নিজ কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ

Comments
ঢাকায় ১০ বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে শিশুর পিতা সাহেদুল্লাহ চিশতীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী শিশুটিকে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় থানায় এখনও কোনও মামলার খবর পাওয়া যায়নি।

শিশুটির বাবা একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা। শিশুটির মা জানিয়েছেন আড়াই বছর আগে তাদের আইনগতভাবে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তাদের দুই সন্তান তালাকের পর প্রায় ৬ মাস বাবার কাছে ছিল। পরে মায়ের জিম্মায় যায় তারা। মায়ের অভিযোগ, মঙ্গলবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯, সকালে বাবা সাহেদুল্লাহ শিশুটিকে বাসা থেকে গাড়িতে করে স্কুলে নিয়ে যায়। পরে দুপুরে শিশুটি একাই স্কুল থেকে বাসায় আসে। সে জানায় তার পেট ব্যাথা। কারণ জানতে চাইলে বাবাকে কিছু না বলার শর্তে মাকে জানায়, রাস্তায় গাড়ির মধ্যে বাবা তাকে নির্যাতন করেছে। এর আগেও বাসায় একাধিকবার শিশুটির সঙ্গে বাবা একই কাজ করেছে বলেও সে মাকে জানায়। শিশুটির মা সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরাও জানিয়েছেন যে শিশুটি ধর্ষণের শিকার এবং এটিই প্রথমবার নয়।

তবে শিশুটির অভিযুক্ত বাবা সাহেদুল্লাহ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “তালাকের আগে থেকেই তাদের মায়ের সঙ্গে আমার সম্পর্কের অবনতি হয়। সে নিজেই আমাকে তালাক দেয়। তারপর থেকেই কয়েকটি থানায় আমার বিরুদ্ধে নির্যাতনের মামলা করে। থানা পুলিশ কোন প্রমাণ পায়না। পরে মামলা তুলে নেয়।” সাহেদুল্লাহ আরও বলেন, “শুনেছি আমার মেয়ের শরীরে ধর্ষণের আলামত মিলেছে। কে আমার মেয়ের এমন সর্বনাশ করেছে? তার বিচার চাই। মেয়ের মা অন্য কাউকে দিয়ে খারাপ কাজ করিয়ে আমার উপর দোষ চাপাচ্ছে। আমি এর তদন্ত চাই।” দুই সন্তানকে নিজের জিম্মায় পেতে আদালতে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে সাহেদুল্লাহ জানান। আর এই খবর পেয়েই তার সাবেক স্ত্রী এসব অভিযোগ দিচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

বুধবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯, দুপুরে ঢামেক ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) সমন্বয়কারী ডা. বিলকিস বেগম জানান, মঙ্গলবার একটি শিশু ভর্তি হয়েছে। আজ শিশুটির বয়স নির্ধারণের জন্য পরীক্ষা করা হয়েছে। এছাড়া সে ধর্ষণের শিকার হয়েছে কিনা তাও পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় শিশুটিকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। চিকিৎসকরা আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার অপেক্ষা করছেন এবং সব পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পেলে বিস্তারিত জানাবেন বলে তিনি জানান।

এব্যাপারে মামলা ও শিশুটির ডিএনএ পরীক্ষা করার প্রস্তুতি চলছে।

বাঙালীয়ানা/এসএল

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.