টেলিসিরিয়ালের অচলাবস্থায় স্বস্তি

Comments

৬ দিন ধরে বন্ধ ছিল মেগা সিরিয়াল গুলোর শুটিং। জট পাকিয়েছিল সিরিয়াল আর্টিস্ট বনাম  প্রডিউসার নানা দ্বন্দ্বের কারণে। অবশেষে সেই মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দরকার হল। আজ বিকেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব পক্ষকে নিয়ে বসে মিটমাট করলেন। কাল থেকে ‘টলি বা টেলি’ র কাজ শুরু হচ্ছে। ফলে দর্শকদের মুখে ফুটেছে হাসি।

টলিউড ফিল্মপাড়ায় নানা গোষ্ঠীর জটপাকানো আলোচনায় নানা ফিসফাস।  আর্টিস্টদের নানা দাবি দাওয়া নিয়ে অনেক দিনের জমা ক্ষোভ ছিল, যার মধ্যে অন্যতম বকেয়া টাকা মেটানর দাবি, নির্দিষ্ট সময় (১০ ঘন্টা) কাজের সিডিউলের দাবি। তাঁদের মতে ইদানিং অমানুষিক পরিশ্রম করতে হচ্ছিল, কখনো কখনো এমনকি ২০-২২ ঘন্টা শিফট চলছিল।

মূখ্যমন্ত্রীর সভায় উপস্থিত একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমাদের প্রতিবেদককে জানান ‘সকাল ১০ টা থেকে রাত ২টো অবধি শিফট চলেছে, পরদিন আবার সকাল আটটায় কল টাইম, এভাবে কাজ করা সম্ভব? এদিকে বেশির ভাগ সময় আমরা কাজ করি কনট্রাক্টে, শিফট অনুযায়ী টাকা বা ওভার ড্রাফট পাই  না।’ আরও বলেন, “সমস্যার কোন সমাধান হয়েছে বলে মনে হয় না, সেই তো সব অরুপ-স্বরুপ বাদার্সের হাতেই রয়ে গেল”।

soumitra mamata

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও মমতা বন্দোপাধ্যায়

তবে মূখ্যমন্ত্রী  ভবিষ্যতে যাতে ফের গোলমাল না হয় সেইজন্য ১৩জন সদস্যের এক কন্সিলিয়ারি কমিটি তৈরি করে দিয়েছেন। যার উপদেষটা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সভাপতি অরূপ বিশ্বাস। কমিটিতে আছেন প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতা, অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, পরিচালক অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়। কলাকুশলীদের পক্ষ থেকে আছেন স্বরূপ বিশ্বাস, আছেন চিত্রনাট্যকার লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ও। এছাড়া স্টার জলসা, জি বাংলা ও কালার্স সহ টেলিভিশন চ্যানেলগুলির প্রতিনিধিদেরও এই কমিটিতে রাখা হয়েছে। সৌমিত্র এক আবেদনে সবাইকে বলেন ‘আর ঝগড়া ঝাঁটি  কোর না’। তিনি মুখ্যামন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান সমস্যা সমাধানের জন্য।

আনন্দবাজার ডিজিটালকে প্রসেনজিৎ বলেন, ‘‘এটা খুবই সুখবর। কাল থেকে কাজ শুরু হচ্ছে। দিদির নেতৃত্বে কমিটি তৈরি হয়েছে। সেই কমিটিতে সব পক্ষের প্রতিনিধিই থাকছেন।’’

‘তা হলে দাবিদাওয়ার বিষয়টির কী হবে’ এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রসেনজিৎ বলেন, ‘‘আমি এটাকে দাবিদাওয়া বলতে চাই না। ১০ হাজার মানুষ এক সঙ্গে কাজ করলে সমস্যা হবেই। কোনও সমস্যা হলে এই কমিটি দেখবে যাতে কারও কোনও সমস্যা না হয়। আমি আবার বলছি, আমাদের কোনও দাবি নেই। অজস্র মানুষ এই সব ধারাবাহিকের জন্য বসে থাকেন। তাঁদের সময়টা আবার ফিরিয়ে দিচ্ছি। তাঁরা আরও ভাল ভাল গল্প পাবেন। সবাই মিলেমিশে কাজ করাটাই মোদ্দা কথা।’’

টানা পাঁচ দিন শুটিং বন্ধ থাকায় বেশ কয়েকটি টিভি সিরিয়ালের স্লটেই পুরনো পর্বের ‘রিপিট’ চলছে। তাছাড়া, টিভি সিরিয়াল চলা, না-চলার সঙ্গে জড়িয়ে বহু কলাকুশলীর জীবিকা। এর ফলেই মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চলাবস্থার অবসান হবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

বাঙালীয়ানা/এসসি/এসএল

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.