ত্রয়োবিংশ পর্ব
। জুলফিকার নিউটন ।
বাংলার সংস্কৃতি একধর্মী নয়, বহুধর্মী (pluralistic) । এখানে বহু ধারা এসে মিশেছে। আদি ধারা হল লোকসাহিত্য, লোকসঙ্গীত, লোকচিত্র, সব মিলে লোকসংস্কৃতি। কোনো একটা দেশে লোকসংস্কৃতির চর্চা ও সংগ্রহ করে গ্রামের লোকেরা। আগেকার যুগে ক্লাসিকাল সংস্কৃতির সঙ্গে লোকের যোগাযোগ ছিল, ভাবের আদান প্রদান ছিল। রামায়ণ, মহাভারত বা কালিদাসের সৃষ্টির মূলও ছিল এই ফোক। ব্যালাড বা চারণের গানে হয়ত এগুলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। পরবর্তীকালে তা সাহিত্যিকদের হাতে মার্জিত রূপ পেয়েছে, ক্লাসিকাল সাহিত্যের রূপ নিয়েছে। ক্লাসিকাল সাহিত্যেরও সাধারণীকরণ হয়ে তা আবার ফোকের রূপ নিয়েছে। যেমন তুলসী-দাসের রামায়ণ যা যুগ যুগান্তর ধরে সাধারণ মানুষের মন জুড়ে আছে।
সব দেশে আবার সব ধারা থাকে না। আফ্রিকাতে ক্লাসিকাল বলতে কিছু নেই, ফোক এখনও আছে। কিন্তু ইউরোপে ফোক শেষ হতে চলেছে। সেখানে নতুন কোনো ফোক হবে না, হলে তা হবে পপ কালচার। বাংলার আদিবাসীরা এখনও আছে যদিও কোণঠাসা হয়েছে তারা। এ দেশের উপজাতীয় বসতির আদি পাঁচ হাজার বছর কিংবা তারও বেশি। আর্যরা এখানে আসার পূর্বেও এরা ছিল। তেমনি দ্রাবিড়রাও। তাদের গ্রাম অতি পুরাতন।
আমাদের সভ্যতায় আর্যদের প্রভাব বেশি হলেও সার্বিক নয়। অনার্য প্রভাবও দৃঢ়মূল। বিভিন্ন শব্দের মধ্যে, যেমন হাগা, তা পরিস্ফুট। অথবা আমাদের বাড়ির ডাক নামগুলো লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে কত অনার্য শব্দ আমাদের জীবনের সঙ্গে মিশে আছে। অনার্যরা আসার পরও নানা সংস্কতির প্রভাব পড়েছে, যেমন পারস্য সংস্কৃতির। আজ এই যে আমরা পায়জামা বা পাঞ্জাবী পরি তা পারসীয়। এটা থেকেই যাবে, কারণ জীবনের সঙ্গে এগুলি মিশে গেছে। লোকসংস্কৃতির মধ্যে অসংখ্য উপাদান-কিছু সংস্কৃত থেকে পাওয়া, আর্যদের থেকেও কিছু এসেছে। অনার্যদের বহু জিনিস থেকে গেছে। বাংলা, ওড়িশা, এই দিকটায় তো মুণ্ডা সাঁওতালরাই ছিল। আর্যীকরণ খুব বেশি হলেও গভীরে যায়নি। আমাদের রূপকথার কথা ধরা যেতে পারে, অথবা ছড়া গান। এগলি এক সময়ে খুবই অশ্লীল ছিল। এখনও এটা দেখা যাবে উত্তর ভারতে হোলির সময়ে যে সব গান গাওয়া হয় তা মন দিয়ে শুনলে। লোকমানসে সবই raw আকারে থেকে গেছে। সুন্দর, কুৎসিত, ভালোমন্দ সবকিছু।
ক্লাসিকাল হিসেবে যা স্বীকৃত তা বোধহয় টিঁকে গেছে। ওগুলি থাকবে। কিন্তু বর্তমান যুগে আর ক্লাসিকাল সাহিত্য হবে কি না সন্দেহ। এখন যা চলছে তা পপ কালচার। এর মূল্য অন্যত্র, একে সংস্কৃতি বলা যাবে কি না সন্দেহ। এর কিছুই বেশিদিন টেঁকে না। যেমন ফিল্ম, কিছু ফিল্ম হয়ত উতরে গেছে, কিন্তু বেশিরভাগ ছবি ও গান পপ কালচার ছাড়া কিছু নয়। এটা কোনোদিনই ক্লাসিকালের মর্যাদা পাবে না। অথবা এখন যে সব যাত্রা চলছে। কী বিষয়বস্তু নিয়ে? কার্লমার্কস, হোচিমিন, হিটলার এসব নিয়ে। এসব কে বুঝবে? এর সাময়িক মূল্য আছে। যাত্রাতে প্রাচীন কালের আভাস শেষ হয়েছে।
