। শাহ সাঈদ কামাল ।
দেশপ্রেমী মা ~
ঠা-ঠা-ঠা, কানের কাছে গুলির আওয়াজে, লাফ দিয়ে ঘুম থেকে উঠলাম। কয়েক মুহূর্ত স্থির থেকে বুঝার চেষ্টা করছি, কী হচ্ছে। ইতোমধ্যে সহযোদ্ধাদের অনেকেই আমার মতো জেগে উঠেছে। গুলির শব্দ শুনে মনে হলো পাকিস্তান আর্মির আক্রমণ। ব্যক্তিগত অস্ত্র হাতে নিয়ে ঘরের বাইরে এলাম। ঘর মানে, মাটির ঘর, দেয়ালটা খুব পুরু। ভিতর থেকে ঠিক যে কোন দিক থেকে শব্দটা আসছে বুঝতে পারা কঠিন। আমার সাথের যোদ্ধারাও বেরিয়ে এসেছে। গ্রামের দু-চার জন উদ্বিগ্ন মানুষ আমাদের ক্যম্পের পাশে জড়ো হতে শুরু করেছে। প্রথমে আশঙ্কা করেছিলাম যে আমাদের ক্যাম্পের ওপরই আক্রমণ হয়েছে, এখন মনে হচ্ছে একটু দূরে, ২-৩ মাইল হতে পারে। রাতের নিস্তব্ধতার জন্য এতো কাছে মনে হয়েছিল। অনবরত চাইনিজ রাইফেল, এলএমজি-র গুলির শব্দ আসছে।
যেদিনের ঘটনা সেটা হলো ঈদের রাত, রোজার ঈদের দিন পেরিয়ে যে রাত সেই দিবাগত রাতের। গুলির শব্দ আসছে দক্ষিণ দিক অর্থাৎ ইছাপুর বাজারের দিক থেকে। ঐ দিকটায় মায়া ভাই এবং আরও দুই একজনের ক্যাম্প। আমাদের ক্যাম্প হরদি বাজারে। সরাসরি আমাদের ক্যাম্প আক্রান্ত না হওয়ায় সাময়িক স্বস্তি। এই সময় গ্রামের কিছু লোক এসে খবর দিলো যে ইছাপুরেই আক্রমণ হয়েছে। বর্তমানে যে বিমানবন্দর, সে দিক থেকে একটা কাঁচা রাস্তা সোজা পূর্ব দিকে (উত্তরখান-দক্ষিণখানের মাঝ দিয়ে ৪-৫ মাইল আনুমানিক) ইছাপুরার দিকে এসেছে। পাকিস্তান আর্মি সেই রাস্তা ধরেই এদিকটায় এসেছে । আগেই বলেছি, এই এলাকাটাই বর্তমানে পূর্বাচল প্রকল্প। এর মধ্যেই আব্বাস ভাই, ফেলু ভাই ও আঙুর ভাই এসে উপস্থিত, আমরা চারজন এবং গ্রুপের বয়োজ্যেষ্ঠ কয়েকজনকে নিয়ে আমাদের করণীয় কী সে ব্যাপারে আলোচনায় বসলাম। সংক্ষিপ্ত আলোচনা, দ্রুত সিদ্ধান্ত হলো:
১। আমাদের ক্যাম্পের গোলাবারুদ সব জঙ্গলের বিভিন্ন যায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে লুকিয়ে রাখতে হবে যদি কোনো কারণে আমাদের পিছু হঠতে হয় তবে এই গোলাবারুদ যেনো পাকিস্তান আর্মির হাতে না পড়ে। এই সংকট কাটার পর ঐ সব গোলাবারুদ উদ্ধার করা যাবে। কিছু লোককে এই দায়িত্ব দেওয়া হলো।
আমাদের গ্রুপে তখন লোক সংখ্যা ৩০-৩৫ থেকে প্রায় ১০০ এর কাছাকাছি। অধিকাংশই স্থানীয় ছেলে ও যুবক নতুন যারা সংযোজিত, তাদের আমরা শুধু কিছু ন্যূনতম প্রশিক্ষণ এবং গ্রেনেড ও রাইফেল চালানো কিছু কিছু শিখিয়েছি কিন্তু তাদের অস্ত্র দেওয়া সম্ভব ছিলো না। মূলত তাদেরই এই দ্বায়িত্ব দেওয়া হলো। কিছু ছেলে রাজাকার বাহিনী থেকে পালিয়ে অস্ত্রসহ আমাদের সাথে যোগ দেয়, সংখ্যা ৩/৪ জন, তাদেরও এই দায়িত্বে সম্পৃক্ত করা হলো।
২। ৭-৮ জন করে ৪টি ভাগে ভাগ হয়ে আমরা গুলির শব্দের উৎসের দিকে রওয়ানা দেবো। গ্রুপ কমান্ডারের সিদ্ধান্তে, যেখানে যেরকম প্রয়োজন সেভাবে পাকিস্তান আর্মির মোকাবেলা করবো।
