একুশে নিবেদিত পঙ্‌ক্তিমালা

Comments

চাপচাপ রহস্যের মাঝে

ফেরদৌস নাহার

শিকার সন্ধানী কলমগুলোকে অস্বীকার করেছি
বিছুটি বনে হেঁটে জেনেছি, আমি নই অন্ধরাতের ফুল
বিদ্যুতের হাত ধরে নেমে এসেছি চমকে দেবার জন্য
আহা আনন্দ আহা আনন্দ। মোক্ষম অসুখের পর
স্পর্শে বেঁচে ওঠা রক্তকমল

আমি অস্বীকার! অস্বীকারের গোপন আখড়া থেকে
তুলে আনি কবিতা-দেহ, তোমাকে ক্লান্ত লাগছে খুব
ও কবিতা, আমার রক্তজাত আত্মীয় প্রেমিকাপ্রেমিক
আহা ঘুমিয়ে গেছ কি তুমি, যুদ্ধ যে এখনো বাকি!

প্রবল বন্ধুত্বে গড়া কঠিন যাত্রাপথ, চাপচাপ রহস্যের ছাপ
কেনা-বেচায় ঝিমিয়ে পড়ছ কি পিচ্ছিল তৈলাক্ত ছোবলে
সারাক্ষণ ক্ষমতা মূদ্রায় আদান-প্রদান করছে তোমাকে
অযোগ্য আপোষের বেহায়া কলম। এভাবে ক্রমাগত
বেচা-কেনা তো তোমার নিয়তি হতে পারে না!

না। কিচ্ছু না কিচ্ছু না!
আমি জেদ, জবড়জং পাহাড়ে উড়ানো বাজপাখি ডানা
সমগ্র চিৎকারে তুচ্ছ করি ভণ্ড-সৃজনের আন্ডার ওয়ার্ল্ড
প্রতিদিন ছিঁড়ে যাই ফিস-ফাস ষড়যন্ত্রের জাল। বিনিময়ে
বুনে চলি পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সবুজ সংকেত
ক বি তা

Shahid Minar_sketch

ব্র্যান্ড: একুশ

জন মার্টিন

ছোটবেলা রচনা লিখেছি, ভাব সম্প্রসারণ করেছি
পরীক্ষা পাসের জন্য।
মুখস্থ করা সেই রচনায় বানিয়ে বানিয়ে কত কথা লিখেছি।
‘গরু’ থেকে শুরু করে ‘জীবনের লক্ষ্য’ – কিছুই বাদ যায়নি।
পাস করার জন্য নম্বর দরকার। তেত্রিশ হলেও চলে।
আর সেই তেত্রিশ-এর আশায়– কত মিথ্যে দিয়ে রচনা লিখেছি।
সূত্রধর স্যার পান খেতে খেতে জিজ্ঞেস করেছেন,
‘তাইলে তুমি ইঞ্জিনিয়ার হইবা? আমার বাড়ির ডিজাইন তুমি কইর’।
‘আচ্ছা স্যার, জি স্যার, হ্যাঁ স্যার’ – বলে দ্রুত পালিয়েছি।
অঙ্ক আমার দুই চক্ষের বিষ! কিন্তু তারপরও –
যা হতে চাইনি – সেটা লিখেছি।

