কাজলা দিদির কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী

Comments

হারিয়ে যাওয়া বোনকে ফিরে পাওয়ার হৃদয় নিংড়ানো গভীর আকুতির সেই বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওইমাগো আমার শোলকবলা কাজলা দিদি কই?’ কবিতা পাঠে প্রতিটি বাঙালীর শৈশবকে আপ্লুত করেছে। গ্রামবাংলার শাশ্বত শ্যামল স্নিগ্ধরূপ এ কবিতায় বিভিন্নভাবে প্রকাশিত হয়েছে। গ্রামীণ জীবনের সাধারণ বিষয় ও সুখ–দুঃখগুলোকে সহজ–সরল ভাষায় সহৃদয়তার সঙ্গে তাৎপর্যমণ্ডিত করে প্রকাশ করেছেন কবি। আমাদের সবুজশ্যামল বাংলার চিরন্তন সৌন্দর্য কবির দৃষ্টি আর মননকে এড়িয়ে যায়নি। এক বোনহারা ভাইয়ের আকুতির যে ছবি এ কবিতায় প্রস্ফুটিত সে যেন পরম মমতায় লালিত আমাদের বাঙালী পরিবারিক জীবনেরই নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতি। দিদিহারা একটা ছোট্ট মেয়ে, দিন রাত দিদিকে খুঁজে ফেরে। মায়ের আঁচল ধরে কত প্রশ্ন করে। মা দিদির কথায় আঁচলে মুখ লুকায়। হারিয়ে যাওয়া সেই দিদির নাম কাজলা।

Jatindramahan Bagchi03

যতীন্দ্রমোহন বাগচী

আর সেই কবিতার নাম ‘কাজলা দিদি’। একজন কবির পরম সার্থকতা সাহিত্যের আসনে নিজের সুপ্রতিষ্ঠা। ‘কাজলা দিদি’ কবিতাটি তেমনই একটি রচনা যা এর রচয়িতা যতীন্দ্রমোহন বাগচীকে সাহিত্যের আসনে স্থায়ীভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। 

যতীন্দ্রমোহন বাগচী নদীয়া জেলার জমশেরপুর গ্রামে ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দের ২৭ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস হুগলি জেলার বলাগড় গ্রামে। ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে তিনি কলকাতার ডাফ কলেজ (বর্তমানে স্কটিশ চার্চ কলেজ) থেকে বিএ পাস করেন। পরে বিভিন্ন সময়ে তিনি বিচারপতি সারদাচরণ মিত্রের সচিব, নাটোরের মহারাজার সচিব, কলকাতা কর্পোরেশনের লাইসেন্স-ইন্সপেক্টর, এফ.এন গুপ্ত কোম্পানির ম্যানেজারসহ বিভিন্ন পদে চাকরি করেন।

যতীন্দ্রমোহন অল্প বয়স থেকেই কাব্যচর্চা শুরু করেন।  ভারতী, সাহিত্য প্রভৃতি বিখ্যাত পত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশিত হলে তিনি কবি হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। পরবর্তীকালে তিনি ১৯০৯ থেকে ১৯১৩ সাল পর্যন্ত মানসী পত্রিকার সম্পাদক, ১৯২১ থেকে ১৯২২ সাল পর্যন্ত যমুনা পত্রিকার যুগ্ম-সম্পাদক এবং ১৯৪৭-৪৮ সালে পূর্বাচল পত্রিকার সম্পাদক ও স্বত্বাধিকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

Jatindramahan Bagchi01

রবিঠাকুরের সাথে তাঁর ইংল্যান্ড সফরের প্রাক্বালে প্রথিতযশা সাহিত্যিক (বাঁ থেকে বসে) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, যতীন্দ্রমোহন বাগচী, করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়, (বাঁ থেকে দাঁড়িয়ে) প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়, দ্বিজেন্দ্র নারায়ণ বাগচী এবং চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।

রবীন্দ্র পরবর্তী যুগের কবিদের অন্যতম যতীন্দ্রমোহন বাগচী পল্লিপ্রকৃতির সৌন্দর্য ও পল্লিজীবনের সুখ-দুঃখের কথা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সাবলীল ভাষা ও ছন্দে প্রকাশ করেছেন, যা সাধারণ পাঠকের হৃদয়ে স্থায়ী দাগ কাটে।  তাঁর ‘কাজলা দিদি’ ও ‘অন্ধবধূ’ কবিতা দুটি সর্বাধিক জননন্দিত।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:

লেখা (১৯০৬)
রেখা (১৯১০)
অপরাজিতা (১৯১৫)
নাগকেশর (১৯১৭)
জাগরণী (১৯২২)
নীহারিকা (১৯২৭)
মহাভারতী (১৯৩৬)

তাঁর একটি বিশেষ গদ্যগ্রন্থ:

রবীন্দ্রনাথ ও যুগসাহিত্য

Jatindramahan Bagchi_House

যতীন্দ্রমোহন বাগচী নদীয়া জেলার জমশেরপুর গ্রামে এই বাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ১ ফেব্রুয়ারীতে বাংলা সাহিত্যের এই পল্লীমরমী কবি মারা যান।

বাঙালীয়ানা/এসএল

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.