চিকিৎসক আর চিকিৎসা বিতর্ক এবং বাস্তবতা । রাহমান চৌধুরী

Comments

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসা নিয়ে জটিলতা বাড়ছে। কারণ চিকিৎসক নিজেই আক্রান্ত হবার ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। ঝুঁকির মুখে রয়েছেন প্রতিটি স্বাস্থ্য কর্মী। চিকিৎসকরা ভীত হতেই পারেন। স্বাস্থ্যকর্মীরাও ভীত হতে পারেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতো কণ্ঠস্বর জোরালো নয় স্বাস্থ্যকর্মীদের। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা বা চিকিৎসকদের নিয়ে বহুদিন ধরেই নানারকম নেতিবাচক মন্তব্য ছিল। মন্তব্যগুলি যে অকারণ তা নয়। কিন্তু পাশাপাশি সত্যের ভিন্ন পিঠ দেখার চেষ্টা করা হয়নি। রাষ্ট্র ভালো আর চিকিৎসকরা খারাপ, ব্যাপারটা কি এমন হতে পারে? নিশ্চয় নয়। বণিকতন্ত্র দ্বারা পরিচালিত ভোগবাদী রাষ্ট্রে শিক্ষকরা কি ব্যবসায়ী নয়? শিক্ষকদের কথা টানলাম এ কারণে যে, শিক্ষক আর চিকিৎসক দুটোকেই মহৎ পেশা বলা হয়। বণিকতন্ত্রের নিয়ন্ত্রিত ভোগবাদী রাষ্ট্রের দিকে না তাকিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে চিকিৎসকদের দিকে তাকালে, মনে হয় চিকিৎসকরা কসাই। কিন্তু বিচার ব্যবস্থার দিকে তাকালে কী দাঁড়ায়? ন্যায়বিচারের সে রাজ্যে কি দুর্নীতি আর লুটপাট নেই, মহাবিজ্ঞ আইনজীবীরা কি গরীব মানুষকে জমি বিক্রি করতে বাধ্য করে না? সাংবাদিকরা কি সব ধোয়া তুলশিপাতা? কাকে বাদ দেবেন? মনে রাখতে হবে রাষ্ট্রের পুরো চেহারাটাই জনবিচ্ছিন্ন, লুটেরা আর দমনপীড়নে সদাই ব্যস্ত। ফলে পত্রিকার পাতা জুড়ে থাকে দুর্নীতির খবর। কিন্তু বিচার হয় না। সারা বিশ্বের ধনীকতন্ত্রে বিশ্বাসী প্রতিটি রাষ্ট্রের চেহারা কমবেশি এমনি।

বাংলাদেশের চিকিৎসকদের সেখানে বিচ্ছিন্ন করে বা আলাদা চোখে দেখার সুযোগ নেই। চিকিৎসা ব্যবস্থাও তাই। খাদ্যব্যবসা আর চিকিৎসাব্যবস্থা, দুটার চেহারা প্রায় একরকম এই সকল রাষ্ট্রে। সেটা পৃথিবীব্যাপী, পার্থক্য উনিশ আর বিশ। বাংলাদেশ আসলে বড় দেশগুলিরই অনুকরণ করে। কিন্তু তারপরেও কথা থাকে। বায়ান্নতে আর ুনসত্তরে যে পুলিশ মিছিলে গুলি চালায়, সেই পুলিশ একাত্তরে এসে মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে প্রাণ দেয়। ঘটনার স্রোত বহুকিছু হঠাৎ পাল্টে দেয়। স্বভাবতই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ তেমন একটি ঘটনা। মানবতা বিপন্ন হলেই, মানুষ ভোগবাদী খোলস থেকে সাময়িকভাবে বের হয়ে এসে নিজেকে পাল্টে মানবিক হয়ে উঠতে চায়। বাংলাদেশে আর সারাবিশ্বে সেটা দেখা গেল, চিকিৎসকরা মানবতার জয়গানে মুখরিত হলো। বিভিন্ন মহাযুদ্ধেও চিকিৎসকদের আত্মবলিদান দেখা গেছে। কিন্তু বর্তমান সময়ের ব্যাপারটা একটু আলাদা। চিকিৎসকদের ভূমিকা এবার সম্পূর্ণ ভিন্নরকম। মনে করা যেতে পারে এরা হলো যুদ্ধের মাঠে ‘সুইসাইড বাহিনী’। চিকিৎসকরা একা নন, সমানভাবে বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর্মী। কিন্তু সঙ্কটটা হলো, চিকিৎসকরা আত্মহত্যা করে ফেললে, বাকি রোগীদের চিকিৎসা দেবে কে? সেজন্য চিকিৎসকদের ভূমিকা এখানে দুটি। সুইসাইড বাহিনীর হয়েও তার লক্ষ্য থাকবে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা যেন আরো রোগীরা তার চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হোন।