কিন্তু আজকে আমি জেনে, শুনে, বুঝে একটি জীবনের লক্ষ্যের রচনা লিখব।
টার্গেট শুধু মামুলী পাস মার্ক নয়। নিশ্চিত টপ টেন!
আমার রছনার শিরোনাম – ব্র্যান্ড: একুশ।
আমি ব্যবসায়ী নই। আমার চৌদ্দ গুষ্ঠিতে কেউ ব্যবসা করেনি।
স্টক শেয়ার এর কথা বাদ দিন।
ওই আলু বেগুনেরও ব্যবসার ইতিহাস আমার পরিবারে নেই।
সবাই চোখ উল্টিয়ে জিজ্ঞেস করে, ‘পারবে তো?’
আমি হেসে বলি, ‘পারবো গো…… পারবো।’
-তোমার মূলধন কত?
– আঠার কোটি।
– মানে?
– একটু বেশীও হতে পারে।
– কিসের ব্যবসা?
– আবেগ, কষ্ট আর দুঃখের নিয়ে খেলা খেলা।
– কিসের আবেগ ? কার দুঃখ?
– বীর বাঙ্গালীর।
– আহা একটু খুলে বল তো ।
আমি ব্যবসা করবো।
আবেগ ধরবো, ছুঁয়ে দিব, আদর করব, মাথায় রাখব, বুকে রাখব
তারপর সাদ কালো মোড়কে ঢেকে বিক্রি করবো। 
‘ওমা……। ভারী দস্যি মেয়ে তো?’
আমি তো ব্যবসার নামও ঠিক করেছি –
ব্র্যান্ড: একুশ
একুশ মানে ওই যে একুশে ফেব্রুয়ারি।
‘বলে কি ?……একুশ নিয়ে ব্যবসা করবে’?
হ্যাঁ জানি জানি বছরে একদিনই ব্যবসা হবে।
কিন্তু ওই একদিনে বানিয়ে নিব ৩৬৪ দিনের লাভের গুড়।

বানাব নতুন নতুন একুশের ডিজাইন-
বাংলা কবিতাগুলো কেন শেলফে আটকে থাকবে?
বইমেলার শৃঙ্খল থেকে ওদের বের করে আনবো।
শাড়ি, পাঞ্জাবীতে ছাপিয়ে দিব।

কবিতাগুলো দিনভর হেটে বেড়াবে, ঝালমুড়ি চটপটির গন্ধ শুঁকবে
হোক না ভুল বানান –
বই পড়া আর শাড়ী পড়া কি এক হোল?
উহু …। একটা পড়ে আর একটা দ্যাখে।  
শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে কবিতারা লুকিয়ে থাকবে।
আঁচলের ফাঁকে মুখ বের করে মুচকি হাসবে।
কবিতার এমন মধুময় খেলা আর কোথায় পাবে?

নতুন নতুন ফুলের তোড়ার ডিজাইন দিয়ে
ভরে যাবে এই শহর
সাদা, হলুদ, লাল, সবুজ
ঢেকে দিবে শহীদ মিনার, ঢেকে যাবে বাড়ি ঘর।
আহা – একুশ বলে কথা।
বাড়ির দরজায় থাকবে  ফুল
সাথে একটি, দুটি কাগজে কাটা বর্ণমালা ঝুলিয়ে দিলে মন্দ হয় না।
শুধু মনে রাখতে হবে, যত ফুল তত ব্যবসা।

রাস্তায় থাকবে একুশের আইসক্রিম, ড্রিঙ্ক, মাথার ক্যাপ
আর হ্যাঁ কোভিড মাস্ক।
চুড়ি, স্যান্ডেল, হাতের ব্যান্ড – সব হবে সাদা-কালো।
পাঞ্জাবী, সালোয়ার – এমনকি রুমাল –
ওগুলো একুশের থিমের সাথে ম্যাচ করা হবে।
সব পাওয়া যাবে ব্র্যান্ড: একুশের স্টোরে।

একুশের কমিউনিকেশন সেন্টারে থাকবে চৌকশ অবসর প্রাপ্ত সরকারী
কর্মকর্তা
উনারা তৈরি করে দেবেন – একুশের ভাষণ
বাংলা সর্বস্তরে চালুর প্রতিজ্ঞাগুলো উনাদের হাতেই সুলিখিত হবে।
তৈরি হবে একুশের জিঙ্গেল, টিভিসি
ওখানে ইনভেস্টমেন্ট একটু বেশী হওয়া দরকার।
আবেগ নিয়ে ব্যবসা তো আর সহজ নয়।
একটু উস্কে দিতে হবে না?
একুশ, দুঃখিনী মা, দেশ, বর্ণমালা,  রক্ত, গুলি, শপথ, সাহস
এগুলো হচ্ছে ম্যাজিক ওয়ার্ড।
সব গানে, নাটকে, শ্লোগানে এগুলো না থাকলে
ব্যবসা হবে কি করে?

