ধর্মঘটে আটকে পড়ে সাত দিনের কন্যাশিশুর মৃত্যু

Comments
পরিবহণ শ্রমিকদের ডাকা ৪৮ ঘন্টার ধর্মঘটে আটকে পড়ে সাত দিনের কন্যাশিশুর মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আন্দোলনরত পরিবহন শ্রমিকদের বাধায় মৌলভীবাজারের বড়লেখায় একটি এ্যাম্বুলেন্স আটকে পড়ায় এই ঘটনা ঘটে  বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। রবিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৮, দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়নের চান্দগ্রাম এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।  
উল্লেখ্য, সদ্য পাশ হওয়া সড়ক পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধন ও অন্যান্য ৮ দফা দাবিতে পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। পথে পথে ওষুধের গাড়ি, বিদেশ যাত্রী, স্কুলগামী শিক্ষার্থী, পরিক্ষার্থী এমনকি অ্যাম্বুলেন্সও আটকে দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায়, মৌলভীবাজারে এ্যাম্বুলেন্সটি আটকে দেওয়া হয় বলে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জানা গেছে।
শিশুর পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বড়লেখা উপজেলার সদর ইউনিয়নের অজমির গ্রামের কুটন মিয়ার সাত দিনের শিশু কন্যা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রবিবার সকালের দিকে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে  উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক। এর প্রেক্ষিতে, শিশুর অভিভাবকরা অ্যাম্বুলেন্সে করে সকাল ১০টার দিকে শিশুটিকে নিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হন। যাওয়ার পথে উপজেলার পুরাতন বড়লেখা বাজার, দাসেরবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে অ্যাম্বুলেন্সটি পরিবহন শ্রমিকদের ক্রমাগত বাধার মুখে পড়ে। ফলে সময় অপচয় হয় অনেক বেশী। চান্দগ্রাম নামক স্থানে পরিবহন শ্রমিকরা এ্যাম্বুলেন্স চালককে মারধরও করে। এখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্সটি আটকা থাকে। দুপুর দেড়টার দিকে গাড়িটি ছাড়া পেলে শিশুটিকে পাশের সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত শিশুর চাচা আকবর আলী বলেন, ‘আমার ভাতিজী মায়ের দুধ খাচ্ছিল না। এজন্য তাকে বড়লেখা হাসপাতালে নিয়ে যাই। ডাক্তাররা তাকে দ্রুত সিলেট ওসমানীতে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে সিলেট রওনা দিই। প্রথমে দাসেরবাজারে গাড়ি আটকে চালককে মারধর করেন পরিবহন শ্রমিকরা। পরে অনেক অনুনয়-বিনয়ের পর তারা গাড়ি ছাড়ে। চান্দগ্রামে আবার অ্যাম্বুলেন্সটিকে আটকিয়ে গাড়ির চাবি নিয়ে যায় এবং ৫০০ টাকা দাবি করে। প্রায় দেড় ঘণ্টা এখানে আটকে ছিলাম। এখানে মেয়েটা মারা গেছে। আমরা বড়লেখা থানায় গিয়ে অভিযোগ দিছি।’
এদিকে, সিএনজি পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন বড়লেখা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন জানান, যেখানে যেখানে সিএনজি শ্রমিকদের অবরোধ ছিলো সকালেই সেগুলো তুলে দেওয়া হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স আটকানোর সঙ্গে কোনো সিএনজি শ্রমিক জড়িত নয় বলেও দাবি করেন এই শ্রমিক নেতা।
বড়লেখা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জসীম বলেন, ‘একটি শিশু মারা যাওয়ার কথা লোকমুখে শোনা যাচ্ছে। সিলেটে যাওয়ার পথে রাস্তায় আটকে মারা গেছে। এরকম অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু কোনো লিখিত অভিযোগ এখনও পাওয়া যায়নি।’অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
বাঙালীয়ানা/এএ/জেএইচ

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.