বিস্মৃতপ্রায় সুরের জাদুকর কমল দাশগুপ্ত

Comments

লেখক, গবেষক, অধ্যাপক আবুল আহসান চৌধুরী তাঁর ‘কমল দাশগুপ্ত: হারানো হিয়ার নিকুঞ্জ পথে’ নামে এক লেখায় লিখেছেন, ‘একদিকে কলকাতা তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছে, কিন্তু ঢাকাও তাঁকে গ্রহণ করেনি। সেই সময় সরকারও তাঁর প্রতি প্রসন্ন ছিল না। কোনো প্রতিষ্ঠানও এগিয়ে আসেনি তাঁর মেধা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর জন্য। আমাদের লজ্জা ও দায় এই যে, কমল দাশগুপ্তকে জীবিকার জন্য শেষজীবনে ঢাকায় একটা মুদিখানার দোকান খুলতে হয়েছিল।’

গবেষক বাবু রহমান লিখছেন, ‘১৯৫৫ সালে ফিরোজা বেগম তাঁকে পতিত্বে বরণ করার পর প্রথম ঘর বাঁধেন পার্ক সার্কাসে। বৈষয়িক দিকে উন্নতি লাভ করতে না পারলেও চরম অর্থনৈতিক কষ্টে দিন কাটছিল তাঁদের। ভ্রাতা কণ্ঠশিল্পী ও ডাকসাইটে আমলা আসাফদ্দৌলা ফিরোজার কনিষ্ঠ ভাইয়ের হয়তো গোপন ইঙ্গিতে ১৯৬৭ সালে তাঁরা ঢাকায় ফেরেন। তখন তাদের ৩টি সন্তান। অরুণ (তাহসীন), হামিন ও সাফিন। ফিরোজা ছিলেন উচ্চাভিলাষী। ফ্যাশন ও সৌন্দর্যচর্চা ছিল গানের চেয়ে প্রিয়। তাই কমলকে বোঝার চেষ্টা না করে তাঁর ব্যক্তিত্বকে ফিরোজা অবজ্ঞা করেছেন। ফলে কমলের নেশাসক্ত জীবন মৃত্যুকে আরও ত্বরান্বিত করে।’

আরও পড়ুন:
কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী ফিরোজা বেগম

বাবু রহমান লিখছেন, ‘১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলো। ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে গীতিকার ও বেতার কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম প্রস্তাব দেন বেতারের নিজস্ব স্টুডিও এবং বিশেষ বাদ্যযন্ত্রী গোষ্ঠী তৈরি করার। জন্ম নিল ট্রান্সক্রিপশন সার্ভিস। সবই কমলের পরিকল্পনা। নানা ধরনের গানসহ কাওয়ালী গান রেকর্ড করেন কমল। আর চলচ্চিত্রে ‘কেন এমন হয়’ ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেন। প্রিয়তমা ফিরোজার নাম নিয়ে ‘নজরুল গীতিমালা’ নামে বাংলা একাডেমি থেকে স্বরলিপি প্রকাশ করতে থাকেন। এ স্বরলিপির উদ্ভাবক কমল নিজেই। কারণ এ স্বরলিপির সাংকেতিক চিহ্ন ও কৌশল কমলের নিজের উদ্ভাবিত।’

Kamal Dasgupta01

কমল দাশগুপ্ত

সুরকার, সঙ্গীতশিল্পী ও সঙ্গীত পরিচালক। পুরো নাম কমলপ্রসন্ন দাশগুপ্ত। তবে কমল দাশগুপ্ত নামেই অধিক পরিচিত। ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ জুলাই, তৎকালীন যশোর জেলার নড়াইল মহকুমার (বর্তমান জেলা) কালিয়া থানার চিত্রা পাড়ের বেন্দাগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা তারাপ্রসন্ন দাশগুপ্ত একজন ব্যবসায়ী ছিলেন।

