ফিরে দেখা: ৬ আগষ্ট, ২০১৮ – হার্ডলাইনে সরকার

Comments

সোমবার, ৬ আগষ্ট, ২০১৮

‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনে সোমবারও রাজধানীর তিনটি স্থানে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই আন্দোলন চলার নবম দিনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাঠে নামে। পুলিশ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে মুহুর্মূহু রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছোঁড়ে। পুলিশ লাঠিচার্জ করলে এই তিনটি স্থানে অন্তত অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হয়ে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের প্রায় ৬ ঘন্টা ধরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রামপুরায় ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে স্থানীয় শ্রমিক লীগের কর্মীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। শ্রমিক লীগের কর্মীদের ছোঁড়া ইটপাটকেলে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ভবনের অনেক জানালার কাঁচ ভেঙ্গে যায়। পুলিশের টিয়ার সেলের ধোঁয়ায় অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। শাহবাগে জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করতে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। পুলিশ টিয়ারসেল ছুঁড়ে ও জলকামান ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৫ জন শিক্ষার্থীকে আটক করে। অপরদিকে নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটি ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ অন্তত ২০ শিক্ষার্থীকে আটক করে।
এবিষয়ে পুলিশের রমনা বিভাগের একজন উপ-কমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, গত কয়েকদিন আমরা কোনো ব্যবস্থা নেইনি। অনেক ধৈর্য ধরে ছিলাম। আজ থেকে চেষ্টা করছি শাহবাগ মোড় ফ্রি রাখার জন্য। এসব লোকজনকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে, কিন্তু তারা শোনেনি। এরপর যখন আমরা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছি, তখন তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছে। যার প্রেক্ষিতে আমরা টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদের ভেতরে সরিয়ে দিয়েছি।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আটদিন ধরে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় গাড়ি ভাংচুরসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ২৭টি মামলা হয়। গ্রেফতার করা হয় ১১ জনকে। এদের মধ্যে তিনজনকে চারদিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রবিবার বিকাল পর্যন্ত এসব মামলা হয় বলে ঢাকা মহানগর পুলিশ জানায়। মামলা ও গ্রেফতারের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও জানানো হয়।

পুলিশের মিরপুর ও উত্তরা বিভাগে ৩টি করে, ওয়ারী বিভাগে ২টি, রমনা ও মতিঝিল বিভাগে ৬টি করে মামলা হয়। এ ছাড়া শাহবাগ, তেজগাঁও, লালবাগ ও গুলশান বিভাগে মামলা হয় একটি করে। মামলাগুলোর মধ্যে যাত্রাবাড়ীতে ২টি, রমনায় ৩টি, ধানমন্ডিতে ২টি, শাহবাগে ১টি, নিউমার্কেটে ২টি, মতিঝিলে ৩টি, পল্টনে ২টি, রামপুরায় ১টি, তেজগাঁওয়ে ১টি, কোতয়ালিতে ১টি, খিলক্ষেতে ১টি, ক্যান্টনমেন্টে ২টি, বিমানবন্দর থানায় ১টি, রূপনগরে ১টি, আর উত্তরা পূর্বতে ১টি, পশ্চিম থানায় ২টি করে মামলা হয়। এর মধ্যে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ছাড়া তথ্য প্রযুক্তি আইনেও মামলা হয়।

মামলাগুলোতে আসামি কারা সে বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার বলেন, ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা তো আর গাড়ি ভাঙচুর বা মারামারি করেনি। এখানে তৃতীয়পক্ষ ঢুকে ভাঙচুর ও মারামারিসহ পুলিশের ওপর হামলা করেছে। সুতরাং ওইভাবে তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা আলোকচিত্রী শহিদুল আলম -কে একটি গাড়ীতে করে সোমবার, ৬ আগষ্ট, ২০১৮, সকাল সোয়া ১০টার দিকে মিন্টো রোডস্থ ডিবি কার্যালয় থেকে বের করে নিয়ে যায় পুলিশ। রোববার, ৫ আগষ্ট, ২০১৮, রাত পৌনে ১১ টার দিকে বাসা থেকে পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে বলে তার পরিবার অভিযোগ করেছিল। তবে পুলিশের বিভিন্ন মহল এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছিল, তাকে কে বা কারা তুলে নিয়ে গেছে তা তাদের জানা নেই।

শহিদুলের স্ত্রী রেহনুমা আহমেদের সাথে সকাল সোয়া ১০টায় যোগাযোগ করা হলে তিনি বাঙালীয়ানাকে বলেন, “ কিছুক্ষণ আগে মিন্টো রোডস্থ ডিবি কার্যালয় থেকে বের করে আমাদের সামনে দিয়ে নিয়ে গেছে পুলিশ। কিন্তু আমাদের কিছুই জানান হচ্ছে না।”

Shahidul Alam

আলোকচিত্রী শহিদুল আলম

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে এবং শিক্ষকদের কথা শুনে শিক্ষার্থীরা তাদের যুক্তিসঙ্গত আন্দোলন শেষ করে ঘরে ফিরে গেছে। বিক্ষিপ্তভাবে কাউকে কাউকে মাঠে দেখা যাচ্ছে। তবে উদ্ভূত বিশৃঙ্খল পরিস্থিত এ মুহূর্তে সরকারের নিয়ন্ত্রণে।’

সোমবার কাকরাইলের নিরাপদ সড়ক চাই’র কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে নিরাপদ সড়ক চাই-এর (নিসচা) চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে নোংরা রাজনীতি শুরু হয়েছে। তাদের এ আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হচ্ছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে রাজনীতি হতে পারে, ভাবতেও ঘৃণা হয়। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা ঘরে ফিরে যাও। কারণ তোমাদের জীবন নিয়ে আমি শঙ্কিত। যদি জীবন থাকে আর দাবি আদায় না হয়, তা হলে আমরা আবার রাস্তায় নামব।

বাঙালীয়ানা/এসএল

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.