জুলহাজ-তনয় হত্যা: আসাদুল্লাহ রিমান্ডে

Comments
মঙ্গলবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০১৯, সন্ধ্যা সোয়া ৬টা গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা থেকে ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিলে রাজধানীর কলাবাগানে সমকামী অধিকার কর্মী জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব তনয়কে কুপিয়ে হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন আসাদুল্লাহকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ

বুধবার , ১৬ জানুয়ারী, ২০১৯, দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম। তিনি জানান, গ্রেফতার ব্যক্তির নাম আসাদুল্লাহ ওরফে ফখরুল ওরফে ফয়সাল জাকির ওরফে সাদিক।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সময়ে বলেছি যে আনসার আল ইসলামের একাধিক গ্রুপ থাকে। অর্থাৎ একটা থাকে অপারেশনাল গ্রুপ বা কিলার গ্রুপ, আরেকটা থাকে ইনটেল গ্রুপ যারা ইনটেলিজেন্স কালেকশন করে। আমরা এখন নিশ্চিত হয়েছি যে ওই দিন সাতজন উপস্থিত ছিল যার পাঁচজন ছিল কিলার গ্রুপের সদস্য এবং দুইজন ছিল ইনটেল গ্রুপের সদস্য। তো আমরা যে পাঁচজন কিলার গ্রুপের সদস্য হিসেবে ভেতরে প্রবেশ করেছিল সেকে।সত্রে আপনারা জানেন যে দারোয়ানকেও আহত করা হয়েছিল, দারোয়ানদের আটকে রেখেছিল তিনজন আর দুইজন ভেতরে ঢুকেছিল। এই পাঁচজনের দুইজনকে আমরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। তাদেরই একজন আসাদুল্লাহ ওরফে ফখরুল ওরফে ফয়সাল জাকির ওরফে সাদিক। ইতোপূর্বে আমরা আরাফাত নামে আরো একজনকে গ্রেফতার করেছিলাম। যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে যে সেও এই পাঁচজনের একজন ছিল।‘

এছাড়া ইনটেল গ্রুপের জাবেদ ও সায়মন নামে দুইজনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। অর্থাৎ এই ঘটনায় জড়িত মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজন সরাসরি ওই্ ঘটনায় জড়িত ছিল।

আসাদুল্লাহর বাড়ি ঝিনাইদহের মহেশপুরে। সে যশোর পলিটেকনিকে পড়াশোনা করেছে। আসাদুল্লাহার বাবা ছিল জামায়াতের রুকন পর্যায়ের নেতা। আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে যোগদানের আগে ২০১৫ সালে যশোরের নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ছাত্রশিবিরের সাথী ছিল।

আসাদুল্লাহর সঙ্গে আরেকটি ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয় সামনে এসেছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সেটি হলো ২০১৬ সালেই বাড্ডার সাঁতারকুলে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা। সেই ঘটনার সঙ্গে আসাদুল্লাহ ওরফে ফখরুল জড়িত ছিল। ওই সময় আহত পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যে এই ব্যক্তিই তাকে আঘাত করেছিল এবং তার সঙ্গে থাকা সরকারি অস্ত্রটি ছিনিয়ে নিয়েছিল।

আসাদুল্লাহকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হবে জানিয়ে সিটিটিসি প্রধান বলেন, রিমান্ডে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর তার কাছ থেকে আরো তথ্য পাওয়া যাবে বলে তারা আশা করছেন।

নিষিদ্ধ জঙ্গি দল আনসার আল-ইসলাম ওই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে পুলিশ ধারনা করছে। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও গত প্রায় তিন বছরে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনননি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

আগামী ২৩ জানুয়ারি আদালতে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার দিন ধার্য রয়েছে।

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.