টানা ৭২ ঘন্টা ধর্মঘটের পর গতকাল  চা শ্রমিকদের যৌথ মঞ্চ (জয়েন্ট ফোরাম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘সরকার ও চা বাগান মালিকরা এই ব্যাপক  ধর্মঘটের ফলে নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন ১৭২ টাকার ন্যূনতম মজুরির সরকারি প্রস্তাব শ্রমিকেরা ছুঁড়ে ফেলেছেন  এই অপমানজনক প্রস্তাব নিয়ে এরপরে কোন আলোচনার প্রশ্নই নেই’

২৩৯ টাকা ন্যূনতম মজুরি, কুলিবস্তিতে বিদ্যুৎ, নিয়মিত রেশন, সন্তানদের শিক্ষার দাবিতে  যৌথ মঞ্চ গত ৭ই অগাস্ট থেকে তিনদিনের এই ধর্মঘটের ডাক দেয়৭ই অগাস্ট যৌথ মঞ্চ, বাগান মালিক ও সরকারের এক ত্রিপাক্ষিক সভা ডাকা হয়েছিল শিলিগুড়ির উত্তরকন্যা ভবনে।  সেখানে সরকার  ১৫৯ টাকার মজুরি বাড়িয়ে ১৭২ টাকার ন্যূনতম মজুরির প্রস্তাব দেয়, শ্রমিকেরা এই মজুরি অন্য সব শিল্প ও কৃষিতে নিযুক্ত শ্রমিকদের তুলনায় অনেক কম এই যুক্তিতে প্রত্যাখ্যান করেন, বাগান মালিকরা মিটিঙেই  আসেন নি।

পশ্চিমবঙ্গ খেতমজদুর সমিতির রাজ্য কমিটির সদস্য, সমাজকর্মী অনুরাধা তলোয়ারকে এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করায় তিনি আমাদের প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে কৃষি শ্রমিকরা দিনমজুরি পান ২৩৪ টাকা, অন্যান্য শিল্পশ্রমিকদের  দিনমজুরি প্রায় ৩০০ টাকা। তিনি বলেন, ‘চা শ্রমিকদের এই দাবির ন্যায্যতা নিয়ে কোন প্রশ্নই উঠতে পারে না, যে মজুরি তারা পাচ্ছেন তা ভুখমজুরি, তা দিয়ে পেট চলে না। এই দাবিতে আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরে চলেছে, বাগান মালিকেরা নির্বিকার, সরকারও সমাধানের কোন রাস্তা না বার করে টালবাহানায় সময় কাটাচ্ছে’। যৌথ মঞ্চের অন্যতম আহ্বায়ক জিয়াউল আলম তাঁর বিবৃতিতে জানিয়েছেন ‘১৫৯টাকা মজুরিও নিয়মিত নয়, এমনকি রেশন অনিয়মিত। আমাদের পিঠ ঠেকে গেছে দেওয়ালে। সেটাই এই ধর্মঘটে রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে আমাদের’। 

এইবার ধর্মঘট চা বাগানের চৌহদ্দিতে আটকে ছিল না, বরং তরাই ডুয়ারসের শ্রমিকেরা বাগান ছেড়ে বেরিয়ে মিছিল করে শিলিগুড়ি উত্তরকন্যা অভিমুখে অভিযান করেন। অন্য এক বিশেষ  বিষয় যা নজর কেড়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের তা হল পাহাড়ে ধর্মঘটীদের উপস্থিতি, সভা এবং মিছিল। গোর্খা মোরচা ধর্মঘটের সমর্থনে ডাক না দেয়া সত্তেও পাহাড়ে মিরিক, সুখিয়া, সোনাদা ভ্যালিগুলিতে দলে দলে শ্রমিক মিছিল করেছেন।  সোনাদা বাজারে একটি বড় সভাও হয়েছে। এই দাবিকে কেন্দ্র করে পাহাড়ে বহুকাল পরে উপস্থিতি জানান দিল সিপি আর এম ও অন্য বামপন্থী ইউনিয়নগুলি।  যদিও গোর্খা লিগ, জি এন এল এফ ও জন আন্দোলন পার্টি এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে।

আগামী ১৩ই আবার একটি ত্রিপাক্ষিক মিটিং ডেকেছে সরকার। মঞ্চ জানিয়েছে তাদের দাবিগুলি না মানা হলে আরও বড় আন্দোলনের পথে নামবেন তাঁরা। অন্যদিকে আসাম সরকার চা শ্রমিকদের জন্য ৩৫১ টাকা মজুরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ১৪ই অগাস্ট বিষয়টি চূড়ান্ত না হলে আসামের চা বাগান গুলিতে বড় আকারে বিক্ষোভ শুরু হবে ২০এ থেকে, তাঁরাও যেতে পারেন ধর্মঘটের পথে।

 

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.