সঙ্গীতে তাঁর হাতেখড়ি হয়েছিল তাঁর বড় ভাই অধ্যাপক বিমলগুপ্তের কাছে। তিনি তাঁর বড় ভাইয়ের কাছে ভারতীয় রাগসঙ্গীতের তালিম নেন এবং খেয়াল গান শেখেন। পরবর্তীতে তিনি ওস্তাদ জমিরুদ্দীন খাঁ, কাজী নজরুল ইসলাম, কৃষ্ণচন্দ্র দে, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ছেলে দিলীপকুমার রায়ের কাছে সংগীতের দীক্ষা নেন। তিনি খেয়াল, ঠুমরী ও গজল গানে দিক্ষা পান এসময়। আর পাশ্চাত্য সংগীতে পাঠ নেন এইচএমভির অর্কেস্ট্রা-পরিচালক নিউম্যানের কাছে। আর প্রায় শ-পাঁচেক রবীন্দ্রসংগীত শেখেন ব্রজেন গাঙ্গুলি ও অনাদি দস্তিদারের কাছে।

১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ক্যালকাটা একাডেমী থেকে মেট্রিক পাশ করেন। বাবার ব্যবসা উপলক্ষে বেশ কয়েক বছর কুমিল্লায় অবস্থান করেন এবং সেখানে কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে বি.কম (স্নাতক) পাশ করেন।

শুধু কমল দাশগুপ্ত নয়, পরিবারের সকলেই নজরুলের সান্নিধ্যে ছিলেন। কমল, বড়দা বিমল ও ছোট সুবলও নজরুলের গানে সুর করেছেন। ১৯৩৪ সাল থেকে ১৯৪২ পর্যন্ত নজরুলের কাছে তিনি সংগীতের তালিম নিয়েছেন, কাজ করেছেন সহযোগী হিসেবে। এই সময়ে তিনি মাস্টার কমল নামে নজরুল সঙ্গীতও গেয়েছেন। দাদা বিমল দাশগুপ্তের সহকারী হিসেবে এইচএমভি গ্রামোফোন কোম্পানিতে ঢুকে প্রায় ২৩ বছর বয়সে সংগীত পরিচালনা ও গানের সুর করার দায়িত্ব পেয়েছিলেন কমল। যদিও গ্রামোফোন কোম্পানিতে ঢুকেছিলেন একজন তবলাবাদক হিসেবে। তিনি নিয়মিত ম্যান্ডোলিন ও জাইলোফোন বাজাতেন।

Kamal Dasgupta_Firoza02

ফিরোজা বেগমের সাথে

১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে নজরুল ইসলামের কথায় সুরারোপ করা শুরু করেন। নজরুলের গানের সুর নজরুল নিজেই করতেন। তবে মাঝে মাঝে তিনি গান লিখে তা তার স্নেহধন্য কাউকে কাউকে দিয়ে সুর করাতেন। আর সেক্ষেত্রে কমল দাশগুপ্ত ছিলেন তার প্রথম পছন্দ। কমল দাশগুপ্তের চেয়ে বেশি কেউ নজরুলের গানের সুর করেননি। কমল একাই প্রায় ১৫০, কারো মতে ২০০ মতান্তরে ৪০০টি নজরুলের গানের সুর করেছেন। নজরুলের গান অসম্পূর্ণ কমল দাশগুপ্তের সুর ছাড়া।

১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি এইচএমভি (হিজ মাস্টার্স ভয়েস) গ্রামোফোন কোম্পানিতে সঙ্গীত পরিচালক ও সুরকার হিসেবে যোগদান করেন। এছাড়া কলাম্বিয়া রেকর্ড কোম্পানিতেও তিনি কাজ করেছেন। এইচএমভি-তে এক মাসে তিনি ৫৩টি গান রেকর্ড করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। প্রতিমাসে গড়ে ৪৫টি গান সুর করার কৃতিত্ব ছিল কমল দাশগুপ্তের।

হায়দরাবাদের নিজাম তাকে তার মসনদের গোল্ডেন জুবিলী উপলক্ষে সংগীত সৃষ্টির দায়িত্ব দেন; যে রেকর্ড নিজামের দরবারে এখনও সংরক্ষিত। ১৯৫৮ সালে তার সুরারোপিত গানের সংখ্যা সাত হাজার হওয়ায় এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি তার সিলভার জুবিলী পালন করে।

১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি যূথিকা রায়কে দিয়ে মীরাবাঈয়ের ভজন গাওয়ালেন। ভজন এতটাই জনপ্রিয়তা পেল যে মহাত্মা গান্ধী যূথিকাকে ‘মীরাবাঈ’ উপাধি দিয়ে দেন আর বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় কমল দাশগুপ্তকে ‘ডক্টরেট’ উপাধি প্রদান করে।

