ফিরে দেখা: ৪ আগষ্ট, ২০১৮ – টানা সপ্তম দিনেও শিক্ষার্থীরা রাজপথে

Comments

শনিবার, ৪ আগষ্ট, ২০১৮

রবিবার, ২৯ জুলাই, ২০১৮, বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদে ওই দিনই রাজপথে নেমে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেছিল।

শনিবার সেই আন্দোলনের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেল। এর মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি, বিশেষ ব্যবস্থায় একদিনের ছুটিও ছিল। ওই ছুটির দিনগুলোতেও রাস্তায় ছিল শিক্ষার্থীরা। অন্যান্য দিনের মতো শনিবারেও  বৃষ্টিতে ভিজে রাস্তায় নেমে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করে শিক্ষার্থীরা। কিভাবে সড়কে শৃঙ্খলভাবে গাড়ি চলতে হয়, কিভাবে কাগজপত্র তল্লাশী করতে হয় সেগুলোও তারা দেখিয়ে দেয়। একটা জরুরী লেন ফাঁকা রেখে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থাও করে তারা। রাজধানীর অন্তত ২০ থেকে ২৫টি পয়েন্টে শিক্ষার্থীরা সড়কে জড়ো হয়ে মিছিল সমাবেশ করে। সঙ্গে ছিল প্লাকার্ড।

এদিকে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে, ২৯ আগষ্ট বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ এর দুই শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত শিক্ষার্থী পরিবহনে পাঁচটি বাস কলেজকে হস্তান্তর করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান একটি দ্বিতল বাস, তিনটি একতলা বাস ও একটি ৩০ আসন বিশিষ্ট কোস্টার উপহার হিসেবে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।

Bus

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত শিক্ষার্থী পরিবহনে পাঁচটি বাস

রমিজ উদ্দিন কলেজের ছয়জন শিক্ষার্থী ঢাকা ক্যান্টন্টমেন্টস্থ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন ছিল। চিকিৎসকেরা জানান, শিক্ষার্থীরা সবাই মোটামুটি আশঙ্কামুক্ত। শনিবার হাসপাতালে ভর্তি থাকা শিক্ষার্থীরা হলেন রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাস, সজীব শেখ, তৃষ্ণা রানী দাস, মেহেদি হাসান সাগর ও রাহাত গাজী এবং একাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের রুবাইয়া আক্তার ও বিজ্ঞান বিভাগের নাইম রহমান। ছাড়া মঙ্গলবার সিএমএইচ থেকে ছাড়া পেয়েছেন সোহেল রানা।

শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিআরটিসির বাস ছাড়া রাস্তায় অন্য কোনো বাস চলেনি। অন্যান্য যানবাহন চলাচলও কম ছিল। কোনো কোনো রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের জন্য জরুরি লেন করতে দেখা যায়। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনকে আলাদা লেনে চলতে দেখা যায়।

এদিন সকাল ১১টার দিকে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের শিক্ষার্থীরা শান্তিনগর মোড়ে জড়ো হয়। শুরুতে সেখানে ২০ জনের মতো শিক্ষার্থীকে জড়ো হতে দেখা যায়। পরে শান্তিনগর মোড়ে ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয়। অন্যান্য দিনের মতো তারা যানবাহনের কাগজপত্র পরীক্ষা করে ও সুশৃঙ্খলভাবে যান চলাচলের ব্যবস্থা করে।

সরকার দাবি মেনে নেওয়ার পরও কেন তারা রাস্তায়? জবাবে কয়েকজন শিক্ষার্থী বলে, তারা দাবিগুলোর বাস্তবায়ন দেখতে চায়। বাস্তবায়ন হলেই তারা রাস্তা ছাড়বে। মৌচাকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন স্কুলের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসে। এদের বেশির ভাগই পুলিশ সদস্যদের সন্তান। এই প্রতিষ্ঠানে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়া এক শিক্ষার্থীকে প্ল্যাকার্ড হাতে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সে জানায়, পাড়ার অন্য শিক্ষার্থীদের দেখে সেও এসেছে। নিরাপদ সড়কের যে দাবি সেই দাবিতে তার পথে আসা।

Road Safety Movement_CounterAttack

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা

এদিকে ঝিগাতলায় আন্দোলনরত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীদের মাঝে হামলা, পালটা হামলার অভিযোগ পাওয়া যায়। ছাত্রলীগ এ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করলেও আলোকচিত্রীদের ছবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী একজনের পরিচয় পাওয়া যায়, যার নাম রুবেল হোসেন। সে বেসরকারি নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিজের পরিচয় নিশ্চিত করে। রুবেল পরে গণমাধ্যমকে বলে, ‘পোলাপান আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসে হামলা করছিল। ইট, পাথর মারছিল। পার্টি অফিস বাঁচাতে ওদের ধাওয়া দেই। কাউকে মারি নাই। আহত করি নাই।’

শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেওয়ায় মগবাজার ওয়্যারলেসের সামনের দুই পাশের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। মহাখালীতে বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার্থীদের যানবাহনের কাগজপত্র পরীক্ষা করতে দেখা যায়। বৃষ্টির মধ্যেও সড়কে শিক্ষার্থীরা। সারিবদ্ধভাবে চলছে গাড়ি। তৈরীকরা হ  ইমার্জেন্সি লেইন। রামপুরা ব্রিজের কাছে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিলে রাস্তার এক পাশ বন্ধ হয়ে যায়। অন্য পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করে। বেলা পৌনে ১১টার দিকে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ রাইফেলস পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা জিগাতলা মোড়ে এসে জড়ো হয়। মালিবাগে আবুল হোটেলের সামনে অবস্থান নেয় একদল শিক্ষার্থী।

মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে শনিবারও শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে অবস্থান নেয়। সকাল ১০টার পর তারা গোলচত্বরে হারুন মোল্লা ট্রাফিক কন্ট্রোল বক্সের সামনে অবস্থান নেয়। সড়কের চারপাশে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়ে গাড়ির কাগজপত্র ও গাড়ির লাইসেন্স যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরু করে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী সেখানে জড়ো হলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মিরপুর ১৩ নম্বরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ের কাছাকাছি শত শত শিক্ষার্থী কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে। চালকের লাইসেন্স পরীক্ষাসহ যানবাহনের কাগজপত্র পরীক্ষা করতে দেখা যায় তাদের। সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে শত শত শিক্ষার্থী অবস্থান নেয়। তারা সেখানে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি প্রয়োজনের গাড়িগুলোকে শুধু যেতে দেয়। মোড় থেকে বিভিন্ন রোডে যাওয়ার মুখগুলোয় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে শিক্ষার্থীরা।

Road Safety Movement_Demo

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছে

নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গাজীপুরে কভার্ড ভ্যানচাপায় এক কলেজছাত্রী নিহত হন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী চালকের সহকারীকে পিটিয়ে আহত করার পাশাপাশি গাড়িতে আগুন দেয়। এদিকে দুপুরে গুজব ছড়িয়ে ধানমন্ডিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, শিক্ষার্থীদের নাম করে কিছু মানুষ পার্টি অফিসে হামলা করে।

এদিকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নতুন সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন। তারা শিক্ষার্থীদের জন্য চকলেট নিয়ে যান। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের উপর কোনো ধরনের আঘাত হানা হবে না বলেও আশ্বস্ত করেন তারা। তারা শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবির সঙ্গে সহমত জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তোমাদের সব দাবি মেনে নিয়েছেন। তোমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের এখন ক্লাসরুমে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন সরকার সমর্থক সংগঠনটির এই দুই নেতা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের কেউ যেন হামলা না চালায়, সেই নির্দেশনা দিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি আহ্বান জানান সঞ্জিত। দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নবনির্বাচিত দুই নেতা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শনিবার বিদেশি নাগরিকের গাড়িও আটকে দেয়। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে গাড়িটি শাহবাগ পার হওয়ার সময় আন্দোলনকারীরা থামানোর সংকেত দেয়। তবে চালক না থামিয়ে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা ধাওয়া দিয়ে গাড়িটি আটক করে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে গাড়িটি শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ জানায়, গাড়িতে থাকা দু’জনই সুইডিশ নাগরিক। এদের মধ্যে একজনের স্ত্রী ইউনিসেফে কাজ করেন। আরেকজন গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তার কাছে ড্রাইভিং লাইসেন্স বা গাড়ির কাগজপত্র নেই। তবে তাদের নিরাপদে সুইডেন দূতাবাসে পৌঁছে দেওয়া হয়।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ঘরে ও শ্রেণী কক্ষে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। শনিবার সন্ধ্যায় সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানান। বিবৃতিতে তারা বলেন, প্রিয় শিক্ষার্থীরা, ইতোমধ্যে তোমরা বিজয়ী এবং ইতিহাসের অংশ হয়েছো। তোমাদের আন্দোলনের মুখে সরকার সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়নের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তোমাদের প্রতি আমাদের আহ্বান, তোমরা জাতিকে যে পথ দেখিয়েছো তোমাদের সে আন্দোলনের সৌন্দর্য যেন নষ্ট না হয়।

এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সাথে এক ছাত্রের অডিও ফোনালাপ ভাইরাল হয়। যা ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করে। অডিও ক্লিপটি আন্দোলনের সপ্তম দিন শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ওই অডিওতে ছাত্র নওমিকে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় এসে আন্দোলনে সক্রিয় হতে অনুরোধ করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলন উসকে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে কারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ইতোমধ্যে খসরুসহ কয়েকজনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে’।

