কলকাতা থেকে ১৫০ কিমি দূরে ফণী (আপডেট)

Comments
রাত ০১:০০ শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০১৯ (কলকাতা সময়)

রাত ১টার কিছু পরে ওড়িশা হয়ে পশ্চমবংগে ঢোকে ফণী। ঘণ্টায় প্রায় ৯০ কিলোমিটার বেগে খড়্গপুরের বুকে শক্তিশালী ঝড় হিসেবেই আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড়টি। সেখানে তাণ্ডব চালানোর পর হুগলির আরামবাগের দিকে অগ্রসর হয় সেটি। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি ধীরে ধীরে নদিয়া, মুর্শিদাবাদের দিকে এগোবে এবং শনিবার দুপুর কিংবা বিকেলের মধ্যেই সেটি বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। তবে বাংলাদেশে যখন পৌঁছবে ফণীর শক্তি অনেকটাই কমে যাবে। রবিবার থেকে দুর্যোগ কাটবে রাজ্যে।

আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, ফণীর প্রভাবে কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া জেলায় বৃষ্টি হবে। কোনও কোনও জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে উত্তরবঙ্গের কিছু জেলায়। শুক্রবার সকাল থেকেই বৃষ্টি হয়েছে মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভুম, নদিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুরে।

তবে কলকাতাতে ফণীর জোরালো প্রভাব পড়েনি। আশঙ্কা করা হচ্ছিল কলকাতার উপর দিয়ে ঘণ্টায় ৮০-৯০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যাবে। রাতের দিকে ঝোড়ো হাওয়া বইলেও তার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার। শহরের কিছু জায়গায় এর প্রভাবে গাছ উপড়ে পড়ে। হাওয়ার সঙ্গে পাল্লা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে রাতভর প্রবল বৃষ্টি হয়েছে।

রাত ০১:০০ শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০১৯ (কলকাতা সময়)

কলকাতায় ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি শুরু। ভোররাতে এ রাজ্যে আছড়ে পড়বে শক্তিশালী সাইক্লোন। খড়্গপুরে মুষলধারে বৃষ্টি, সঙ্গে চলছে ঝোড়ো হাওয়া।

রাত ১২:১৫ শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০১৯ (কলকাতা সময়)

কলকাতায় ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি শুরু। কলকাতা পুরসভার সমস্ত পার্ক বন্ধ করা হল।

সমুদ্রের জল ঢুকেছে শঙ্করপুর ও তাজপুরের বেশ কয়েকটি গ্রামে, জলদা ও তাজপুরেও একই অবস্থা।

রাত ১১:০০ (কলকাতা সময়)

দিঘা, মন্দারমণি-সহ উপকূলবর্তী এলাকাতে শুরু হয়েছে প্রবল বৃষ্টি। দিঘা-মন্দারমণিতে উত্তাল সমুদ্র। ১০ থেকে ১৫ ফুট উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়ছে উপকূলে। সমুদ্রের ধার বরাবর বাঁধ উপচে জল ঢুকছে সৈকত শহরে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, রাত আটটা নাগাদ ওড়িশার জাজপুরের কাছে রয়েছে ফণী। অর্থাৎ কলকাতা থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে এবং দিঘা থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। আবহাওয়া দফতর আরও জানিয়েছে, কলকাতায় যখন ফণী প্রবেশ করবে, তখন ঝড়ের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার। তবে ৫ মে রবিবারের পর থেকে আর ফণীর প্রভাব থাকবে না এবং দুর্যোগ পুরোপুরি কেটে যাবে।

যদিও এখনও এ রাজ্য থেকে অনেকটাই দূরে রয়েছে ফণী। আবহাওয়া দফতর জানিয়ে দিয়েছে, ওড়িশা ছেড়ে রাজ্যে আছড়ে পড়তে শনিবার ভোররাত হবে। ঝড়ের শক্তিও অনেকটাই কমবে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছিল, সন্ধ্যার পর থেকেই ওড়িশা লাগোয়া এ রাজ্যের জেলাগুলিতে ঝড় শুরু হবে। সেই ঝড়ের গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার। ধীরে ধীরে সেই ঝড়ের গতিবেগ বাড়তে থাকবে বলে জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর। মাঝরাত নাগাদ সেই ঝড়ই ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের কাছাকাছি গতিবেগ নেবে। উপকূলবর্তী এলাকায় তা ১১৫-তে পৌঁছবে বলে পূর্বাভাস।

ফণীর তান্ডবে ওড়িশায় ৬জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই মেদিনীপুরের দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুরে ৬০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝড়বৃষ্টি হতে শুরু হয়েছে। দুই মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও করছেন আবহবিদেরা। এ ছাড়াও উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, কলকাতা, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দুই বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়াও প্রভাব পড়বে ফণীর। ঝড়ের প্রভাবে উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলাতে এ প্রভাবে বৃষ্টিপাত হবে, জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

এর আগে বিকেলে আওবহাওয়াবিদরা বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের জন্য উদ্বেগ বাড়ালো ফণী! পশ্চিমবঙ্গে জারি হয়েছে চরম সতর্কতা। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রের খবর, ওড়িশার স্থলভাগের গভীরে না গিয়ে ক্রমশ উপকূল বরাবর এ রাজ্যের দিকেই নাকি ধেয়ে আসছে অতি শক্তিশালী প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী। আর সে কারণেই উদ্বিগ্ন আবহাওয়াবিদেরা।
উদ্বেগটা কেন তার ব্যাখ্যায় আবহাওয়াবিদ জে কে মুখোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, একটা ঘূর্ণিঝড় যখন কোথাও আছড়ে পড়ে বা তার ল্যান্ডফল হয়, অনেকটা অঞ্চল জুড়েই তার বিস্তৃতি থাকে। ঝড়ের কেন্দ্রকে বলা হয় ‘আই অফ দ্য স্টর্ম’। আর এই ‘আই অফ দ্য স্টর্ম’-কে কেন্দ্র ধরলে তার চারপাশে অনেকটা অঞ্চল জুড়ে তাণ্ডব চালায় ঘূর্ণিঝড়।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, সকাল সাড়ে ১০টায় কলকাতা থেকে ফণীর অবস্থান ছিল ৪১৮ কিলোমিটার দূরে। দিঘা থেকে ৩৬৪ কিলোমিটার। ইতিমধ্যেই ফণীর প্রভাবে পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগণা এবং কলকাতায় বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।

এদিন পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকায় হাওয়ার গতিবেগ প্রায় ৭০ থেকে ৮৫ কিলোমিটারের কাছাকাছি থাকবে, জানিয়েছিল আবহাওয়া দপ্তর।

এর আগে, পূর্বাভাসের প্রায় ৫-৬ ঘণ্টা আগেই শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০১৯, সকালে ২০০ কিমি বেগে ওড়িশায় আছড়ে পড়ে ফণী। তিনদিন উপগ্রহ চিত্রে গতিবিধির ওপর নজর রাখার পরে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছিল, শুক্রবার বেলা তিনটের সময় বঙ্গোপসাগর থেকে স্থলভূমিতে ঢুকবে সাইক্লোন ফণী। কিন্তু তার আগেই বাংলাদেশ সময় সকাল ৯:২০ নাগাদ ওড়িশায় আঘাত করেছে ফণী।

ছবি ও খবর: আনন্দবাজার

বাঙালীয়ানা/এসসি

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.