কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করার আপনি কে? । অমি রহমান পিয়াল

Comments

আইচ্ছা কাদিয়ানিরা কেমন জীব? আপনার আশেপাশে দেখছেন দুয়েকটা? তাদের কি চারটা চোখ, তিনটা কান? তারা কি আস্তিনে ছুরি নিয়া ঘুরে? তাদের কি হাতে চাপাতি থাকে মানুষ জবাই করার জন্য? তারা কি আল্লাহু আকবর বইলা আত্মঘাতি বোমায় মুসলমানদেরই উড়ায়া দেয়? তারা কি সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে সারা বিশ্বের মানুষদের কাছে গোটা মুসলমান জাতিরেই ঘৃণিত কইরা তোলে?

তাইলে তারা কারা? কেনো তাদের হঠাৎ অমুসলিম ঘোষণার জন্য হুজুররা ব্যাগ্র! এতোটাই যে স্টেজ ভাইঙ্গাই পইড়া গেছে মাটিতে। কি হইবো কাদিয়ানিগো অমুসলিম ঘোষণা করলে? আমাদের আশেপাশে অমুসলিম তো প্রচুর। হিন্দু আছে, খৃষ্টান আছে, বৌদ্ধ আছে, অবিশ্বাসী আছে। কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা দিলে কি তাদের হত্যা করা সহজ হবে? তাদের মেয়েদের ধর্ষণ করা জায়েজ হয়ে যাবে? তাদের জায়গা জমি দখল করে উৎখাত করা যাবে? সর্বোপরি উইল দ্যাট মেক ইউ আ বেটার মুসলিম?

মুসলমান হিসেবে আপনার ক্ষমতা বাড়বে? আদৌ সেই ক্ষমতা রাখেন আপনি? ইউরোপ আমেরিকায় গিয়া মুসলমান পরিচয় দিয়া বুক ফুলায়া হাটতে পারেন? বাদ দেন ইউরোপ আমেরিকা, মালয়েশিয়াতে যখন অবৈধ শ্রমিক হিসেবে ধরা পড়েন তখন কাজে আসে আপনার মুসলমান পরিচয়? তারা আপনারে কাজ করার সুযোগ দেয় নাকি পাছায় লাথি মাইরা দেশে ফেরত পাঠায়? সৌদি আরবে কাজে আসে আপনার মুসলমান পরিচয়? তাইলে মিসকিন বইলা গালি দেয় ক্যান? আপনার কোনো ইজ্জত নাই ক্যান সেইখানে! গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ক্যানো সবুজ পাসপোর্ট দেখলে লাইন থিকা আলাদা কইরা সাইডে দাড়া করায়া রাখে। ক্যানো ল্যাংটা কইরা চেক করে, হ্যারাজ করে? আপনার সুন্নতে খতনা করা নুনুটা ক্যানো তখন কোনো কাজে আসে না?

কে ধার্মিক কে অধার্মিক, কে মুসলমান কে কাফির তা বোঝার ক্ষমতা আল্লাহ নিজের হাতেই রাইখা দিছেন। মানুষরে দেন নাই। কোনো মানুষ যখন সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে চায় তখন সে শিরক করে। কাদিয়ানিদের ধর্মচর্চার নিয়ম যদি সুন্নীদের মতো না হয়, লেট ইট বি। বিচারের মালিক আল্লাহ। তিনিই ঠিক করবেন কার ইবাদত তিনি গ্রহণ করবেন কারটা না। আপনে আমি কেডা সেইটা নির্ধারণ করার? শেষ বিচারে হাশরের ময়দানে আল্লাহ আপনার লগে আপনার আমল নিয়া ওয়ান টু ওয়ান আলাপ করবেন। অন্য কারো না। তাই নিজের আমল ঠিক রাখেন, অন্যদেরটা আল্লাহর উপর ছাইড়া দেন। তিনিই সর্বজ্ঞানী। কিন্তু আপনার যদি মনে হয় আপনি তার থিকা বেশী বোঝেন, তাইলে সেইটা ভিন্ন আলাপ। সেইক্ষেত্রে আপনি মুনাফিক, মুসলমান না…

[
ثُمَّ أَنتُمْ هَـؤُلاء تَقْتُلُونَ أَنفُسَكُمْ وَتُخْرِجُونَ فَرِيقاً مِّنكُم مِّن دِيَارِهِمْ تَظَاهَرُونَ عَلَيْهِم بِالإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَإِن يَأتُوكُمْ أُسَارَى تُفَادُوهُمْ وَهُوَ مُحَرَّمٌ عَلَيْكُمْ إِخْرَاجُهُمْ أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ فَمَا جَزَاء مَن يَفْعَلُ ذَلِكَ مِنكُمْ إِلاَّ خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّونَ إِلَى أَشَدِّ الْعَذَابِ وَمَا اللّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ

অতঃপর তোমরাই পরস্পর খুনাখুনি করছ এবং তোমাদেরই একদলকে তাদের দেশ থেকে বহিস্কার করছ। তাদের বিরুদ্ধে পাপ ও অন্যায়ের মাধ্যমে আক্রমণ করছ। আর যদি তারাই কারও বন্দী হয়ে তোমাদের কাছে আসে, তবে বিনিময় নিয়ে তাদের মুক্ত করছ। অথচ তাদের বহিস্কার করাও তোমাদের জন্য অবৈধ। তবে কি তোমরা গ্রন্থের কিয়দংশ বিশ্বাস কর এবং কিয়দংশ অবিশ্বাস কর? যারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে দূগর্তি ছাড়া তাদের আর কোনই পথ নেই। কিয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শাস্তির দিকে পৌঁছে দেয়া হবে। আল্লাহ তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন।
সূরা বাকারাঃ ৮৫]

লেখক:
Omi Rahman Pial01
অমি রহমান পিয়াল
ব্লগার এবং অনলাইন এক্টিভিষ্ট

*এই বিভাগে প্রকাশিত লেখার মতামত ও বানানরীতি লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাঙালীয়ানার সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকা অস্বাভাবিক নয়। তাই এখানে প্রকাশিত লেখা বা লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা সংক্রান্ত আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় বাঙালীয়ানার নেই। – সম্পাদক

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.