৩। কিছু ছেলে ক্যাম্পে থাকবে, বিকল্প ক্যাম্প হিসেবে আরও ২টি জায়গা নির্ধারিত করা হলো। যদি কোনো কারণে আমাদের ক্যাম্পটি হাতছাড়া হয় তবে বিকল্প ক্যাম্পগুলিতে আমরা জড়ো হবো।
৪। গ্রামবাসীদের নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে বলা হলো এবং শত্রুর ব্যাপারে কোনো তথ্য পেলে সবচেয়ে কাছের মুক্তিযোদ্ধা গ্রুপকে জানানোর জন্য বলা হলো।
মুক্তিযোদ্ধারা, যারা বাংলাদেশের ভিতরে, শত্রুর বেষ্টনির মাঝে থেকে যুদ্ধ করছে, তাদের মূলত গেরিলা ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। এই ট্রেনিং এর মূল কৌশল বাঁ উদ্দেশ্য হলো “Hit and Run” অর্থাৎ শত্রুকে তড়িৎ আঘাত করে দূরে সরে যাওয়া। শত্রুকে ব্যতিব্যস্ত রাখাই যার মূল লক্ষ্য। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো শত্রুর মনোবল ভেঙে ফেলা। আমাদের অস্ত্রের যোগানও সেভাবেই দেয়া, ষ্টেনগান– যার গুলির কার্যকর দূরত্ব ৫০ মিটার, শহরের ভেতর, স্বল্প দূরত্বে যুদ্ধের জন্য খুব উপযোগী। এসএলআর– যা সিঙ্গল শট অটোমেটিক রাইফেল, যার গুলির কার্যকর দূরত্ব ৩০০ মিটার তার সাথে যথেষ্ট পরিমাণ গ্রেনেড, বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক, নানা প্রকার মাইন দেওয়া হয়েছিলো; যা মূলত বিষ্ফোরণের কজে যেমন গুরুতপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্রিজ, কালভার্ট অথবা এমন স্থাপনা যেটা শত্রুপক্ষকে বিপর্যস্ত করবে তা ধ্বংসের কাজে ব্যবহার করার জন্য। তাছাড়া আমাদের ট্রেনিংয়ের স্থায়িত্ব মাত্র ৩ বা ৪ বা ৫ সপ্তাহ। এতো অল্প সময়ে অস্ত্র, গোলাবারুদ সম্বন্ধে একটি ধারণা পাওয়া যায় মাত্র। অতএব অস্ত্র ও ট্রেনিং এর অপ্রতুলতা থাকা সত্বেও যুদ্ধের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের আসল পুঁজি ছিল নিরেট দেশপ্রেম, সাহস এবং সর্বোপরি সাধারণ মানুষের সমর্থন ও সাহায্য। মুক্তিযোদ্ধারা তাদের মূল সরবরাহ লাইন থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে জনগণই তাদের থাকা, খাওয়া ও অন্যন্য আনুসাঙ্গিক ব্যাপারে আসল ভরসাস্থল ছিল।
অপরদিকে পাকিস্তান আর্মি একটি নিয়মিত, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও অভিজ্ঞ সেনাবাহিনী ট্রেনিং এবং অস্ত্র এই দুই দিকেই তারা একটি যে কোনো আধুনিক সেনাবাহিনীর সমকক্ষ। তাদের দুর্বলতা ছিল নৈতিকতা তথা আদর্শগত দিক ও মনোবল।
প্রসঙ্গে ফিরে আসি। আমি ৮ জনের একটি গ্রুপ নিয়ে ইছাপুরা বাজারের দিকে রাওয়ানা হলাম। ভোরের সূর্যের আলো ফুটে উঠছে। শত্রু মোকাবেলায় আমরা সড়ক পথে এগুচ্ছি। মায়ের মুখটা ভেসে উঠল, নিশ্চয়ই এখন ফজরের নামাজ শেষে আমার জন্য দোয়া করছেন। মনে মনে বললাম ‘মা আরও বেশি দোয়া করো’। তোমার দোয়াই আমাদের সকলের খুব বেশি দরকার। আমাদের ৮ জনের মধ্যে ৫ জনের হাতে এসএলআর। বাকিদের হাতে স্টেনগান, যা দূরের লক্ষ্যবস্তুর ওপর গুলি করার ক্ষেত্রে কোনো কাজে আসবে না। পুরো জায়গাটা জঙ্গল, মাঝে মাঝে ছোটো ছোটো