পর্দা উঠলো অষ্টাদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের

Comments

‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’- শ্লোগান সামনে রেখে পর্দা উঠলো অষ্টাদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব- ২০২০-এর।

শনিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২০, বিকেলে শাহবাগস্থ জাতীয় জাদুঘরে মূল মিলনায়তনে অষ্টাদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব- ২০২০-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবুল মোমিন এমপি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উৎসবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি।

DIFF-Dance

মনিপুরী নৃত্য পরিবেশন করছে মনিপুরী থিয়েটারের শিল্পীবৃন্দ

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরু হয় মনিপুরী থিয়েটারের পরিবেশনায় মনিপুরী নৃত্যের মধ্য দিয়ে। এরপর উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল উৎসবের নানা দিক তুুুুলে ধরেন।

১১ থেকে ১৯ জানুয়ারী ২০২০ পর্যন্ত ৭৪টি দেশের ২২০টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে উৎসবে। উৎসবের ২২০টির মধ্যে পূর্ণদৈর্ঘ্য (৭০ মিনিটের বেশি) চলচ্চিত্রের সংখ্যা ১১৭টি, স্বল্পদৈর্ঘ্য ও স্বাধীন চলচ্চিত্রের সংখ্যা ১০৩টি। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আছে ২৬টি যার মধ্যে ১৮টি স্বল্পদৈর্ঘ্য ও স্বাধীন এবং ৮টি পূর্ণদৈর্ঘ্য।

যে সব দেশের চলচ্চিত্র প্রদর্শীত হবে তার মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আর্মেনিয়া, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, আজারবাইজান, বাহরাইন, বেলজিয়াম, ভুটান, ব্রাজিল, কানাডা, চিন, কিউবা, সাইপ্রাস, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, প্যালেস্টাইন, জার্মানি, গ্রিস, হংকং, হাঙ্গেরি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইটালি, জাপান, কাজাকস্তান, কসোভো, কিরগিস্তান, লাটভিয়া, লেবানন, লুক্সেমবার্গ, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নেপাল, নরওয়ে, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, কাতার, রাশিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, সিরিয়া, তাইওয়ান, তাজিকিস্তান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, আরব-আমিরাত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ভেনিজুয়েলা, সাইপ্রাস এবং স্বাগতিক বাংলাদেশ।

ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র আয়োজন-ব্যাপ্তি ও গুণগত মান বিচারে এশিয়ার অন্যতম চলচ্চিত্র উৎসবে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে এই উৎসব দেশে রুচিসম্পন্ন ও ইতিবাচক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে ব্যাপক অবদান রাখছে। তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল চলচ্চিত্র নির্মাতাদের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ধারার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য একটি প্লাটফর্ম তৈরি করতে যেমন সফল হয়েছে, তেমনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অনুরূপ ধারাকে বলিষ্ঠ করেছে।

উদ্ভোধনী চলচ্চিত্র ‘উইন্ডো টু দ্যা সি’। স্পেন ও গ্রীসের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন মিগুয়েল অ্যাঞ্জেল জিমেনেজ। উৎসবে পরিচালকের উপস্থিতিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরই ১০৫ মিনিট দৈর্ঘের চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হয়।

DIFF_Window To The Sea

উৎসব চলচ্চিত্র উইন্ডো টু দি সি

এবারের উৎসবকেও আগের মতোই বিভিন্ন বিভাগে ভাগ করা হয়েছে –

এশিয়ান ফিল্ম প্রতিযোগিতা বিভাগ: এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১৯টি চলচ্চিত্র নিয়ে গঠিত (নূন্যতম ৭০ মিনিট ব্যাপী ফিকশন ফিল্ম) প্রতিযোগিতা বিভাগ সেরা চলচ্চিত্র নির্ধারণে থাকবে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক জুরি বোর্ড। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের জন্য পুরস্কার হিসেবে থাকছে একটি ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট এবং এক লক্ষ টাকা। এছাড়া শ্রেষ্ঠ পরিচালক, শ্রেষ্ঠ অভিনেতা-অভিনেত্রী, শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক এবং শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যের জন্য পুরস্কার হিসেবে থাকছে একটি সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট।

রেট্রোস্পেকটিভ বিভাগ: পোলিস নির্মাতা দম্পতি জোয়ানা কস-ক্রাউজে ও ক্রিজস্টফ ক্রাউজের আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ৪টি চলচ্চিত্র নিয়ে সাজানো হয়েছে রেট্রোস্পেটিভ বিভাগ। ক্রাউজে দম্পতির চলচ্চিত্রগুলোর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট হলো চরিত্র ও দৃশ্যের সমন্বয়ে একটি মানবিক গল্প বলা। ১২০টির বেশি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছেন তারা। এই বিভাগে জোয়ানা কস-ক্রাউজে ও ক্রিজস্টফ ক্রাউজের ৪টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।

