নীলুফার ইয়াসমীন: মরুভূমির বুকে যেন বিষাদসিন্ধু

Comments

আগুন জ্বলেরে, জীবন সেতো পদ্ম পাতার শিশির বিন্দু, তোমাকে পাবার আগে জ্বলে জ্বলে বুঝতাম,  এক বরষার বৃষ্টিতে ভিজে, এতো সুখ সইবো কেমন করে, পথের শেষে অবশেষে বন্ধু তুমি, যদি আপনার লয়ে এ মাধুরী,  এতো কান্নাই লেখা ছিলো ভাগ্যে আমার, যে মায়েরে মা বলে কেউ ডাকে না… এমনই অজস্র বাংলা গানে যার কন্ঠ মাধুর্য শ্রোতাদের সম্মোহিত করে রাখতো তিনি বাংলা সংগীতের এক অনন্য কন্ঠশিল্পী নীলুফার ইয়াসমীন।

নীলুফার ইয়াসমীন শুধু যে ভাল গাইতেন তা-ই নয় সংগে যোগ করতেন ভক্তি। তার অপার ভক্তি ছিল সংগীতের প্রতি, শিক্ষকের প্রতি, শ্রোতার প্রতি ৷ একনিষ্ঠ শিল্পী বলতে যা বোঝায় নীলুফার ছিলেন তা-ই ৷ সৃজনশীল বাংলা গান যখন ভেসে যাচ্ছিল অতলে তখন গুটিকয় শিল্পী ভালোবাসা দিয়ে উজ্জীবিত করেছেন নিঃসন্দেহে নীলুফার ইয়াসমীন তাদের অন্যতম।

১৯৪৮ সনের ১৩ ফেব্রুয়ারী অবিভক্ত বাংলার সিভিল সার্ভিস অফিসার লুত্‍ফর রহমান ও মৌলুদা খাতুনের কলকাতার ১৩০/এ পার্ক স্ট্রীটের দোতলায় পাঁচ বোনদের মধ্যে চতুর্থ জন জন্মগ্রহণ করে। তত্‍কালীন গোড়া সমাজে বারবার কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ার যন্ত্রণা সচরাচর বইতে হতো মাকে। সেই ঘূনেধরা সমাজকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে লুত্‍ফর রহমান কোলে তুলে নিলেন নীলা অর্থাত্‍ নীলুফার ইয়াসমীনকে ৷

নীলুফার ইয়াসমীনের পিতা সরকারি কাজে ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও সংগীতের প্রতি আকর্ষণ ছিল তার প্রবল। পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি গান গাইতেন ৷ আর নীলুফার ইয়াসমীনের মা হারমোনিয়াম বাজাতেন ৷ লুৎফর রহমানের পৈত্রিক বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার মুকুন্দপুর গ্রামের ‘পন্ডিত বাড়ি’। বহু আগে থেকেই এ বাড়ির লোকজন শিক্ষা-দীক্ষায় ছিল অগ্রগামী ৷ নীলুফারের মা মুর্শিদাবাদের স্বনামধন্য ওস্তাদ কাদের বখশের ছাত্রী ছিলেন। তিনি ভালো গান গাওয়া ছাড়াও ভালো হারমোনিয়াম বাজাতে পারতেন ৷

কখনও মুর্শিদাবাদ কখনও রাজশাহী কখনও ঢাকায় থাকলেও নীলুফার কখনই সুরের পথ থেকে বিচ্যুত হননি। মায়ের কাছে সংগীতে হাতেখড়ি। বাসায় গ্রামোফোন রেকর্ড প্লেয়ার ছিল। পিতা নতুন নতুন রেকর্ড কিনে আনতেন আর বোনেরা সবাই মিলে সে সব রেকর্ডের গান বারবার বাজিয়ে শুনে শিখে ফেলতেন। আঙ্গুরবালা, ইন্দুবালা, কমলা ঝরিয়া, হরিমতী, কে মল্লিক, জ্ঞান গোস্বামী, শচীনদেব বর্মন, মৃণালকান্তি ঘোষ, কমল দাশগুপ্ত, আব্বাসউদ্দীনসহ আরো বিখ্যাত সব শিল্পীদের গাওয়া রেকর্ড থেকে তার মা গান তুলতেন এবং তার গাওয়া থেকেই নীলুফার গান শিখে ফেলতেন। সেসব গানের মাঝে বেশীর ভাগ ছিল কাজী নজরুল ইসলামের। সেই থেকে নজরুলসংগীতের প্রতি তার আকর্ষণ দূর্বার, যা আমৃত্যু জাগ্রত ছিল।

