বন্ধ হয়নি মালয়েশিয়ার  শ্রমবাজার, তবে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনছে দেশটি। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মী নেওয়া বন্ধ রাখবে মালয়েশিয়া।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো সূত্রে জানা গেছে, কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার সিন্ডিকেট অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে-এমন অভিযোগের ভিত্তিতে এই পরিবর্তন আনছে দেশটি।

ড. মাহাথির মোহাম্মদ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর, গত দুই বছরে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিকদের পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রায় ২০০ কোটি রিঙ্গিত (৪ হাজার ৮০ কোটি ৩ লাখ টাকা) হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার কর্মী নিয়োগের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, সুষ্ঠু তদন্ত ও শ্রমিক পাঠানোর পদ্ধতি পরবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় দেশটি। চলতি মাসে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়টি অবহিত করে মালয়েশিয়া।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ সময় কর্মী নেওয়া বন্ধ রাখার পর, ২০১৩ সাল থেকে পুনরায় জি টু জি(সরকারি পর্যায়ে) পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি  নেওয়া শুরু করে মালয়েশিয়া। অতঃপর, ২০১৬ সালে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বয়ে ‘জি টু জি প্লাস’ পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার সমঝোতা হয় মালয়েশিয়ার সাথে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই সমঝোতা চুক্তির অধীনে দশটি জনশক্তি রফতানিকারক এজেন্সিকে লোক পাঠাতে অনুমোদন দেওয়া হয়।

মালয়েশিয়ার সংবাদ মাধ্যম স্টার অনলাইনের প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়,  বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠাতে  মাথাপিছু দুই হাজার রিংগিত খরচ হয়, কিন্তু বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাছ থেকে ২০ হাজার রিংগিত আদায় করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অনুমোদিত ১০টি এজেন্সির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট এই অতিরিক্ত অর্থ গত দুই বছর ধরে আদায় করছে। যার পরিমাণ ২০০ কোটি রিঙ্গিত। তাই, এই অভিযোগের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ স্থগিত থাকবে।

অভিযুক্ত  ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো, ইউনিক ইস্টার্ন, প্রান্তিক ট্রাভেলস, ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল, ক্যারিয়ার ওভারসিজ, আইএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স, সনজরী ইন্টারন্যাশনাল, রাব্বী ইন্টারন্যাশনাল, প্যাসেজ অ্যাসোসিয়েটস, আমিন ট্যুরস ও আল ইসলাম ওভারসিজ।

এদিকে, ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) সদ্য বিলুপ্ত কমিটির মহাসচিব মো. রুহুল আমিন স্বপন বলেন, ‘মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার বন্ধ হয়নি, শুধু পদ্ধতিগত পরিবর্তন আসছে। যারা ভিসা পেয়েছেন, তারা যাবেন এতে কোনও বাধা নেই। আগে একজন শ্রমিক পাঠাতে ৪টি ধাপে কাজ করতে হতো। এগুলো পৃথক পৃথক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করতে হতো। কিন্তু এখন পদ্ধতি পরিবর্ততনের ফলে এই ৪টি ধাপ একটি প্রতিষ্ঠানই করতে পারবে।’

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. সেলিম রেজা জানান, শ্রম বাজার বন্ধের যে খবর পাওয়া গেছে, সেটি সঠিক নয়। তবে কর্মী নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসবে। পরিবর্তনের বিষয়ে এখনো মালয়েশিয়া কিছু জানায় নি। –

তবে যারা আগে ভিসা পেয়েছেন, তাদের মালায়েশিয়া যেতে কোনও বাধা নেই বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

 

বাঙালীয়ানা/এএ/জেএইচ

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.