ফিরে দেখা: ৩ আগষ্ট, ২০১৮ – ছুটির দিনেও শিক্ষার্থীরা রাজপথে

Comments

শুক্রবার, ৩ আগষ্ট, ২০১৮

দাবি মেনে নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ঘরে ফেরার আহবান জানানোর পরও শুক্রবার টানা ষষ্ঠ দিনের মতো রাস্তায় নামে শিক্ষার্থীরা।

ব্যাপক আকারে না হলেও সকালে রাজধানীর আসাদ গেট, মিরপুর, ধানমন্ডি ২৭ নম্বর, উত্তরা, রায়েরবাগ এলাকায় জড়ো হয় শিক্ষার্থীরা। সকালের দিকে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে তারা। এ সময় শিক্ষার্থীদের যানবাহন চলাচল সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করতে দেখা যায়। অবাধ্য ট্রাফিক-ব্যবস্থাকে বশে আনতে এদিনও লাইন ধরে যান চলাচল করতে মাইকিং করে শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি বিভিন্ন অলিগলিতে যানবাহন থামিয়ে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করতে দেখা যায়।

শুক্রবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথ সভা শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের উস্কানি দিতে একটি অপশক্তি চেষ্টা করছে। তাদের উস্কানির ফাঁদে পা দিও না। এই কুচক্রী মহল তোমাদের আন্দোলন ব্যর্থ করতে চায়। তোমরাই আগামী দিনের নেতা, আগামীর ভবিষ্যৎ। তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ তোমরা শান্ত হও, ঘরে ফিরে যাও। তোমাদের দাবিগুলো যৌক্তিক এবং সব দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। দ্রুত তা বাস্তবায়ন হবে। তোমাদের দাবি পূরণে সরকারের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই’।

Road Safety Movement_Minister

শুক্রবার বিকালে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সড়কের শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, পরিচালনা কমিটির সদস্য, অভিভাবক এবং সকল রাজনৈতিক দলসহ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করে আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তোমাদের আন্দোলনের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। সব দাবি মেনে নিয়ে তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার তোমরা রাজপথ ছেড়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্লাসে ও ঘরে ফিরে যাও। দাবি বাস্তবায়নের জন্য তো একটু সময় দিতে হবে।

শিক্ষার্থীদের  উত্থাপিত ৯ দফা দাবি রবিবার, ৫ আগষ্ট, ২০১৯ থেকে সরকারকে মানার পদক্ষেপ নেয়ার শর্ত দিয়ে তাদের ঘরে ফেরার আহবান জানান  নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের নেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। শুক্রবার সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে তিনি এ আহবান জানান।

এদিকে শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় রাজধানীসহ সারাদেশে যে আন্দোলন চলছে সেটা দেশের পুঞ্জিভূত মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। কোটা আন্দোলনে সরকারের প্রতারণার কারণে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসকে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এখন আর বিশ্বাস করে না।

সকালে ঢাকায় মিরপুরে সনি সিনেমা হলের সামনে নিরাপদ সড়কের দাবিতে মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। হাতে প্ল্যাকার্ড বহন করে মানববন্ধন করে তারা। সকাল ১১টার দিকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর আড়ং ও আসাদগেইট এলাকায় অবস্থান নেয় কয়েকশ’ শিক্ষার্থী। তাদের কেউ মানববন্ধন করেন, আবার অনেকে সড়কে নেমে গাড়িতে শৃঙ্খলার আনার কাজে যুক্ত হন। এ সময় তাদের হাতে বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। মিরপুর ১০ নম্বরে আসা অনেক শিক্ষার্থীই ট্রাফিকের ভূমিকা পালন করেন, অনেকে আবার পথচারীদের নির্দেশনা দেন ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারের।

Road Safety Movement_Bus Terminal

সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শাহবাগ মোড়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী জড়ো হলেও তাদেরকে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে সকাল থেকে শাহবাগ এলাকায়  মোতায়েন ছিল অতিরিক্ত পুলিশ। বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন করে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা মানববন্ধনে অংশ নেয়। তারা নিরাপদ সড়কের দাবি জানায়। জাতীয় জাদুঘরের সামনেও অভিভাবকরা মানববন্ধন করেন।

সড়ক-মহাসড়কে কোনভাবেই থামছে না মৃত্যুর মিছিল। নিরাপদ সড়কের প্রতিবাদে যখন দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছিল, তারই মধ্যে শুক্রবার দেশের ৬টি স্থানে চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালনায় ৮ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়। আহত হন অন্তত ৫৩ জন। খোদ রাজধানীতেই বাসের ধাক্কায় মারা যান একজন মোটরসাইকেল আরোহী।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে সড়কে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে এদিন বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় পরিবহণ মালিক-শ্রমিকরা। ঢাকার আন্তঃজেলা টার্মিনালগুলো থেকে বাস ছাড়েনি, বিভিন্ন জেলা থেকেও ঢাকায় কোন বাস আসেনি। রাজধানীর মধ্যেও চলাচল করেনি কোন বাস। কোনো কর্মসূচি ডাকা না হলেও বাস মালিকরা বলেন, সড়কে ভাংচুরের কারণে পরিবহণ শ্রমিকরা বাস চালাতে চাইছেন না। অন্যদিকে শ্রমিকরা বলেন, মালিকরা বাস নামাতে নিষেধ করছেন। কোন কোন স্থানে শ্রমিকরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন।

বাঙালীয়ানা/এসএল

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.