সপ্তম পর্ব
। জুলফিকার নিউটন ।
সংস্কৃতির উদ্ভব যে কবে কেউ তা জানে না। তার আদিতম নিদর্শন দুর্গম পাহাড়ের নির্জন গুহাগাত্রে আঁকা মৃগয়ার চিত্র। যেমন ইউরোপে তেমনি আফ্রিকায়, তেমনি বাংলাদেশে। ময়নামতির একটি গুহায় গন্ডার শিকারের ছবি আঁকা। পণ্ডিতদের অনুমান বয়স দশ হাজার বছর। পাহাড়পুর গুহার জিরাফও তার সামসময়িক। দশ হাজার বছর আগে বন ছিল, জঙ্গল ছিল, পাহাড় ছিল, গুহা ছিল, কিন্তু গ্রাম ছিল না, নগর ছিল না। তাহলে মৃগয়াজীবী মানুষের বসত ছিল কোথায়? সম্ভবত ওইসব গুহাতেই। জীবজন্তু শিকার করে, ফলমূল আহরণ করে, পাথরের হাতিয়ার বানিয়ে তাই দিয়ে লড়াই করে ওরা প্রাণধারণ করত। সেই রকম অবস্থায় যে তারা চমৎকার সব ছবি আঁকতে পারত এটা অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। মানুষের শিল্পবোধ সৌন্দর্যবোধ যে কত গভীর ও কত পুরাতন এই তার প্রমাণ। যাযাবর হলেও সে সংস্কৃতিমান। অসভ্য হলেও সে অন্তত সম্ভাবনার আধার।
অরণ্য থেকে নগর। এর মাঝখানে নিশ্চয়ই একটা মিসিং লিঙ্ক ছিল তার নাম গ্রাম। তার চারদিকে কৃষিক্ষেত্র। মৃগয়া থেকে কৃষিতে উন্নীত হয়েছে মানুষ। তথা পশু পালনে। কিন্তু তার সংস্কৃতির কোনো নিদর্শন পাওয়া যাচ্ছে না। তবে নানা স্থানে নব প্রস্তুর যুগের হাতিয়ার পাওয়া যাচ্ছে। আর মাটির পাত্র। তাতেও মানুষের কারিগরি প্রমাণ মেলে। তাকে সভ্য বলে গণ্য না করলেও যাযাবর বা বর্বর বলে অবজ্ঞা করা যায় না। সভ্যতা বলতে পণ্ডিতরা নাগরিক সভ্যতাই বোঝেন। তাঁদের মতে, সিন্ধু সভ্যতা হচ্ছে বিশ্বের তৃতীয় সভ্যতা। প্রথম হচ্ছে সুমেরীয়। দ্বিতীয় মিশরীয়। সিন্ধুর পরে চীন। গ্রামের প্রাণ কৃষি ও কারুশিল্প। নগরের প্রাণ শিল্প ও বাণিজ্য। কিন্তু নীরের লোকের খোরাক আসবে কোথা থেকে, যাদি আশেপাশে গ্রাম না থাকে? যদি সেখানে খাদ্যশস্য উৎপন্ন না হয়। আর গ্রামের লোকেরই বা ঘরবাড়ি বানানোর জন্য কাঠ আসবে কোথা থেকে? যদি আশেপাশে বনজঙ্গল না থাকে। দুটো বড় বড় নগর ছিল বলে একটাও গ্রাম ছিল না তা নয়। অন্তত দুশোটা গ্রাম ছিল। সেখানকার লোক শহরে আসত কেনাকাটা করতে, কাজকর্ম করতে, থেকেও যেত সেখানে। আর ধারেকাছে বনজঙ্গলও ছিল। যেমন- খুলনার অদূরে সুন্দরবন।
ময়নামতি ও মহাস্থানগড় বাণিজ্য থেকে লাভবান হতো। তার সমৃদ্ধির প্রতিফলন তার নগরস্থাপত্য, দুর্গ, পয়ঃপ্রণালি প্রভৃতি। এসব এত উন্নতমানের যে অনায়াসে ধরে নিতে পারা যায় তারা সংগীত চর্চা, চিত্রচর্চা, নাট্যচর্চাও করত। বিদ্যাচর্চাই বা কেন বাদ যায়? যেসব ভাস্কর্য পাওয়া গেছে তার ওপর কী লেখা রয়েছে তার অর্থ উদ্ধার করা একালের পণ্ডিতদের পক্ষে এখনও সম্ভব হয়নি। কিন্তু যা লেখা রয়েছে তা মূর্খদের জন্য মুখ্যদের লেখা নয়। লোকে সেকালের উপযোগী লেখাপড়া জানত।
