নুসরাত জাহানের কবিতা

Comments

দি  নে  র     গ  ল্প

বিষণ্ণ ভোর

এই যে কুহক ডাকে দিনের আলোতে
তোমাদের রূপ ধরে আলেয়া,
কুয়াশায় মোড়ানো দুপুর ছিন্নভিন্ন হয়,
অতঃপর প্রেম হয় মোহ, মায়া, ভ্রম।
চোখ মেলে দেখছো কি তোমাদের ভোর?
তারা এসে আলো দেয় সূর্যের কোলে,
অথচ সূর্যের অবর্তমানে প্রেমহীন হয় না
আকাশ, মেঘ বা ফুল।
শুধু শুধু দোষারোপ করো তোমরা
প্রেমে ডোবা লাশ, ভাসতে না চাওয়া আমাকে।

বেহিসেবি সকাল

নিত্য তেল-নুনের হিসেবের ফাঁকে
দু-এক কোয়া কমলার মতো
মিঠে রোদ এসে উঁকি দেয়।
রাত্রিরা সরব হতে হতে
ভোরের তারায় মেশে লাল রঙ
সকালের সোনারোদ ডিমের কুসুম হয়ে
মিশে মিশে যায় নাশতার পাতে।
জানা হয় না আর, তেল-নুনের হিসেব গলে
কবে ফের প্রেমিকা হয়ে অপেক্ষায় থাকব।
তোমার চিঠির মতো লম্বা টেক্সটরা
আবার আসবে দল বেঁধে টুংটাং হয়ে।
মানুষ একবার গৃহী হলে
প্রেম হারায় শুনেছিলাম।
জীবন থেকে রোদের মিঠের মতো
কমলা হারিয়ে যায়, জানতাম না!

তপ্ত দুপুর

গরমের ফুল ফুটে রয় ভোরবেলাতেই।
টিনের চালে বাতাসের সরসর
ক্ষণিকের জন্য বৃষ্টিফোঁটা বলে ভ্রম হয়,
আশায় বাঁধি বুক, আজ বুঝি জল ঝরবে!
ফাগুনের দিন শেষ হয় না প্রেমিকের,
জৈষ্ঠ্য এসে জানান দিয়ে যায় তপ্ত দ্রোহ,
তারপরও স্বপ্নালু চোখে ভালোবাসা
প্রজাপতির ডানা মেখে দিয়ে যায়।
প্রেমিক কাঁদে না, রঙ ধুয়ে যাবে তাই।
তাই বৃষ্টিও ঝরে না, প্রেমিক ধুয়ে যাবে তাই।
প্রেমিক ধুয়ে গেলে ভালোবাসা ঘর বাঁধার
জায়গা পাবে কোথায়?
জৈষ্ঠ্যের খরতাপে চোখ পোড়ে প্রেমিকার,
চাতক এসে ভর করে জলের আকাঙ্ক্ষায়।
যে জলে প্রকৃতি শান্ত হয়, যে জলে কৃষক শান্ত হয়।
যে জলে আগুন নিভে যায়, যে জলে সূর্য নিভে যায়।
তৃষ্ণায় প্রেমিককে দূরে ঠেলা প্রেমিকা
সূর্য হতে চেয়েছিল একদিন, তেজ চেয়েছিল একদিন।
আজ শুধু শান্ত হতে চায়।
এই রোদে বোধ এসে জমা হয়, একা পোড়ার বোধ।
কৃষ্ণচূড়ার ঝরে পড়া পাপড়ি মেঘকে ডাকে।
মেঘ সাড়া দেয় না, আকাশের প্রেমে সে মত্ত।

ধূসর বিকেল

ধুলায় চাপা পড়ে গেছে দিনের আলো
তাই,
চোখের জলে মুছে দিলাম
এক ক্যাকটাসের গ্লানি।
রোদ হাসলো, হাসলে তুমিও।
ক্ষত-বিক্ষত হলো আমার অশ্রুগ্রন্থি।
চোখের জল তাই শুকিয়ে
ক্যাকটাসের স্থায়ী ঘর মরুভূমি হয়ে গেছে।

সন্ধ্যার সন্ধিক্ষণ

আঁধার নামায় আলোর অভাব,
অথবা আঁধারের গাঢ়তম রূপে হারায় আলো।
সন্ধ্যার মুখে, দিন আর রাতের সন্ধিক্ষণে
তোমার কথা খুব মনে পড়ে।
কতদিন চিঠি লেখা হয় না তোমায়!
‘প্রিয় তুমি’ সম্বোধনে আজকাল ডাকা না-ডাকা
কেমন যেন একই লাগে, একইরকম!
এক কাপ চা অথবা মগভর্তি কফির খবর
আজকাল আর নিজেই রাখি না।
তোমার চুমুভরা কফির মগ থেকে
প্রজাপতি উড়ে গিয়ে বসে আরেক ফুলে,
কফির ধোঁয়া হারিয়ে যায় তীব্র দুপুরের গরমে।
ভোরের আলো ফুটে ওঠার আগেই অন্ধ করে দেয়,
দিকভ্রান্তের মতো ছুটে ছুটে দিন চলে যায়।
কারো কথা মনে পড়ে না, নিজের কথাও না!
আজকাল শুধু সন্ধ্যাবেলায় তোমার কথা
একটু একটু মনে পড়ে।
এমন সন্ধ্যা, যেখানে আলো হারিয়ে যায়
আঁধারের যোনির ভেতরে।

লেখক:
Nusrat Jahan Champ
নুসরাত জাহান চ্যাম্প, কবি, গদ্যকার, হস্তশিল্পী ও উদ্যোক্তা

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.

About Author

বাঙালীয়ানা স্টাফ করসপন্ডেন্ট