একগুচ্ছ কবিতায় মুজিব

Comments

যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান
ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।
দিকে দিকে আজ অশ্রুমালা রক্তগঙ্গা বহমান
তবু নাই ভয় হবে হবে জয়, জয় মুজিবুর রহমান।

-অন্নদাশঙ্কর রায়

এই সিঁড়ি

রফিক আজাদ
এই সিঁড়ি নেমে গেছে বঙ্গোপসাগরে,
সিঁড়ি ভেঙে রক্ত নেমে গেছে-
বত্রিশ নম্বর থেকে
সবুজ শস্যের মাঠ বেয়ে
অমল রক্তের ধারা ব’য়ে গেছে বঙ্গোপসাগরে।
মাঠময় শস্য তিনি ভালোবাসতেন,
আয়ত দু’চোখ ছিল পাখির পিয়াসী
পাখি তার খুব প্রিয় ছিলো-
গাছ-গাছালির দিকে প্রিয় তামাকের গন্ধ ভুলে
চোখ তুলে একটুখানি তাকিয়ে নিতেন,
পাখিদের শব্দে তার, খুব ভোরে, ঘুম ভেঙে যেতো।
স্বপ্ন তার বুক ভ’রে ছিল,
পিতার হৃদয় ছিল, স্নেহে-আর্দ্র চোখ-
এদেশের যা কিছু তা হোক না নগণ্য, ক্ষুদ্র
তার চোখে মূল্যবান ছিল-
নিজের জীবনই শুধু তার কাছে খুব তুচ্ছ ছিল :
স্বদেশের মানচিত্র জুড়ে প’ড়ে আছে
বিশাল শরীর…
তার রক্তে এই মাটি উর্বর হয়েছে,
সবচেয়ে রূপবান দীর্ঘাঙ্গ পুরুষ :
তার ছায়া দীর্ঘ হতে-হ’তে
মানিচিত্র ঢেকে দ্যায় সস্নেহে, আদরে!
তার রক্তে প্রিয় মাটি উর্বর হয়েছে-
তার রক্তে সবকিছু সবুজ হয়েছে।
এই সিঁড়ি নেমে গেছে বঙ্গোপসাগরে,
সিঁড়ি ভেঙে রক্ত নেমে গেছে-
স্বপ্নের স্বদেশ ব্যেপে
সবুজ শস্যের মাঠ বেয়ে
অমল রক্তের ধারা ব’য়ে গেছে বঙ্গোপসাগরে ॥

তোমার শতবর্ষে আমার শত অপরাধ

কবীর হোসেন তাপস
তোমার বাজার মূল্য আজও অনেক চড়া
তাই তেমার নামেই দামামা বাজিয়ে, ঢোল
ফাটিয়ে কী অশালীন ভাবে আমরা
তোমাকেই বিক্রি করে চলেছি
রাজনীতির হাটে।
টিস্যু বাক্সে তোমার ছবি,
বিরিয়ানির প্যাকেটে তোমার ছবি,
বিজ্ঞাপনের টেন্ডারে তোমার ছবি,
মিথ্যা কথার টিভি চ্যানেল তেমার ছবি,
হটকারীর দৈনিকে তোমার ছবি,
মূত্র গন্ধময় অসহায় দেয়ালে তোমার ছবি।
অথচ ষোল কোটির হৃদয়ের গভীরে তোমার
ছবি থাকবার কথা।
সে আসন তোমার নিজের হাতেই গড়া।
তুমি সেখানে অদৃশ্য হয়েও দৃশ্যমান।
সেই সব হৃদয়েরা এখন তোমার থেকে
ঐ আলোকবর্ষ দূরে।
তোমাকে ঘিরে এখন রাজ মচ্ছব।
তোমাকে ভাঙিয়ে দেনা পাওনার মহা উৎসব।