সিন্ধু উপত্যকার বাইরেও আরও কয়েকটি নগর ও বন্দর উৎখাত হয়েছে। সেগুলোও খ্রিষ্টপূর্ব তিন হাজার থেকে দেড় হাজার বছর পূর্বের। পরস্পরের সঙ্গে সাদৃশ্যও লক্ষ করা গেছে। মনে হয় সিন্ধু সভ্যতার পরিধি উত্তর-পশ্চিম বাংলাব্যাপী ছিল বলে সর্ব ভারতব্যাপী নয়। সামুুদ্রিক বাণিজ্যই যদি ওই সমৃদ্ধির কারণ হয়ে থাকে তবে তার ক্রয়-বিক্রয়ের সম্পর্ক স্বভাবত অপর এক সভ্যতার সঙ্গে। নিকটতম অপর সভ্যতা ইরাকের টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী সুমেরু দেশের। বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তের যাতায়াতের যে সুব্যবস্থা একালে আমরা দেখতে অভ্যস্ত পাঁচশ বছর আগেও তা ছিল না। পাঁচ হাজার বছর আগে থাকবে কী করে? সারা উপমহাদেশটাই বনে-জঙ্গলে আর পাহাড়ে-নদীতে ভরা। স্থলপথ ছিল না। জলপথ বলতে নদীপথ। সিন্দু থেকে কোনোমতে যমুনা পর্যন্ত আসতে পারলে নদীপথে গঙ্গা-যমুনা সঙ্গমে ও সেখান থেকে সাগরসঙ্গমে আসা যেতে পারত। কিন্তু সিন্দু থেকে যমুনা পর্যন্ত আসতেই কয়েক হাজার বছর লেগে যায়। তার আগে তখনকার দিনে ছিল সরস্বতী নদী। কবে কে জানে অদৃশ্য হয়ে যায়।
মাটি খুঁড়ে এখনও কোনো পাথুরে প্রমাণ মেলেনি, কেমন করে স্থলপথে সিন্দুর সঙ্গে সরস্বতীর ও তার পরে যমুনা গঙ্গার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈনদের যে কয়খানি গ্রন্থ অদ্যাপি অবশিষ্ট আছে তাদের সঙ্গে প্রাচীন বাংলার একটি আংশিক আলেখ্য পাওয়া যায়। তার সবটা ইতিহাস হিসেবে প্রমাণিত নয়। নতুন একপ্রকার মানুষ আরও পশ্চিম থেকে প্রবেশ করে। তারা আর্যভাষী। তাদের ভাষা এক হলেও জাতি এক কি না তা জোর করে বলা যায় না। ভাষা ও জাতি একার্থক নয়। তবে এতকাল আমরা এক বলে ভাবতে অভ্যস্ত। তাই সেই আগন্তুকদের বলি আর্যজাতি। তারা যে সবাই একসঙ্গে বা এককালে আসে তা নয়। তারা আসে বিভিন্ন দলে বিভিন্ন সময়ে। কারও কারও মতে, মহেনজোদারো ও হরপ্পার পতনের জন্য তাদের একদলই দায়ী। কিন্তু অমন পরিপাটি নগর থাকতে তারা সাধ করে গ্রামে গিয়ে গরু চরাবে কেন, বনে গিয়ে বেদ রচনা করবে কেন? নাগরিক সভ্যতার ওপর অতখানি বৈরাগ্য বা বিরাগ কি মানুষের সম্ভব? তাছাড়া নগর দুটোকে ধ্বংস করে দেওয়ার মতো অস্ত্রশস্ত্রও তাদের হাতে ছিল না। ধ্বংসের তেমন কোনো চিহ্নও নেই। রাস্তায় নরকঙ্কাল পাওয়া গেছে, তার মানে কি যে সেই কঙ্কাল যুদ্ধে নিহত ব্যক্তির কঙ্কাল? মহামারিতে মৃত মনে করলে কি ভুল হবে? মহামারিতে শহরকে শহর উজাড় হয়ে যাওয়ার দৃষ্টান্ত নানা দেশের ইতিহাসে রয়েছে। মহাপ্লাবনেও শহর জনশূন্য হয়ে যেতে পারে। টিকে থাকে কেবল ইমারত।
