প্রবাসে পরবাসে নেই, সাত সকালে বেরিয়েছে সে; বহুকাল পর বাড়ি গেছে

Comments

বলা হয় কোনো লেখা পড়ে পাঠকের মনে যখন সেই দ্যোতনাটি জেগে ওঠে – আর সে ভাবে, ‘আরে এ যে আমারও কথা’; তখনই সে লেখাটা সার্থক লেখা হয়ে ওঠে। যতো বেশি পাঠকের মনে এমন ধারণার জন্ম দিতে পারে কোনো লেখা, ততো বেশি পাঠকপ্রিয়তা, ততো বেশি জনপ্রিয়তা পাবে তা; পাবে দীর্ঘায়ু। সহজ শাদামাটা ভাবে তাই বলাই যায় যে, বিভিন্ন ভাষার শীর্ষ কবি ও লেখকরা যখন লেখেন, এমনটা ভেবে এরকম কিছুই লেখেন।
 
কালেভদ্রে কেউ কেউ পৃথিবীতে আসেন এ সতসিদ্ধ সত্যটাকে টপকে যেতে। পৃথিবী ও পাঠককে অভাবনীয় আরো কিছু দিয়ে যেতে। তাই কদাচই এমন হয় যে– পড়ে পাঠক ভাবে, ‘এমনও ভাবা যায়! এমন করেও বুঝি উপমা-রূপকের তারকাপুঞ্জ, ভাবনার দ্যুতি, আপন অলৌকিক ঢঙে শব্দে শব্দে বোনা যায়!’ অমন লেখাটি পাঠক বারবার পড়ে, বারবার মুগ্ধ হয়, পুনঃ পুনঃ বিমোহিত হয়। 
 
সত্যিই এমনতর অদ্ভুত এক আপন ভঙিমায় তাঁর কবিতাকে গড়েছেন শহীদ কাদরী। মানুষ পড়েছে আর বিমোহিত হয়েছে তার চিন্তা-ভাবনার ব্যতিক্রমী উপস্থাপনায়, অভূতপূর্ব মৌলিকত্বে। শব্দের গ্রন্থনায় চমকে দেয়া, উপমা-রূপকের অভিনবত্বে কাঁপিয়ে দেয়া শৈলীতে তিনি বুনেছেন তাঁর কবিতা। মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে প্রকাশিত প্রথম কবিতা থেকে পঁচিশ বছর বয়সে প্রথম কবিতার বই (উত্তরাধিকার – ১৯৬৭) সূচনালগ্নেই বলে দিয়েছিল– কেউ একজন এসেছে যে অন্য কারো পদচিহ্ন বরাবর পথ হাঁটতে আসেনি। কারো রেখে যাওয়া পথে এক কদমও না মাড়িয়ে তিনি চলেছেন, এগিয়ে গেছেন নতুন এক নক্ষত্রের পরিচিতি নির্মাণের পথে। 
 
মাত্র তিনখানা কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করে তিনি তাঁর নাম-যশকে পৌঁছে দিয়েছিলেন অনন্য উচ্চতায়; যার দ্বিতীয়টি, ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’, বেরোয় ১৯৭৪-এ। তৃতীয়টি ‘কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই’ ১৯৭৮-এ। তার পর থেকে উদগ্রীব পাঠক অপেক্ষায় অপেক্ষায় তিন যুগ পাড়ি দিয়েছেন; অভিমানী কবি তবুও কলম ও কাগজকে এক করেননি তাঁর শব্দশৈলী নির্মাণের অলৌকিক স্পর্শযাদুমন্ত্রে। অগণিত গুণমুগ্ধ পাঠক আর আড্ডার অগুন্তি সখ্য অপেক্ষার ডানা মেলে কাটিয়েছেন দিনের পর দিন। অবশেষে ২০০৯-এ আমরা পাই সর্বশেষ প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও’।
 