রক্তের গম্বুজ

হাবীবুল্লাহ সিরাজী
তর্জনী তুলতেই
আকাশ আমাদের হ’য়ে গেলো
পা ফেলতেই
চৌহদ্দি নির্দিষ্ট হ’য়ে গেলো
এবং তাকাতেই
প্রবাহিত হ’তে থাকলো নদী
তাঁর কণ্ঠস্বরে সূর্য ও সবুজ এক হ’লো :
‘আমার সোনার বাংলা…’
স্বপ্ন ডাক দিয়েছিলো টুঙ্গিপাড়ায়।
সাতচল্লিশে বনে-বনে বাঘ
বাহান্নোর কুমির ভেসে যায় ভাটায়
সুন্দরী কাঠের নাও পাল তুলতেই
পদ্মা-যমুনা মেশে বঙ্গোপসাগরে
ছেষট্টি ফরফর ওড়ে, চৌচির মাটি —
ঊনসত্তর পোড়ে, মচ্মচে বুটে ও চক্চকে বেয়োনেটে
সত্তর পার হয় সাহসে
একাত্তরে কলস উপুড়
রক্ত ও ক্রোধের মধ্যে পাঁক ও ঘৃণা :
‘শুয়োরগুলো খেদা !’
বত্রিশ নম্বর এখন রক্তের গম্বুজ
তার চূড়ায় মূল দলিল, নকশা আর পর্চা…

মুজিবের থাকা না থাকা

লুৎফর রহমান রিটন
দেয়ালে দেয়ালে সারা দেশ জুড়ে লেখা ছিলো তাঁর নাম
পুরনো দেয়াল সেই অজুহাতে করিয়েছি চূনকাম।
টিভির ফুটেজে সংরক্ষিত ছিলো তাঁর যতো ছবি
এডিট করেছি ইরেজ করেছি নষ্ট করেছি সবই।
ছোটদের যতো পাঠ্যসূচিতে লেখা ছিলো তাঁর নাম
জ্ঞাণপাপী কিছু লেখক জুটিয়ে সব ছেঁটে ফেললাম।
রেডিওতে ছিলো তাঁকে নিয়ে গাওয়া কালজয়ী কিছু গান
ইরেজ করেছি নষ্ট করেছি গান হলো অবসান।
চলচ্চিত্রেও ছিলো তাঁর ছবি, দিয়েছি বেজায় ঘষে
ভেবেছি মুজিব ইতিহাস থেকে চিরতরে গেছে খসে।
ইতিহাস থেকে মুজিবের নাম মুছে দিয়ে অতঃপর-
উল্লাসে মাতি-নেই নেই নেই, নেই সেই মুজিবর ।
এতো মুছলাম এতো কাটলাম এতো ঘষলাম তবু
এই বাংলায় মুজিবর নেই বলতে পারি না কভু।
এতো কাটা-ছেঁড়া তবুও মুজিব কী করে সজীব রয় ?
এই বাংলায় কারা অবিচল মুজিবের কথা কয়!
প্রকৃতির কাছে পাঠ নিতে নিতে অবশেষে জানলাম
এই বাংলার পরতে পরতে লেখা আছে তাঁর নাম!
যেদিকে তাকাই এই বাংলার মাটি আর আসমান
সবখানে দেখি মুজিবের ছায়া আর তাঁর জয়গান।
প্রতিদিন জেনো সূর্যের নামে মুজিব উদিত হয়
প্রতিদিন জেনো দখিনা বাতাস মুজিবের নামে বয়।
প্রতিদিন জেনো মুজিবের নামে সহস্র ফুল ফোটে
মুজিবের নাম গান হয়ে ওঠে হাজারো পাখির ঠোঁটে।
প্রতিদিন জেনো ভোরের শিশির মুজিবের নামে ঝরে
মুজিবের নামে টাপুর টুপুর অঝোরে বিষ্টি পড়ে।
রাতের আকাশে মুজিব জোছনা , আকাশে মুজিব চাঁদ
নদী কলোকলে ঝর্ণার জলে মুজিবের সংবাদ।
ফসলের মাঠে প্রতি মৌসুমে প্রতিটি শস্যকণা
মুজিবের যতো কীর্তিকে নিয়ে করে শুধু আলোচনা।
কৃষকের চোখে হাসে মুজিবর নবান্ন উৎসবে
মুজিব মুখর শাপলার বিলে ডাহুকের কলরবে।
নৌকার পাল লাঙলের ফলা এবং ধানের শীষে
ঊর্মির ভিড়ে সমূদ্র তীরে মুজিবর আছে মিশে।
বটের ছায়ায় উদাসী দুপুরে রাখালের প্রিয় বাঁশী
সিম্ফনি তোলে-মুজিব তোমাকে ভালোবাসি ভালোবাসি।
মায়ের আঁচলে বোনের বেনীতে বাবার জায়নামাজে
অষ্টপ্রহর মুজিবর আছে সকল শুভর মাঝে।
কিষাণি বধূর সন্ধ্যা প্রদীপে পড়ে মুজিবের ছায়া
নকশী কাঁথার বুননে বুননে মুজিবের যতো মায়া।
জারি সারি আর ভাটিয়ালী গানে মুজিবের যতো কথা
মুজিবের প্রেমে নুয়ে পড়ে ঘাস লাজুক স্বর্ণলতা।
শরতে আকাশে শাদা শাদা মেঘ মুজিবের ছবি আঁকে
ধ্রুবতারা হয়ে মুজিবর আছে তারাদের ঝাঁকে ঝাঁকে।
বইয়ের মলাটে মুজিবর আছে কবিতার পঙক্তিতে
ফেব্রুয়ারির প্রভাত ফেরিতে নাটকে ও সঙ্গীতে।
মুজিব মূর্ত চারুশিল্পীর বিমূর্ত ক্যানভাসে
বাংলার দুখে বাংলার সুখে মুজিবর কাঁদে, হাসে।
মিছিলে মিছিলে শ্লোগানে শ্লোগানে পোস্টারে ফেস্টুনে
লাল অক্ষর আরো লাল হয় মুজিবের তাজা খুনে।
শ্রমিকের ঘামে মজুরের শ্রমে শিশুদের সমাবেশে
উদ্দীপনার হিমালয় হয়ে মুজিব দাঁড়ায় এসে।
শিক্ষার্থীর মননে মেধায় মুজিবর জাগ্রত
ধ্বংসস্তুপে মুজিবর জাগে ফিনিক্স পাখির মতো।
লাখো শহীদের শোনিত প্রবাহ মুজিবের পানে ধায়
জোনাকীর আলো জ্বলে আর নেভে বিনম্র শ্রদ্ধায়।
দ্রোহে প্রতিবাদে প্রতিরোধে জেনো মুজিবর আছে কাছে
স্মৃতিসৌধ ও শহীদ মিনারে মুজিবর মিশে আছে।
মুজিবর আছে বাংলাদেশের অপরূপ পতাকায়
মুজিবর আছে মানচিত্রের মায়াভরা আঙিনায়।
এদেশের কোটি মানুষের বুকে মুজিব নিয়েছে ঠাঁই
তিনি অবিনাশী অবিনশ্বর তাঁহার বিনাশ নাই।