এখন পর্যন্ত তেমন কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ পাওয়া যায়নি আর্যভাষীরা কেন নাগরিক হওয়ার সুযোগ উপেক্ষা করে স্বেচ্ছায় মৃগয়াজীবী বা ফলমূল আহরণকারী বা পশুপালনকারী বা ভূমিকর্ষণকারী হয়ে পাঞ্জাবে উপনিবেশ স্থাপন করে। সেখান থেকে যায় মধ্যদেশে। আগে থেকেই যেসব অঞ্চলে জনবসতি ছিল। স্থানীয়দের সঙ্গে আগন্তুকদের লড়াই হয়। শৌর্যে-বীর্যে তারাও কিছু কম ছিল না। বিষয়বৈভবে তারাই ছিল আরও উন্নত। দস্যু বা দাস বলে তাদের নিন্দা করা যেন নেটিভ বলে বাঙালিদের নিন্দা করা। পরাজিত হয়ে তাদের অনেকেই দাক্ষিণাত্যে চলে যায় ও সেখানে তাদেরই মতো মানুষদের সঙ্গে মিলে দুর্ভেদ্য ঘাঁটি গাড়ে। আর্যভাষীরা দক্ষিণ প্রান্তে গিয়ে তাদের পরাজিত করেনি। তবে তারা দৈহিক, বৌদ্ধ ও জৈন প্রভাব স্বেচ্ছায় স্বীকার করেছে। পূর্ববর্তীকালে তাদের কাছ থেকে এসেছে বৈষ্ণব প্রভাববৃত্তির ও দক্ষিণ উভয় খণ্ডকে অখণ্ডতা দিয়েছে সংস্কৃত ভাষা। সেই সূত্রে সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ে উঠেছে।
প্রকৃতপক্ষে খ্রিষ্টপূর্ব দেড় হাজার বছরের মধ্যে আর্য ও আর্যপূর্ব একাকার হয়ে গেছে। পরম্পরা ও গৌরব হারিয়েছে। আর্যভাষীরা রাজা ও বণিক হয়ে নগরে অধিষ্ঠান করার সময় রাজধানী ও রাজসভাই হয়ে নৃত্যগীত, চিত্রভাস্কর্য, কাব্যনাটক প্রভৃতি চর্চার কেন্দ্র। তার আগে ছিল মুনি-ঋষিদের তপোবন। কলাচর্চার নয়, বিদ্যা চর্চার। রামায়ণ ও মহাভারত তপোবনে রচিত হয়ে থাকলে বিস্ময়ের কারণ থাকত না, কিন্তু খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে বা তার পরে মুনি-ঋষিদের অস্তিত্ব ছিল কি না তা সন্দেহ। তপোবনও ততদিনে তার গুরুত্ব হারিয়েছে।
বাংলার সুদীর্ঘ ইতিহাসে সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে একবার মৌর্যযুগ, একবার কুশানযুগ, একবার গুপ্তযুগ, একবার মোগল আমলে, একবার ব্রিটিশ আমলে। কুশানদের সাম্রাজ্য মধ্য এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। গোড়ায় বিদেশি হলেও কুশানরা পরে বাঙালি ও বৌদ্ধ হয়ে