থিতু হবার বিপরীতে কেবলি উদ্বেলিত হয়েছেন সারাটা জীবন। শৈশব কলকাতায়, কৈশোর-তারুণ্য ঢাকায়, আমৃত্যু মননে যুবা – বাকীটা জীবন স্বেচ্ছা নির্বাসনে জার্মানী, ইংল্যাণ্ড আর আমেরিকায়। সেই ১৯৭৮ থেকে যাপন করেছেন যেনো এক জিপসী জীবন। যা তিনি এক বিন্দুও চাননি। তবু আপাদমস্তক শ্রেষ্ঠ সারির এক বাঙালি হয়েই থেকেছেন মনে প্রাণে। থেকেছেন তেমনটা নিত্য দিনের জীবনে ও যাপনে; সুস্থতায়, অসুস্থতায়, হর্ষে, বিষাদে, উল্লাসে, বিরহে, উচ্ছ্বাসে কি বিমর্ষ মননে। এমন কি অসুস্থতার সাগর সমান উত্তাল ঢেউ তাঁকে ভাসিয়ে নেবার মতন হুমকিতেও কাবু করতে পারেনি। সমস্ত বৈরীতার পিঠে পিঠে নিদারুণ অসুস্থতার ভিতরও আড্ডার সঙ্গী পেয়ে গেলেই হলো, মিললো বুঝি তাঁর জিয়ন কাঠি। কারো পক্ষে এক বিন্দু বোঝা সম্ভব হয়নি, পৃথিবীতে কোথাও কিছুমাত্র কষ্ট-বেদনার কারণ তাঁর জীবনে কখনো আদৌ ছিল কিনা! দীর্ঘকাল তাকে ছুঁয়ে ছিল অসুস্থতার দুস্তর কালো হাত। অথচ ব্যাপারটা তাঁর ক্ষেত্রে কখনও যেনো-বা কিছুমাত্র ক্লিষ্টতার ছিল না। আড্ডার সুযোগ জুটলো তো, তিনি যেনো, ঝরঝরে তাজা। 
 
সাধারণ কথকতাও তাঁর ছিল অভাবনীয়। এক অমোঘ মুগ্ধতার আধার। যখন যেখানে থেকেছেন কবি ও লেখকদের আবর্তন-বিন্দু হয়েই থেকেছেন। তিনি সম্ভবত সেই বিরল প্রজাতির এক মানুষ যিনি একজন আড্ডাবাজ ও কবি হওয়া ছাড়া জীবনে আর কিছুই হতে চাননি। বাবার ইচ্ছে মাফিক পড়বেন না বলে পালিয়ে গিয়ে নিখোঁজ ছিলেন এক বছর। সে সময় কাজ করেছেন মুম্বইয়ের (সেই সময়ের বম্বে) ফিল্ম ইণ্ডাস্ট্রিতে। মায়ের মৃত্যুর দিন দাফন শেষ করেই ছুটে গিয়েছিলেন বিউটি বোর্ডিং-এ। অশ্রুমগ্ন শোকাপ্লুত আড্ডার শুরুতেই সেদিন জেনেছিলেন বুদ্ধদেব বসু’র ‘কবিতা’ পত্রিকায় প্রথম তাঁর কবিতা (‘এই শীতে’ – ১৯৬৬) ছাপা হবার খবর। শহীদ কাদরী অনায়াসে তাই বলতেই পারেন – ‘কবি না হলে স্রেফ বাউণ্ডুলে হতাম। রাস্তা ঘাটে আড্ডা দিতাম আর দাউ দাউ করে ঘুরে বেড়াতাম’। নিজ মুখে নিজের উৎকৃষ্ট দর্পণটি এভাবে নিজেই এঁকেছেন। শব্দের অভাবনীয় প্রয়োগ ক্ষমতার সৌকর্যে নিজেকে সংজ্ঞায়িত করবার এই একখানা লাইন উচ্চারণের ভেতরও কিন্তু তিনি চমকে দিয়েছেন পাঠক-ভক্তদের। 
 
‘অথচ এ-শীতে একা, উদ্ধত আমি,
আমি শুধু পোহাই না ম্লান রোদ
প্রতিবেশী পুরুষ নারী আর বিশাল
যে রিক্ত গাছ, সে ঈর্ষায় সুখী
নিয়ত উত্তাপ দিই বন্ধু-পরিজনে।
     আমি শুধু
একাকী সবার জরার মুখোমুখি।’
– ‘এই শীতে’, ১৯৬৬।
 
‘দাউ দাউ করে’ ঘুরে বেড়াবার কথা বলে যে অনন্য উপমা-রূপক আর ভাবনার দ্যোতনা তিনি তৈরী করেছেন, তার সেই শৈলীটি প্রতিটি কবিতায় পাঠককে বারংবার মুগ্ধ বিস্মিত করেছে। সমসাময়িক পারিপার্শিক সংকট-সমস্যা, প্রাপ্তি আনন্দ এসবের ছায়া গভীরতম বিশ্লেষণের জোড়া চোখে দেখে তিনি সেসব তুলে এনেছেন নিজস্ব নান্দনিকতায়। শৈশবে কলকাতা শহরে বোমা পড়বার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়টাইতেই পৃথিবীকে দেখা তার শুরু। চেতনায় এর প্রভাব তাই ছিল প্রখর। তার পরপরই দেশত্যাগ করে পুরো পরিবার যখন চলে আসে ঢাকায় তখন সেই সময়েই তাঁর চোখে স্পষ্ট হয়েছিলো কলকাতার তুলনায় ঢাকায় বিনোদন ও জৌলুসের অভাব। সেই বিষণ্ণ কৈশোরে জীবনে প্রথম নৌকা দেখে বুড়ীগঙ্গার পাড় হয়ে ওঠে তাঁর দীর্ঘ সময়ের আকর্ষণ। কবি মনটাকে গতানুগতিক রীতিতে এখানটায় এসে আবিষ্কার করা গেলেও ওটা তাঁর সীমারেখা নয়। তিনি ছিলেন আপাদমস্তক একজন আধুনিক নাগরিক কবি। প্রচলিত কবিতার ঢঙকে অগ্রাহ্য করে আপন মহিমায় তিনি তৈরী করেছেন নির্মেদ, বক্তব্য প্রখর, শব্দচয়ন ও উপস্থাপনার এক নব্য রীতি। দুরূহ বিষয়কে পাল্লা দেয়া দুরূহ ভাবনা ও রূপকে আশ্চর্য বিপরীত এক সহজ-সাবলীল পাঠ অনায়াস তুলে এনেছেন আনন্দের মুঠোয়।
 