কমল দাশগুপ্ত ছিলেন তার সময়ের সেরা কম্পোজার। নজরুল, রবীন্দ্রনাথের গানের বাইরে যেয়ে, মূলত আধুনিক গানের স্বর্ণযুগের ভিত্তিটা তার হাত ধরেই তৈরি হয়। কমলের সুরে এতো বৈচিত্র্যের মাধুর্যে তার সমসাময়িক কেউই তার ধারে কাছে পৌঁছুতে পারেননি। এই সৃষ্টিশীল মানুষটি খ্যাতির আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছেন সারাজীবন। আর সাধনা করে গেছেন সংগীতের, করেছেন একের পর এক নতুন নতুন সুরের সৃষ্টি।

Kamal Dasgupta02

ক্ল্যাসিক্যাল, সেমি-ক্ল্যাসিক্যাল, নজরুল সংগীত, শ্যামা সংগীত, গজল, কীর্তন, ইসলামী ও আধুনিক গানসহ সংগীতের মোটামুটি সব শাখাতেই রেখেছেন তার প্রতিভার স্বাক্ষর।

যূথিকা রায়, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, জগন্ময় মিত্র, তালাত মাহমুদ ও ফিরোজা বেগমসহ অনেকেই তাঁর কাছ থেকে সংগীতের তালিম নিয়েছেন, সুরারোপে গান করেছেন।

এনেছি আমার শত জনমের প্রেম
ভালবাসা মোরে ভিখারি করেছে
তুমি কি এখন দেখিছ স্বপন
মেনেছি গো হার মেনেছি
পৃথিবী আমারে চায় রেখোনা বেধে আমায়
আমি দুরন্ত বৈশাখী ঝড়
দুটি পাখি দুটি তীরে
কতদিন দেখিনি তোমায়
জানি জানি গো মোর শুন্য হৃদয় ভরে দেবে
মেনেছি গো হার মেনেছি
আমি ভোরের যূথিকা
সাঁঝের তারকা আমি
শতেক বরষ পরে
এমনি বরষা ছিল সেদিন
আমি ভুলে গেছি তব পরিচয়
আমার দেশে ফুরিয়ে গেছে ফাগুন
পৃথিবী আমারে চায়
যেথা গান থেমে যায়
কথার কুসুমে গাঁথা
মোর হাতে ছিল বাঁশি
তোমার জীবন হতে
ঘুমের ছায়া চাঁদের দেশে
এই কি গো শেষ দান
যদি আপনার মনে মাধুরী মিশায়ে
চরণ ফেলিও ধীরে ধীরে প্রিয়
গভীর নিশীথে ঘুম ভেঙে যায়
আমার যাবার সময় হলো
তুমি হাতখানি যবে রাখ মোর হাতে
ঘুমের ছায়া চাঁদের চোখে
আমি বনফুল গো
ভাল না লাগে তো দিও না মন
স্বকণ্ঠে জনপ্রিয় দুটি গান
আজো কাঁদে কাননে
জগতের নাথ কর পার

এমন অসংখ্য জনপ্রিয় কালোত্তীর্ণ গানের সুরকার এই মহান গুণী শিল্পী।

তাঁর সুরারোপিত গানের সংখ্যা প্রায় আট হাজার। তিনি বাংলা ছাড়াও হিন্দি, উর্দু, তামিল, তেলেগু ভাষার গানেও সুরারোপ করেছেন। তিনি বাংলা ছবির সংগীত-পরিচালক হিসেবে চারবার ও হিন্দি ছবির জন্যে একবার, মোট পাঁচবার শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালকের পুরস্কার লাভ করেন।

ভারতীয় সামরিক বাহিনীর রণসংগীত ‘কদম কদম বাড়ায়ে যা’ সঙ্গীতটির সুরকার কমল দাশগুপ্ত।

সংগীতের ক্ষেত্রে তার মৌলিক অবদান স্বরলিপির শর্টহ্যান্ড পদ্ধতির উদ্ভাবন এবং আকারমাত্রিক পদ্ধতি ও স্টাফ নোটেশন পদ্ধতির স্বরলিপি স্থাপন।

তিনি প্রায় ৮০টি চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: পণ্ডিত মশাই (১৯৩৬), শেষ উত্তর (১৯৪২), সহধর্মিণী (১৯৪৩), যোগাযোগ (১৯৪৩), বিদেশিনী (১৯৪৪), নন্দিতা (১৯৪৪), ভাবীকাল (১৯৪৫), রাঙ্গামাটি (১৯৪৮), অনুরাধা (১৯৪৯), প্রার্থনা (১৯৫৩), সন্ধান (১৯৫৩), নববিধান (১৯৫৪), ব্রতচারিণী (১৯৫৫), মনরক্ষা (১৯৫৬), বধূবরণ (১৯৬৭)।

