ফায়ারম্যান সোহেল রানার অবস্থা আশঙ্কাজনক

Comments
বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ, ২০১৯, বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার কাজে অংশ নিয়ে গুরুতর আহত বর্তমানে ঢাকার সিএমএইচে চিকিৎসাধীন কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনের ফায়ারম্যান সোহেল রানা এখনও আইসিইউতে ভেন্টিলেশনে রয়েছেন। তবে দুর্ঘটনার ৭ দিন পরেও সোহেল রানার শারীরিক অবস্থা শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছে সিএমএইচ কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল, ২০১৯, সকালে সিএমএইচ কমান্ডেন্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. তৌফিকুল হাসান সিদ্দিকী বাঙালীয়ানা প্রতিবেদককে জানান যে সোহেল রানার শারীরিক অবস্থার আশঙ্কার দিকটি হচ্ছে ধোঁয়ার মধ্যে উদ্ধার কাজ করতে গিয়ে শরীরে কার্বন মনোঅক্সাইডের বিষক্রিয়া এবং ‘ইনহেলেশন ইনজুরি’ -র কারণে তার ট্র্যাকিয়া ও শ্বাসনালীতে সৃষ্ট ক্ষত। সে কারণে তাকে  নিবিড় পরিচর্যায় ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। ভেন্টিলেশন থেকে বের করার মত শারীরিক সক্ষমতা তার এখন নেই। তাই তার শারীরিক অবস্থা আপাতস্থিতিশীল হলেও উল্লেখযোগ্য কোন উন্নতি হয়নি, ফলে তাকে শঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তৌফিক বলেন, সোহেল রানাকে যখন সিএমএইচে আনা হয় তার পরপরই তার দেহে দু’টি অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। তার পা ভেঙ্গে গেছিল এবং এবডোমেন (পেট) এবং ইন্টেসটাইন (নাড়ী) ছিদ্র হয়েছিল যা সফলভাবে অস্ত্রোপচার করে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে এবং এই ক্ষেত্রে তার উন্নতি হয়েছে।

এদিকে সোহেল রানার স্বজনরা হতাশা ও শঙ্কার মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন। তাদের ধারনা যে সরকার উদ্যোগী হয়ে সোহেল রানাকে উন্নত চিকিৎসার্থে বিদেশে পাঠাবার ব্যবস্থা নিলে সোহেল রানা সুস্থ হয়ে তাদের মঝে ফিরে আসবে।

উল্লেখ্য, বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার কাজে বড় স্বয়ংক্রিয় মই (ল্যাডার) করে আটকে পড়া ব্যক্তিদের নামাবার প্রক্রিয়ার যুক্ত থাকা কালে সোহেল রানা যে ল্যাডারে ছিলেন সে ল্যাডারে আটকে পড়াদের জায়গা করে দিতে সোহেল রানা ল্যাডারের সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসবার সময় হঠাৎ করে সোহেল রানার পা মইয়ের ভেতরে আটকে গিয়ে ভেঙে যায়। একই সময়ে চাপ লেগে তার পেট ছিদ্র হয়ে যায়। ঘটনায় আহত রানাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার দুটি অপারেশনের পর তার অবস্থা শঙ্কামুক্ত না হওয়ায় সোহেল রানাকে নিবিড় পরিচর্যায় ভেন্টিলেশনে রাখা হয়।

বাঙালীয়ানা/এসএল

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.