পেঁয়াজহীন রান্না ০২: চিংড়ি কচুর ঘন্ট

Comments

সামনেই পুজো তাছাড়া বাজারে পেঁয়াজের দাম উর্ধ্বমুখি তাই পেঁয়াজছাড়া কিছু রান্নাপ্রণালী অর্থাৎ রেসিপি নিয়ে হাজির হল বাঙালীয়ানার “রান্নাঘর”। পাঠকের চাহিদা ও আগ্রহেই শুরু
“পেঁয়াজহীন রান্না” ধারাবাহিক।

আপনারাও পাঠাতে পারেন আপনাদের নিজস্ব রন্ধনপ্রণালী। তবে সাথে রান্না শেষ হওয়া পদের একটা ছবি এবং আপনার একটা ছবি পাঠাতে ভুলবেন না [email protected] ইমেলে। আপনাদের মতামত আমাদের খুব প্রয়োজন। – বিভাগীয় সম্পাদক

চিংড়ি দিয়ে কচুর শাক রান্নার উপকরণ:

  • কচুর ডগা এক আঁটি;
  • স্বাভাবিক সাইজের চিংড়ি- এক কাপ;
  • হলুদ গুঁড়ো-এক চা চামচ;
  • কাঁচা লংকা – ৮/৯টি;
  • তেজপাতা – ২টি;
  • শুকনো লংকা – ২টি;
  • মেথী – আধ চা চামচ;
  • লবন আন্দাজমত;
  • চিনি (ঐচ্ছিক) – আধ চা চামচ;
  • তেল আধ কাপ;


রন্ধনপ্রণালী:

কচুর ডগার ঘন্ট রান্না করার আগে ডগাগুলো সেদ্ধ করে নরম করে নিতে হয়। চিংড়ি মাছ ধুয়ে, খোসা ছাড়িয়ে মাথা এবং পিঠ থেকে কালো ময়লার পুঁটলি এবং সূতো  বের করে নিয়ে আরেকবার হালকা করে ধুয়ে ঝাঁঝরিতে জল ঝরতে দেবেন।

কচু সেদ্ধ করার জন্য একটি সসপ্যানে অল্প জল নিয়ে তার মধ্যে কচুর টুকরোগুলো নিয়ে সসপ্যানে ঢাকা দিয়ে চুলোয় বসাতে হবে, তাপ থাকবে মাঝারি। ভাল জাতের কচু সেদ্ধ হতে ৩০-৪০ মিনিট লাগে, ঘাড় ত্যারা কচু সেদ্ধ হতে দুই ঘন্টাও লেগে যেতে পারে। কচু সেদ্ধ হওয়ার এক ফাঁকে ধুয়ে রাখা চিংড়ি মাছগুলো হলুদ লবন দিয়ে হালকা লাল করে ভেজে নিতে হবে। তার জন্য কড়াই বা প্যানে খানিকটা তেল দিয়ে পাশের বার্নারে গরম হতে দিন।

আরও রাঁধুন কুমড়ো শাক দিয়ে মুসুর ডাল

তেল গরম হয়ে হালকা নীল ধোঁয়া উঠবে, এক চিমটি মেথি ছেড়ে দিন, মেথি কালো হওয়ার আগেই এবার চিংড়িগুলো ছেড়ে দিন। তিনটে কাঁচা লংকা লম্বা চিড়ে চিংড়িতে ফেলে দিন, অল্প হলুদের গুঁড়ো এবং একটু লবন দিয়ে চিংড়িগুলো লালচে করে ভেজে একখানা বাটিতে তুলে রাখুন।

কড়াই বা প্যানের গায়ে লেগে থাকা চিংড়ির তেল মশলা কাচিয়ে নিয়ে পরিষ্কার প্যান চুলোয় বসিয়ে দিন। বাকী তেল দিয়ে দিন, তেল অল্প গরম হলে শুকনো লংকা দিন, মরিচ কালচে হওয়ার আগেই তেজপাতা দিন, তেজপাতা বাদামী হওয়ার আগেই বাকি মেথী দিন। মেথী কালো হওয়ার আগেই সেদ্ধ করা কচুর মন্ড তেলে ছেড়ে দিন। খুন্তি বা ছেনি দিয়ে নাড়া চাড়া করে তেলের সাথে কচু মিশিয়ে দিন।

এবার মাঝারী তাপে কচুর জল শুকিয়ে যেতে দিন, জল কিছু শুকিয়ে কচু একটু দলা পাকিয়ে আসবে। আন্দাজমত লবন, হলুদের গুঁড়ো, তিনটি কাঁচা লংকা মিশিয়ে আবার নাড়তে থাকুন। কচু আরেকটু দলা পাকিয়ে আসবে, ভাজা চিংড়ি দিয়ে নাড়তে থাকুন। একেবারে শেষে (ঐচ্ছিক) চিনি দিয়ে বাকী কাঁচালংকাগুলো লম্বালম্বি কেটে কচুতে দিয়ে দাও।

হয়ে গেলো চিংড়ি কচুর ঘন্ট। খেয়ে দেখুন।

টিপস:

  • কচুর ডগা টুকরো করার আগেই যদি ভাল করে ধুয়ে নেয়া যায়, তাহলে হাত চুলকানি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। যার স্কিন সেনসিটিভ, কচুর ডগা কাটার আগে হাতে গ্লাভস পরে নিতে পারেন। 
  • এক বার্নারের চুলো যাদের তারা কচু সেদ্ধ হওয়ার পর চিংড়ি ভাজতে পারেন।
  • যারা পেঁয়াজ ছাড়া খেতে পারেন না তারা একটি পেঁয়াজ কুচি করে চিংড়ি ভাজায় দিতেই পারেন।
  • যারা প্রবাসে আছো, যেখানে সেখানে কচু গাছ পাবেন না, ইন্ডিয়ান ও বাংলাদেশী গ্রোসারি শপে কচুর মুখী পাওয়া যায়, সেই কচুর মুখী ঘরে রেখে দিলে শেকড় গজায়, সেগুলো মাটিতে পুঁতে দিলেই কচু গাছ বের হয়। প্রতি বছর কচুর গাছগুলো বংশ বিস্তার করে।
রন্ধনপ্রণালী ও ছবি:
Rita Roy Mithu
রীতা রয় মিঠু

আরও রাঁধুন কুমড়ো শাক দিয়ে মুসুর ডাল

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.