অন্ধকার
চোখ মেলে দেখি ঘন কুয়াশা,
অনাবৃত দৃষ্টি চোখে জল-ছায়া,
মাতঙ্গী নাচছে দেখতে পাইনি।
ধ্রুবতারাদের আর্তনাদ শুনছি,
নব-সঙ্গীত এক গুচ্ছ গোলাপ হাতে,
ঠায় দাঁড়িয়ে তোমার কঙ্কন,
কলাবতী গেল বনবন্তে,
ধ্যানের ছবি আঁকার সাধ জাগে,
প্রেমের মোড়ল ঘুমোতে গেছে,
ধন্য তোমার শাড়ির আঁচল,
শিউলি আজ বড্ড বেমানান,
কলিরা সব শুকিয়ে পাতার ভাঁজে,
ঊনবিংশ শতকের গরিলার কাঁদন ভরা কদম্ব,
ঝরবে তবুও সত্য বললে আঁতকে উঠবে মন।

দুধে আলতা পা
প্রকাশিত সত্য আকস্মিকতার আড়ালে ঢাকা পড়লেই
গর্বহীন কিছু দুরূহ-মনা চিত্তকে আলিঙ্গন করে প্রতিনিয়ত,
সময়ের দিকে চোখ বাড়িয়ে পাওয়া না পাওয়ার
নিরঙ্কুশ চেষ্টার বাইরে, সজীবতায়
মোক্ষম কিছু মুহূর্ত জোনাকির আলোয় ফোটে,
কত শত বছর পর,
সেই স্মৃতির আড়ালে ঢাকা পড়া,
নেতানো দিকগুলো চোখেই পড়েনি কিছু।
প্রদাহ বরণ বশতঃ,
অমৃত, সিদ্ধপুরুষ,
অনেক চিন্তার ফল;
স্বরূপতায় গেছে,
ছোটোখাটো কুকুরছানার আদল মাখানো,
আদরিণীর হাত সমাপ্ত হয়েছে॥

আলো
রাতের আকাশে তারার খেলা
সাপুড়ের ঘরকোণে
পিকাসো ঘোরে
কদম ফুলে হাওয়া বওয়া পর্যন্ত
যতনে ছোঁয়া জলে ঝাপাঝাপি করা
বালকবৃন্দ যেমন–
অপরাহ্নের আঙিনায় আর্দ্র
বালিকাদের আছড়ে পড়ছে রূপ লাবণ্য,
ছুতো খোঁজা জলপরীর দেখা মিলল অতলে;
নাগাল না পাওয়া পায়ে সাদা আবরণ পড়ে
মরা গাছের কনুইয়ে
বিঁধেছে আঙ্গুলি
দেবতা, দানব, রাক্ষসী!
কচুরিপানা ফুলের শব্দ নিঙড়ানো পরশ,
ভেজা শাড়ির আঁচলে গেঁথেছে সমাধি।
মৃত্যু অবধারিত বস্তু
রূপে ফিরে এসেছে কোলে,
ভ্রান্তরা চিৎকার করে বলছে–
সহে যাও আছে যত রং
শুধু করো আহ্বান;
শ্বেতপদ্ম গলায় দিয়েছে ফাঁসি,
কচুমূলে এখন শুধু কাদামাটির ছড়াছড়ি।
ভৃত্য এসে বলে–
প্রভু ক্ষমা করো, ভুল হলে কভু।
চলছে আজ,
বুঝি শুধু মৃত্যুফাঁকি?
নিমিত্ত জোড়া সিদ্ধ নারীর অপ্রিয় গুণ,
জানবে সবাই ভোর হয়েছে,
মরা ডালে জং ধরেছে,
গুষ্টি করছে উদ্ধার,
প্রিয়তম আমার কেশ ছিড়েছে,
দিব্য জ্ঞানে,
ভেঙচি দিবো,
জাপটাবো খুব।
বিদ্ধ গুলির পঞ্চপদে॥

জীবনের ক্ষেত্র
ভুট্টার শক্ত বীজের কামড়ে,
আলসে দাঁত কিসমিস করছি।
তোমার আমার মিলটা জানো?
বিবরণ লিখতে বসেছি,
হাফ হাতা শার্ট আর ভাঁজ করা দেয়াল,
মাকড়সা জাল বুনেছে,
অহেতুক অনর্গল কিছু জিজ্ঞাসা,
থমকে থাকা কিছু আষাঢ়ের ফোঁটা,
জল চুইয়ে চোখে পড়লে
কোমলতা দেখি তার এক বিন্দুতে,
শুকে দেখতে পেতাম যদি!
আকাশে রোদ উঠেছে
তোমার ঘাঁড়ের ওপর থেকে,
ঝলকানো রশ্মি মেলে,
দেখছি শুধু,
ব্যাকবোন ভরা মাংসাশী পিন্ড।

মৃত্যুবরণ করি
ফের এক হবো আম ডালে,
যুগ যুগ ধরে পাপের বোঝাই,
বইতে থাকবে নরকে।
এনে দেবো এক গুচ্ছ চেরি।
পূর্ণের মালা গেঁথে যাই,
অতৃপ্ত আত্মার বদৌলতে।
ছাতিমের সুবাস,
অপেক্ষার কবর,
হচ্ছে মনের ধর্মঘট।
মধ্যমণীর মাঝে মুক্তো জড়িয়ে ঝরবে অদ্ভুত অনুভূতি।
হাতের মুঠোয় আষ্টেপৃষ্ঠে বাহুতে ঢেকে শত
আনন্দ-বেদনা-আকুতি
চলো মৃত্যু বরণ করি।

যোগেশ্বরী
যোগিনী,
জপের মালা গলায় পরি,
কালের শঙ্খনীল ছাড়ি।
সতেরো-সত্তর কাটছে অবিরত,
গিয়ে ফিরে যেতে ইচ্ছে করে
সাত সমুদ্র তেরো নদী।
গহিন বনে আছে কিছু অজানা উপাদান,
নিপবনের চারিধারে সমাহিত তোমার যাত্রাবিধান!
স্বপ্ন আকুলগহনে পতিত হও কোনো এক পক্ষে,
নিদারুণ সুখ এসে ধরা দিলো তোমার প্রাপ্তিতে।
ঘন কুয়াশা গোমুট ফেলে জ্যোতির্ময় আলো ফুটছে
শতবর্ষ পার করি আলো- ছায়া আর মর্মকথার জালে।

লেখক:
ফাল্গুনী এলিজাবেথ
কবি; ফেনী, বাংলাদেশ