টিলা। আমরা এগুচ্ছি বালু নদীকে হাতের ডানে রেখে। ঘন্টাখানেক চলার পর আমরা নদীর বাঁকে এমন যায়গায় পৌঁছলাম যেখানে নদীর ওপারে ইচ্ছাপুরার দিকে যাবার রাস্তা। থেকে থেকে খুব কাছ থেকে গুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে অর্থাৎ শত্রু খুব কাছে। আমাদের অবস্থান থেকে রাস্তার দূরত্ব আনুমানিক ৭৫ গজের মত, অর্থাৎ আমাদের রাইফেলের রেঞ্জের মাঝে রাস্তাটা গ্রাম থেকে বের হয়ে চারদিকে নিচু জায়গার মাঝ দিয়ে নদীর ঘাটের দিকে এগিয়ে গেছে। নিচু জায়গাটায় বর্ষার পানি। মাটি ফেলা রাস্তাটা প্রায় ৬/৭ ফুট উঁচু। রাস্তার উপরটা একসাথে ৩/৪ জনের হাঁটার মতো প্রশস্ত। আমরা জঙ্গলের গাছের আড়ালে একটা ঢিবির পাশে পজিশন নিয়ে প্রস্তুত। এমন সময় শত্রুর দেখা মিললো। দূর থেকে দেখলাম ১৫/২০ জনের পাকিস্তানি আর্মির একটা দল মাটির রাস্তার উপর দিয়ে না হেঁটে রাস্তার দু’পাশে ঢালু জায়গা দিয়ে অস্ত্র হাতে অনেকটা কুঁজো হয়ে এগুচ্ছে। দূর থেকে মনে হলো ওদের হাতে চীনা এলএমজি এবং রাইফেল। আমার ছেলেদের প্রতি কড়া নির্দেশ, আমি প্রথম গুলি করলে তারপর অন্যরা গুলি শুরু করবে। মনে বেশ উত্তেজনা, এই শীতের সকালেও ঘামছি। আমাদের কারও পরনে লুঙ্গি আর গেঞ্জি বা হাফ প্যান্ট আর গেঞ্জি, কোমরে গামছা দিয়ে গুলি বা ম্যাগজিন বাঁধা। পাকিস্তানি গ্রুপের অর্ধেক সৈন্য আমাদের গুলির আওতায়, বাকি অর্ধেক রাস্তার অপর পাড়ে ঢালুর ওপর হওয়ায়, আওতার বাইরে।
টান টান উত্তেজনা। সহযোদ্ধাদের মুখের দিকে একবার চোখ বোলালাম, শত্রু নিধনের দৃঢ় প্রত্যয়, মনে মনে বললাম ‘সাবাশ’। এর পরই প্রথম গুলি আমার। সাথে সথে আমাদের অন্য অস্ত্রগুলি গর্জে উঠল। এসএলআর সিঙ্গল শট ফায়ার করে, কিন্তু কী কারণে জানিনা আমারটা পুরোপুরি অটোমেটিক হয়ে গেল। গুলির সাথে সাথে দেখলাম ৩/৪ জন লাফ দিয়ে পড়ে গেল, বাকিরা শুয়ে ক্রলিং করে রাস্তার অপর পারে ঢালুতে চলে গেল। কতজন হতাহত হলো বোঝা গেল না (পরে গ্রামবাসীর কাছে শুনেছি যে ওরা ৪/৫ জনকে কাঁধে করে গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে গেছে)। আমরা গুলি করে কিছুক্ষণ থেমে আছি। কারণ অনবরত গুলি চালানোর মতো গুলি আমাদের নেই। এরপরেই শুরু হল শত্রুর পাল্টা গুলি। বৃষ্টির মতো আমাদের মাথার উপর দিয়ে শিষ দিয়ে যেতে লাগলো। আমি কিছুটা আশঙ্কায় কেননা এ ধরনের সম্মুখ সমরে আমাদের ছেলেরা অভ্যস্ত নয়, চিন্তা হচ্ছিল– ওরা আবার আতংকিত না হয়ে যায়। দেখলাম গ্রামের এই সাধারণ ছেলেগুলি দেশপ্রেমে ও মনের জোরে নিজেদের ছাড়িয়ে নিজেরাই অনেক ওপরে উঠে গেছে। একটু সময়ের মধ্যে আমার আপন ভাবনার ভিতরই নিজের ভুল ভাঙল। এরা তো সাধারণ কোনো যোদ্ধা নয়, এরা মুক্তিযোদ্ধা। অসাধারণ দেশপ্রেম ও দায়বোধ থেকে এরা খেয়ে না খেয়ে যুদ্ধ করছে। দেশমাতার ঋণ শোধ করতে গিয়ে দেশকেই ঋণী করছে। প্রত্যাশা স্বাধীনতা, সাধারণ জনগণের জন্য রাজনৈতিক, অর্থনেতিক ও সামাজিক স্বাধীনতা। অন্য কোনো কিছুর প্রত্যাশায় নয়। ব্যক্তিগত কোনো প্রত্যাশার তো প্রশ্নই উঠে না। আজ, স্বাধীনতার এতদিন পর এসব ভাবলে ভেতর থেকে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে।