Nilufar Yasmin03

নীলুফার ইয়াসমীন

সংগীত শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষায়ও তার ছিলো সমান মনোযোগ ৷ তিনি আদমজী কটন মিল স্কুল, বাংলাবাজার গার্লস স্কুল, সিদ্ধেশ্বরী কলেজ ও সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ অধ্যয়ন করেন। নীলুফার ইয়াসমীন ১৯৬৩ সালে এস এস সি, ১৯৬৫ সালে এইচ এস সি, ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ বিজ্ঞানে বি এ (অনার্স) এবং ১৯৭০ সালে ২য় শ্রেনীতে প্রথম হয়ে এম এ পাশ করেন ৷

পিতা-মাতার পাঁচ সন্তানের মধ্যে নীলুফার ইয়াসমীন ছিলেন চতুর্থ। বড় বোন ফরিদা ইয়াসমীন ও মেজো বোন ফওজিয়া খান প্রতিষ্ঠিত সংগীত শিল্পী। সেজো বোন শিক্ষা বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রীধারী নাজমা ইয়াসমীন হক সংগীতের চর্চা না-করলেও একজন ভালো শ্রোতা ও বোদ্ধা। তিনি ধানমন্ডি রেডিয়েন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও কলেজ (ইংলিশ মিডিয়াম)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ৷ ছোট বোন সাবিনা ইয়াসমীন প্রখ্যাত কন্ঠশিল্পী। প্রখ্যাত গীতিকার, সুরকার ও অভিনেতা খান আতাউর রহমানের সঙ্গে ১৯৬৯ সালে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। একমাত্র পুত্র আগুন বর্তমান প্রজন্মের একজন প্রতিষ্ঠিত কন্ঠশিল্পী।

নারায়নগঞ্জের দুর্গাদাস-এর কাছে বড় বোনেরা গান শিখতেন, নীলুফার তাদের পাশে বসে থাকতেন। তার উচ্চাঙ্গ সংগীত শেখা শুরু হয় ওস্তাদ পি সি গোমেজ এর কাছে ১৯৬৪ সালে। একাধারে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত তিনি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শেখেন। তারপর উপমহাদেশের প্রখ্যাত ওস্তাদ বড়ে গোলাম আলী খাঁ-র সুযোগ্যা ছাত্রী মীরা ব্যানার্জীর কাছে তালিম নেন। এরপর প্রখ্যাত সারেঙ্গীবাদক ওস্তাদ সগীরউদ্দীন খাঁ ও মুর্শিদাবাদের স্বনামধন্য ওস্তাদ এ দাউদ, প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে দীর্ঘকাল তালিম গ্রহণ করেন। তিনি নজরুলসংগীতের প্রাথমিক শিক্ষা পেয়েছেন স্বরলিপি থেকে। স্বরলিপি অনুসরণ করেই প্রথম দিকে বেতার-টেলিভিশনে নজরুলসংগীত গেয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বলা দরকার যে, ওস্তাদ পি সি গোমেজ তাকে প্রথমদিকে কোনো রাগের বন্দিশ শিখিয়ে তার স্বরলিপি লিখে দিতেন ৷ এমনিভাবে স্বরলিপির নিয়ম অনুসরণ করেই যেকোন গান সহজেই তুলে নিতেন। পরবর্তীতে তিনি প্রখ্যাত কন্ঠশিল্পী, নজরুলসংগীত স্বরলিপিকার ও বিশেষজ্ঞ শেখ লুত্‍ফর রহমান ও সুধীন দাশ-এর কাছে নজরুলসংগীত শিখেছেন।

নীলুফার ইয়াসমীন বাংলাদেশ বেতারের ছোটদের অনুষ্ঠান খেলাঘরের মাধ্যমে শিল্পী জীবনের শুরু করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ টেলিভিশনের শুরু থেকে একজন নিয়মিত শিল্পী হিসেবে গান গেয়েছেন। তিনি উচ্চাঙ্গ, নজরুল, অতুলপ্রসাদ, দ্বিজেন্দ্রলাল, রজনীকান্ত, টপ্পা, ঠুমরি, কীর্তন, রাগপ্রধান, আধুনিক গান, মোট কথা গানের ভুবনের প্রায় সবগুলো শাখাতেই অবাধ বিচরণ করতেন। রাগপ্রধান গানে অসাধারণ দখল থাকলেও নীলুফার ইয়াসমীন নজরুলসংগীতশিল্পী হিসেবেই বেশি পরিচিত। নীলুফার ইয়াসমীন খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘বেলা শেষের রাগিনী’ -তে ”আবার ভালবাসার সাধ জাগে’ শিরোনামের নজরুলসংগীতটি রেকর্ড করেন। বাংলাদেশ বেতারের বহির্বিশ্ব কার্যক্রম থেকে ‘এ কোন সোনার গাঁয়’ রেকর্ডে একটি ও নজরুল ইন্সটিটিউট প্রকাশিত ‘পাষাণের ভাঙালে ঘুম’ ও ‘বাজলো কিরে ভোরের সানাই’ রেকর্ড দুটিতে দু’টি নজরুলসংগীত গেয়েছেন ৷ এছাড়াও তার কন্ঠে নজরুলসংগীত, কীর্তন ও পুরোনো দিনের গানের বেশ কয়েকটি অডিও ক্যাসেট ও সিডি প্রকাশ করেন। পুরোনো দিনের গানের গীতিকাররা হলেন চন্ডীদাস, জ্ঞানদাস, অতুলপ্রসাদ, রজনীকান্ত, দ্বিজেন্দ্রলার ও নজরুল।