চিকিৎসকদের আত্মহত্যা করতে মাঠে পাঠালেও, সুরক্ষা দেয়াটা জরুরি সার্বিক বিবেচনায়। সারা রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সেটা করা দরকার। চিকিৎসকের ভবিষ্যত যতো দীর্ঘায়িত হবে, রাষ্ট্র তত তাঁর সেবা পাবে। ফলে চিকিৎসকরা চাইবার আগে তাঁদের সুরক্ষা দিতে হবে। ভিন্নদিকে সুরক্ষা নাই বলে চিকিৎসা বন্ধ থাকবে সেটাও কাম্য নয়। চাইলেই সবসময় সবকিছু হাতের কাছে পাওয়া যায় না, কিন্তু সেজন্য চিকিৎসা বন্ধ করে দিয়ে কি চিকিৎসক নিজে বাঁচবেন। চিকিৎসকের বাঁচাটা নির্ভর করে সকলের বেঁচে থাকার সঙ্গে। কৃষকরা না বাঁচলে খাদ্য উৎপাদন করবে কে? শ্রমিক না বাঁচলে কে জোগাবে অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী। বিদ্যুৎ বিভাগ, পানি সরবারহ ব্যবস্থা, গ্যাস সরবরাহ সব টিকে না থাকলে হাসপাতাল চলবে কী করে? সকলকে এই বিপদে হাত ধরাধরি করে বাঁচতে হবে। নিশ্চয় সে লড়াইয়ে চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্তরা অনেক বেশি বিপদের সম্মুখিন। বাকিরাও খুব কম ঝুঁকিতে নেই। পুলিশ সহ বিদ্যুৎ, পানি ইত্যাদির সঙ্গে যুক্তরা মিলেমিশে কাজ করবে, সংক্রামিত হবার সম্ভাবনা তাদেরও রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও চিকিৎসকদের বা স্বাস্থ্যকর্মীদের যতোটা সুরক্ষা প্রয়োজন সেটা অন্যদের দরকার নেই। চিকিৎসকরা সুরক্ষা না পেলে, ভাইরাসের সংক্রমণের শিকার হলে, সে আরো বহু মানুষকে নিজের অজান্তে সংক্রামিত করবে। খুব সহজ হিসাব সেটা। ফলে চিকিৎসক আর স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার দেয়ার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নিতে হবে। যদি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় রাষ্ট্র, চিকিৎসকরা তখন সেটা নিয়ে অভিযোগ করবে না। কিন্তু যদি তাঁরা দেখতে পান যে তাদের সুরক্ষা না দিয়ে আমলারা ক্ষমতার জোরে সেটা ব্যবহার করছেন, স্বভাবতই ভুল বোঝাবুঝি হবে।