মূল প্রসঙ্গে ফিরি, থেকে থেকে গুলি পাল্টা গুলি চলছে। এক সময় বুঝলাম শত্রু পক্ষ ক্রলিং করে পিছন হটে গ্রামে ঢুকে পড়েছে, তাদের আর দেখা যাচ্ছে না। আমরা কিছুক্ষণ পজিশনে থেকে ক্রলিং করে পিছনে ঢিবির আড়ালে নিরাপদ জায়গায় এসে বসলাম। বুঝিনি এতটা সময় পার হয়ে গেছে। বেলা প্রায় ১০/১১ টার মতো হবে। অপর দিকে পাকিস্তান আর্মিও ছোটো ছোটো গ্রুপে ছড়িয়েছিটিয়ে গ্রামের ভিতরে আছে। পরে শুনেছি ওরা সংখ্যায় প্রায় ১০০ জনের মতো ছিল। শুরু হলো ইঁদুর-বিড়াল খেলা। আড়াল আবডাল থেকে কখনও আমরা গুলি করছি কখনও ওরা গুলি করছে।
তখন দুপুর ২টা বা ৩টা। ক্লান্ত, পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা, যুদ্ধের উত্তেজনায় মনেই ছিল না সকাল থেকে কিছুই খাওয়া হয় নাই। গাছের নিচে বসে আমরা কিছুটা বিশ্রাম নিচ্ছি। কিছুক্ষণের জন্য আত্মচিন্তায় মগ্ন, ভাবছি মায়ের কথা, বাবার কথা, ভাইবোনের কথা, আমার চার বছরের কনিষ্ঠ সবচেয়ে ছোটো বোন নমিতার কথা, সম্ভবত তখন ক্লাস সেভেন এর ছাত্রী (এর কিছুদিন আগে আমার এইটুকুন ছোটো বোনকে শাড়ি পরিয়ে রমণী বানিয়ে গাড়িতে করে পাকিস্তানি বাহিনীর চেক পোস্টের চোখে ধুলো দিয়ে গোড়ান বাজারের মাঝ দিয়ে অস্ত্র ও গোলাবরুদ পাচার করি (সে আরেক কাহিনী)। ভাবছি, সব বারের মতো কি এবার ঈদেও রান্না হয়েছে? আমার মা কি আমার প্রিয় ডিমের হালুয়া রান্না করেছেন? রান্না করলে নিশ্চয়ই চোখের জলে আমার জন্য আলাদা করে তুলে রাখবেন, কখনও খাব বলে। আমার মতো তো অন্য সব সহযোদ্ধাদেরও একই অবস্থা। বাঙালির জীবনে এতো নিরানন্দের ঈদ আর একটিও হয়েছে কীনা বা হবে কী-না জানি না।
কয়েক মুহূর্ত। হঠাৎ করে এক বৃদ্ধার ডাকে ফিরে এলাম বর্তমানে। যে ঘটনা বলার জন্য এত কিছুর অবতারণা। আমার অলৌকিকতায় বিশ্বাস বরাবরই কম কিন্তু এ ঘটনাটি আমার কাছে এখনও অলৌকিক মনে হয়। বৃদ্ধার বয়স সম্ভবত ৫০ এর কোঠায়, গ্রামের মহিলা, আরও বয়স্ক হতে পারে। দৌড়ে আমাদের দিকে আসছেন আর বলছেন “বাজানরা তোরা একটু খাইয়া ল, খাইয়া যুদ্ধ কর”। একি? যেখানে গোলাগুলি চলছে, যেখানে অন্য কোনো মানুষ নেই, সেখানে ইনি হঠাৎ কোথা থেকে? জানি, কিছু বসতি ছড়িয়েছিটিয়ে এই বনের মাঝে আছে, কিন্তু সবার তো নিরাপদ জায়গায় চলে যাবার কথা। বৃদ্ধা কীভাবে বুঝলো আমরা এতো ক্ষুধার্ত? কিভাবে আমাদের অবস্থান জানলো? আঁচলের নিচ থেকে দুটো গামলা বের করলো, একটাতে ভাত ও আরেকটাতে রান্না করা মুরগি (তার নিজের ঘরের মুরগি রান্না করে নিয়ে এসেছেন)। নিজেই ভাতের মাঝে মুরগি ঢেলে মাখিয়ে আমাদের সামনে তুলে ধরলেন, আমরা চরম ক্ষুধার্ত কয়েকজন, পরম তৃপ্তির সাথে ভাগাভাগি করে খেলাম। ভাবছি, বিধাতা এই অল্প বয়সে তুমি আর কত বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা আমাকে দেবে? আজ প্রায় ৩৮ বছর পরও বৃদ্ধা আমার স্মৃতিতে এখনও অম্লান। স্বাধীনতা কি তাকে কিছু দিতে পেরেছিল? এসকল অসাধারণ মানবিক গুণাবলি দেখে, মানবিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়ে রবীন্দ্রনাথের মতো আমারও মনে হয়েছে “সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে”।