শিল্পী হিসেবে নীলুফার ইয়াসমীনের জনপ্রিয়তা শুধুমাত্র দেশের গন্ডিতেই সীমাবদ্ধ ছিলনা, বিদেশেও তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ১৯৮৪ সালে কলকাতার “অগ্নিবীণা”-র আমন্ত্রণে ঢাকাস্থ নজরুল একাডেমীর সাংস্কৃতিক দলের সংগে কলকাতা গমন করেন। বঙ্গসংস্কৃতি সম্মেলনের আমন্ত্রণে দিল্লী ও কলকাতায় সংগীত পরিবেশন করেন। এছাড়াও তিনি পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, ফ্রান্স, পাকিস্তান ভ্রমণ করেন এবং সংগীত পরিবেশন করে প্রচুর প্রশংসা অর্জন করেন। নীলুফার ইয়াসমীন বেশ কয়েকটি ছায়াছবিতে কন্ঠ দিয়েছে। যেমন- শুভদা, অরুণ-বরুন-কিরণমালা, জোয়ার ভাটা, আবার তোরা মানুষ হ, সুজন সখী, যে আগুনে পুড়ি, জীবন-তৃষ্ণা, জলছবি ইত্যাদি। ১৯৯৫ সাল থেকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগের নজরুল সংগীত বিষয়ের প্রভাষক হিসাবে যোগ দেন।

শিল্পী নীলুফার ইয়াসমীন ছিলেন ব্যবহারে বিনম্র ও চাল-চলনে অতিশয় শালীন। অহংকারের লেশমাত্র তার ছিল না। ঈর্ষা, বিদ্বেষ, প্রতিযোগিতার উর্ধ্বে উঠে তিনি সবার প্রিয় হওয়ার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

সুদীর্ঘ শিল্পী জীবনে তিনি “সুজন সুখী” চলচ্চিত্রে কন্ঠদানের জন্য ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সংস্থার পুরস্কার, ”শুভদা” চলচ্চিত্রে কন্ঠ প্রদানের জন্য ১৯৮৬ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সংস্থার পুরস্কার, সংগীত বিষয়ে অনন্য অবদানের জন্য ২০০৪ সালে মরণোত্তর “একুশে পদক” এবং নজরুল সংগীতে তার অবদানের জন্য ১৪১০ বাংলা সালে “নজরুল পদক”সহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ নজরুল সংগীত বিষয়ে তার অবদানকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে তার নামে বিভাগে একটি পাঠাগার স্থাপন করেছে৷