আমাদের দোকান গুলোতে বড় করে  টাঙ্গানো হবে শহীদদের পোর্টট্রেট
সালাম বরকত, রফিক, জব্বার নামের কিছু স্টাফ রেখে দিব।
কারণে অকারণে ডাক দিব, ‘এই সালাম ভাই, একুশের সাদাকালো পাঞ্জাবীটা একটু দেখান দেখি?’
– রফিক ভাই, আমি কোথায় পেমেন্ট করবো?
ওদের সাথে সেলফি তোলার ব্যবস্থা থাকবে।
ক্যামেরাগুলো সারাদিন ক্লিক ক্লিক করবে আর
সাথে বাজবে, ‘আমি কি ভুলিতে পারি?’

তারপর বাইশ তারিখে – সব জঞ্জাল পরিষ্কার করে
লাভের গুড়ের রস খেয়ে হিসাব মিলাব ।
তৃপ্তির  ঢেঁকুর তুলে দেখব-
আমার ব্যবসা যত ফুলেছে একুশ তত চুপসে গ্যাছে।

Shahid Minar_sketch

প্রতি বসন্তে একুশ আসে

সন্দীপ দে

পলাশ রাঙা বসন্তে ভেসে আসে
একুশের গান
এই বসন্তদিনেই দ্রোহের বর্ণমালায় সৃষ্টি
চিরঞ্জীব আখ্যান

যেখানে রক্তিমাভায় ভাস্বর
রফিক জব্বার সালাম বরকত …..
যাঁদের নামে গড়ে ওঠে
জীবনের ইমারত

মায়ের ভাষার জন্য যাঁরা ছড়িয়েছিল
স্ফুলিঙ্গ থেকে চেতনার দাবানল
প্রতি বসন্তে তাই একুশ আসে
লড়াইয়ের স্রোতে আনতে দিনবদল।

Shahid Minar_sketch

একুশে ফেব্রুয়ারি

সন্দীপ দে

আমার প্রিয় বসন্তদিন
একুশে ফেব্রুয়ারি
দ্রোহ প্রতিবাদের বর্ণমালায়
দৃপ্ত আশাবরি।

আমার প্রিয় বসন্তদিন
একুশে ফেব্রুয়ারি
পলাশ শিমূল  কৃষ্ণচূড়ার
নিশান সারি সারি।

আমার প্রিয় বসন্তদিন
একুশে ফেব্রুয়ারি
লড়াই-দীপ্ত শাণিত চেতনায়
উজানে দেব পাড়ি।

