তথ্য দিতে এসে লাঞ্ছিত ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেত্রীবৃন্দ

Comments
শনিবার, ১৮ মে, ২০১৯, দিবাগত রাত দুটোর দিকে  ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিতর্কিত নেতাদের বিষয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনে আসা হামলার শিকার হয়েছে ‘পদবঞ্চিত’ নেতাকর্মীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে এ হামলার ঘটনায় ১৫ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার পরে পদবঞ্চিতরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে।

ছাত্রলীগ কর্মীদের বরাতে গণমাধ্যমে প্রকাশ, পদবঞ্চিতদের সঙ্গে কথা বলতে রাত পৌনে ২টার দিকে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে উপস্থিত হয় ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। পদবঞ্চিতদের সঙ্গে আলোচনার এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সভাপতি বিএম লিপি আক্তারকে প্রশ্ন করে ‘তুই আমার বিরুদ্ধে মাদক নেওয়ার বিষয়ে চ্যানেলগুলোতে কথা বলেছিস কেন’। লিপি আক্তার পাল্টা বলে, ‘আপনারাওতো সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বিষয়ে খারাপ কথা বলেছেন। এটা আপনাদের কাছ থেকে শিখেছি।’ পরে গোলাম রাব্বানী লিপিকে বলে ‘তুই নিজেও একটা ভাইরাস’। লিপি আক্তার গালির প্রতিবাদ করে এবং সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ে।

এর পরেই গোলাম রাব্বানীর অনুসারীরা লিপি আক্তার ও বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের সভাপতি শ্রাবণী শায়লা ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদা পারভীন, শেখ আব্দুল্লাহসহ অন্যদের ওপর হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত হয় ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের বিগত কমিটির সহ-সম্পাদক শেখ আব্দুল্লাহ।

পদবঞ্চিতদের একজন তানভীর হাসান সৈকত বলেন, ক্যাম্পাসে যাদের আমরা নিজের হাতে করে রাজনীতি শিখিয়েছি। আজ তারা আমাদের উপর হামলা করে। এর চেয়ে কষ্টের আর কি হতে পারে!

পদবঞ্চিতরা অভিযোগ করেছে, হামলায় নারী নেত্রীসহ ১৫ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী আহত হয়েছে।

এ অবস্থায় পদবঞ্চিতরা টিএসসি থেকে বের হয়ে এসে রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নিয়ে ঘটনার প্রতিবাদে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। বিতর্কিতদের বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ দিতে এসে হামলার শিকার হওয়ায় তারা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ও তার কাছে বিচার দাবি করে।

পরে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক টিএসসি থেকে বেরিয়ে রাজু ভাস্কর্যে অবস্থানকারীদের কাছে আসে এবং হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে  ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের অবস্থান ছেড়ে হলে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয় ও সবকিছুর সুষ্ঠু সমাধানের কথা বলে।

তবে হামলার শিকার নেতাকর্মীরা তাতে রাজি হয়নি। পদবঞ্চিতরা বলেছে, প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস না পেলে তারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। তারা আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কাছে প্রশ্ন রেখে বলে, ‘আমরা কি ছাত্রলীগে নিরাপদ নই?’

পদবঞ্চিতদের নেতৃত্বে থাকা গত কমিটির প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু গণ্ক্মাধ্যমকে বলে, ‘বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তার প্রমাণ দিতে গেলে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আমাদের বোন বিএম লিপি আক্তারকে চড় দেন। পরে তার অনুসারীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়।’ তবে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী কারও গায়ে হাত তোলার বিষয়টি অস্বীকার করে। রাব্বানী বলে, ‘আলোচনা চলার এক পর্যায়ে তক-বিতর্ক শুরু হলে কয়েকজনকে নিবৃ্ত্ত করা হয়। কাউকে মারধর করা হয়নি। পদবঞ্চিতরা নাটক শুরু করেছে।’

ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক শোভন এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। এদিকে সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে বলেও শোনা যাচ্ছে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ছাত্রলীগের দুপক্ষের নেতাকর্মীদের রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

বাঙালীয়ানা/এসএল

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.