শহর যদিও গ্রামকে প্রভাবিত করে, তবু আত্মনির্ভর গ্রামের পরিবেশ রয়েছে। সেজন্য মনে হচ্ছে, গ্রামীণ জীবন হয়ত টিঁকে যাবে। সেটা লোকসংস্কৃতির দিক থেকেও আশার কথা। কিন্তু গ্রাম আর সে গ্রাম নেই। থাকবে না। সিনেমা, এখন আবার টি. ভি. মাল্টিমিডিয়া, চ্যানেল এসবের প্রভাব গ্রামেও এসে পড়েছে। গ্রামেও ফিল্মী গান শোনা যাচ্ছে, বেল বটমস পরছে।
এখনকার কারচার হচ্ছে বিজ্ঞানকেন্দ্রিক, Science Oriented Culture, এতে ইংরেজি ভাষা ও ইউরোপীয় সভ্যতার ছাপ, প্রভাব যথেষ্ট। আগে মুসলমান আমলে ফারসী শিখে রাজানুকূল্য লাভ সহজ ছিল। সামাজিক সম্মান হতো। সবাই জাতে ওঠার জন্য ফারসী শিখত। পরে এল খ্রীস্টধর্ম ও ইংরেজি। ইংরেজি হলো রাজভাষা ও শিক্ষার ভাষা। সবাই সাহেব হওয়ার কম্পিটিশনে নামলেন। এমন হয়ই।
স্বাধীনতার পর দেখা গেল। সর্বত্র ইংলিশ মিডিয়ম স্কুল গজিয়ে উঠল। এখনও সেই ধারা সর্বত্র চলছে। চাষীর ঘরের ছেলে শিক্ষা পেয়ে চাকরী চায়। অর্থের প্রয়োজন না হলেও ঐভাবে ভদ্রলোক হওয়ার বাসনা। ইংরেজিয়ানার ঢেউ এখনও প্রবল। জাতে ওঠার জন্য ইংরেজি জানা চাই-ই। ছেলে না চাইলেও বাবা চাইছেন ছেলে বা জামাই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সি. এ. বা ভাল চাকরিজীবী হোক। বাংলাদেশের আন্দোলনের সময়েও দেখা গিয়েছিল, বাঙালি মুসলমানরা আরবী ফারসীর প্রভাব তাড়াতে চান। এখানেও ইংরেজিয়ানার বিরুদ্ধে সেইরকম আওয়াজ উঠেছিল। কিন্তু হিন্দুওয়ালারা যতই চিৎকার করুন, তা হওয়ার নয়। যাঁরা ইংরেজি হঠাতে বলছেন তাঁদের ছেলেমেয়েরাই আবার ইংরেজি স্কুলে ভর্তি হচ্ছেন বেশি। পৃথিবীর সর্বত্র এই একই অবস্থা। জাপানীরা তো চিরকাল স্বাধীন। সেখানেও তাই হচ্ছে। সেখানে অনেক বই-ই দেখেছিলাম দ্বিভাষিক। এক পৃষ্ঠায় মূল ইংরেজি, অন্য পৃষ্ঠায় জাপানী অনুবাদ। সেখানে এক বাঙালি অধ্যাপকের সাথে দেখা হয়েছিল। বর্মার প্রবাসী বাঙালি। পরে সিঙ্গাপুর হয়ে জাপান আসেন। সেখানে ইংরেজি শিক্ষকতা করে বেশ আছেন। নিজের লেখা ইংরেজি শেখার বইও আছে। দেখা যাচ্ছে, সর্বত্রই এই ধারা চলছে। এটা Western Oriented Culture, এতে ইংরেজির দান অনেকখানি। কাজেই ইংরেজি হঠাতে চাইলেও তা করা যাবে না, এটা সংস্কৃতির অঙ্গ হয়ে গেছে।
