বিশাল হারের কবলে পদ্মা পাড়ের রাজশাহী

Comments

বিপিএল এর নতুন সংস্করনের নতুন চমক নিয়ে হাজির হলেও মাঠের খেলায় ম্যারম্যারে দশার দেখা মিলল। প্রথম ম্যাচে রংপুর ও চট্টগ্রামের লো-স্কোরিং ম্যাচের পর দ্বিতীয় ম্যাচে সাকিবের ঢাকার সামনে শক্তির ভারে পিছিয়েই ছিল রাজশাহী। মাঠেও তার দেখাই মিলল। ঢাকা ডায়নামাইটসের সামনে রীতিমতো উড়ে গেছে রাজশাহী কিংস। ১৮৯ তাড়া করতে নেমে ১০৬ রানে অলআউট দলটি। ৮৩ রানের হার দিয়ে শুরু হলো ২০১৬ বিপিএলের রানার্সআপদের।

টসে হেরে ব্যাটিং করতে ঢাকাকে আমন্ত্রণ জানায় কিংসদের ক্যাপ্টেন মিরাজ। প্রথম ১০ ওভারে বিনা উইকেটে ১১৩ রান তুলেছিল ঢাকা। আর তাড়া করতে নামা রাজশাহী প্রথম ১০ ওভারে ওভারপ্রতি ৬ রানই তুলতে পারেনি। তার উপর রাজশাহীর কাঁধে যেন ক্যাচ ছাড়ার ভূত ভর করেছিল যার শুরুটা করেন জাকির হাসান। সুনিল নারিন’র আউট হবার পর স্বস্তির কিছু সময় পার করলেও তার রেশ শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেনি তারা। তবে শেষ দিকে ফিজ এর বোলিং মুগ্ধ করেছে সবাইকে। সাকিব, পোলারড আর নুরুল হাসান দ্রুত ফিরলেও বড় স্কোর গড়তে সহায়কের কাজটা করে দিয়ে অপরাজিত থাকেন শুভাগত হোম ও আন্দ্রে রাসেল। শুভাগত ১৪ বল খরচায় করেন ৩৮ রান। দলের স্কোর গিয়ে দাঁড়ায় ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রান।

এই বিশাল রানের নিচেই যেন চাপা পড়ে রাজশাহী। ৫৯ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে দলটি। ১৯০ রানের লক্ষ্যে নামা রাজশাহীর ম্যাচে টিকে ছিল ২য় ওভার পর্যন্ত। মুমিনুল হক ও মোহাম্মদ হাফিজ ওই দুই ওভারে ২২ রান এনে দিয়েছিলেন। তৃতীয় ওভারেই সাকিব আল হাসান বল করতে এলে তাকে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে আউট হয়ে ফেরেন মুমিনুল।৩ বল ও ৫ রান ব্যবধানে সৌম্যও তাঁর পিছু নিলেন। সপ্তম থেকে দশম ওভারের মধ্যে রাজশাহী হারিয়েছে আরও ৪ উইকেট। এ আসা যাওয়ার মিছিলে ছিলেন সবাই। লরি ইভান্স, জাকির হাসান, মোহাম্মদ হাফিজ ও ইয়ঙ্কাররা একে একে বিদায় নিয়েছেন আর রাজশাহীর ইনিংসের কঙ্কাল বেরিয়ে এসেছে। কেউই পারেননি দলকে আস্থা দিতে। দলের রান ৮০ হতে হতেই ড্রেসিংরুমে আশ্রয় খুঁজে নিয়েছেন মিরাজ, আলাউদ্দীন বাবু ও কায়েস আহমেদ।

রাজশাহী যে শেষ পর্যন্ত এক’শ পার করতে পেরেছে এর জন্য দলটি আরাফাত সানী ও মোস্তাফিজকে ধন্যবাদ দিতে পারে। শেষ উইকেটে এ দুজন ২৬ রান যোগ না করলে ঢাকার জয়ের ব্যবধানটা তিন অঙ্কেই থাকত। সানী ১৮ রান করে আউট হওয়াতে শেষ হয়েছে এই সান্ত্বনার জুটি। ১১ রানে অপরাজিত ছিলেন মোস্তাফিজ। দলের নবম, দশম ও একাদশ ব্যাটসম্যানই শুধু ছক্কা মেরেছেন রাজশাহীর হয়ে, এ তথ্যটাই বুঝিয়ে দিচ্ছে দলটার ব্যাটিংয়ের করুণ দশার কথা।

তিন ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন রুবেল হোসেন। বাকি উইকেটগুলো ভাগাভাগি করে নিয়েছেন অন্য বোলাররা। তবে সুনীল নারিন ছিলেন উইকেট শূন্য। ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হন হযরতুল্লাহ যাযাই।

বাঙালীয়ানা/এমএইচ/জেএইচ

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.