পিতা, আমি সাগরের বিলীনতা দেখিনি

মহসীন মন্টু
[নিহত জনক এগামেমনান কবরে শায়িত আজ – শামসুর রাহমান]
আমি পাহাড় বিলীন হতে দেখেছি ।
বনানী, জনপদ, নদী, আর সংহারিত হৃদয় দেখেছি ।
সাগর দেখিনি ।
নগর, মানবিক সভ্যতার বিনাশ দেখেছি ।
মাথায় শ্বেত শুভ্র মুকুট , আমি সেই সুউচ্চ পর্বত ,
কোটি বছরের আয়ুষ্মান ।
পাখীদের গান, ফুল আর প্রজাপতির নম্র নৃত্যে অবগাহন করেছি ।
পদ্ম বিলে বকেদের খড় কুটো ভালোবাসা দেখেছি ।
নির্বান্ধব দালানের কোটরে চড়ুই আর শালিকের আগমন প্রস্থান দেখেছি ।
সুবোধ আয়েশি বেড়ালের থাবায় যূথবদ্ধ সংসারে যুযুধান সংহনন দেখেছি ।
জটিল কুটিল জীবনের মানুষের সংঘাত সংহতি দেখেছি ।
অবশেষে সাগর দেখিলাম ।
উত্তাল ফুঁসে উঠা গর্জন !
বক্ষদেশে আগ্নেয়গিরি!
আমি সাগরের বিলীনতা দেখিনি ।
সমুদ্রের কোন বিলীনতা নেই ।
বিধৌত মৃত্তিকায় রাশি মলিনতা বুকে; তবু নতজানু মলিনতা নেই ।
সাগরের বিলীনতা সাগরেই , সমুদ্রের কোন ভাঙন নেই ।
আছে শুধু রাশি রাশি আগ্রাসি ভালবাসা।
আর গাহনের উল্লাসে আদমের ভুল করে ভেসে যাওয়া ।