বাংলাদেশ প্যানোরোমা: উৎসবের এ বিভাগে বাংলাদেশের ৮টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রচার-প্রসার ও আন্তর্জাতিক বাজার উন্নয়নের লক্ষ্যে উৎসব কমিটি এই বিভাগটি পুনরায় সংযোজন করেছে। এই বিভাগে বাংলাদেশের নির্মাতাদের নির্মিত বাছাইকৃত দশটি চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতার সুযোগ পাবে। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচক ফেডারেশন- FIPRESCI বাংলাদেশ প্যানোরমা বিভাগে সমালোচক পুরস্কার দেবেন। FIPRESCI -এর ৩ সদস্য বিশিষ্ট জুরি বোর্ড নির্বাচিত চলচ্চিত্রগুলো থেকে ‘শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র’ জন্য একটি পুরস্কার প্রদান করবেন। পুরস্কার হিসেবে থাকবে সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট।

সিনেমা অব দ্য ওর্য়াল্ড বিভাগ: এই বিভাগে বিভিন্ন দেশের সমকালীন সেরা ৪৯টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। এই বিভাগের জন্য দর্শক জরিপে একটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্বাচিত হবে। চলচ্চিত্রের জন্য পুরস্কার থাকবে সার্টিফিকেট এবং ক্রেস্ট।

চিল্ড্রেন্স বিভাগ: এই বিভাগে ১৫টি শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। বরাবরের মতো এবারও সব শিশুর জন্য এই প্রদর্শনী উন্মুক্ত থাকবে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের এই বিভাগের চলচ্চিত্রগুলো দেখার বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। এই বিভাগ থেকে একটি চলচ্চিত্র ‘বেস্ট জুভেনাইল অডিয়েন্স বাদল রহমান অ্যাওর্য়াড’র জন্য মনোনীত হবে। এই পুরস্কার হিসেবে থাকছে সনদ ও ক্রেস্ট।

স্পিরিচুয়াল ফিল্মস: এই বিভাগে প্রায় ৩৮টি ছবি প্রদর্শিত হবে। মূলত ধর্মীয় বিশ্বাস, অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং মানবতাবাদী চলচ্চিত্র এ বিভাগে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি এ বিভাগটির ছবিগুলোর মাধ্যমে আন্তঃধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন তৈরিতে সহায়তা করবে। এ ভাববাদী চলচ্চিত্র বিভাগের জন্য ইন্টারফেইথ্ জুরি একটি শ্রেষ্ঠ কাহিনীচিত্র ও একটি শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্যচিত্র নির্ধারণ করবে। পুরস্কার হিসেবে থাকছে একটি সার্টিফিকেট ও একটি ক্রেস্ট।

উইমেন ফিল্ম মেকারস্ সেশন: দেশ ও বিদেশের নারী নির্মাতাদের চলচ্চিত্র নিয়ে এই বিভাগটি সাজানো হয়েছে। এতে দেশী-বিদেশী ২৯টি পূর্ণদৈর্ঘ্য ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এবং প্রামাণ্যচিত্র অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। একটি স্বাধীন জুরি এই বিভাগের একটি শ্রেষ্ঠ কাহিনীচিত্র ও একটি শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্যচিত্রকে পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করবে। পুরস্কার হিসেবে থাকছে সনদ ও ক্রেস্ট।

শর্ট অ্যান্ড ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্মস্ বিভাগ: ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নবীন ও স্বাধীন চলচ্চিত্র নিমার্তাদের তথ্যচিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্রসমূহ প্রদর্শিত হবে। এতে দেশী-বিদেশী ৫৮টি ছবি প্রদর্শিত হবে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এবং প্রামাণ্যচিত্র অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করতেই এই বিভাগটি উৎসবে উন্মুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া ১২-১৩ জানুয়ারী ২০২০ উৎসবের অংশ হিসেবে চলচ্চিত্রে নারীর ভূমিকা বিষয়ক ‘ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক উইমেন ফিল্ম মেকারস্ কনফারেন্স’ ঢাকা ক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে। বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও বিজিএমই’র সভাপতি ড. রুবানা হক। উক্ত কর্মশালায় দেশী বিদেশী নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা ও ব্যক্তিত্বদের সাথে মত বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের নারী নির্মাতারা অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি সুবর্ণ সুযোগ পাবেন। এখানে নারী নির্মাতারা তাদের কাজ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা এবং তা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে বিশ্বের খ্যাতিমান নারী নির্মাতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। বিশ্ব পরিবর্তনে নারীর নেতিবাচক ও ইতিবাচক ভূমিকা এবং প্রতিবন্ধকতা থেকে সমাধানের উপায়সমূহ উঠে আসবে এই কনফারেন্সে। অষ্টাদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল আকর্ষনগুলোর একটি এই উইমেন্স কনফারেন্স।

