।। বেণুবর্ণা অধিকারী ।।

কানাইডিঙা হলো পাহাড়ী এলাকার গাছ। বিলুপ্তপ্রায় গাছ এই কানাইডিঙ্গা বা খনা। এই গাছের ফুল দেখতে অসাধারণ হলেও দিনের আলোতে একে দেখা যায় না, বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে কানাইডিঙা গাছ এরা নিশিপুষ্প তাই এর পরাগায়ণের কাজটি হয় রাতের পাখি বাদুড়ের মাধ্যমে। এর ঝরে পরা ফুলে একটু খেয়াল করলেই বাদুড়ের নখের আঁচড় দেখা যাবে ।এ ফুলের সংস্কৃত নাম হলো শোনাক ও শুকনাশ। এছাড়া এর অন্য নামগুলো হলো – ভিঙ্গা (ময়মনসিংহ), খনা, সনা, হনা, সনাপাতি, কালিডাঙ্গা, খামা (মগ), বাইল্যা (চাকমা), কেরিং (গারো) ও অন্যান্য নামের ভেতর কটম্ভর, প্রিয়জীব, দীর্ঘবৃন্তক, পীতপাদপ ইত্যাদি।

কানাইডিঙা বুনো গাছ, সাধারণত ২০ থেকে ৩০ ফুট উঁচু হতে পারে। এর পাতা খুবই সুন্দর পাতা সমদূরত্বে সারিবদ্ধভাবে থাকে। ফল তলোয়ারের মতো লম্বা, আদিবাসীরা এই ফল সবজি হিসেবে খায়। এর গুচ্ছবদ্ধ ফুল বেশ বড়, ঈষৎ হলুদ-বেগুনি রঙের, ৫টি পাপড়িই গভীরভাবে মোড়ানো, পরাগকেশর স্পষ্ট, দুর্গন্ধি,দেখতে সুন্দর হলেও। ফুলের প্রস্ফুটনকাল দীর্ঘ সময় , বর্ষার শেষভাগ থেকে প্রায় হেমন্ত অবধি। লম্বাটে মঞ্জরিদণ্ডের আগায় আঙুলের ডগার মতো অসংখ্য কলি ঈষৎ ঝুলে থাকে।

কানাইডিঙ্গা

কানাইডিঙ্গা

ইংরেজি নাম: Indian Trumpet Flower, Midnight Horror, Broken Bones Plant

বৈজ্ঞানিক নাম: Oroxylum indicum [সমনাম (synonyms): Bignonia indica, Bignonia pentandra , Spathodea indica, Calosanthes indica]
গোত্রবাপরিবার: Bignoniaceae

ভৌগোলিক বিস্তৃতি: বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভূটান, মায়ানমার, শ্রীলংকা, চীন, জাপান, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া।

বাংলাদেশে বিস্তৃতি ও প্রাপ্তিস্থান: চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মিশ্র চিরসবুজ বনে এবং গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলের পাতাঝরা শাল বনে বিক্ষিপ্তভাবে জন্মানো কানাইডিঙ্গা গাছ দেখা যায়। পঞ্চগড়েও এই গাছ দেখা যায়। বনের কিণারা বা প্রান্তভাগে এ গাছ দেখা যায়। দেশব্যাপী লাল মাটিতে গ্রামীণ ঝোপঝাড়ে ও বসতবাড়িতে কানাইডিঙ্গা গাছের দেখা পাওয়া যায়। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণ ও কার্জন হলের উদ্যান, ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে এবং চট্টগ্রামস্থ বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসে লাগানো কানাইডিঙ্গার কিছু গাছ রয়েছে। এছাড়া, আরণ্যক ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি ইন্সটিটিউটের সহযোগীতায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২০১৪-১৫ সালে বেশ কিছু গাছ লাগিয়ে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে।

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.

About Author

বাঙালীয়ানা স্টাফ করসপন্ডেন্ট