যান। বৌদ্ধধর্মের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বাঙালি সংস্কৃতিরও অভূতপূর্ব বিস্তার ঘটে। মহাযান শাখার সাহিত্যের ভাষা ছিল সংস্কৃতি। হীনযান বলে যাকে খাটো করা হয় সেই থেরবাদ বা আদি বৌদ্ধধর্মের ভাষা ছিল পালি। বৌদ্ধরা নিজেদের ধর্মকে বলেন সদ্ধর্ম। ব্যক্তি বিশেষের নামে ধর্মকে নামাঙ্কিত করতে তাদের অনিচ্ছা। নামাঙ্কনটা ঘটেছে অন্যদের দ্বারা। যেমনি হিন্দুদের বেলাও। তক্ষশীলা থেকে বৌদ্ধধর্মের বিস্তার হয়ে মধ্য এশিয়ায় ও সেই পথ দিয়ে চীন, মঙ্গোলিয়া, কোরিয়া ও জাপানে। নালন্দা থেকে পালরাজাদের আমলে তিব্বতে। অশোকের পুত্র-কন্যা সমুদ্র পার হয়ে সিংহলে গিয়ে সদ্ধর্ম প্রচার করেন, সবাই জানে। দক্ষিণ ভারত থেকে ধ্যানী বৌদ্ধ সাধক সমুদ্র পার হয়ে চীন দেশে যান। সেখান থেকে তার সাধনা জাপানে পৌঁছায়। সেখানে এর নাম ধ্যান থেকে জেন। বার্মা হয়ে থাইল্যান্ডে তথা ইংলান্ডে তথা ইন্দোচীনে যান থেরবাদী বৌদ্ধ সাধকরা। বাংলাদেশ বা উড়িষ্যা থেকে যান আরও একদল বৌদ্ধ সাধক ইন্দোনেশিয়ায়। সুমাত্রা বৌদ্ধদের একটা বিখ্যাত কেন্দ্র ছিল। নালন্দার সঙ্গে সেখানকার বিহারের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ সূত্র জাভায় ও অন্যান্য দ্বীপে বৌদ্ধধর্ম ও সংস্কৃত ভাষা ছড়িয়ে পড়ে। শৈবরাও একই সঙ্গে পাড়ি দেন। বৈষ্ণবরাও। পরবর্তীকালে আরব থেকে ইসলাম এসে সবকিছু সবুজ করে দেয়। আর সংস্কৃত ভাষা তো অদ্যাবধি মুসলমানদের নামকরণের ভাষা সংস্কৃতির অঙ্গ।
মূল ভূখণ্ডে ইসলাম নিয়ে আসে আরব্য ও পারসিক সংস্কৃতি। যারা ধর্মান্তরিত হন তারা উভয়কেই গ্রহণ করেন। যারা হন না তারাও পারসিক সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হন। একালে আমরা যেমন খ্রিষ্টান না হয়েও ইংরেজির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছি। পারসিক বা ফারর্সি ভাষা ছয় শতাব্দী ধরে এ দেশের রাজভাষা ছিল।
তুর্কি ও মোগল আমলে কায়স্থরা চটপট ফারর্সি শিখে নিয়ে সরকার, মজুমদার, চৌধুরী প্রভৃতি পদ পায়। জমিদার, তালুকদার, জায়গিরদার হয়। বৌদ্ধ সমাজে তাদের যে মর্যাদা ছিল হিন্দু সমাজে শূদ্র বলে পরিগণিত হয়ে সে মর্যাদা না থাকলেও রাজদরবারে তাদের মর্যাদা কারও চেয়ে কম নয়। তাদের কেউ কেউ ‘খান’ উপাধিও পান। অভিজাত বলে গণ্য হন। অর্থাৎ ‘লর্ড’। এই উপাধির অভিজাতদের মধ্যে ব্রাহ্মণও ছিলেন, সদ্গোপও ছিলেন। এরাই বাংলার হিন্দু ব্যারন। এদের মতো মুসলিম ব্যারনও ছিলেন। তুর্কি ও মোগল আমলে রাষ্ট্র আর সমাজ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। সেটা আর কোনো আমলে হয়নি। রাষ্ট্র যাদের উচ্চতর মর্যাদা দেয় সমাজ হয়তো তাদের নিম্নতর মর্যাদা দেয়। ইংরেজ আমলেও এর ব্যত্যয় হয়নি।