হিন্দি ছবিগুলো ছিল- জওয়াব (১৯৪২), হসপিটাল (১৯৪৩), রানী (১৯৪৩), মেঘদূত (১৯৪৫), এ্যারাবিয়ান নাইটস (১৯৪৬), বিন্দিয়া (১৯৪৬), কৃষ্ণলীলা (১৯৪৬), ফয়সালা (১৯৪৭, অনুপম ঘটকের সাথে), গিরিবালা (১৯৪৭), ইরান কি এক রাত (১৯৪৯), ফুলওয়ারি (১৯৫১)।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কমল দাশগুপ্ত বৃটিশ ডানকান ব্রাদার্সের কিছু তথ্যমূলক চিত্রে সংগীত পরিচালনার সুযোগ লাভ করেন। শেষ উত্তর, যোগাযোগ, চন্দ্রশেখর ও শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ছায়াছবিতে সঙ্গীত পরিচালনার কৃতিত্বের জন্যে তাঁকে চলচ্চিত্রের শ্রেষ্ঠ পুরস্কারে ভূষিত হয়।

যে কমল দাশগুপ্ত ১৯৪৬ সালে সাঁইত্রিশ হাজার টাকা আয়কর দিয়েছিলেন, গাড়ি ছাড়া চলতেন না, সেই সার্থক সুরশ্রষ্টা কমল চলচ্চিত্র প্রযোজনায় হাত দিয়ে পারিবারিক সঙ্কট ও ব্যাংকের দেউলিয়াত্বের কারণে নিঃস্ব, রিক্ত হয়ে পড়েন।

আরও পড়ুন:
কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী ফিরোজা বেগম

১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে ৪৩ বছর বয়সে তাঁর সাথে নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ফিরোজা বেগমের বিয়ে হয়। পারিপার্শিক চাপে ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ধর্মান্তরিত হয়ে কমল দাশগুপ্ত হন কামাল উদ্দীন।

Kamal Dasgupta_Firoza

১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে বিয়ের দিন

১৯৬৭ সালে পারিবারিক আগ্রহকে প্রাধান্য দিয়ে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকায় আসেন উন্নততর বৈষয়িক জীবনের আশায় কিন্তু ঢাকার সঙ্গীত জগত তাঁর মত শিল্পীকে ধারণ করবার ক্ষমতা রাখেনি। ঢাকায় পারিবারিক প্রতিপত্তিও তাঁকে সহায়তায় ব্যর্থ হয়। তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডী, আট হাজার অমর সুরের স্রষ্টা জীবিকার অন্বেষণে এক সময় ঢাকার সেন্ট্রাল রোডে সম্ভবত ‘পথিকা’ নামের একটি মুদিখানার দোকান খোলেন। তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি।

সঙ্গীত জগতের এক বিস্ময়কর প্রতিভা নিয়ে জন্মগ্রহণ করা কমল দাশগুপ্ত এক রকম বিনা চিকিৎসায় ১৯৭৪ সালের ২০ জুলাই মাত্র ৬২ বছর বয়সে ঢাকার পিজি হাসপাতালের ওয়ার্ড থেকেই বিদায় নেন এই নশ্বর পৃথিবী থেকে।

প্রথমে কলকাতা আর পরে ঢাকার অনাদর-অবহেলায় প্রতিভাধর এই স্রষ্টা শারীরিক মৃত্যুর অনেক আগেই হারিয়ে গেছিলেন সৃষ্টির জগত থেকে। সুরের বৈচিত্র্যে বাংলা সংগীতজগতকে রাঙিয়ে গেলেও বিবর্ণ অনুজ্জ্বল এক পথে হারিয়ে গেলেন কমল দাশগুপ্ত।

তথ্যসূত্র:

বাবু রহমানের নজরুল সঙ্গীত কোষ
বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান
গোলাম মুরশিদের ‘হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি’

লেখক:
সাগর লোহানী, সম্পাদক, বাঙালীয়ানা

আরও পড়ুন:
কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী ফিরোজা বেগম

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.