‘আপনারা সবাই জানেন। এখানে বক্তৃতা আমার উদ্দেশ্য
নয়। আমি এক নগন্য মানুষ, আমি
শুধু বলি; জলে প’ড়ে যাওয়া ঐ পিঁপড়েটাকে ডাঙায় তুলে দিন’
কি অনায়সে গোটা কবিতাটায় (‘আপনারা জানেন’) কাঠখোট্টা কথাবার্তাকে এনে জুড়েছেন অনবদ্য এক সমাপ্তিতে, আশ্চর্য এক আকুতিতে।
 
যুদ্ধ বিগ্রহ হত্যা নিপীড়ন বঞ্চনা ক্ষোভ খেদ শুধুমাত্রই তাঁর অবিসম্বাদিত দেশপ্রেমের মোড়কবন্দী হয়ে ছিল না। ব্যক্তিটি যেমন মনে প্রাণে শতভাগ বাঙালি হয়ে ছিলেন আমৃত্যু, তেমনি তাঁর লেখায় তিনি পরিপূর্ণভাবে বৈশ্বিক এক কবি। সবচেয়ে যে বিষয়টা প্রণিধানযোগ্য, তা হলো এই যে – হাজারো কষ্ট যন্ত্রণা ক্রোধের বিষয়কে তিনি অপার দক্ষতায় সব সময়ই তুলে এনেছেন এক ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির ভেতর দিয়ে। যে মাতৃভূমি তাঁকে ছাড়তে হয়েছে সেই ১৯৭৮-এ, বিদেশ বিভূঁইতে থেকেও বাকী জীবন থেকেছেন সে-দেশেরই মাটি ও জলে নিমজ্জিত হয়ে। এমন ঋণাত্বক পরিস্থিতির শিকার হয়েও জীবন ভর আগাগোড়া ছিলেন একজন ধনাত্বক চিন্তা-চেতনার মানুষ। পূর্বসূরীদের পদাঙ্ক অনুসরণ না করে হেঁটেছেন নিজের নির্মিত পথে, তবে বন্ধু সুহৃদদের জন্য আজীবন থেকেছেন দু’হাত প্রসারিত করে, উত্তরসূরীদের জন্য প্রাণের শিকড় ছড়ানো বটবৃক্ষের মতোন।  
 
শৈশবের দেখা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, দেশভাগ, তারুণ্যে স্বাধীনতা যুদ্ধকে ঘিরে সামরিক শক্তিমত্তা ও যুদ্ধ বিগ্রহ, অস্ত্রের ঝনঝনানি। সেসব তাঁর কবিতায় এসেছে অবিস্যম্ভাবী ভাবেই। তবে তা বিগ্রহের বার্তা নিয়ে নয়। জীবনমুখী এক ধনাত্মক বার্তা নিয়ে। ‘তোমাকে অভিবাদন, প্রিয়তমা’ কবিতার শরীর জুড়ে প্রেমের পিঠে পিঠে উঠে এসেছে রণাঙ্গনের কথা, স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটের কথা, জীবনবোধের কথা। উঠে এসেছে সব পূর্ণ ইতিবাচকতায়, প্রেম ও জীবনমুখী হয়ে। 
 
‘কাঁটাতার, ব্যারিকেড পার হয়ে, অনেক রণাঙ্গনের স্মৃতি নিয়ে
আর্মার্ড-কারগুলো এসে দাঁড়াবে
ভায়োলিন বোঝাই ক’রে
কেবল তোমার দোরগোড়ায় প্রিয়তমা।
 
ভয় নেই, আমি এমন ব্যবস্থা করবো –
এমন ব্যবস্থা করবো
বি-৫২ আর মিগ-২১ গুলো
মাথার ওপর গোঁ-গোঁ করবে
ভয় নেই, আমি এমন ব্যবস্থা করবো
চকোলেট, টফি আর লজেন্সগুলো
প্যারাট্রুপারের মতো ঝ’রে পড়বে
কেবল তোমার উঠোনে প্রিয়তমা!’
 