Shahid Minar_sketch

একুশে ফেব্রুয়ারি

আলী তারেক

“তুমার বয়স কত?”
এক বছরের উদোম গায়ের ভাইটি কাঁখে 
পাঁচ বছরের ফুলি আমাকে জিজ্ঞেস করে বসে হঠাৎ। 
ঢাকের মতো পেট নিয়ে ভাইটি তার ডান হাতের শক্ত থাবায় বোনের কাঁধ
আঁকড়ে–
যেন সারাদিনের বরাদ্দ দেয়া এক টুকরো রুটি,
জীবন গেলেও ছেড়ে দেবে না কিছুতেই।
কিংবা ফুলির কাঁধই যেন তার জীবন। 
আর বাঁ হাত বোনের বুকের কাছে নিশ্চিন্ত জমা রেখে 
নাকে ঝরা সিকনি ঠোঁট দিয়ে চেটে চলেছে নির্বিকার। 
ফুলির প্রশ্নবোধক ঠোঁটের নিচে ছোটো ছোটো দাঁত ঝিকঝিক করে।
আমি সেইদিকে তাকিয়ে তার প্রশ্নের উত্তরের খোঁজে বিহ্বল।
এরই মাঝে আরেকটি প্রাণের দায়িত্ব নিয়ে নেয়া পাঁচ বছরের ফুলি 
ঠিক ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলে না। 
যেন আমার বিভ্রান্তির সাহায্যে আসার জন্য ভাইকে ধরে রাখা 
হাতদুটির একটি ছাড়িয়ে নিয়ে আঙ্গুল উঁচিয়ে দেখায়,
“আমার দাদী। মেলা বয়স! আমগোর গেরামের সবথিকা বুড়ি!”
গালের চামড়া ঝুলে আসা কয়েক ডজন ভাঁজ আর 
হলদে হয়ে আসা সাদা শাড়িতে অল্পই ঢাকা 
খরার জমির ফাটলের মত ফাটাফাটা চকচকে গায়ে বসে 
বয়সের চেয়ে বয়স্ক এক নির্বাকতার প্রতিমূর্তি। 
“তুমার বয়স আমার দাদীর থিকা বেশি?”
ফুলির কণ্ঠে বিস্ময় আমার কণ্ঠরোধ করে রাখে।
যে ভাবনাগুলো সে রুদ্ধপথে রুদ্ধ হয়ে থাকে,
তার গল্পের ক্রম ওই সিকনি-চাটা ভাইয়ের আধো আধো বুলি 
হতে শুরু করে, ফুলির ফুল আঁকা ফ্রকের মতো 
অন্তহীন নিষ্পাপ প্রশ্নগুলোর পথ ধরে 
বয়সের চেয়ে বয়স্ক দাদীর দাঁতহীন মাড়ির 
অস্ফুট বিড়বিড়ে ফিরে যাওয়ার উপাখ্যান। 
ভেবে পেলাম, ফুটফুটে মেয়ে ফুলির কথায়
তারই অবাক প্রশ্নের উত্তর নিশ্চিন্ত নিহিত। 
“তুমার বয়স কত?” ফুলির প্রশ্ন তার ভাইয়ের নাকের সিকনির মতো 
ঝুলে থাকে নিরন্তর সময়ের পটভূমিতে। 
“আমার বয়স কত?” ফিরে নিজেকে জিজ্ঞেস করি আমি। 
ইতিহাস, আর ইতিহাসের আগে গুহাচিত্রের রং যখন 
ধীরে ধীরে অনূদিত হলো মুখনিঃসৃত শব্দমালার ধ্বনিতে, 
আমার অস্তিত্বের ইতিহাস পংক্তিবদ্ধ সেই পুরাকালের উপক্রান্তে। 
তবু আমার অস্তিত্ত্বের দীর্ঘ এই ইতিহাস সত্বেও 
আমার বয়সের দৌড় কি বার্ধক্যের জরাবস্থা পার হবার সামর্থ্ রাখে?
রাখে না। 
তাই ফুলির প্রশ্নে, অন্য সব প্রশ্নের মতোই, তার উত্তর অন্তৰ্নিহিত ছিল। 
ফুলির দাদি যখন গালের ভাঁজে ভাঁজে তার শব্দগুলো একে একে হারিয়ে
ফেলল, 
তার পরে আমার বয়স এগোবার আর কোনো জায়গা নেই।  
যতদিন কোনো মুখে একটিও শব্দের বসবাস, ততদিন আমার অনিঃশেষ
যৌবন।
তাই ফুলির মুক্তোর মতো হাসি দিয়ে বাঁধানো দাঁতের অবাক প্রশ্নের উত্তরে 
আমি আমার নির্বাক ভাষায় শুধু বলে উঠতে পারি,
“বাহান্ন থেকে দু হাজার তেইশ, একাত্তরের স্তব্ধ বিস্ময়ে, আমি রয়ে গেছি আজীবন একুশে।

Shahid Minar_sketch

ভাষা দিবসে জান্নাতি মেহনতি

লুৎফুল হোসেন

চেতনারে নামাইতে নামাইতে
হাফসোল কইরা
কই যে নামাইছে
কইবার পারব নি হালায়
কুনু জ্ঞানী উনি,
দেউক যেতই ভি
বিজলির লাহান মাছালা!

