সারাদেশে আনারস, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে, আম ইত্যাদি ফলের চাহিদা পূরণে অবদান রাখছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। তাছাড়া, মাল্টা ও কমলার উৎপাদন ও বেড়েছে চোখে পড়ার মত। পাহাড়ে মিশ্র ফলের চাষ কৃষি খাতে অভাবনীয় বিপ্লব সাধন করেছে। বর্তমানে এই অঞ্চলে উৎপাদিত ফল বাজারজাত হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।
পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়া পর্যটকদের হাত ধরে এর প্রসার হয়েছে সবচেয়ে বেশী। তাছাড়া এতে সরাসরি অর্থ যাচ্ছে কৃষকের হাতে। যার ফলে, পাহাড়ের জুম চাষীরাও আগ্রহ পাচ্ছে পাহাড়ে ফল চাষে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে ১৯৯৯ সালে তিন পার্বত্য জেলার ৬শ’ কৃষক পরিবারকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয় সরকার। সে লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড পাহাড়ে মিশ্র ফল চাষের উদ্যোগ নেয়। প্রাথমিক অবস্থায় ভূমিহীন ও প্রান্তিক চাষীদের মধ্যে কমলা, মাল্টা ও মিশ্র ফসল চাষ শুরু হয়। ১৯৯৯ থেকে ২০১৬ সাল মাত্র ১৮ বছরের ব্যবধানে পাহাড়ে মিশ্র, বিশেষত কমলা ও মাল্টা চাষ করে বহু পরিবার স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন।
গত বছরের চেয়ে পার্বত্য জেলাগুলোতে ফল উৎপাদন বেড়েছে ১ লাখ টনের বেশি। আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় কৃষকরাও বাড়াচ্ছেন চাষের পরিধি। ২০০৬-০৭ মৌসুমে তিন জেলায় প্রায় ১০ লাখ টন ফল উৎপাদন হয়েছিলো। সর্বশেষ মৌসুমে এ সংখ্যা বেড়ে পৌঁছেছে ১৭ লাখ টনে, যা গত এক দশকে পার্বত্য জেলায় ফল উৎপাদনের নতুন রেকর্ড। পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০১৪-১৫ মৌসুমে ৯৭ হাজার ৬৮৪ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছিল ১৬ লাখ ৪১ হাজার ৫৩০ টন ফল। ২০১৫-১৬ মৌসুমে ৯৭ হাজার ৭০৬ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ১৭ লাখ ৪১ হাজার ৯৯৬ টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন বেড়েছে ১ লাখ ৪৬৬ টন।
প্রকৃতিগতভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ী এলাকাগুলো উর্বর ও অনেক প্রকার ফসল উৎপাদনের উপযোগী। একটা সময় ছিল পাহাড়ে জুম চাষ ছাড়া অন্য কোন আবাদ হতো না। পাহাড়ীরাও তাদের এই ঐতিহ্যবাহী ফসল উৎপাদনের প্রক্রিয়া থেকে আধুনিক চাষাবাদের প্রতি মনোযোগীও ছিল না। তবে জুম চাষ সম্পূর্ণ প্রকৃতিনির্ভর হওয়ায় অধিক খরা বা বৃষ্টিতে উৎপাদন ব্যাহত হতো। এতে খাদ্যাভাবও দেখা দিত। এখন বিকল্প ফলন হিসাবে ফলের চাষ পাল্টে দিয়েছে পাহাড়ের অর্থনীতির চিত্র।
চাষীরা উপকৃত হওয়ায় ফল চাষের এই উদ্যোগ প্রশংসাযোগ্য হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে সুষ্ঠু বিপণনের কিছুটা অভাব রয়েছে যা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উৎপাদকরা। তাছাড়া, পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থাও ভবিষ্যতের ভাবনার কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে।
তথ্য সূত্র: বাংলাদেশ কৃষি অধিদপ্তর
বাঙালীয়ানা/জেএইচ