ঢাকা শহর, কিশোরী বোন আমি ও আমার এক বন্ধু ~
ঢাকা শহরে অপারেশনের ইচ্ছা। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন অস্ত্র– যা আমাকে আমাদের মূল ক্যাম্প হরদি বাজার থেকে আনতে হবে। এই উদ্দেশ্যে আমি ঢাকা শহর বেশ করেকবার ঘুরে গেছি। ঢাকা শহরে আসার জন্য আমি দুটি পথ ব্যবহার করতাম। একটি গুলশান ২ নং মার্কেট দিয়ে বর্তমান বারিধারায় যাবার পথ, আরেকটি গোড়ান বাজারের। প্রথম পথটিতে, গুলশান লেকের ওপর দিয়ে রাস্তাটায়, তখন কোনো ব্রিজ ছিল না। ছিল খেয়াঘাট। ওপারে বাড্ডার গ্রাম, ছাড়া ছাড়া বাড়ি, লেক পার হতে হতো নৌকা করে। লেকটা বেশ বড়ো, পার হবার পরের জায়গাটা মোটামুটি মুক্ত এলাকা অর্থাৎ পাকিস্তান আর্মির দখলের বাইরে। যতদূর মনে পড়ে, পায়ে হেঁটে বেশ কিছুদূর যেতে হতো, তারপর খালে নৌকা ধরে হরদি বাজার।
কিন্তু গুলশানের দিকটায় নৌকা ঘাট পেরিয়ে উপরে উঠলে পাকিস্তান আর্মির চেক পোস্ট। গুলশান ২ মার্কেটটি তখন একতলা ছিল। গুদারা ঘাটের দিকে এগিয়ে গেলে ৩/৪ টা বাড়ির পর একটা আধা নির্মিত বাড়িতে আর্মি ক্যাম্পের অবস্থান। বাড়িঘর বেশিরভাগ খালি (গুলশানে তখন মূলত অবাঙালিরা থাকতো)। লেক পার হবার একটাই রাস্তা। এই ক্যাম্পে আমাকে একবার পাকিস্তান আর্মি সন্দেহ করে বেশ কিছুক্ষণের জন্য আটকিয়ে রেখেছিল। অনেক দোহাই/অজুহাত দিয়ে (বাংলা, উর্দু মিলিয়ে) পকেটে রাখা জাল আইডেনটিটি কার্ড দেখিয়ে (আর্মির ভাষায় ‘ডান্ডি’ কার্ড) এবং যথারীতি মুসলমানিত্বের প্রমাণ দিয়ে ছাড়া পেতে হয়েছিল। তার ওপর অনেকখানি হাঁটা পথ । সংগত কারণেই অস্ত্র নিয়ে এই পথে ঢাকায় আসাটা আমার যুক্তিসঙ্গত মনে হয়নি।
অপরদিকে, গোরান বাজারের দিকে নৌকা নিয়ে ঘাট পর্যন্ত যাওয়া যায়। ঘাটে না ভিড়ে অন্য যে কোনো বাড়ির পিছনের আঙিনায় নৌকা ভিড়ানো যায়। শত্রুর একটি ক্যাম্প আছে, তবে কিছুটা পথ ঘুরে গেলে সেটা পরিহার করা যায়। আরেকটি ক্যাম্প হলো মালিবাগ মোড়ের কাছাকাছি। গোড়ান বাজার থেকে বেরুনোর পথ তখনকার সেন্ট্রাল গর্ভঃ স্কুলের সামনে দিয়ে। সবকিছুর বিবেচনায় এই পথটাই আমার কাছে শ্রেয়।