এখানেই শেষ নয়। স্তবকে স্তবকে উঠে এসেছে মুদ্রাস্ফীতির কথা, সামাজিক প্রেক্ষিতের কথা, যা স্বাধীনতাত্তোর দেশের ছবিকে তুলে এনেছে। কিন্তু সেও এক আশ্চর্য ইতিবাচক প্রয়োগে শিল্পোত্তীর্ণ কবিতার শরীরে। এসেছে গণরোষের কথার বিপরীতে গণচুম্বনের কথা। এসেছে আরো অবাক করা বৈপরীত্যের যুগল উপস্থাপনা –
 
‘ভয় নেই
আমি এমন ব্যবস্থা করবো
শীতার্ত পার্কের ওপর বসন্তের সংগোপন আক্রমণের মতো
অ্যাকর্ডিয়ান বাজাতে বাজাতে বিপ্লবীরা দাঁড়াবে শহরে।
 
ভয় নেই, আমি এমন ব্যবস্থা করবো
স্টেটব্যাঙ্কে গিয়ে
গোলাপ কিংবা চন্দ্রমল্লিকা ভাঙালে
                               অন্তত চার লক্ষ টাকা পাওয়া যাবে
একটি বেলফুল দিলে চারটি কার্ডিগান।’
 
জীবনের কথা উঠে এসেছে সময়ের প্রেক্ষিত থেকে সমস্ত উপাদান নিয়ে। তবে তা গতানুগতিক দ্রোহে নয়, ক্রোধে নয়। অপূর্ব এক জীবনমুখী বোধে। সমস্ত জীবন বিরোধী দুর্ভেদ্য প্রাচীরগুলোকে অনায়াসে ফুলদানীতে সাজিয়ে তুলে এনেছেন যেন পাঠকের কাছে।
 
প্রকৃতিপ্রেম নিয়ে লেখা কবিতা ‘আজ সারাদিন’ – সেখানেও সময়ের ছবি, সমস্যার দৃশ্যপট এঁকে রেখেছেন যেনো প্রেমানুভূতির ভাঁজে ভাঁজে। বিম্বিত হয়েছে তার বোহেমিয়ানপনার আত্মপ্রতিকৃতিও।
 
‘বাতাস আমাকে লম্বা হাত বাড়িয়ে
চুলের ঝুটি ধ’রে ঘুরে বেড়িয়েছে আজ সারাদিন
কয়েকটা লতা পাতা নিয়ে
বিদঘুটে বাতাস,
হাতকড়া পরিয়ে দিয়েছে আমাকে,
লাল পাগড়ি-পরা পুলিশের মতো কৃষ্ণচূড়া
হেঁকে বললোঃ
‘তুমি বন্দী’!
 
আজ সকাল থেকে একজোড়া শালিক
গোয়েন্দার মতো আমার
পেছনে পেছনে ঘুরছে
যেন এভিনিউ পার হ’য়ে নির্জন সড়কে
পা রাখলেই আমাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাবে ঠিক।
 
. . .     . . .
 
তোমার বাড়ীর 
কিন্নরকণ্ঠ নদী অবধি আমি গিয়েছিলাম।
কিন্তু হাতভর্তি শালিকের পালকের
আর চুলের মধ্যে এলোপাথাড়ি বৃষ্টির ছাঁট নিয়ে
উল্টোপাল্টা পা ফেলে
               তোমার দরোজা পর্যন্ত যেতে ইচ্ছে হলো না।
 
ঐ শালিকের ভেতর উনুনের আভা, মশলার ঘ্রাণ।
তোমার চিবুক, রুটি আর লালচে চুলের গন্ধ,
ঐ বৃষ্টির ফোঁটার মধ্যে পাতা আছে তোমার
              বারান্দার চেয়ারগুলো
তা হলে তোমার কাছে গিয়ে আর কী হবে!
 
আজ সারাদিন একজোড়া শালিক
গোয়েন্দা পুলিশের মতো
বাতাস একটা বুনো একরোখা মোষের মতো
আমাকে ধাওয়া করে বেড়ালো এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত পর্যন্ত
 
আমি অনেকদিন পর একজন হা-ঘরে
               উদ্বাস্তু হ’য়ে চড়কির মতো গোটা শহর ঘুরে বেড়ালাম।
 
এই একই জীবন বোধের আকুতি প্রেম ও যাপনকে ঘিরে উপলব্ধির মোড়কে উঠে এসেছে সমসাময়িক পারিপার্শিকতা আর অনিশ্চিত নিয়তির দৃশপটে তাঁর বিখ্যাত ‘সংগতি’ কবিতাটিতে।
 
‘একাকী পথিক ফিরে যাবে তার ঘরে
শূন্য হাঁড়ির গহ্বরে অবিরত
শাদা ভাত ঠিক উঠবেই ফুটে তারাপুঞ্জের মতো,
পুরনো গানের বিস্মৃত কথা ফিরবে তোমার স্বরে
 