শনিবার নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে থাকা ছাত্রদের ওপর হামলার গুজব ছড়িয়ে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালায় সংঘবদ্ধ কয়েকটি চক্র। তারা ফটোসপে এডিট করা বিভিন্ন হামলার ছবি, ও অশ্লীল ভাষার প্ল্যাকার্ড তৈরি করে ফেসুবকে ভাইরাল করে। এতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পুলিশ ও সরকারের মুখোমুখি করে তোলার চেষ্টা করা হয়। কেউ কেউ ফেসবুকে এসে লাইভে জানায় ধানমন্ডিতে ২ জন মারা গেছে, কেউ কান্নকাটি করে বলে চারজন শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছে, কেউ বলে আইডিয়াল স্কুলের ফারদিন ফাহিম নামে এক শিক্ষার্থী পুলিশের হামলায় মারা গেছে, আবার কেউ কেউ বলে ছাত্রলীগ পিটিয়ে হত্যা করেছে। তবে এ সব সংবাদের কোনোটিরই সত্যতা পাওয়া যায়নি।

অনেক ফেসবুক আইডি থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থীর মৃত্যুর গুজব, নৌমন্ত্রীর পদত্যাগ, প্রধানমন্ত্রীর ভুল বার্তা ইত্যাদি ছড়ানো হয়। এ সব গুজবের ভিডিও দেখার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আরো ফুঁসে ওঠে। চলমান আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে এ সব গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে।

গুজব ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের উসকানিদাতা হিসেবে ২৮টি ফেসবুক ও টুইটার আইডি শনাক্ত করে প্রশাসন। এ সব আইডির মালিক ও অ্যাডমিনদের আইনের আওতায় আনতে শনিবার রাত থেকে পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ অভিযান শুরু করে। এ ২৮টি ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে রমনা থানায় একটি মামলা করে পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ।

Road Safety Movement_Nawsaba

নওশাবা আহমেদ

এদিন সব থেকে বেশি ভাইরাল হয় অভিনেত্রী কাজি নওশাবার ভিডিও। শনিবার বিকালে অভিনেত্রী কাজি নওশাবা ফেসবুক লাইভে এসে কান্নাকাটি করে বলেন, ‘জিগাতলায় আমাদের ছোট ভাইদের (শিক্ষার্থী ইঙ্গিত করে) একজনের চোখ তুলে ফেলা ও চারজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। একটু আগে ওদেরকে অ্যাটাক করা হয়েছে। ছাত্রলীগের ছেলেরা সেটা করেছে। প্লিজ-প্লিজ ওদেরকে বাঁচান। তারা জিগাতলায় আছে। আপনারা এখনই রাস্তায় নামবেন ও আপনাদের বাচ্চাদের নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাবেন, এটা আমার রিকোয়েস্ট। বাচ্চাগুলো নিরাপত্তাহীনতায় আছে। আপনারা প্লিজ কিছু একটা করেন। আপনারা সবাই একসাথে হোন। আমি এ দেশের মানুষ, এ দেশের নাগরিক হিসেবে আপনাদের কাছে রিকোয়েস্ট করছি।’ তবে নওশাবার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি  বলেন, আমি নিজের চোখে কিছু দেখিনি।

শনিবার রাত ১০টার দিকে ছাত্র হত্যার গুজব ছড়ানোর অভিযোগে অভিনেত্রী ও মডেল কাজী নওশাবা আহমেদকে আটক করে র‍্যাব।

মুখে কাপড় পেঁচিয়ে অপর এক নারী ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করে। কান্নারত অবস্থায় মেয়েটি হাতজোড় করে বলে, ‘ঝিগাতলা ছাত্রলীগের অফিসে মেয়েদের আটকে রাখা হয়েছে, তাদের ধর্ষণ করা হচ্ছে। আরও একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক আহত ছাত্র বলছে, গুলিতে চার ছাত্র মারা গেছে ও চার ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে।

পুলিশের গুলিতে আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের ফারদিন ফাহিম নামের এক ছাত্র মারা গিয়েছে এমন ক্যাপশনে রক্তাক্ত এক ছাত্রের ছবিও ভাইরাল হয় ফেসবুকে। শনিবার বিকালে ফারদিন ফাহিম নিজে ফেসবুকে লাইভে এসে জানায় তার মৃত্যুর খবরটি গুজব।

শনিবার দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শেষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, যৌক্তিক একটি আন্দোলনের মধ্যে যখন রাজনৈতিক অপশক্তির অনুপ্রবেশ ঘটে, তখন উদ্বিগ্ন হতে হয়। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে এই পর্যন্ত বারবার খবর পাওয়া যাচ্ছে, এখানে রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ ঘটেছে।

এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকেছে। আমরা গোয়েন্দা সূত্রে প্রমাণ পেয়েছি, স্কুল ড্রেস তৈরির হিড়িক পড়েছে। স্কুল ড্রেস পরে ছাত্রদের মাঝে ঢুকে যৌক্তিক আন্দোলনকে অন্যখাতে প্রবাহিত করে ঘোলা জলে মাছ শিকার করতে চাচ্ছে একটি চক্র। এ কারণে আমরা ছাত্রছাত্রীসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।

বাঙালীয়ানা/এসএল

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.