এই পরিকল্পনা নিয়ে আমি এগুচ্ছি, তখন খবর পেলাম আমার ক্যাডেট কলেজের বয়োজ্যেষ্ঠ বন্ধু সফিকুর রহমান কোনো কারণে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি থেকে পালিয়ে এসেছেন। ভাবলাম আমাদের এরকম ট্রেনিংপ্রাপ্ত লোকজনের প্রয়োজন। তার সাথে তার পল্টনস্থ বাসায় গিয়ে যোগাযোগ করে একথা-সেকথার পর আমাদের বাহিনীতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব করলাম। উনি ওনার কিছু ব্যক্তিগত অসুবিধার কারণে আমাদের দলে পুরোপুরি যোগ দিতে পারলেন না, তবে ঢাকায় যে কোনোরকম সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিলেন; সেটাও কম মনে হলো না। আমার অস্ত্র আনার কাজে গোড়ান থেকে গন্তব্য স্থানে যাবার জন্য একটা গাড়ি প্রয়োজন। তিনি গাড়ি চালাতে পারেন, তবে তিনি একদিন সময় চেয়ে নিলেন। পরের দিন দুজন ছেলে, ১৯-২০ বছরের হবে, সাথে নিয়ে আমাদের পূর্ব নির্ধারিত স্থানে এলেন। পরিচয় পেলাম ওরা দুই জমজ ভাই। সফিকুর ভাইয়ের পড়শী এবং গাড়িটি ওদের, তবে সফিকুর ভাই চালাবেন। আমার জন্য বিরাট এক সহায় হলো। আমি আশ্চর্য যে এত বড়ো একটা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে সাহায়ক হতে ওদের কারও কোনো দ্বিধা নাই। মনে মনে দিন তারিখ ঠিক করে আমি পর পর ৩ দিনের সময় দিলাম। বললাম এই ৩ দিনের যে কোনো দিন আমি আসতে পারি এবং ওরা অবশ্যই যেন কথামতো প্রস্তুত থাকে।
ফিরে এলাম ক্যাম্পে। শুরু হলো গোছ-গাছ, পুরো কাজটা আমি একার দায়িত্বে করছি। অস্ত্র গোলাবারুদের একটা লিস্ট তৈরি করে ফেললাম। অস্ত্র বিস্ফোরক এবং মাইনের তালিকা এমনভাবে বানালাম যা ঢাকা গরম করার জন্য যথেষ্ট।
আমার নির্ধারিত দিনে, খুব সকালে বিছানার চাদরে বোচকার মতো করে বেঁধে রওয়ানা হলাম যাতে সকাল ৯টা ১০টার মধ্যে গোড়ান পৌঁছাতে পারি। নৌকা ঘাটে না ভিড়িয়ে অন্যদিকে এক বাড়ির পিছনে ভিড়ালাম। কিছুটা ডাকাডাকির পর মাঝবয়সী এক ভদ্রলোক এলেন, সম্ভবত বাড়ির কর্তা। বললাম বোচকাটা কিছুক্ষণের জন্য তার বাসায় রাখতে হবে। বোচকার ভিতর কি আছে বললাম না, উনিও জিগ্যেস করলেন না। ওনার যা বুঝার বুঝে নিয়েছেন; সাগ্রহে বললেন, কোনো চিন্তা না করার জন্য এবং আমি যতক্ষণ না আসবো ততক্ষণ উনি থাকবেন আমাকে আমার বোচকা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য। বোচকাটা বেশ ভারী।
মুক্তিযুদ্ধের সময় এটা খুব এক আশ্চর্যের ব্যাপার। কোনো পূর্ব পরিচয় নেই, পূর্ব সুত্র নেই। নির্দ্বিধায় উনি এই মারাত্মক ঝুঁকি নিলেন আর আমরাও নিশ্চিত যে এই সহায়তা আমরা পাবো, এটাই গেরিলা যুদ্ধের বৈশিষ্ট্য, মানুষের মাঝে থেকে তাদের সম্পৃক্ততায় তাদের জন্য যুদ্ধ করা। এটাই প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধ, এরই নাম জনযুদ্ধ।
একটি রিক্সা নিয়ে রওয়ানা হলাম পল্টনের উদ্দেশ্যে, সফিকুর ভাইয়ের খোঁজে। প্রথমে হোঁচট খেলাম মূল রাস্তায় এসে। দেখি সেন্ট্রাল গভঃ স্কুলের মুখে আর্মি একটা নতুন চেক পোস্ট বসিয়েছে। ২/৩ জন আর্মি ও ২/৩ জন মিলিশিয়া নিয়ে। মাঝে মাঝে গাড়ি থামিয়ে পরীক্ষা করছে। গোড়ান বাজার থেকে বের হবার এই একটাই পথ, রিকসা চলছে আর আমার মাথায় দ্রুত ভাবনা কী করি, ফিরে যাব? না, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। ফেরা যাবে না, পরিকল্পপনা অনুযায়ী