে ৫০ হাজার টাকা ও ২৫ হাজার টাকা।

শনিবার বিকেলে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত তিন লেখকের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, বাচিকশিল্পী অসীম বিভাকর, কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব ও আয়েশা ফয়েজের বড় মেয়ে অধ্যাপিকা সুফিয়া হায়দার। দেশের বাইরে অবস্থান করায় সালেহা চৌধুরী পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন নি। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ড. রতন সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন তাম্রলিপির প্রকাশক তারিকুল ইসলাম রনি। তিনি বলেন, “অন্য যেকোনো পুরস্কারের চেয়ে এই পুরস্কার ব্যতিক্রম। এখানে প্রতিবছর এমন ২ জনকে পুরস্কৃত করা হয়, যারা নারী এবং যারা আগে কখনো তাদের সাহিত্যকর্মের জন্য কোনো পুরস্কার পাননি।”

অসীম বিভাকর বলেন, “আয়েশা ফয়েজ সব প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে নিজে দাঁড়িয়েছেন, সন্তানদের দাঁড় করিয়েছেন। তিনি অন্যের স্বপ্নকে পরিচর্যা করেছেন আমৃত্যু। এ কারণে তিনি অনুকরণীয় হয়ে থাকবেন।”

সবশেষে ড. মুহম্মদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, “আমাদের মা সাদাসিধে ধরনের মহিলা ছিলেন। আমাদের মা এ কারণে আমাদের কাছে তিনি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদের কাছে নাও হতে পারেন। কিন্তু এ মা না থাকলে আমরা কেউ বেঁচে থাকতে পারতাম না।” বড় ভাই হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমরা ভাইবোনেরা মজা করে বলি, আমাদের মায়ের ভালবাসার শতকরা ৯৫ ভাগ পেয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ। বাকি পাঁচ ভাগ আমরা পাঁচ ভাই-বোন।”

অনুষ্ঠানে আয়েশা ফয়েজের পরিবারের সদস্য, বিভিন্ন লেখক-প্রকাশকসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

 

বাঙালীয়ানা/এসএস

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.