ইংরেজির সঙ্গে সন্ধি করতেই হবে। কারণ, বর্তমান সভ্যতা এমন হয়ে উঠেছে যাতে ইচ্ছা করলেই ইংরেজিকে তার আসন থেকে টলানো যাবে না। বর্তমান যুগেই এই Western Scientific Culture -এর যুগ। ইংরেজির একটা নিজস্ব প্রাণ আছে। শক্তি আছে। যা দিয়ে সে একটা জায়গা করে নিয়েছে সারা বিশ্বে। এর সঙ্গে স্বাধীনতার কোনো সম্পর্ক নেই। এই সভ্যতার ঢেউ গ্রামে আরো বেশি যাবে, সঙ্গে যাবে পপ কালচারের যাবতীয় অঙ্গ। সেদিক থেকে লোকসংস্কৃতির ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে সংশয় জাগে। কয়েক দশক বাদে হয়ত লোকসংস্কৃতি তার আগের সেই আকারে থাকবে না। মিলে মিশে অন্য রূপ পাবে। তখন আর তাকে লোকসংস্কৃতি বলা যাবে কি না সন্দেহ।
ক্লাসিকালের যুগ বোধহয় শেষ। যারা ধ্রুপদ সঙ্গীত গাইতেন তাদের সাধনা ছিল জীবনব্যাপী। রাজানুগ্রহ ছিল। এখন সেই পৃষ্ঠপোষকতা কে করবেন? পনের মিনিটের রেডিও প্রোগ্রাম করে তারা কি পাবেন? সাহিত্যের অবস্থাও তাই। প্রকাশক রাজী নন, তিনি দেখবেন বাজারে কাটতি কিসের। কাজেই সিরিয়স লেখা প্রকাশের প্রকাশক নেই। এখনকার সাহিত্যিকরা বেশির ভাগই অন্য উপায়ে রোজগার করেন। জীবনের সময়ের শ্রেষ্ঠ অংশই চাকরীতে যায়, তারপর সাংসারিক দায় আছে। সব চুকিয়ে তবে তো সাহিত্য। আগেকার দিনে রাজারা বা জমিদাররা এদের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। রবীন্দ্রনাথ এবং অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ঠাকুর বাড়ির অন্যান্য শ্রেষ্ঠ পুরুষদের কথাই ধরা যাক। জমিদারী থেকে তাঁদের টাকা আসত। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। এখন তো ক্যাপিটালিস্টদের যুগ, তাদের সে মন নেই, ইচ্ছাও নেই। সাহিত্য শিল্পের চেয়ে এলাকায় জলসা করার জন্য তারা টাকা দেবেন। আর সরকার যদি আনুকূল্য করেন তবে তা রাজনীতির কথা মনে রেখে করবেন। এখন সবেতেই রাজনীতিই প্রধান বিবেচ্য।
লোকসংস্কৃতির মাহাত্ম কীর্তনের চেষ্টা দেখা যায় অনেকের মধ্যে। লোকসংস্কৃতি মানে কী? আমাদের দরিদ্র, পশ্চাৎপদ, শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত, জনসাধারণের এবং হাজার বছরের অতীতের সংস্কৃতিইে লোকসংস্কৃতি। সেই অজ্ঞতাকে, সেই কুসংস্কারকে মহিমান্বিত করে আজ লাভ কি? এই বিজ্ঞানের যুুগের দিকে পিছন করে অজ্ঞতা, অন্ধ বিশ্বাস ও কুসংস্কারকে মহিমান্বিত করার চেষ্টা চালালে তার পরিণতি কী হবে? আমাদের অক্ষমতা ও দীনতাকে বড়ো করে কী লাভ? ঢাকা শহরে আমরা নিজেদের জন্য কামনা করছি বিল্ডিং ফ্যান-ফ্রিজ-ফোন-সোফা ইত্যাদি; অথচ এই ঢাকা শহরেই যাত্রা, জারী-পিঠা, শিকা-তালের পাখা দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে পেছনের দিকে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করছি। এর দ্বারা গণমানুষের প্রতি ভালবাসা প্রকাশ পায় ন া। আমরা নিজের জন্য যা কামনা করি না, অন্যের জন্য তা কামনা করা উচিত নয়। মাটির ঘর আর বেড়ার ঘরকে বড় করে