যামিনী
সন্ধ্যা হলে মেয়েটি এলোচুলে বসে,
আঁচল খসিয়ে বুকে জমজ পূর্ণিমা ছুঁয়ে…
সঙ্গমের তাড়না, উন্মাদনায় পুনর্জন্ম হয়।
শুকনো ফাটা ঠোঁট, সাপের মতো রুক্ষ
জৌলুসহীন চামড়ায়, নাভিতে শতদল
মধুক্ষরা উপবন উন্মুখ, দুচোখে দাবানল।
রাতের পরে রাত, তন্দ্রাঘোরে আসে
অন্ধকারের রাজা, নিঃশব্দে–
শিলমোহরে বন্ধ্যা রাত দিয়েছে ভাগ্য।
বেয়ারা আস্কারা দিয়ে ভাবের ঘর
চুরি করে নিয়েছে জাদুকর বিধাতা।

নিরুত্তর
ঠিকানার সংজ্ঞা খুঁজে খুঁজে বিকল মন
অথচ অলস শয্যার অভাব ছিল না তার
চাহিদা প্রয়োজন ছাপিয়ে লোভনীয় হলে
একটা বটের ছায়া দূরে সরে সরে যায়…
সেদিন ভেতরে দহন দাউদাউ জ্বললেও
বৃষ্টি এসেছিল রাতভর, ভিজলো না
এতোটুকু উপপল্লব, নৈদাঘী দিন,
তারপর!
অকস্মাৎ প্রশ্রয় স্থান বদল করলো;
মায়ার আড়ালে অদৃশ্য যেন অস্পষ্ট,
নিঃশব্দে একাকীত্ব শপথ নেয় আগামীর
দিনের শেষে নিয়মিত গিলে ফেলে
একটা ঝুলবারান্দা রাত!

উষ্ণায়ণ
তোমার পায়ের নিচে সুপ্ত ক্রোধ
ফুটছে আগ্নেয়গিরি তাড়িত কার্যকারণ
বাষ্পায়ন হচ্ছে শান্তশ্রী চন্দন চর্চিত আবেগ
তুমি অজস্র ভুলের পরিক্রমায় কোনঠাসা
নিরুপায় সুবাসিত সবুজ মায়ের কোল।
অবধারিত ভয় এগিয়ে আসছে, ভয়ঙ্কর দ্রুত,
ভেঙে পড়ছে সহ্যের বাঁধ, শোষিতের স্ফুটনাঙ্ক
পারদ ছুঁয়ে ফেটে যাচ্ছে মাটির মোলায়েম ত্বক!
তোমরা রেয়াত করোনি নারীকে, খাদ্য ভেবে
শরীরে কুপিয়েছো অজস্র ক্ষত, এঁকেছো রক্ত
সময়সীমা শেষ, হ্রেষাধ্বনি দিয়ে আসছে কাল
তার ভয়হীন দণ্ড দিন সমাগত প্রায়, এসো!
এসো মহাকাল, যুগ তাণ্ডব ধ্বংস করো।

পরাকাষ্ঠা
ঝুঁকে পড়ে চোখের রক্তাল্পতা বেয়ে,
অগভীর কেন্দ্র ভ্রষ্ট পারিপার্শ্বিক বিরোধ
তুমিই তার লক্ষ্য, তুমিই নিশানা সঠিক–
কথা বলে ক্লান্ত ঠোঁট বর্জন করেছে অনুতাপ
সমীকরণ পটুরাও অঙ্কে হেরেছে।
সমাধানহীন নাটকে রুচির পরীক্ষা চলে,
কতটা কুলুপ তোমার শির-পীড়ার কারণ?
অসহযোগে আমরা কাঁটা তারে বন্দি,
ঘাসজল অবিমিশ্র একাকার দুয়ারে
সব যখন ভুল কক্ষপথ, গণনার ভ্রমে
আমরাই আজ ধরাশায়ী অতীত।
পূর্ণিমা এসেছে নেমে তোমার একলা ঘরে,
চিনেছো কি, প্রিয় নাম যা নিষিদ্ধ!
আজ কণ্ঠরুদ্ধ?
বড়ো বিষণ্ণতায় ডুকরে ওঠে আধভাঙা চাঁদ,
যে মেয়েটি ঘরে ফেরেনি, তার জন্যে ফরিয়াদ।

বোধ
সেই যে খেলা করে বোধ, গহিনে
ক্লান্ত করে, কপটতা জড়িয়ে ধরি তাই,
পিছনে ছুটে আসে দৈত্যাকার প্রশ্নচিহ্ন
ফেলে আসার উপায় কোথাও নেই।
মন্ত্রতন্ত্র শুধু বিভ্রান্তিকর অস্বস্তি
নিশ্চিত জানি আমি ও পড়শী
মূর্খতা প্রিয়, স্বধর্মে অবুঝ,
অত্যন্ত অশ্লীল ঘুম বিলাসী।
মুহূর্তে পরিবর্তনীয় মন্ত্রতন্ত্র শুধু বিভ্রম
অনায়াসে ভুলচুক বেনজর হবে
এই অবকাশে পুনরায় আমরা
মিথ্যে পোষা সভ্য হবো।

লেখক:
মধুপূর্ণা বসু
কবি ও লেখক; আলিপুর, কলকাতা নিবাসী