প্রেমিক মিলবে প্রেমিকের সাথে ঠিকই
কিন্তু শান্তি পাবে না, পাবে না, পাবে না  … 
 
ব্যারাকে-ব্যারাকে থামবে কুচকাওয়াজ
ক্ষুধার্ত বাঘ পেয়ে যাবে নীল গাই,
গ্রামান্তরের বাতাস আনবে স্বাদু আওয়াজ
মেয়েলি গানের – তোমরা দু’জন এক ঘরে পাবে ঠাঁই
 
প্রেমিক মিলবে প্রেমিকার সাথে ঠিকই
কিন্তু শান্তি পাবে না, পাবে না, পাবে না 
 
নিজের বিস্তৃতির পরিধি নিয়ে সংগোপন ভাবনা আর যুগ ও সময়ের বৈশ্বিক পরিবর্তনের ছবিটাকে এক ফ্রেমে সেঁটে অনবদ্য তুলে এনেছেন তাঁর অন্তর্গত বৈশ্বিক কবি স্বত্বাকে।
 
‘শতবর্ষ পরমায়ু নয় যে আমার আমি তা জানি। তবু
আমার নিজস্ব শতকের গোধূলির দিকে তোমার মতন
অগ্রসরমান আমিও, এবং সেই সঙ্গে দেখে যাই
অস্তরাগ মানবিকতার।
 
. . .     . . .
 
তা হলে যথার্থ যাত্রী কারা? কপর্দকহীন, হতাশা-শাসিত
স্বপ্নচ্যুত প্রাজ্ঞ অগ্রজেরা? নাকি মৃত্যুর তামস শিল্পে অনভিজ্ঞ
সেই তরুণেরা যারা পিতার চুম্বন থেকে খুব সৃষ্টিশীলভাবে
ঝরে পড়ছে এখন উন্মোচিত পদ্মের মতো মাতৃজরায়ুতে?
এবং অচিরে যারা বেরিয়ে পড়বে দিগ্বিদিক?
 
নাকি তুমি? আমি? আমাদের মুখর, বাচাল নেতৃবর্গ? কিংবা
আধুনিক রাষ্ট্রনায়কেরা, নির্দ্বিধায়, নিউক্লিয়ার রিএ্যাকটরগুলো
রোপন করছে দেশে-দেশে, এবং সমরাস্ত্রের কন্ট্রাক্টর যাদের
ছায়াসহচর হয়ে ঘুরছে চতুর্দিকে?
 
যেমন বৃষ্টির শেষে স্তরে স্তরে জমে থাকে মেঘ চেনা পৃথিবীর
বিভিন্ন আকাশে, তেমনি এই স্বপ্নাক্রান্ত ক্লান্ত শতকের
নষ্ট আকাঙ্ক্ষাগুলোর রাঙা ধ্বংসাবশেষের পাশে আজ
দাঁড়িয়ে রয়েছি যারা, আমাদের ন্যুজপৃষ্ঠে মরা হরিণের মতো
পড়ে আছে বস্তুনিষ্ঠ ব্যাখ্যা ইতিহাসের।’
 
– ‘স্বতন্ত্র শতকের দিকে’ 
 
কবিতায় অবলীলায় নিজেকে, নিজ মাতৃভূমি ও আপন পৃথিবীকে উন্মোচনের পরও বলছেন – ‘অপরের কথা বলি কোন্ সাহসে- দশকের পর দশক নিজের সঙ্গে বসবাস করেও নিজেরই কোনো ঠিকঠিকানা খুঁজে পাইনি’। আসলে কি তাই ! হয়তো এ কথা ছিল নিজেকে নিয়ে নিতান্ত এক হেয়ালি! তিনি যে মুনি-ঋষির মতোই দর্পিত করেছেন নিজেকে ও নিজের প্রতিপার্শ্বকে সাবলীল দক্ষতায়। নিজেকে, নিজ পিতাকে নিয়ে অদ্ভুত সহজ-সরল তাই বলতে পেরেছেন –  
‘আমার বাবা প্রথমে ছিলেন শিক্ষিত, সংস্কৃতিবান একজন সম্পাদক। তারপর হলেন জাঁদরেল অফিসার। তিনি স্বপ্নের ভিতর টাকা নিয়ে লোফালুফি খেলতেন। টাকা নিয়ে। আমি তাঁর ছেলে – প্রথমে হলাম বেকার, তারপর বেল্লিক, তারপর বেকুব, এখন লিখি-পড়ি। আমি স্বপ্নের ভিতর নক্ষত্র নিয়ে লোফালুফি করি। নক্ষত্র নিয়ে। বাবা ছিলেন উজ্জ্বল, ধবধবে ফর্সা। ছয় ফুট দুই ইঞ্চি লম্বা। আমি তাঁর ছেলে – ময়লা, রোদে পোড়া, কালো। পাঁচ ফুট নয় ইঞ্চি মোটে। অর্থাৎ পাঁচ ইঞ্চি বেঁটে। বাবা উন্নত নাসা, পরতেন প্যাচনে। আমার নাকই নেই বলতে গেলে। পরি হ্যাণ্ডেল অলা চশমা। বাবা জানতেন দুর্দান্ত ইংরেজি। আমি অল্প-স্বল্প বাঙলা। বাবা যখন তখন যাকে তাকে চপেটাঘাত করতে পারতেন। আমি কেবল মাঝে-মধ্যে একে-ওকে চুম্বন ছুঁড়ে মারতে পারি, ব্যাস।’ — ‘একটি উত্থান পতনের গল্প’ কবিতাটিতে শহীদ কাদরি এমন সাবলীল ভাবেই তুলে এনেছেন তাঁর ও পূর্বপুরুষের গল্প। যার প্রতিটি বিস্তার ও বীক্ষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে গেছে শতভাগ সত্য ছবি ও ধারণা নিয়ে।
অদ্যাবধি স্বেচ্ছানির্বাসনের কবি মনটি যে আগাগোড়াই পড়ে ছিল নিজ মাতৃভূমির মাটি ও জলে তা বার বার উঠে এসেছে তাঁর প্রবাস জীবনের একমাত্র কাব্যগ্রন্থ (আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও) জুড়ে। এ প্রসঙ্গে সরাসরি পস্টাপস্টি শিরোনাম সহই লিখেছেন তিনি অনন্য সব পংক্তি। 
 
