পিয়াংকীর একগুচ্ছ কবিতা

Comments

একটি সঠিক নৃত্য আয়োজন

(১)

বাসনা ভেঙে উঠে দাঁড়িয়েছেন
উল্লাসদিনে লেপ্টে আছে আলো
নিরর্থক, সাময়িক বা অন্য কোনো বিশেষণ…
ফাঁকা চোখ এখন নিরুদ্দেশ
সংবাদে বৃষ্টিপাত

এমতবস্থায়, নামিয়ে আনি ভিতরের কাক
সরণির আল ধরে ধীর পায়ে–
লিপ্তপদ আছে একথা ঘোষণা করতে সময় লেগেছে অনেক
ব্যাধি এবং দ্বাররক্ষী সমার্থক হলেও
আঁচড় পড়েনি মুদ্রার কোনো পিঠে

ঋজু যে অনুশোচনা
অন্ধকার নামে তাকে ডেকে যায় নিকটতম–

(২)

নর্তক, এক পোশাক।
নির্দিষ্ট সময় অন্তর বাজতে থাকে 
বাজারে মাঠে অথবা অর্ঘ্যপাত্রে…
সেই একই ঘ্যানঘ্যান

অথর্ব বলে মাফ করা যায়,
তুলে রাখা যায় সর্বোচ্চ পঞ্চম তাকে
কিন্তু…

হয়ত জল-চোবানো কোনো এক নৃত্যদিনে
কাঠের সাঁকোয় শুকিয়ে ওঠে সেই পোশাক

এই নর্তককে কি কোনোভাবেই গ.সা.গু. দিয়ে রিপ্রেজেন্ট করা যায় না?

(৩)

মোক্ষ, হাত-পাহীন নির্লজ্জ সন্ত্রাস
অত সহজ নয় যতটা…

কানের ভিতর ভোমরার বাস
ব্যাধি থেকে গলা উঁচিয়ে তাকাই
সন্দিহান হই বলেই কি ঘিরে ধরে লোভ?

নৃত্যের অন্দরে পোকা কাটে
সারাদিন কিট্ কিট্। বিরক্তি
ডুবে যাই। ব্যাধিই হাত ধরে
একত্রে পার হই জেব্রা ক্রসিং
আমি সাদা সে ঘিয়ে

যোগফল হয়ে ওঠে একটি পুষ্টিকর জোড়সংখ্যা

(৪)

শেষ পর্যন্ত রয়ে গেল স্বচ্ছ জল
নদীর দিকে পাশ ফিরে দেখলাম, যথারীতি শুকনোই আছি
কোথাও কোথাও লেগে আছে পরাগধানীর হলুদ
শুধুমাত্র ঠোঁটের কষ থেকে একপ্রকার চিটচিটে–

এ’ পৃথিবী সাহসী, পেখম মেলেছে
  উল্লাস
  বিরহী চাঁদ
  অদগ্ধ যা…

নোঙর ফেলে দেখছি এখনও স্যাঁতসেঁতে হয়ে আছে তলকুঠুরি

(৫)

শঙ্খ কিংবা সঙ্গীনি–
স্থলজন্ম এদের জন্য একটি লিখিত নথি
সাপের বংশবিস্তার দিয়ে ঢেকে রেখেছি উত্তরপথ

ঋদ্ধ হে মহাজীবন,
অন্ধত্ব লালন করে বেঁচে আছে যে ফকির
তাকে তুমি একটিমাত্র ফুঁ ধার দিতে পারো?

পায়ের নিচে বালি জমলে প্রত্যেকেই নগ্ন মূর্তি
পূজা সম্পন্ন হয়
গ্রহণ করি প্রসাদ

নিজস্ব আগুন থেকে বেছে তুলি এক থালা পরমান্ন…

লেখক:
Piyanki Mukherjee
পিয়াংকী
কবি ও গদ্যকার কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.

About Author

বাঙালীয়ানা স্টাফ করসপন্ডেন্ট