শিল্পী সম্পর্কে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তার ওস্তাদ নজরুলসংগীত বিশেষজ্ঞ সুধীন দাশ বলছেন,
“অসাধারণ সংগীত প্রতিভার অধিকারী নীলুফার ইয়াসমীনের তুলনা শুধুই নীলুফার ইয়াসমীন। বিনয়ী, নম্র, মিষ্টভাষিনী, নিরহংকার নীলুফারের মতো ব্যতিক্রমধর্মী শিল্পী আমার জীবনে বোধহয় আমি আর দেখিনি। শুধু নজরুল সংগীতই নয়, বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ বাংলা গানের বিভিন্ন ধারায় নীলুফার সাবলীল বিচরণ ছিল সত্যিই বিস্ময়কর৷ দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অতুলপ্রসাদ, রজনীকান্তের গানগুলিও সে সমান আগ্রহে সমান পারদর্শিতায় গাইত। দেশে বা দেশের বাইরে কোথাও কোনো অনুষ্ঠানে গাইতে যাবার আগে আমার কাছে এসে গানগুলি নির্বাচন করে নিত। বাংলা গান ছাড়াও উচ্চাঙ্গসংগীতের প্রতি ওর দুর্নিবার আকর্ষণ আমাকে মুগ্ধ করত। নীলা জানত, সংগীত সাধনার বস্তু, তাই ওর ব্যক্তিগত জীবন খুব কুসুমাস্তীর্ণ না হলেও প্রতিদিনের সংগীত চর্চায় কোনো ব্যত্যয় সে ঘটতে দিত না। প্রায় সন্ধ্যায় ওর বাড়িতে গেলে দেখতাম একটি অতি সাধারণ আসনে (মাদুরে) বসে তানপুরা নিয়ে নীলার সাধনামগ্ন রূপ, যা মৃত্যুর বোধহয় ৩/৪ দিন আগ পর্যন্ত বজায় ছিল। অসাধারণ ছিল ওর মনের জোর। মৃত্যু যে এত কাছে, নীলা সেটা বিশ্বাসই করত না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত ও নাট্যকলা বিভাগের চাকরিটি তার অত্যন্ত প্রিয় ছিল। কিন্তু প্রথম দিকে এই চাকরিটি নিয়ে একটি মহল কাগজে লেখালেখি শুরু করেছিল এই বলে যে, নীলুফার ইয়াসমীন সাধারণ এম এ ডিগ্রী প্রাপ্ত হয়ে কী করে দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংগীত বিভাগে চাকরি পেলেন, যেখানে বিশ্বভারতীর সংগীতে মাস্টার্স ডিগ্রী প্রাপ্তদের সুযোগ হলো না। যারা এই সমালোচনা করেছিল সেই মহাপন্ডিতরা জানত না নীলুফার ইয়াসমীনের প্রতিভার কাছে পোষাকি এম এ ডিগ্রি কত তুচ্ছ! সেকথাই বলেছিলেন নজরুলসংগীতের প্রধান পুরুষ প্রয়াত মহান শিল্পী ধীরেন্দ্র চন্দ্র মিত্র। ….নীলা একদিন এসে আমাকে বলল যেহেতু ওর মিউজিকে মাস্টার্স ডিগ্রী নেই এবং নজরুল সংগীতের কোনো বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের ব্যক্তিত্বের সার্টিফিকেটও নেই সে কারণে হয়তো তার খণ্ডকালীন চাকরিটি স্থায়ী হবে না বরং চলে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আমি লোকমারফত প্রয়াত ধীরেন্দ্র চন্দ্র মিত্র মহাশয়ের কাছে নীলার গাওয়া দুই খানা ক্যাসেট পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। মাসখানেক পরে কোন অনুষ্ঠানে ধীরেনবাবু ঢাকায় এলে নীলাকে নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে গেলাম। নীলার পরিচয় পেয়ে আবেগে উচ্ছ্বাসে আপ্লুত ওই মহান শিল্পী আশীর্বাদ করে বলেছিলেন, একে আমি কী সার্টিফিকেট দেব, ওর প্রতিভা তো সার্টিফিকেট দিয়ে মাপা যাবে না। জীবদ্দশায় অসুস্থতার এক পর্যায়ে নীলা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিতে যেতে পারত না তখন ওই চাকরিটির জন্য কিছু প্রার্থীর চেষ্টা-তদবির শুরু হয়েছিল। নীলা বিমর্ষ কন্ঠে আমাকে বলেছিল, তার প্রিয় চাকরিটি অনিয়মিত উপস্থিতির সুযোগে অন্য কেউ নিয়ে নেবে। সেদিন আমি তাকে আশ্বাস দিয়েছিলাম, যতদিন সুস্থ না হবে ততদিন আমি ওর ক্লাস চালাব। ক্লাস আমি ঠিকই চালিয়েছিলাম কিন্তু নীলা তো সুস্থ হয়ে ওর ক্লাসে ফিরে এসে আমাকে অব্যাহতি না দিয়ে নিজেই চিরঅব্যাহতি নিয়ে কোথায় হারিয়ে গেল! ভাগ্যোর কি নির্মম পরিহাস! আজ জীবনসায়াহ্নে বসে আমি প্রাণপ্রিয় ছোটবোন নীলার স্মৃতিচারণ করছি, অথচ এর উল্টোটাই তো হওয়া স্বাভাবিক ছিল৷”

নিরবে নিঃশব্দে এই শিল্পী অনেকটা অগোচরেই অনেকের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন। কিন্তু কখন যে তার শরীরে স্থায়ীভাবে বাসা বেধেছে একটি জটিল রোগ তা তিনি জানতে পারেননি৷ যতটা দরদ ও যত্ন নিয়ে গান করতেন তিনি তার কিঞ্চিত্‍ পরিমাণ দরদও ছিল না নিজের প্রতি। ২০০১ সালের মাঝামাঝি সময়ে ধরা পড়ল টিউমার। অপারেশনের পর আবার ফিরে এসেছিলেন সংগীত ভূবনে৷ কিন্তু ততদিনে অন্য ভূবনের ডাক এসে গিয়েছিল৷ নীলুফার ইয়াসমীন সে ডাকে সাড়া দিলেন ২০০৩ সালের ১০ মার্চ মাত্র ৫৫ বছর বয়সে।

সূত্র: গুণীজন

বাঙালীয়ানা/এসএল

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.