দেখিয়ে নিজেদের জন্য এয়ারকন্ডিশনের এই আয়োজনে প্রবঞ্চনা আছে-সে জায়গায় লোকসংস্কৃতির নামে এই প্রহসন করে-হাসির আর রঙ্গ-রসিকতার এই ব্যবস্থা করে লাভ কী? লোকসাহিত্য ধারা নষ্ট হয়ে গেল বলে বিল্ডিয়ে থেকে এই দরদ দেখানো তো গণমানুষের পতি ব্যঙ্গ করারই শামিল। রেডিও টেলিভিশন ইত্যাদি অনেক প্রতিষ্ঠান প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা খরচ করছে এই প্রহসনে। লোকের নিঃস্বতার, দুর্ভাগ্যের নিরক্ষরতার এবং সেই সঙ্গে লোকসংস্কৃতির অবসান চাই আমরা।
লোকসংস্কৃতির বিপদ হচ্ছে, যেসব জিনিস ছিল সেসব লুপ্ত হয়ে যাচ্ছে, সংগ্রহ হচ্ছে না। বাংলাদেশে শিল্পকলা একাডেমী হয়েছে, কাজ হচ্ছে ভাল। সরকার বহু টাকাও খরচ করছেন। কিন্তু এখানে কিছুই হচ্ছে না। টাকা নেই, উদ্যোগ নেই। চট্টগ্রামে ইলিশ মাছ ধরার গান ছিল। এই রকম হাতি ধরার গান, গ্রামের কারিগর শ্রেণীর গান। মেয়েরাও মুখে মুখে ছড়া তৈরি করে, সেসব খুঁজে সংগ্রহ করে রাখা দরকার। বাংলাদেশে লোকসংস্কৃতির এইসব উপাদান সংগ্রহ করার জন্য শিক্ষকদের কাজে লাগানো হয়েছে। কাজ করার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা সব সংগ্রহ করেছেন। এইসব তথ্য দিয়ে তাঁরা টাকাও পাচ্ছেন। আমাদের এখানে তেমন কোনো সংগ্রহের কাজ বা গবেষণাও হচ্ছে না। গবেষকের মানসিকতা নেই এখানে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসারী দক্ষ গবেষকের অভাব। এদেশে গবেষণার অর্থ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কল্পনা। যেমন রামী চন্ডীদাসকে নিয়ে কল্পনা। অথবা লালন ফকির, তিনি হিন্দু ছিলেন না মুসলমান। তাঁর দান নিয়ে গবেষণা হচ্ছে না। আমি চেষ্টা করেছিলাম। লালন একটা সমন্বয়ী ধারা এনেছেন। তাঁর সবকিছুই এভাবে বিলীন হবে হয়ত। লালনের গানের সংগ্রহ বের হয়েছে। অনেক কষ্ট যা পেয়েছি করেছি। কিন্তু আমি কতটা পারি? অনেক কিছু আছে যার ভাবার্থ আমার কাছেও অজানা।
এভাবেই তো লোকসংস্কৃতি বিলুপ্ত হয়। বাউলের জন্যও বিশেষ সেল গঠন করা দরকার। বাউল সংগ্রহ করার সময়ে টীকা সমেত করতে হবে। বাউলকে লোকসঙ্গীত বলা যায় কিনা এ নিয়ে দ্বিমত আছে। কারণ, বাউল সেই অর্থে লোকসঙ্গীত নয়, সাধন সঙ্গীত। বাউলের মর্মার্থ বোঝা শক্ত, সেটা বুঝতে হলে নাড়া বাঁধতে হয়। এই সম্প্রদায়ের মধ্যে এটা রীতি আছে যে বাইরের লোককে বাউলের কথার সব অর্থ বলা হয় না। বাউল সঙ্গীতের ওপর ওপর একটা অর্থ আমরা করতে পারি। মনে হতে পারে যে এটাই সব অর্থ। কিন্তু ওর ভেতরের মর্মবাণী বোঝা দুঃসাধ্য। সেটা বুঝতে হলে ওদের সাথে থাকতে হয়। এজন্যই বাউল সংগ্রহ করা, এ বিষয়ে গবেষণা করা বেশ শক্ত কাজ। এরপর আধুনিক জীবনের চাপে বাউল কোণঠাসা হয়ে পড়লে হয়ত এর অনেক কিছুই লুপ্ত হবে। সেজন্য চাই বাউল গবেষণার কেন্দ্র। এখন যেসব কাগুজে ইনষ্টিট্যুট আছে তাদের দিয়ে একাজ হবে না।