স্ফুলিঙ্গ

হিমু অধিকারী
তোমাকে খুন ক’রে উল্লাসে মেতে
তোমারই মাটিতে দাঁড়িয়ে হিসাব চেয়েছিল
পাকি বন্দনার নব্য রাজাকারের দল,
বিজিতের সাথে বিজয়ীর সে কী ঢলাঢলি-গলাগলি।
হায়, কী নিষ্ঠুর কতিপয় তোমারই বিশ্বস্ত অনুচর!
তবুও তুমি বঙ্গবন্ধু
মৃত্যুকে জয় করা
বাংলায় বিরাজিত মানবতার স্ফুলিঙ্গ
কোটি হৃদয়ের কান্ডারী,
তাইতো তোমার স্মৃতিময় সেই কবিতা
সুরের মূর্ছনায় দিকভ্রান্ত যোদ্ধাকে
ফিরিয়ে দিয়েছে একাত্তরের বারুদ,
এখনও চোখে জল, বুকে সাহস নিয়ে জয়োল্লাসে
দিগন্ত প্রকম্পিত ক’রে তারা গেয়ে চলে
মুক্তির চেতনায় – জয় বাংলা, বাংলার জয়।

বঙ্গবন্ধুর বজ্রকন্ঠে !!

রবিউল হুসাইন
হঠাৎ করে ঢাকা শহর উঠলো জ্বলে
আমরা তখন হতভম্ব অবাক হয়ে
চেঁচিয়ে উঠি কী হলো এই মধ্যরাতে অসময়ে
চারিদিকে গুলি গোলার শব্দ কেন দাবানলে
পুড়ছে নগর কামান ছুঁড়ে বাড়ি-ঘর-দোর
ধ্বংস করে মানুষ মারে নির্বিবাদে কারা এরা
নিরস্ত্র আর নির্দোষীদের পরে জানি পাক-সেনারা
নির্বাচনে হেরে ওরা পাগলা কুত্তা খুনীর দোসর
করছে শুরু বাংলা-নিধন নির্বিচারে নিষ্ঠুরতায়
এমন কি বাংলাভাষার শহীদ মিনার স্বাধীনতার
উৎস-প্রতীক সেটিকেও বোমা মেরে নৃশংসতার
বিকৃত এক মনোরোগে গুঁড়িয়ে দিল বর্বরতায়
সেই ভয়াল রাতে লক্ষ মানুষ খুন করেছে পাক-সেনারা
তিরিশ লক্ষ গণহত্যার শুরুটি হয় এমনি করে তাদের হাতে
শোষণ-শাসন অত্যাচার আর অবিচারের রক্তস্রোতে
সিনান করে বাঙালিসব শপথ করে পাকিদের করবে তাড়া
মার্চের সাতে বঙ্গবন্ধুর বজ্রকন্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা
এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম
এভাবেই স্বাধীনতার মুক্তিযুদ্ধ পঁচিশ মার্চে সূচনা
ডিসেম্বরের ষোলতে শেষ হাজার বছরের পরাধীনতা
আর মার্চের ছাব্বিশে শুভযাত্রা বাংলাদেশের স্বাধীনতা
ছেচল্লিশ বছর থেকে আজ দৃশ্যমান বাংলাদেশের অস্তিত্ব
সুখে-দুঃখে চিরটিকাল টিকে থাকুক বাঙালির এই কৃতিত্ব

জেগে আছি, থাকবো প্রতীক্ষায়

সাগর লোহানী
বাঁশ ঝাড়ের আড়াল থেকে
থোকায় থোকায় জোনাক
যখন শিয়রে ঘুম ভাঙানীয়া গান শোনায়
তখন কি তোমার মনে পড়ে মায়ের কথা?
প্রখর রোদের দুপুরে সেই সেদিনের কথা কি মনে পড়ে
যখন অল্প ক’জন মানুষ
৫৭০ সাবানে তোমায়
৮ কোটি মানুষের ভালোবাসার লোবানে ভাসিয়েছিল?
সেই লোকটিকে তোমার মনে আছে
দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য ছুটতে ছুটতে
রেডক্রস থেকে এনেছিল মোটা পাড়ের শাড়ী
তোমায় ঢেঁকে দিয়েছিল সফেদ শাড়ীতে?
তোমার কি মনে পড়ে ক্রন্দসী সেই নারীর মুখ
বাড়ীর চৌহদ্দির বাইরে দাঁড়িয়ে যে
তোমাকে শেষ বারের মত দেখবার আকুলতায়
পিশাচ হৃদয়েও ফাটল ধরিয়েছিল?
আচ্ছা নেতা, সত্যি করে বলবে
তোমার কি মনে আছে তাদের কথা
যারা তোমায় সিঁড়িতে রক্তাপ্লুত ফেলে রেখে
ছুটে গেছিল বঙ্গভবনে, মুজিবকোট ছুঁড়ে ফেলে?
আমি জানি
আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি
তোমার সব মনে আছে
তুমি তো ভোলো না কিছুই
যেমন করে মনে রাখতে
তোমার প্রতিটা কর্মীর নাম!
তোমার অজানা নেই আরও অনেক কিছুই
৮ কোটি মানুষের সেদিনের বোবা কান্না
রাস্তার পিচ কেটে ছুটে বেড়ানো ট্যাংক
সঙ্গীন উঁচিয়ে কালো কাপড়ের হায়েনা উল্লাস
মুহুর্মুহু বেতারে হুকুম-হুমকি-ধমক,
তোমায় হারিয়ে হতবিহ্বল মানুষ
ক্রোধ, ক্ষোভ, ঘৃণায় ফেটে পড়তে পারেনি
কেন তা তুমি জান।
সেদিন মায়ের জঠরে, মায়ের শাড়ীর আঁচলে
তোমায় ঢেকে দিয়েছিল যাঁরা
তাঁরা আজও বেঁচে আছে
তাঁরা আজও অপেক্ষায় আছে
গভীর বিশ্বাসে আজও চেয়ে আছে দিগন্তে ……
আবার একদিন মুজিব আসিবে বাংলায়
আবার একদিন মুজিব কাল পূর্ণিমায় দিবে হাঁক
‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম’।

