বুনো ঘোড়ার জন্য এলিজি
অটল ভৌমিক
কী চমৎকার বিষাদ তুমি দিতে পারো বুনো!
কী নিদারুণ হৃদয়ের অপচয়- জান্তব আর্তনাদেও
জানি ঘুম ভাঙে না তোমার।
তবে চলে গেলে সহস্র মৃত্যুর রাত- চলে গেলে ধূসর ঘাসের সময়
আমাদের নাগরিক সন্ধ্যে- রাস্তার কালো কালো সাপ
ব্লেন্ডেড মোকার অপূর্ব নির্যাস চলে গেলে- বুনো
আমাদের হারানোর কথা থাকে গোলাপের উপত্যকায়
কিন্তু সেসব আগুনের সমস্ত দিন আর আসবে না জেনে গেছি আমি
বৈভব-প্রাচুর্য-কোকিল সমগীতে তোমাদের বিহার-মৈথুন-আমোদক্রীড়া
অথচ কতোটা যাতনার রাতের শৈশব আমি পার হয়ে এলাম
মারাত্মক স্বপ্নভূক বিকেলের হাতছানি পার হয়ে এলাম
মাতাল বায়বীয় প্রেমের বিকল্প আশ্রমের শাশ্বত শান্তির কথা ভেবেছি
মাকোন্দোর মতো নির্জন আমলকী-হরিতকী-হিজল-জারুলের বনে শুয়ে
তোমার হাসি পেলেও বলো নাই কখনো সহজ দৃশ্যের ভেতর-
 অজস্র বন্য ঘাসের প্রান্তর ফুরায়ে যাবে; ঘোড়াদের মনে রবে কী এক অদ্ভুত হিম ছিলো হৃদয়ে তাদের!
এইসব আকাঙ্ক্ষিত বেদনার ঘোড়াদের দেখা যাবে বারবার একই মন্দিরে ফিরে যেতে- দেখা যাবে
অতিরিক্ত বেদনার প্রসাদ গ্রহণের আগে মাতা কালীর পায়ে মাথা কুটে মৃত্যুর অনিবার কামনায়।
কী সুন্দর বিষাদ তুমি দাও বুনো
কী আশ্চর্য সহজ তোমার প্রবঞ্চনা
কী সাবলীল তোমার আর আমাদের কথোপকথন
কী নারকীয়ভাবে শৈল্পিক; বুনো!

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.