উদযাপনের খেরো । লুৎফুল হোসেন

Comments

শহরের আঙিনা থেকে পাশবালিশের মতো
সরে যাচ্ছে শিশু শিশু অভ্যাস,
হাওয়াই মিঠাই বানাবার কলে
তৈরি হতে থাকা গোলাপি মেঘের বদলে
জন্ম নিচ্ছে গাঢ় ধূসর ছাইরঙ
দমবন্ধ কালো ধোঁয়ার আগ্রাসী আঁধার, 
কদর্য কথার কলুষে চাপা পড়ছে
বিশ্বস্ত সকল নিষ্পাপ ভালোবাসা,
আর তার করতল ভর্তি নতজানু প্রস্তাব
পকেট বন্দি পড়ে থাকে উচ্চগ্রাম নাচঘরে,
তোমরা বলছো এ শহরে এখনো
পাখিরা আনন্দের সারগামে গান ধরে –
প্রতি সন্ধ্যায় যত্নে বোনা আপন ঘরে ফেরে,
বলছো এখনো প্রেমিকার খোঁপায়
ভালোবাসায় অন্ধ প্রেমিক ফুল গোঁজে,
বলছো এখনো সন্ধ্যা হলে
আঁধারের আগে আগে
ছেলেপুলে মাঠ ছেড়ে ঘরে ফেরে,
বাতাসের বাহানায় কিশোরীর ওড়নায়
উদ্দাম সাগরের প্রাণ খোলা ঢেউ খেলে,
লাইটপোস্টের আলোছায়ায় ভেলপুরির
চঞ্চল স্বাদে কৈশোর রোজ খেলা করে –
কম্পমান জীবনের বুকে ক্যানভাসময়
ভেসে থাকা রূপালি পর্দার মুখ সব
ঘাসফড়িঙের ডানায় স্বপ্ন বেঁধে রোজ
শৈশবের ক্যানেস্তারায় বাজায় সময়।

এইসব উপনিষদ অনর্গল মহাকাব্যে
তোমরা আসলে কোন শহরের কথা বলছো!

ধরা যাক অস্তগামী সূর্যের কাছে
দিগন্তের আলিঙ্গনে পৌঁছে গেছে,
সমস্ত লোভাতুর নাগরিক ইচ্ছে
ধরা যাক এরচে’ অধিক কোনো বিস্তার
লিখে নাই আমার সৌভাগ্যের কড়িকাঠ,
সম্ভাবনার এটুকুই প্রাপ্তি আজ
এটাই সীমান্ত আমাদের সঙ্গম
সন্তান ও মর্ত্যের সকল সম্ভাবনার;

বছর ঘুরে সময় যখন পরিব্রাজক জীবন চায়
মাৎসর্যের ঘষটে যাওয়া পুরোনো আয়নায়,
যখন ইলিশের বাল্যবিবাহ দৈনিকে শিরোনাম হয়
তখন দেউরি ও দোররার ঘায়ে কিশোরীও
তালাকের উপহারে অবনমিত খোলামকুচি হয়,
আমাদের সুখী মন আশ্চর্য শ্লাঘায় তারাবাতি হয়
নতজানু সভ্যতা আমাদের শেখায় রোজ
সপ্তবর্ণা উৎসবের মানে, আর সেই টানে
আমরা মুখর উদযাপনে আয়োজন করি ভোজ।

বছর ঘুরে এই আমাদের সিন্ধু মহেঞ্জোদারো
হাল-কুশলী বৈশাখের মিঠাই মণ্ডা মুড়িমুড়কি দিন
চড়কি দোলনা সোয়ারীঘাট পুতুলনাচের সুতার টানে
সপ্তরঙা দিনযাপনে বিপুল দক্ষ আমরা সবাই নিরো।

০৭ এপ্রিল ২০১৯

 

কবি:
লুৎফুল হোসেন
Lutful Hossain

 

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.