হন্তারকদের প্রতি

শহীদ কাদরী
বাঘ কিংবা ভালুকের মতো নয়
বঙ্গোপসাগর থেকে উঠে আসা হাঙরের দল নয়
না, কোন উপমায় তাদের গ্রেপ্তার করা যাবেনা।
তাদের পরনে ছিল ইউনিফর্ম,
বুট, সৈনিকের টুপি,
বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাদের কথাও হয়েছিল,
তারা ব্যবহার করেছিল
এক্কেবারে খাঁটি বাঙালির মতো
বাংলাভাষা। অস্বীকার করার উপায় নেই ওরা মানুষের মতো
দেখতে, এবং ওরা মানুষই
ওরা বাংলার মানুষ
এর চেয়ে ভয়াবহ কোন কথা আমি আর শুনবোনা কোনদিন।

পনেরো আগস্ট

লুৎফুল হোসেন
মুঠিতে তোমার অবাক আগুন
আঙুল যাদুর কাঠি
তোমার ভাষণে কোটি জনতাকে
দুঃখেও দিয়েছো হাসি
শব্দে শব্দে মন্ত্রমুগ্ধ
বিপ্লবী চেতনার বাঁশি
তোমার জন্যে হন্যে ছুটেছে
কোটি জনতার স্রোত
তোমার কণ্ঠে বেঁধেছে বাংলা
মুক্তি সেনার ক্রোধ
যার যা কিছু আছে তা নিয়েই সে
রুখে দাঁড়াবার বোধ
যে মাটিতে নিত্য ছুটেছো তেজে
মিছিলে হেটেছো ঋজু
দল বেঁধে প্রতিরোধে দেশ জুড়ে
সাহসে বেঁধেছো বাজু
যেইখানে চাষা শ্রমিক মজুরে
তোমাকে দিয়েছে ভোট
নিজ অধিকার বাঁচাবেই বলে
জান্তা রুখতে একজোট
সেই দেশে যারা স্বাধীন মাটিতে
তোমাকে ছুঁড়েছে গুলি
তোমার উপর ক্রোধটা মেটাতে
স্ত্রী সন্তান পৌত্র
সবার শরীরে বিঁধিয়ে দিয়েছে
ঘৃণ্য তপ্ত শীশা
তাদের তুমি বিলিয়েছিলে স্নেহে –
অকাতর ভালোবাসা
সেইসব ভুল অর্বাচিনের
বিভ্রমের মাশুল
পালকের মতো ডানা থেকে খুলে
বেদনা ঝরানো উন্মুল
দিনের পিঠে জুড়ে দিয়েছে সেই ক্ষত
রক্ত যেখানে ঝরছ অবিরত
তোমার স্মৃতি রক্তমাখা পাঞ্জাবি
বোধের এপিটাফ, বুকে বাঁধানো ছবি
পনেরো আগস্ট আমার দেশের
শোক ও ভ্রমের গান
লাল সবুজের পতাকা উঁচিয়ে
মাথা করে রাখা টান
উচ্চকিত কণ্ঠে, তীব্র আবেগে, চিৎকারে,
পিতাকে জানানো সম্মান।

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.