পোড়া মবিলের অভিনব প্রতিবাদ শিক্ষার্থীদের

Comments
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশন এর ডাকা টানা ৪৮ ঘন্টার ধর্মঘটের শ্রমিক ধর্মঘটের নামে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলাসহ সাধারণ গাড়ী চালক, সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের হয়রানির প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা মুখে কালো মবিল মেখে ও হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করে অভিনব প্রতিবাদ জানান।

২৯ অক্টোবর, সোমবার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ মানববন্ধন পালিত হয়। এ সময় পরিবহন ধর্মঘটে নারী নির্যাতন, শিশুহত্যা (ধর্মঘটে আটকা পরে অ্যাম্বুলেন্সে এক শিশুর মৃত্যু হয়) এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির প্রতিবাদ জানানো হয়।

মানববন্ধন থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো- শিক্ষার্থীদের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে, আন্দোলনের নামে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি না করা এবং অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য রোগী বহনকারী গাড়ি চলাচল করতে দিতে হবে।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। সেখানে ‘ভর্তি পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি কেন?’, ‘আলকাতরা সন্ত্রাস নিপাত যাক’, ‘দেশের বুকে চুনকালি শ্রমিক নেতার নেই বুলি’, ‘স্কুল ড্রেসে কালি কেন?, ‘কালি নাকি কলঙ্ক?’ ইত্যাদি লেখাসহ বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করা হয়।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম বলেন,

“একজন শ্রমিকনেতা (শাজাহান খান) আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন, কিন্তু তিনি বলেছেন আন্দোলন সম্পর্কে কিছু জানেন না। তিনি একদিকে  শ্রমিক নেতা অন্যদিকে মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন। যখন সংসদে আইনটি পাশ হয়েছে, তখন তিনি এটিকে সমর্থনও করেছেন। আবার তিনি কেন আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। আন্দোলনের নামে সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে।  এটা কোন আন্দোলনের আচরণ হতে পারে না। এখন বিভিন্ন  বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা চলছে। শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষা দিতে যেতে পারছেনা। পুরো দেশটা এখন অচলাবস্থায় পরিণত হয়েছে।”

আবদুল করিম নামে চারুকলার এক শিক্ষার্থী বলেন, “সংবিধান যেকোনো রাষ্ট্রের নাগরিকদের আন্দোলন করার অধিকার দিয়েছে। এটা তাদের সাংবিধানিক অধিকার। তবে তারা (পরিবহন শ্রমিকরা) আন্দোলনের নামে কোনো নাগরিকের চলাফেরা করার অধিকার এবং তাদের পথ অবরোধ করার অধিকার সংবিধান দেয়া হয়নি। যখন যৌক্তিক আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছিল তখন তাদেরকে দমন করতে হেলমেট বাহিনী মরিয়া হয়ে উঠেছিল। আজকে যখন সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষার্থীরা শ্রমিকদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে তখন পুলিশ বাহিনী বা হেলমেট বাহিনী নীরব ভূমিকা পালন করছে।

আবদুল করিম আরও বলেন, “গতকালকে (রোববার) যে শিশুটি মারা গেছে, এটাকে আমরা মৃত্যু বলতে পারি না। এটা একটি স্পষ্ট হত্যাকাণ্ড। আমরা শ্রমিকদের আন্দোলনের বিপক্ষে না। কিন্তু এ ধরনের অরাজকতা কোনো শ্রমিক করতে পারে না। এ ধরনের অপকর্মগুলো সরকারের একটি মাফিয়া চক্র দ্বারা করা হচ্ছে। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে এসব অরাজকতা মেনে নিতে পারি না। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।”

সংসদে পাস হওয়া ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ সংশোধনসহ ৮ দফা দাবিতে গতকাল রোববার সকাল ৬ থেকে ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। তাদের এ ধর্মঘটে চলাকালে গতকাল শিক্ষার্থী ও রাস্তার বের হওয়া গাড়িতে পোড়া মবিল লাগিয়ে দেন শ্রমিকরা। এছাড়া তাদের অবরোধে আটকা পড়ে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বাঙালীয়ানা/টিএইচ/জেএইচ

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.