চিকিৎসক বা রাষ্ট্রের সকলকেই নিজনিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে সেটাই স্বাভাবিক। সেখানে আলাদা করে প্রণোদনা দিতে হবে কেন? প্রণোদনার যদি মানে হয় উৎসাহ, কাজের মর্যাদা দান, নিশ্চয় সেটা তাদের প্রাপ্য। কার সেটা দিতে আপত্তি থাকবে? সকলকেই সে মর্যাদা দেয়া উচিৎ। কিন্তু যদি প্রশ্নটা আসে আর্থিক, তাহলে খুব ন্যায়সঙ্গত হবে না সেটা কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া। যুদ্ধের মাঠে সৈন্যরা প্রাণ দিতেই যান, মাতৃভূমি বা দেশরক্ষার জন্য। সেটাই তাঁর চাকরি। নিজের জন্য নয়, রাষ্ট্রের অন্যদের জন্য তাঁরা মরতে যান। মারা যাবার পর পরিবারের জন্য রাষ্ট্র যদি কিছু করে, সেটা ঠিক আছে। রাষ্ট্র সেটা সকলের জন্যই করতে পারে। কিন্তু কাজ করার পূর্বেই শর্ত জুড়ে দেয়া যায় কি ‘প্রণোদনা চাই”? মুক্তিযুদ্ধে যারা গিয়েছিলেন, বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তারা কি কোন শর্ত দিয়ে প্রাণ উৎসর্গ করতে গিয়েছিলেন? কিন্তু এখন হঠাৎ প্রণোদনার প্রশ্ন উঠছে কেন? সত্যি বলতে, রাষ্ট্রই এর জন্য দায়ী। রাষ্ট্রের পূর্বে কৃতকর্মের ফল এটা। যখন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা বিজয় অর্জন করেছে, নানা কিছু অনির্ধারিতভাবে তাঁদের দেয়া হয়েছে। খেলা তাঁদের দায়িত্ব, খেলায় জয়-পরাজয় থাকবে। কখনো জিতবে, কখনো হারবে। জিতলে বাড়তি কিছু দিতে হবে কেন? জয়ী হলে দর্শকরা যে হাততালি দেয় সেটাই তার প্রণোদনা। রাষ্ট্রের অন্যান্য নিয়মে এর চেয়ে বেশি কিছু তার প্রাপ্য নয়। খেলায় জিতলে রাষ্ট্রের অর্থনীতি চাঙ্গা হয় না যে, তারজন্য খেলোয়াররা প্রণোদনা পাবে। ফলে চিকিৎসকরা যদি প্রণোদনার কথা বলে থাকেন, সেটা রাষ্ট্রের রোপিত বিষ বৃক্ষের ফল। রাষ্ট্র সরকারি আমলাদের বেতনের বাইরে নানা ধরনের প্রণোদনা দিয়ে থাকে। কিন্তু কেন? যারা রাষ্ট্রের অর্থনীতির ভিত সেই কৃষি-শ্রমিক বা পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের জন্য কি সামান্য প্রণোদনা রয়েছে? বিশ্বের সকল ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বিরাট অসঙ্গতি এটা, সবসময় তেল মাথায় তেল দেয়া।