লোকসংস্কৃতির চর্চা আমাদের দেশে হচ্ছে না তেমন। সরকার কিছু করবেন না। সাংস্কৃতিক কর্মী ও বুদ্ধিজীবীদেরই এগিয়ে আসতে হবে। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থ ছাড়া কতটা কী করা যাবে বলা মুশকিল। বেসরকারী স্তরেও যারা টাকা দিতে পারে তারা দেবে না, কারণ ব্যবসায়ীরা, ক্যাপিটালিস্টরা এসবে উৎসাহী নন। রাজনৈতিক স্বার্থ আছে, পারটির পৃষ্ঠপোষকতা আছে এমন ক্ষেত্রেই তারা টাকা দেবে। তবু সাধ্যমত লোকসংস্কৃতি সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে হবে। বেশি দেরী করলে অনেক কিছুই লুপ্ত হয়ে যাবে।
ক্লাসিকল যেসব সৃষ্টি তা টিঁকে গেছে, আগামী দিনেও টিঁকে থাকবে। শাশ্বত সৃষ্টি হিসেবেই আগামী যুগের মানুষের কাছে ঐসব সৃষ্টি আদরণীয় হয়ে থাকবে। লোকসংস্কৃতিও থাকবে। লোকসংস্কৃতির প্রতি আমি আস্থাশীল ও শ্রদ্ধাশীল। সময় থাকতে এর সাথে মিটমাট করা ভাল। মুণ্ডা, সাঁওতাল, নাগা, কোল, ভিল এদের বাদ দিয়ে কিছু করা সম্ভব নয়। এরা সমাজের এক বিরাট অংশ, সুতরাং এদের সংস্কৃতি রক্ষা করার দায়িত্ব আছে আমাদের। অন্যদিকে পপ কালচার তো আছেই।
এই সব কিছু মিলিয়ে এক সামগ্রিক কালচার আসছে। সব নিয়ে সংস্কৃতির চতুরঙ্গ। ট্রাডিশনাল, মডার্ন, ফোক ও পপ কালচার এই চারটি ধারা মিলিয়ে এক অদ্ভুত সংমিশ্রণের চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে cultured man বলতে হয়ত বোঝাবে এমন এক মানুষকে যার দৃষ্টান্ত হচ্ছে ঃ পেশায় ইঞ্জিনিয়ার, ইংরেজি সিনেমা দেখেন, কী বই পড়েন? ডিটেকটিভ নভেল। কিন্তু এটাও বর্তমান জীবনের খন্ড দিক। রাজনীতির সর্বগ্রাসী ব্যাপার ছাড়াও ‘সম্পূর্ণ মানুষের’ একটা দিক আছে। সেই মানুষ এত সব কিছুতেও সন্তুষ্ট থাকবে না, সার্থক বোধ করবে না। নানা ধারা মিলেমিশে আমাদের সাংস্কৃতিক সত্তার এই চতুরঙ্গ প্রবহমান থাকবে।
(পরবর্তী পর্ব ২৪ আগস্ট, ২০২৬-এ প্রকাশিতব্য)
ফিচার ফটো অলংকরণ: অভি মজুমদার
লেখক:
জুলফিকার নিউটন
লেখক, গবেষক ও অনুবাদক; ঢাকা
*প্রকাশিত এ লেখার মতামত এবং বানানরীতি লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাঙালীয়ানার সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকা অস্বাভাবিক নয়। তাই এখানে প্রকাশিত লেখা বা লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা সংক্রান্ত আইনগত বা বানানরীতি বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় বাঙালীয়ানার নেই। – সম্পাদক
‘বাঙালি সংস্কৃতি’ -র অন্যান্য পর্বগুলো পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন
বাঙালি সংস্কৃতি