সংস্কৃতির নতুন এক কেন্দ্র হলো মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসা ও মক্তব। সেখানে আরবি, ফারসির সঙ্গে গ্রিক, দর্শন ও চিকিৎসাশাস্ত্রও পড়ানো হতো। সেই সূত্রে প্রাচীন গ্রিক সংস্কৃতির কিয়দংশ আবার বাংলাতে এসে উপস্থিত হয়। আর পারস্যের সঙ্গে বাংলাতে সম্পর্ক তো আবহমানকালের। বাংলাদেশের একাংশ পারস্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্তও ছিল। বেদের সঙ্গে প্রচুর মিল। পারস্যও আর্যভাষীদের দেশ। লুপ্তপ্রায় সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় আবার রাজভাষাসূত্রে। পারসিক পোশাক– আশাক আদব– কায়দাও বাঙালি মুসলমানরা নিজের করে নেয়। বিশেষ করে সামন্ত ও জমিদার শ্রেণিতে। একজন অভিজাত হিন্দুতে ও একজন অভিজাত মুসলমানে দৃশ্যত কোনো তফাত থাকে না, উষ্ণীষ বিনা। আমার এক পণ্ডিত গবেষক বন্ধু গোপনে বলেন যে, তুর্কিদের আগমনের পর তিনশ বছর আমাদের দুই সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি একটাই ছিল। সেটা দেশীয় সংস্কৃতি, সম্প্রদায়ভেদে বিভক্ত নয়। পরে সেটা দুভাগ হয়ে যায়। তখন থেকেই আমাদের দুর্ভাগ্যের সূচনা। এসব কথা তিনি প্রকাশ্যে বলতে সাহস পান না। কিন্তু অনেক গবেষণা করে তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। হিন্দি, উর্দু, বাংলা ও মিশ্রভাষা তার নখদপর্ণে। আমিও ভেবে দেখেছি যে ইন্দোনেশিয়ার মতো বাংলার সংস্কৃতিও ধর্মভেদ সত্ত্বেও অবিভক্ত ছিল। ধর্মীয় বিষয় বাদ দিলে যা থাকে তা সবার জন্য। ট্র্যাজেডি সবার কাছে ট্র্যাজেডি, কমেডি সবার জন্য কমেডি। কাহিনি সবার কাছে কাহিনি। কাব্য সবার কাছে কাব্য।
(পরবর্তী পর্ব ১৩ মার্চ, ২০২৬-এ প্রকাশিতব্য)
ফিচার ফটো অলংকরণ: অভি মজুমদার
লেখক:

জুলফিকার নিউটন
লেখক, গবেষক ও অনুবাদক; ঢাকা
*প্রকাশিত এ লেখার মতামত এবং বানানরীতি লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাঙালীয়ানার সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকা অস্বাভাবিক নয়। তাই এখানে প্রকাশিত লেখা বা লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা সংক্রান্ত আইনগত বা বানানরীতি বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় বাঙালীয়ানার নেই। – সম্পাদক