মূল কথাটা হলো, করোনা ভাইরাসকে নির্মূল করতে, তার সংক্রামণ থেকে বিশ্বকে রক্ষা করতে সারা দুনিয়া জুড়ে একটা মহাযুদ্ধ চলছে। সেই মহাযুদ্ধে অস্ত্র হাতে সৈনিকরা লড়ছে না, লড়ছে চিকিৎসক আর স্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষকরা। নিশ্চয় বাস্তবতা মেনে নিয়ে তাদের সেই কৃতিত্ব দিতে হবে। সারাবিশ্বের চিকিৎসকরা নিজনিজ দেশে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, এক দেশের চিকিৎসকরা গিয়ে আর এক দেশের চিকিৎসা করে দেবেন, সে সুবিধাটা এখন নেই। সকলেই নিজের ময়দানের লড়াইয়ে ব্যস্ত। বাংলাদেশের চিকিৎসকরা লড়ে যাচ্ছেন কমবেশি। অনেক চিকিৎসক লড়তে ভয় পাচ্ছেন। মুত্যুর সামনে দাঁড়িয়ে ভয় পাওয়াটা খুব স্বাভাবিক। সকলে সমান সাহসী হয় না। সবটা যে ভয়, তাও নয়। বিভিন্ন জন বিরক্ত আমলাদের বা উপরওয়ালাদের আচরণে। বিভিন্ন চিকিৎসকরা নানা কারণে ক্ষুব্ধ। সকলের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা দরকার। সাহস জোগানো দরকার। সরকারের পক্ষে যা যা করা সামর্থের মধ্যে নেই, সেটাও বলা দরকার। সকলকেই সরকারের সামর্থ বুঝতে হবে। সরকারের সামর্থ বুঝে যা চাইবার চাইতে হবে। কঠিন লড়াইয়ে দাঁড়িয়ে নিজেরা অন্তর্দ্বন্দ্বে লিপ্ত না হয়ে খোলামনে কথা বলা দরকার। কারণ সকলে মিলেই লড়তে হবে। নিশ্চয় কিছু এমন চিকিৎসক থাকবেন যাঁরা শুধু সুবিধা নিতে চান। কিন্তু সেরকম কিছু চিকিৎসকের জন্য সকল চিকিৎসককে এক কাতারে ফেলা যাবে না। বিরাট সংখ্যক চিকিৎসক আর স্বাস্থ্যকর্মীদের সরকারকে উৎসাহ জোগাতে হবে, সম্মান দিতে হবে আর মেনে নিতে হবে তারা একটা যুদ্ধে আছেন। যখন তারা হতাশ হবেন, সাহস জোগাতে হবে, ভালোবাসা, মায়ামমতা দিতে হবে। কিন্তু যারা সুযোগসন্ধানী সেসব চিকিৎসতকদের তোষামদ করার কিছু নেই, যুদ্ধের মাঠে বরং তাদের চরিত্র হবে মীরজাফরের মতো। রাষ্ট্রকে বা জনগণকে যদি কেউ জিম্মি করতে চায়, রাষ্ট্রকে অবশ্যই তাদের প্রতি কঠোর হতে হবে। কিন্তু কাউকেই যেন চট করে আবার ভুল বোঝা না হয়।

বাংলাদেশে প্রথম থেকে ভুল হয়েছে অনেকে আর ভুল বাড়াবার সুযোগ নেই। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা শতকরা হিসেবে এখন অন্য দেশের চেয়ে বেশি। বিভিন্ন হাসপাতালগুলির অংশগ্রহণ না করা চিকিৎসা বন্ধ করা নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা আছে। কিন্তু সেটার প্রধান কারণ সমন্বয়ের অভাব। আইইডিসিআর প্রথম থেকেই নানাভাবে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। বলেছে যারা সংক্রামিত নয়, তাদের মাস্ক পরার দরকার নেই। যারা সংক্রমিত নয় তাদের মাস্ক পরা নিয়ে তারা ব্যঙ্গ কৌতুক পর্যন্ত করেছে। আইইডিসিআর-এর কর্তাব্যক্তিরা বলেছে, তারা একাই সবকিছু করে ফেলবে। পরীক্ষা নিরীক্ষা তারা একাই করবে। খুব জোর দিয়ে বলেছে, তাদের উপর পূর্ণ ভরসা রাখতে। বলেছে তারা ইতিপূর্বে সাফল্যের সঙ্গে নানাধরনের মহামারীকে সামাল দিয়েছে, তাদের ছাব্বিশ বছরের অভিজ্ঞতা। কিন্তু এসব বড় কথার ফল ভালো হয়নি। বাকিরা যুক্তিসঙ্গভাবে তাদের কথারসূত্র ধরে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বোধ করেনি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কেউই তখন সঠিক নির্দেশনা দিতে পারেনি। ফলে সামগ্রিকভাবে একটা লড়াই করার প্রস্ততি নেয়া যায়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ব্যাপারটাকে নিজের হাতে নিলেন, একটা সমন্বয় দেখা গেল প্রথমবারের মতো। সকলে দিকনির্দেশনা পেলেন। কিন্তু রাতারাতি তো আর সবকিছু হবে না। সময় লাগবে সবকিছু ঠিকঠাক হতে। প্রধানমন্ত্রী বলার পরেও দেখা গেল বাকি দায়িত্বশীলরা স্পষ্ট করেই বুঝতে পারছেন না কী করবেন। প্রধানমন্ত্রীকে আবার ভিডিও কনফারেন্স করতে হলো আমলা এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে। পরবর্তীতে প্রয়োজন মতো সকলকে নানা বিষয়ে সতর্ক করতে হলো। সম্পূর্ণ পরিকল্পনা সম্পর্কে সঠিক দিক নির্দেশনা দিলেন লিখিতভাবে। নিশ্চয় আমরা আশা করি, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দিক নিদেশনার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অদিদপ্তর আর আইইডিসিআর সকলের সঙ্গে সমন্বিতভাবে আমাদের জন্য এখন সত্যিকারের সাফল্য বয়ে আনার জন্য কাজ করে যাবেন। সম্পূর্ণ আস্থা রাখতে চাই তাদের প্রতি। দিনরাত তাঁরা যে অক্লান্তভাবে খাটছেন তা নিয়ে কিন্তু সামান্য সন্দেহ নেই।