‘জুঁই, চামেলি, চন্দ্রমল্লিকা কিংবা কাঠগোলাপ থেকে
টিউলিপ ম্যাগনোলিয়া অথবা ক্রিসেনথিমামে
নিজস্ব শহর থেকে অচেনা ফুটপাতে
এশিয়ার আকশে ময়ূর নীল থেকে
কুয়াশাচ্ছন্ন পাশ্চাত্যে
না, কোনো নির্বাসনই
কাম্য নয়
আর।
 
. . .      . . .
 
প্রাচ্য থেকে প্রাতীচ্যে
অন্য এক উল্লাস-মত্ত পতাকার নিচে
এই যে নতজানু নির্বাসন – কাম্য নয় আর
 
প্রেম থেকে অপ্রেমে
ধর্ম থেকে ধর্মান্ধতায়
প্রগতি থেকে প্রতিক্রিয়ার মধ্যযুগীয় আবর্তে
চুম্বন থেকে চুম্বনহীনতায়
জীবনের ওপারে কোনো অন্তহীন কফিনে
এই যে নির্বাসন
আমার কাম্য নয় আর,
কোনো নির্বাসনই কাম্য নয় আর।’
 
‘কোনো নির্বাসনই কাম্য নয় আর’ কবিতা জুড়ে আপন নির্বাসিত জীবনেই নির্মম প্রস্থানের ভবিষ্যৎবাণীটিও যেনো অলক্ষ্যে উচ্চারিত হয়ে গেছে এখানে। এরচেয়ে আরো তীব্র খেদ তার উঠে এসেছে ‘প্রবাসের পংক্তিমালা’ কবিতায়। যেমন পাশ্চাত্যকে ঘিরে, তেমনি তার মাতৃভূমিতে ফিরে আসবার অদম্য আকুতি পাল্লাপাল্লি প্রখর কলজে পোড়া, দগ্ধ, ধোঁয়া ওঠা শব্দের শরীর বেয়ে।
 
‘হে কাক, হে কালো কাক! হঠাৎ কোত্থেকে তুমি এলে
এই বর্ণবাদী দেশে? তুমি জানো, এ রাজ্যে অশ্বেতাঙ্গের মূল্য
নেই কোনো;
এখানে কি? এ বিদেশে কেন?
যাও, যদি পারো, দাও উড়াল বাংলার দিকে
সেখানে মানাবে বেশ সিল্ক-মসৃণ-তোমার কালো ডানা।’
 
এইসব নির্মম সত্য উম্নোচনের ভেতর দিয়ে কতো গভীর যন্ত্রণা আর জটিল সব ভাবনাকে দুরূহ শব্দের গাঁথুনিতে পাঠকের অনন্ত সময়ের আঙ্গিনায় তুলে এনেছেন অদ্ভুত সহজবোধ্যতায়। এমন শব্দশৈলী বুনন দক্ষতার নজির খুব কমই জোটে অন্য কোথাও অন্য কারো কবিতায়। সেই আবিষ্কারে নির্মম এ ‘সঙ্গতি’টুকুনই আমাদের দিয়ে গেছেন শহীদ কাদরী, যা আমাদের দীন-হীন বাস্তব চেহারাটাকে তুলে ধরে বেলজিয়ান কাঁচের স্বচ্ছ্বতায়। 
 
