ফণীর সর্বশেষ আপডেট

Comments
সকাল ০৭:৩০, শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০১৯

বাংলাদেশ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল (সাতক্ষীরা-যশোর-খুলনা) এলাকায় শনিবার, ৪ মে, ২০১৯, সকালের মধ্যে যেকোনোও সময় আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ফণী। ঘূর্ণিঝড় ফণী ইতোমধ্যে দুর্বল হতে শুরু করেছে। বাংলাদেশে আঘাত হানার আগে এটা আরও দুর্বল হয়ে যাবে।

ভারতের ওড়িশা উপকূল ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড়টি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও কিছুটা দুর্বল হয়ে শনিবার ভোর ৩টায় ভারতের গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি স্থলভাগের ওপর দিয়ে আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শনিবার সকালের মধ্যে বাংলাদেশের দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চল (সাতক্ষীরা–যশোর–খুলনা) এলাকায় পৌঁছাতে পারে।

বাংলাদেশ এবং এর উপকূলীয় এলাকায় শুক্রবার সকাল থেকে ঘূর্ণিঝড় ফণীর অগ্রবর্তী অংশের প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে এবং দেশের অনেক স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। আগের চেয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় ফণী। শুক্রবার বিকালের দিকে এর বাতাসের গতিবেগ যেখানে ছিল ১৬০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার। সেখানে রাত ১০ টায় সেটির বাতাসের গতিবেগ ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার। ভোর তিনটায় গতি আরো কমে হয়েছে ৯০ থেকে১০০ কিলোমিটার। এটি সকাল সাতটায়ও একই গতিবেগে এগুচ্ছে। ফলে ফনী এখন একটি সাধারণ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে।

রাত ০১:১৫, শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০১৯

আগারগাও আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সারা বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। কোথাও কোথাও ঝড়ো বাতাস বইছে। পটুয়াখালী, বরগুনা, বাগেরহাটের বিভিন্ন স্থানে স্বাভাবিকের চেয়ে ২/৩ ফুট বেশী উচ্চতায় জোয়ার এসেছে। উত্তাল জোয়ারে এইসব স্থানের কয়েকটি জায়গায় বেড়ী বাঁধ ভেঙ্গে জল ঢূকে পড়েছে। শনিবার সকাল ১১ নাগাদ ফণীর কেন্দ্র সাতক্ষীরা জেলায় অবস্থান করবে বলে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে।

ঢাকা শহরে আজ সকাল থেকেই হাল্কা বৃষ্টিপাত হলেও রাতে তা বেড়ে বৃষ্টিপাতের পরিমান বেড়েছে সাথে রয়েছে দমকা বাতাস।

রাত ১২:৪৫, শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০১৯

পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া, মুর্শিদাবাদ ঘেঁষে বাংলাদেশ ঢুকবে ফণী বলে জানিয়েছে কলকাতার আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। তার বলছে,  ‘শনিবার দুপুর-বিকেলের মধ্যে বাংলাদেশে চলে যাবে ফণী’।

আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক শামছুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২১ কিলোমিটার গতিতে অগ্রসর হচ্ছে। সাতক্ষীরার উত্তর দিকে নড়াইল, ঝিনাইদহ, চাঁপাইনবাগঞ্জ হয়ে ক্রমশ তা আরও উত্তর দিকে চলে যাবে। বাংলাদেশে এটি ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা অবস্থান করবে।

রাত ১১:০০

ভারতের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের দিঘা, মন্দারমণি-সহ উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে শুরু হয়েছে প্রবল বৃষ্টি। দিঘা-মন্দারমণিতে উত্তাল সমুদ্র। ১০ থেকে ১৫ ফুট উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়ছে উপকূলে। সমুদ্রের ধার বরাবর বাঁধ উপচে জল ঢুকছে সৈকত শহরে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত আটটা নাগাদ ওড়িশার জাজপুরের কাছে রয়েছে ফণী। অর্থাৎ কলকাতা থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে এবং দিঘা থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। আবহাওয়া দফতর আরও জানিয়েছে, কলকাতায় যখন ফণী প্রবেশ করবে, তখন ঝড়ের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আরও উত্তর-উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শনিবার সকালের মধ্যে ফণী খুলনাসহ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পৌঁছাতে পারে। এরপর রাজশাহী, রংপুর এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহের ওপর দিয়ে দেশের উত্তরাংশ পেরিয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের খুলনা উপকূলে প্রবেশের সময় ঝড়ের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বা তার নীচে।

খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় শুক্রবার দুপুর থেকেই অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ র অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে কোথাও ভারী কোথাও হাল্কা বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।

এ কারণে বাংলাদেশের মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলা এবং সংলগ্ন দ্বীপ ও চরগুলো ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং নিকটবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

আর কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে আগের মতই ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