বাংলাদেশের সামর্থ সীমিত। বহু দেশের সামর্থ বাংলাদেশের চেয়েও কম। কিন্তু তা নিয়ে হা হুতাশ বা দুঃখ করার কিছু নেই। যা আছে তা নিয়েই লড়তে হবে। পরিকল্পনা মাফিক লড়তে পারলে কম সামর্থ নিয়ে অনেক বেশি ফল পাওয়া যায়। স্মরণ রাখতে হবে, বিভিন্ন চিকিৎসার মতো করোনার সঙ্গে লড়াইটা শুধু হাসপাতালে হবে না, হবে প্রত্যেক ঘরে ঘরে। প্রত্যেকটি ঘরকে শক্তিশালী করে তবেই এ লড়াই সার্থক হবে। মৃতের সংখ্যা কম থাকবে। ফলে প্রত্যেক ঘরকে তার লড়বার প্রয়োজনীয় রসদ জোগাতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে, মানুষ যেন না খেয়ে থেকে তার রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা হারিয়ে না ফেলে। সকলকে চিকিৎসা দেয়ার সামর্থ থাকবে না, সকলকে চিকিৎসা দেয়ার প্রয়োজনও পড়বে না। কিন্তু সকলকে আহার জোগাতে হবে। করোনার আক্রমণে যে মারা গেল না, সে যেন না খেয়ে মারা না যায়। প্রথম কাজ হলো মানুষকে বাঁচিয়ে রাখা। সন্দেহ নেই এ লড়াইটা হবে দীর্ঘ, যতক্ষণ না প্রতিষেধক আবিস্কার করা যায়। চিকিৎসকদের সেই লক্ষ্যে টিকে থাকতে হবে দীর্ঘ সংগ্রাম চালাবার জন্য আর তাঁদের সুরক্ষার কথাটি মাথায় রাখতে হবে। চিকিৎসকদের দায়িত্ব রয়েছে, মানুষের মনে আশা জাগানো, ঠাণ্ডা মাথায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। যে মানুষটি বহু মানুষের ভীড়ে চিকিৎসা পাবে না, সে হয়তো চিকিৎসককে ভুল বুঝবে। চিকিৎসককে হাসিমুখে সে অভিযোগটা মেনে নিতে হবে। রাষ্ট্রের কাজ হবে চিকিৎসকদের হয়ে প্রয়োজনে জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয়া। নিশ্চয় সকলে এভাবেই একটা মধুর বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবো।

বর্তমানে সমন্বয় তৈরি হচ্ছে। যদি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করে এবারের লড়াইয়ে সাফল্য আসে, সামনের দিনগুলিতে চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে একটি সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা বাংলাদেশের জন্য সহজ হবে। যেন এখন কেউ আমরা অকারণ বিতর্কে না জড়াই, পরস্পরকে আক্রমণ করে বিভেদ না বাড়াই। সামনে যে কঠিন লড়াই, সবার আগে সে লড়াই সার্থক হতে হবে সকল হীনমন্যতা ঝেড়ে ফেলে।

লেখক পরিচিতি:
রাহমান চৌধুরী, লেখক, শিল্প সমালোচক
Raahman Chowdhury

*এই বিভাগে প্রকাশিত লেখার মতামত ও বানানরীতি লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাঙালীয়ানার সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকা অস্বাভাবিক নয়। তাই এখানে প্রকাশিত লেখা বা লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা সংক্রান্ত আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় বাঙালীয়ানার নেই। – সম্পাদক

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.