মাতৃভাষা দিবছ লইয়া
ওয়াজ কইরা জান দিতাছে
আলেমা উলেমা এলা
বুজুর্গান বাহারি জেল্লা।
মতিউর, রুস্তম, মাগার
দুধের ছাওয়াল ফালায়া মরছে
যে আনোয়ারা বেগম—
বেগতের জান্নাতের উছিলা;
আছাদের গেইট ভি ভইরা
জওয়ানি মাইকে ছয়লাব,
নূরজাহান-তাজমহল ছাইড়া
লালবাগ, সদরঘাট ম্যায়
চানখারপুল-লোহারপুল-সূত্রাপুর
দোওয়া-দাওয়া-সিন্নি—  
জম্পেস খুশবু মুজগুন্নি
খিলাইতাছে বেবাগতেরে;
জিন্দেগিতে খাইছস নি!

উর্দু হিন্দি দোয়ার নহরে
আসমান থেইকা নামাইয়া আনতাছে
আপসে বাঙালের খোদারে,
ছাপ্পার লাগাইবার পারলে কাঙ্গাল,
জান্নাতের টিকেট ডাইরেক্ট ফাইনাল।
জলদি খপর দে
রফিক সালাম বরকতরে,
দেখ জব্বারে নি আইজকা
চান্সখান নিবার পারে;
মাহফিলের লেঞ্জুর ধইরা
কপাইল্লার কপালের লাহান
বান্ধাইতে জান্নাতে তার কপাল খান।

আর ঝরে পড়ছে না

ইরাজ আহমেদ

আর ঝরে পড়ছে না মুঠো থেকে
পুরনো দিনের নক্ষত্রের বৃষ্টির মতোন
দেয়াল লিখন হিসেবে বেঁচে থাকা জীবনের মতোন
এই শহরের কোথাও কোথাও ধরিয়ে দেয়া আগুনের ভিতরে
ইস্পাতের মতো ঝকঝকে হয়ে
কিছুই আর আকাশ ছুঁতে চাইছে না।
আমি কয়েকটি শব্দের কথা বলছি,
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে
ঠোঁট সেলাই করা কয়েকটি শব্দের কথা আপনাদের বোঝাতে চাইছি,
ভালোবাসি বলে কোনো নতুন অনন্তের মতো হাত ধরে রাখা শব্দ
বোঝাতে চাইছি।
ব্যর্থ হয়ে দোকানে গিয়ে দেখি,
শব্দগুলো পাউরুটি; বিক্রি হয়ে গেছে,
দেখি, শব্দগুলো কবে ঘুমিয়ে পড়েছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কেরানীর ছুটির দিনের সকালের মতো।
আর যারা ঘুমাতে চায়নি,
যারা শুধুই ঘাসের জন্মের মতো অর্থহীন হতে চায়নি
তাদের মাটি চাপা দেয়া হয়েছে
রফিক, বরকত নামে।

Shahid Minar_sketch

ভাষা

তুষার দাশ

প্রথমে আদর করো, তীব্র জড়িয়ে,
কানে কানে বলো ভালোবাসি–
সম্পূর্ণ নিজের করে নাও, এরপর।

যদি সে না মানে, অন্যের মতোন হয়ে ওঠে,
তবে তাকে ধমকাও–
পুরোনো রীতির প্রতি তার যদি নির্দ্বিধার সমর্পণ থাকে–
তবে শুরুতে আড়াল করো, বলো–
এভাবে এখন নয়, আমি চাই ভিন্নতর পথ।

এরপরও যদি অবিচল থাকে, তোমার ক্ষমতাসঙ্গী সে না হতে চায়,
তবে তাকে মোচড়াও, দগ্ধ করো, মাথা ধরে নুইয়ে দাও, শুইয়ে দাও
আদর না দিয়ে।
এরপর টেনে তোলো তাকে, চাবকাও, আবার জড়িয়ে ধরো তীব্র অভিমানে,

এরপর মুখ উঁচু, মাথা উঁচু করো।
দুজনের এ লড়াইয়ে জয়ী তো দুজনই।

২০. ০২. ২০২৪

Shahid Minar_sketch

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.

About Author

বাঙালীয়ানা স্টাফ করসপন্ডেন্ট