‘আমরা কাতারে-কাতারে দাঁড়িয়ে আছি ব্যক্তিগত 
  দূরত্বে
সবাই। নামহীন অহংকারে হলুদ একসার বিকৃত
  মুখ
পরস্পর থেকে ফেরানো; হৃৎপিণ্ডের মধ্যে লুকোনো
  নিতান্ত নিজস্ব
কাঁচ; সেখানেই উৎসুক ফিরে ফিরে তাকানো’
 
কেবল আপন দেশ ও আপন সত্তাকে ঘিরেই নয়, তাঁর কাব্য ভাবনার ছত্রে ছত্রে উচ্চারিত হয়েছে বৈশ্বিক সঙ্কট আর দ্বন্দগুলোও। শেষ বইটার শেষদিকে এসে সেই ভাবনাগুলোকে সযত্নে গ্রন্থিত করে গেছেন শহীদ কাদরী নির্মেদ ভাবে। 
 
‘এখন যদি কেউ আমাকে টেনে নিয়ে যায়,
চোখে কালো রুমাল বেঁধে,
বিধ্বস্ত কোনো দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে
স্টেনগানের নল উঁচু করে ধরে এবং
তাক করে আমার দিকে, আমি কি
বলতে পারবো; ‘বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক!’
নৃশংস একনায়ক কিংবা স্বেচ্ছাচারী কোনো মূঢ়
জেনারেলের নির্দেশে
যদি আমাকে দাঁড় করিয়ে দেয়া হয় ফাঁসির মঞ্চে,
আমি কি রজ্জু থেকে ঝুলে পড়ার আগে
চিৎকার করে উঠবো; ‘শ্রেণীসাম্য ছাড়া
নিস্তার নেই নিরন্ন মানুষের!’
 
সারা রাত জেগে বিপ্লবীদের (লেনিন, মাও,
চে গুয়েভারা, ফিদেল ক্যাস্ট্রোর) রচনাবলী
পাঠ করার জন্যে যদি আমাকে কখনো
দাঁড়াতে হয় তোমাদের কাঠগড়ায়,
দণ্ডপ্রাপ্তির ভয় উপেক্ষা করে আমি কি সেদিন
নির্ভয়ে বলতে পারবো: ‘মহামান্য আদালত,
সুষম ধন-বণ্টন ছাড়া উদ্ধার নেই তৃতীয় বিশ্বের!’
 
– ‘অন্তিম প্রজ্ঞা’
 
সমস্ত কথা অকপটে বলবার পরও বলে অস্ফুট উচ্চারণে শহীদ কাদরী বলে গেছেন –
‘কিন্তু নাঃ, সবকথা
আজ আমার
বলা সম্ভব নয়। ঐ যে তোমরা যাকে বলো শ্বাপদসংকুল অরণ্য
ওখানেই আমাকে পাবে
(ওটাই আমার শেষ আশ্রয়)
না, হাতে সময় নেই
পালাতে হচ্ছে এখুনি’
 
‘অসমাপ্ত বক্তব্য’ কবিতার শরীর জুড়ে বুঝিবা আপন প্রস্থানের সঙ্কেতটিও তিনি রেখে গেছেন আমাদের জন্যে। তারপর ‘নিরুদ্দেশ যাত্রা’য় এসে শেষ করেছেন সর্বশেষ প্রকাশিত ‘আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও’ কাব্যগ্রন্থটি। যেনোবা অনন্তের পথে যাত্রা শুরুর আগে মহামনীষীর মতো ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা হয়ে উঠেছিলেন। 
 
‘আমার মতন ভ্রাম্যমাণ এক বিহ্বল মানুষ 
ঘরের দিকেই
ফিরতে চাইবে
হ্যাঁ, এটাই সবচেয়ে সুস্থ
সহজ এবং স্বাভাবিক।
আমার নিজস্ব ঘরে প্রবাহিত হব বলেই
আমি নিঃশব্দে বেরিয়ে পড়েছিলাম একদা
আমার আজন্ম-চেনা গৃহচ্ছায়া থেকে –
আমার প্রথম কৈশোরের রৌদ্রকরোজ্জ্বল ভোরে।
 
তারপর থেকেই—বলতে পা’রো, শুরু
হয়েছে আমার,
উত্থান-পতনে ভরা (এক পা এগিয়ে যাওয়া এবং
দু’পা পিছিয়ে আসা) এক অন্তহীন নক্ষত্রবিহীন
যাত্রা।
 
শুরু হয়েছে আমার প্রত্যাবর্তন নানান
আঙ্গিকে। একদা
পদব্রজে
(বলতে পারো) আমার বাড়ীর দোরগোড়া অবধি
পৌঁছে গিয়েছিলাম পা-টিপে
পা-টিপে আমি, আহত জন্তুর মতো নিজস্ব গুহার খোঁজে।
কিন্তু শিকারীদের উল্লাস আর সারি সারি বল্লমের সুতীক্ষ্ণ উল্লাস
বাধ্য করেছে আমাকে ঘরের দোরগোড়া থেকে ফিরে যেতে।’
 