সফিকুর ভাই প্রস্তুত ছিলেন। সেই দুই ভাইয়ের কাছ থেকে গাড়ি নিয়ে সফিকুর ভাইকে নিয়ে আমি বাসায় (মগবাজার) চলে এলাম, বাসায় ঢুকেই আমার ছোটো বোন নমিতাকে (বর্তমানে স্কুল শিক্ষিকা ও ডাক্তার গিন্নি) – যার কথা আগে প্রাসঙ্গিকভাবে বলেছি, তাকে বললাম একটা শাড়ি পরে আসতে, আমার সাথে যেতে হবে। তখন ক্লাস সেভেনের ছাত্রী, বয়স ১১-১২ হবে। আমার উদ্দেশ্য শাড়ি পরিয়ে, মহিলা বানিয়ে যদি গাড়িতে ওকে নিয়ে যাই তবে হয়তো পাকিস্তান আর্মি চেক পোষ্টে না-ও থামাতে পারে।
বলার সাথে সাথে কোনো রকম প্রশ্ন না করে সে শাড়ি পরতে গেল। একবারও জিগ্যেস করলো না কেন এবং কোথায় যাবে। ঐ ছোটো বয়সে ও দেশপ্রেমের কি বুঝতো? তবে কি এই মুক্তিযুদ্ধের কারণে আমাদের দেশের কিশোর-কিশোরী থেকে বৃদ্ধ সবাই একটি অন্য স্তরে চলে গিয়েছিল? এ প্রসঙ্গে আমার এক বন্ধুর উক্তি আমার খুব মনে ধরেছিল, উক্তিটি এরকম “মুক্তিযুদ্ধের সময়টা এমন ছিলো যে আমাদেরও কেউ কেউ নিজেদের মহামানবে পরিণত করেছিল আবার কেউ কেউ দানবে পরিণত হয়েছিল” – খুবই সঠিক উক্তি। দানব বলতে এখানে বাঙালি বিশ্বাসঘাতকদের বুঝিয়েছিল।
ফিরে আসি ঘটনায়, ইতোমধ্যেই আমার মা চলে এসেছেন। উনি ধারণা করে ফেলেছেন যে নিশ্চয়ই আমি সাংঘাতিক কোনো বিপদজনক কাজে যাচ্ছি, তার প্রবল আপত্তি, কিছুতেই রাজি করানো যাচ্ছে না, কীভাবে রাজি হবেন? নিজের ছেলেকে নিয়ে সবসময় শঙ্কা ও আতঙ্ক, তার ওপর তার বাচ্চা মেয়েকে কীভাবে দিবেন। শত হলেও মা। এর মাঝেই আমার গলা শুনে আমার মেজো বোন, আমার বড়ো, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় ১ম বর্ষের ছাত্রী (দুরারোগ্য ব্যধিতে উনি প্রয়াত, আমার খুব প্রিয় ব্যক্তিত্ব)। গড়নে এবং চেহারায় চোখে পড়ার মতো সুন্দরী।
উনি এসে বললেন যে নমিতা নয় উনি যাবেন আমার সাথে। এ কি বিপদ আমার জন্য। ক্রান্তিকালে দেশের জন্য কি জীবনের মায়া এতই তুচ্ছ হয়ে যায়? সঙ্গত কারণেই বড়ো বোনকে সাথে নেওয়ার পক্ষপাতি আমি নই। এর মাঝে আমার ছোটোবোন শাড়ি পরে হাজির। বড়ো বোন আসাতে আমার সুবিধা হলো যে মা আর ছোটো বোনের ব্যাপারে বেশি আপত্তি করলেন না।
আমরা এসে রাস্তায় অপেক্ষারত গাড়িতে উঠলাম এবং সোজা গোড়ান বাজার চলে গেলাম। এর মাঝেই প্রায় ৩ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। আমার বোন ও সফিকুর ভাইকে মূল রাস্তায় রেখে আমি আমার বোচকা সংগ্রহ করতে গেলাম। রাস্তা থেকে দুরত্ব প্রায় আধা মাইল। গিয়ে দেখি ভদ্রলোক আমার জন্য একইভাবে অপেক্ষা করছেন। যেহেতু বোচকাটা ভারি সাথে একজনকে দিলেন গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিতে।
