চলে গেলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল

Comments

কিংবদন্তি সুরস্রষ্টা, গীতিকার, সংগীত পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল সুরের মায়া কাটিয়ে চলে গেলেন। মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারী, ২০১৯, ভোর ৪টা ১৫ মিনিটে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর।

মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর আফতাবনগরের বাসায় হার্ট অ্যাটাক হলে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলকে মহাখালীর আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদযন্ত্রের জটিলতায় ভুগছিলেন। হার্টে ব্লক ধরা পড়ায় গত বছর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল।

বুলবুলের মরদেহ মঙ্গলবার বারডেমের হিমঘরে রাখা হবে। বুধবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০১৯, বেলা ১১টায় তাকে নিয়ে যাওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে এই মুক্তিযোদ্ধার প্রতি জানানো হবে রাষ্ট্রীয় সম্মান।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ১৯৫৭ সালের  ১ জানুয়ারী জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে গীতিকার, সুরকার এবং সঙ্গীত পরিচালক। সত্তর দশকের শেষ লগ্ন থেকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পসহ সংগীত শিল্পে সক্রিয় ছিলেন। রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং রাষ্ট্রপতির পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এই নক্ষত্র মানুষ।  ১৯৭১ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

দীর্ঘ চার দশকের ক্যারিয়ারে দুইশর বেশি চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করে গেছেন তিনি। বুলবুলের সৃষ্টি অসংখ্য জনপ্রিয় গানের মধ্যে – ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’, ‘ও মাঝি নাও ছাইড়া দে ও মাঝি পাল উড়াইয়া দে’, ‘সুন্দর সুবর্ণ তারুণ্য লাবণ্য’, ‘একাত্তুরের মা জননী কোথায় তোমার মুক্তিসেনার দল’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন’, ‘পড়ে না চোখের পলক’, ‘ও ডাক্তার ও ডাক্তার, আমার বুকের মধ্যেখানে’, ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

বাঙালীয়ানা/এসএল

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.