কিশোরের হৃৎপিণ্ড নিয়ে বেঁচে উঠল অনুষা

Comments
দীর্ঘদিন যাবৎ হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছিলেন কলকাতার বাসিন্দা অনুষা অধিকারী। কলকাতার উপকণ্ঠে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল তার। কিন্তু সে চিকিৎসা ছিল শুধুই আয়ুকে কিছুটা প্রলম্বিত করবার প্রক্রিয়া। পূর্ণ সুস্থ্যতা কেবলমাত্র হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনেই সম্ভব।

অবশেষে মুম্বাইয়ের বাসিন্দা সতেরো বছরের এক কিশোরের হৃদযন্ত্রে নতুন করে বাঁচার আশা ফিরে পেলেন সাতচল্লিশ বছরের অনুষা।

Heart-transplant_Anusha

অনুষা অধিকারী

রবিবার, ২৬মে, ২০১৯, মুম্বইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ‘ব্রেন ডেথ’ হয় মুম্বাই গ্লোবাল হাসপাতালে ভর্তি ঐ কিশোরের। চিকিৎসকদের পরামর্শে অঙ্গদানে সম্মতি দেন তার পরিবার। তারপরই গ্রহীতার খোঁজ শুরু হয়।  কলকাতার ফর্টিস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গ্লোবাল হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০১৯, রাত সোয়া ১০টায় মুম্বাই থেকে তার হৃৎপিণ্ড বিমানে তিন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ঐ কিশোরের হৃদপিণ্ড পৌঁছয় কলকাতা বিমানবন্দরে। বিধাননগর এবং কলকাতা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে বিমানবন্দর থেকে বাইপাসের ফর্টিস হাসপাতাল পর্যন্ত গ্রিন করিডরের ব্যবস্থা করা হয়। ১৮ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করতে সময় লাগে মাত্র ১৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড। কার্ডিয়ো ভাস্কুলার সার্জন কে এম মান্ডানা এবং তাপস রায়চৌধুরীর নেতৃত্বে মঙ্গলবার গভীর রাতে ‘ফর্টিস’ হাসপাতালে অনুষার শরীরে হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন করা হয়।

অনুষার শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়। অনুষাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

অনুষা সাত মাস ধরে ডাইলেটেড কার্ডিয়ো-মায়োপ্যাথি রোগে ভুগছিলেন। ফলে হৃৎপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালন কমে যাচ্ছিল। এরপরেই হৃৎপিন্ডদাতার সন্ধানে ন্যাশনাল অর্গ্যান অ্যান্ড টিসু ট্রান্সপ্লান্টেশন অর্গানাইজেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

খবর ও চিত্র: আনন্দবাজার
বাঙালীয়ানা/এসএল

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.