গাড়ির পিছনে মাল রাখার যায়গার বোচকা বিছিয়ে রাখলাম, শুধু ১টি স্টেন গান সাথে ২টি ম্যাগজিন আমার পায়ের কাছে রাখলাম, সফিকুর ভাই গাড়ি চালাচ্ছেন, উত্তেজনায় প্রচুর ঘামছেন, সামনে শাড়ি পরিহিত আমার ছোটো বোন, পেছনের সিটে স্টেন ও আমি। ধীরে ধীরে আমরা চেক পোস্টের দিকে এগুচ্ছি। ঢাকার বাইরে থেকে ভিতরে প্রবেশের চেক পোস্টগুলিতে কড়াকড়ি একটু বেশি, শহরের ভিতরে ততোখানি নয়। যত আমরা চেক পোস্টের কাছাকাছি হচ্ছি তত আমার উত্তেজনা বাড়ছে। আমি স্টেন গানটা ‘কক’ করে নিলাম, যদি বাধা আসে তবে এসপার ওসপার কিছু একটা করতে হবে। জীবিত কিছুতেই ধরা পড়া যাবে না। আমার ছোটো বোন সামনে, হয়তো এর কিছুই বুঝছে না। তারপর এলো সেই সময়, আমরা তাদের সন্দেহে পড়লাম না, উঁকি দিয়ে আমাদের দেখলো কিন্তু কিছু বলল না। মাথার ওপর থেকে বিরাট ভার নেমে গেল। আমার ‘মা’কে তার মেয়ে বুঝিয়ে দিয়ে আমরা চলে এলাম পল্টনে গাড়ির মালিক দু’ভাইয়ের কাছে। এখন সমস্যা, জিনিসগুলি কোথায় রাখি।
দু’ভাই নিজেদের মাঝে কি আলাপ করে আমাকে অবলীলাক্রমে বললো, কোনো চিন্তা না করতে। গাড়িটাকে এভাবেই গ্যারেজে ঢুকিয়ে রাখবে, তাদের আরেকটা গাড়ি আছে এবং এ গাড়িটা কেউ ব্যবহার করে না। আমি যখনই আসবো, তখনই আমার জিনিস নিয়ে যেতে পারবো। আপাতত সমস্যার সমাধান, ভবিষ্যতেরটা ভবিষ্যতে দেখা যাবে। এত বছর পর এখন মনে হয়, মুক্তিযোদ্ধার কোনো স্বীকৃতি এরা পায়নি, কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের থেকে কোনো অংশে এরা কেউ কম অবদান রাখেনি, দেশপ্রেমে এরা অনেকেই আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদেরও ছাড়িয়ে গেছে। (অস্ত্র যখন ঢাকায় এনে রাখি সেটা নভেম্বরের শেষ দিক। দুর্ভাগ্যক্রমে সেগুলি ব্যবহার করার সুযোগ আর হয়ে ওঠেনি। ৩রা ডিসেম্বর থেকে পাক-ভারত যুদ্ধ বেধে যায়।)
কলম ধরার আগে ভেবেছিলাম লেখার ব্যাপারটা কঠিন, লিখতে গিয়ে দেখলাম আরও কঠিন। ৩৭/৩৮ বছরের আগের ঘটনা বেশ মনে আছে, কিন্তু নাম, সময়, পরিসংখ্যান এগুলিতে গোল বাঁধে। কিছুটা ত্রুটিবিচ্যুতি হয়েই যেতে পারে, দিন-তারিখে, জায়গার বা মানুষের নামে।
সেই ইছাপুরার যুদ্ধে আমরা এক সহযোদ্ধাকে হারিয়েছিলাম। খবরটা আমি সেদিনই সন্ধ্যায় জানতে পারি। বাংলাদেশের ভেতর থেকে সে যোগ দিয়েছিল আমাদের সাথে, অসম সাহসী ছেলে। আমার এ লেখাটি আমি আমার সেই সহযোদ্ধার স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করছি।
আরও উৎসর্গ করছি ভবিষৎ প্রজন্মকে যাদের উদ্দেশ্যে এই লেখা। মনে রেখো, এই বাংলাদেশটা আমাদের, মুক্তিযোদ্ধাদের, যেখানে গোটা বাঙালি জাতি যোদ্ধা, গুটিকয়েক বাদে। ধর্মের বাণিজ্যের জন্য, ব্যক্তি স্বার্থের জন্য আমরা যুদ্ধ করিনি, দেশ স্বাধীন করিনি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই চেতনা নিয়ে তোমরা ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তবেই আমাদের এই যুদ্ধ, একটা জাতির এই অপরিসীম ত্যাগ সার্থক হবে।
লেখক:
শাহ সাঈদ কামাল
একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সংরক্ষণ উদ্যোক্তা, সংগঠক– “মুক্তিযুদ্ধ ‘৭১” এবং
দেশব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন প্রকল্প উদ্যোক্তা;