বিকেল ৭:৩০

মধ্যরাতের দিকে খুলনা উপকূল অতিক্রম করবে ঘূর্ণিঝড় ফণীর কেন্দ্র, জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ঘূর্ণিঝড়ে খুলনা জেলার কয়রা উপজেলা থেকে মো. আখতারুজ্জামান সোহাগ বাঙালীয়ানাকে বলছিলেন যে ঘূর্ণিঝড় ফণীর অগ্রভাগ খুলনার উপকুলে  আঘাত হেনেছে। এর প্রভাবে সন্ধ্যা থেকে উপকুলে বর্ষণ শুরু হয়েছে। তেমন বাতাস নেই তবে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার চাঁম্পাপুর ইউনিয়ন থেকে দীপঙ্কর অধিকারী জানালেন, ‘দুপুর থেকেই এখানে বৃষ্টিপাত শুরু হয় এখন বৃষ্টির প্রকোপ বেড়েছে তবে বাতাস নেই। আবহাওয়া অনেকটা থমথমে।

বিকেল ৬:১০

পায়রা সমুদ্র বন্দরের পূর্ব দিকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালি উপজেলার বড় বাইশদিয়া ইউনিয়নের পরিষদ দ্বিতল ভবনের আশ্রয় কেন্দ্র থেকে মো. শাহ আলম বাঙালীয়ানাকে জানিয়েছেন, ‘থেমে থেমে ঝড়ো হাওয়ার সাথে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। বাতাস থেমে গেলে গুমোট ভাব তৈরি হচ্ছে, আকশে ঘন কালো মেঘ রয়েছে।’

ভোলা সদর থেকে জিয়াউল হক বাঙালীয়ানাকে জানান, ‘গুমোট অবস্থা থাকলেও গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশ মেঘলা রয়েছে।

বিকেল ৪:৪০

বিকেল ৩টায় আবহাওয়া অধিদফতরের সবশেষ আপডেটে জানানো হয়, বাংলাদেশের খুলনা এলাকায় সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ ঘূর্ণিঝড় ফণী আঘাত করতে পারে। এসময় বাতাসের গতিবেগ থাকবে ১৪০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার। এটি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়েছে। ঝড়ের সময় বাতাসের সর্বনিম্ন গতিবেগ থাকবে ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার।

শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০১৯, বিকেলে আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক শামছুদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের সামনে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান, ঘূর্ণিঝড় ফণী এখন মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৪৪৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে।

এদিকে দেশের বিভিন্ন জেলায় ফণীর প্রভাব বাড়ার সাথে বৃষ্টিপাত এবং দমকা বাতাসের খবর জানিয়েছে বাঙালীয়ানার সংবাদ সূত্র।

কিশোরগঞ্জে বজ্রপাতে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে বৃষ্টিপাতের সময় মিঠামইন উপজেলায় দুইজন আর পাকুন্দিয়া ও ইটনায় একজন করে এই বজ্রপাতে মারা গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

দুপুর ২:৪৪ মিনিট
বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, ঘূর্ণিঝড় ফণী ভারতের চেয়ে প্রায় অর্ধেক গতিবেগ নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে বাংলাদেশে ফণী আঘাত হানতে পারে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় শুক্র ও শনিবার থেমে থেমে বৃষ্টি হবে।’

কলকাতা থেকে ৩৭০ কিমি দূরে রয়েছে ফণী, দিঘা থেকে ২২৭ কিমি দূরে থাকা অবস্থায় ভারতের আবহাওয়া দপ্তর সূত্রের খবর, ওড়িশার স্থলভাগের গভীরে না গিয়ে ক্রমশ উপকূল বরাবর পশ্চিমবঙ্গের দিকেই নাকি ধেয়ে আসছে অতি শক্তিশালী প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী। ভারতের আবহাওয়াবিদ জে কে মুখোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, একটা ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র যত স্থলভাগের গভীরে এগতে থাকে, ততই তার শক্তিক্ষয় হয়। আর এখানেই লুকিয়ে রয়েছে দুশ্চিন্তার কারণটা। কারণ, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৫০ মিনিট নাগাদ ওড়িশার উপকূলে স্থলভাগের উপরে ১৯৫ কিলোমিটার গতিবেগে ফণী আছড়ে পড়লেও, তার অভিমুখ স্থলভাগের গভীরের দিকে নয়। বরং উপকূল বরাবরই সে ক্রমশ পশ্চিমবঙ্গের দিয়ে এগিয়ে আসছে। এ ক্ষেত্রে যেহেতু তার বিস্তৃতির অনেকটা অংশ সমুদ্রের উপরেই রয়ে গিয়েছে, তাই পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছতে ফণী যতটা শক্তিক্ষয় করে ফেলবে মনে করেছিলেন আবহাওয়াবিদেরা, তা হবে না। ১০০ কিলোমিটার বা তারও বেশি গতিতে পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হানতে পারে ফণী।

ঢাকায় শুক্রবার আবহাওয়া অধিদফতরে এক ব্রিফিংয়ে জানায়,  ‘ওড়িশা রাজ্যে ২০০ কিলোমিটার গতিবেগে আঘাত হানার পর ফণী দুর্বল হয়ে বাংলাদেশে আসবে। তখন বাতাসের গতিবেগ থাকবে ৮০-১০০ কিলোমিটার।’

ঢাকা জানায়, ‘মোংলা, পায়রা বন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত বহাল রাখা হচ্ছে। আপাতত এর বেশি বাড়ানো হবে না। চট্টগ্রামে ৬ আর কক্সবাজারে ৪ নম্বর সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।’

বাঙালীয়ানা/এসএল

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.