অষ্টাদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের অংশ হিসেবে ১৪ জানুয়ারী দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নির্মাতাদের মিথষ্ক্রিয়ামূলক দিনব্যাপী সেমিনার ‘ওয়েস্ট মিটস ইস্ট’। চলচ্চিত্রে প্রয়োজনীয়তা থেকেই পশ্চিমারা নিজ শৈল্পিকতা গুণে সমৃদ্ধ। পাশ্চাত্যের দেশগুলোর চলচ্চিত্রেরও রয়েছে নিজস্ব শিল্পধারা, কিন্তু তা প্রাচ্য থেকে একেবারেই ভিন্ন। এটা ধারণা করা হত যে, ‘এই দুই অঞ্চলের শিল্প কখনও এক হবে না’। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে চলচ্চিত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলো প্রাচ্য ও পশ্চাত্যের কেন্দ্রবিন্দুতে জায়গা করে নিয়েছে। ফলে চলচ্চিত্র হারিয়েছে নিজ সীমানা, পেয়েছে বৈশ্বিক পরিচিতি। এই একাত্মতাকে কিভাবে আরো রিদ্ধ করা যায় সেই ভাবনা উসকে দিতেই এই আয়োজন।

কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগার চত্বরে উৎসব চলাকালীন সময়ে নিয়মিত মিলনমেলার আয়োজন থাকবে। এ ধরণের উৎসবে পরিচিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যেখানে দর্শক, পরিবেশক, পরিচালক, প্রযোজক ভাবনা বিনিময় ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ধারনা ও তথ্য আদান প্রদান করার সুযোগ পায়ে থাকে। যেখানে চলচ্চিত্র র্নিমাতা ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা তাদের চলচ্চিত্র পরিচিতির জন্য সমবেত হবেন। এখানেই চলচ্চিত্রকার, প্রযোজক, অভিনয় শিল্পীসহ দেশি-বিদেশি ডেলিগেট সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেবেন।

উৎসবে প্রদর্শনীতব্য চলচ্চিত্রের যাবতীয় তথ্য সমৃদ্ধ স্মরণিকা প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি উৎসব চলাকালীন প্রতিদিনকার সংবাদসহ একটি বুলেটিন প্রকাশ করা হবে।

উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল বাঙালীয়ানা প্রতিবেদককে বলেন, ‘বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গন নানামুখী অবক্ষয়ের শিকার, দিন দিন বাড়ছে এই হতাশা। সিনেমা হলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যে গুলো তা ভুগছে দর্শক শূন্যতায়। পাশাপাশি এ কথাও সত্য, আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দর্শক ভালো চলচ্চিত্র উপভোগে প্রচণ্ড আগ্রহী। চলচ্চিত্রের এই ক্রান্তিলগ্নে সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য এবং এমন উৎসব যত বেশি হবে আমাদের দেশের চলচ্চিত্রে বিশ্বায়ন ও সমৃদ্ধি ততো দ্রুত হবে।’

আহমেদ মুজতবা জামাল বলেন, ‘বিদেশি অতিথি, চলচ্চিত্রের সংখ্যা ও মান নিরিখে অষ্টাদশ ঢাকা চলচ্চিত্র উৎসব আগের তুলনায় আরও ব্যাপক ও বর্ণাঢ্য হবে’ বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘কেননা, মূলধারার চলচ্চিত্রের বর্তমান সংকটজনক পরিস্থিতিতে দর্শক একটি মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র উৎসবের আশায় দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছে। সপ্তদেশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব দর্শকদের সে প্রত্যাশা পূরণে সফল হবে।’

উৎসবে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর স্থানসমূহ- জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তন ও কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তন, শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা ও নৃত্যশালা মিলনায়তন, অঁলিয়াস ফ্রঁয়েজ মিলনায়তন, মধুমিতা সিনেমা হল ও স্টার সিনেপ্লেক্সের বসুন্ধারা সিটি ও সীমান্ত স্কোয়ার।

ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদ। সংসদ এর নিয়মিত কার্যক্রম ও চলচ্চিত্র উৎসবে উন্নত চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন চলচ্চিত্র সমূহের সমাহার ঘটিয়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত চলচ্চিত্রকার, প্রযোজক, পরিবেশক, প্রদর্শক ও কলাকুশলীদের সুস্থ চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা সর্বোপরি সুস্থ ধারার নির্মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে এদেশের দর্শকদের রুচির প্রসার ঘটানোই রেইনবোর অন্যতম লক্ষ্য, বললেন উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল।

বাঙালীয়ানা/এসএল

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.