কি সুগভীর যাতনা, কী তীব্র বেদনার নীল ছড়িয়ে আছে এর শব্দে শব্দে তা কখনো কথায় উঠে আসে না অর্গল খোলা দীর্ঘ ও ভারী প্রশ্বাসের মতোন। বুক ভারী করে দ্যায় সুবিশাল পাহাড় চাপা পড়ার মতোন এ কবিতাটা জুড়ে বোনা এর অনন্য শোকগাঁথা।
 
‘অপসৃয়মাণ উপকূলে,
তিমিরে আচ্ছন্ন,
একটি অচেনা পাহাড়ের সানুদেশে,
আমার মা’র কপালের টিপের মতন
আমার বোনের নাকফুলের মতন
জ্বলজ্বল করছে একটি গ্রাম।
‘ক্যাপ্টেন জাহাজ থামাও’।’
 
পুরো কবিতা জুড়ে মনে হয়েছে যেন এক দুঃস্বপ্নের ভেতর হারানো স্বদেশ আর তার আপন মানুষগুলোকে খুঁজে বেড়িয়েছেন তিনি এক মোহগ্রস্ত স্বপ্নমগ্নতায়। শেষ পর্যন্ত ক্যাপ্টেন বুঝিবা তার আকুতি শুনতে পেয়েছে। আজ অমোঘ যাত্রায় মেঘে ভেসে প্রিয় মানুষদের উঠোন পেরিয়ে নিজস্ব আটচালায় সীমান্তে এসে তাঁর যাত্রা সাঙ্গ হলো।
 
এ তো কেবলি তোমার শেষ দৃশ্যমান স্টেশনটি ছুঁয়ে যাওয়া। তোমার তো প্রয়াণ নেই, নেই প্রস্থান। অস্তিত্বের অধিক অপার জগৎ জুড়ে মিশে আছো তামি শুধু অন্তহীন অনন্তের দৃষ্টি অপার অলৌকিক পথ জুড়ে। যতোবার আমাদের চোখজোড়া হেঁটে যাবে তোমার নির্মিত শব্দের ভাস্কর্যের শরীর জুড়ে, ততবার তুমি জেগে উঠবে প্রতিটি পাঠকের পাশে; অনন্ত অস্তিত্বের অবয়বে। 
 
. . . না, না, তার কথা আর নয়, সেই বেরিয়েছে সকাল বেলায়, সে তো – শহীদ কাদরী। প্রবাসে পরবাসী আর সে নেই, বাড়ি গেছে। বহুদিন পর শালিক চড়ুইয়ের কলতান মাখা আপন বাড়ীর সীমানায় ফিরেছে সে চির আকাঙ্ক্ষার মাটি-জল সখ্যতায়। এসেছে ফিরে সে মা-মাটি ও শ্রাবণ জলধি মেশা অতি প্রিয় বিউটি বোর্ডিঙের শহরে, প্রগাঢ় সখ্যতার প্রেম ও হোমের সবুজ আঙিনায়। 
এখন পর্যন্ত তাঁর ছাপা হওয়া কবিতার সংখ্যা মাত্র ১২৬ টি। এতেই পঞ্চাশের দশকের এবং তার পরবর্তী সবটুকু সময়ের সবচেয়ে প্রণিধানযোগ্য একজন কবি হিসেবে তাঁর নাম প্রোথিত হয়ে গেছে বাঙলা সাহিত্যের অস্তিত্ব জুড়ে। মৃত্যুর কিছুদিন আগে বলেছিলেন আরো একটা বই প্রকাশের ইচ্ছে তাঁর আছে। সেই সম্ভাব্য বইটিকে নিয়ে এর বেশি কিছু ধারণা নেই। কিন্তু এক অবাধ্য তৃষ্ণা জাগরুক রইলো। সেই সাথে চিরন্তন প্রজ্জ্বলিত রইলো বাঙলা কবিতার তাবৎ পাঠক ও তাদের উত্তরাধিকারের হৃদয় নিংড়ানো উদ্বেল ভালবাসা।
০২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ 
(তাঁর প্রয়াণ প্রতিক্রিয়া ও শ্রদ্ধা ঘিরে লেখা) 

লেখক:
Lutful Hossain
লুৎফুল হোসেন, কথাসাহিত্যিক

*এই বিভাগে প্রকাশিত লেখার মতামত ও বানানরীতি লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাঙালীয়ানার সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকা অস্বাভাবিক নয়। তাই এখানে প্রকাশিত লেখা বা লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা সংক্রান্ত আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় বাঙালীয়ানার নেই। – সম্পাদক

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.

About Author

বাঙালীয়ানা স্টাফ করসপন্ডেন্ট