আসামের নাগরিকপঞ্জি নিয়ে চলমান ঘটনার প্রেক্ষিতে নীরবতা ভাঙলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ‘গৃহযুদ্ধ’, ‘রক্তস্নান’ এর মতো শব্দের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলে  বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। এছাড়াও নাগরিকপঞ্জি নিয়ে আসামের জনগণকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন-‘একজন ভারতীয় নাগরিকেরও কোন সমস্যা হবে না’।

নরেন্দ্র মোদী(সংগৃহীত ছবি)

গত সোমবার, ৩০ জুলাই ২০১৮, আসামে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশিত হয়। এই খসড়ায় বাদ পড়েছে প্রায় ৪০ লক্ষ আসামবাসী এবং এতে এনআরসি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, মোদী সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দেগেছেন আসামের প্রতিবেশী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি এই তালিকার ফলে ‘গৃহযুদ্ধ’ বা ‘রক্তস্নান’-এর আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন মমতা।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এতদিন বিষয়টিতে নীরব ছিলেন। অবশেষে গত শনিবার সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোদী বলেন- ‘যাঁরা নিজেদের প্রতি আস্থা হারিয়েছেন, জনসমর্থন হারানোর ভয় করছেন এবং যাঁদের গণতন্ত্র ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা নেই, তাঁরাই এই ধরনের মন্তব্য করতে পারেন। গৃহযুদ্ধ (সিভিল ওয়ার), রক্তস্নান (ব্লাডবাথ)-এর মতো শব্দ তাঁরাই ব্যবহার করতে পারেন, যাঁরা ভারতের নাড়ির স্পন্দন থেকে বিচ্ছিন্ন।’

নরেন্দ্র মোদী(সংগৃহীত ছবি)

একই বক্তব্যে তিনি কংগ্রেসেরও তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন-‘এনআরসি রাজনীতির জন্য নয়, সাধারণ মানুষের জন্য। কিন্তু সেটা নিয়ে কেউ রাজনীতি করলে তা দুর্ভাগ্যজনক। কংগ্রেস এবং তৃণমূল সেটাই করছে। কয়েক দশক ধরে কংগ্রেস বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্নটি জিইয়ে রেখেছে’।

একইসঙ্গে তিনি নাগরিকপঞ্জিকা থেকে বাদ পড়া ৪০ লক্ষ আসামবাসীকে আশ্বস্তও করেন। তিনি বলেন- ‘আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, এনআরসি-র জন্য কোনও ভারতীয় নাগরিককে দেশ ছাড়তে হবে না।  এখনও বেশ কিছু প্রক্রিয়া বাকি। যাঁরা বাদ পড়েছেন, তাঁদের নাগরিকত্ব প্রমাণের সব রকম সুযোগ দেওয়া হবে।’’ পুশব্যাক বা অনুপ্রবেশকারীদের দেশে ফেরানোর প্রশ্নে মোদীর জবাব, এমন ভাবার কারণ নেই যে, নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে না পারলেই পুশব্যাক করা হবে। বাদ পড়াদের মধ্যে যাঁরা যে দেশ থেকে ভারতে এসেছেন, সেই দেশ নাগরিক হিসাবে স্বীকার করলে তবেই তাঁদের জন্মভূমিতে ফেরত পাঠানো হবে’।

দেশে ফেরত পাঠানোর আশঙ্কা নিয়ে, আসামের নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশের পর থেকেই বাদ পড়া ৪০ লক্ষ আসামবাসী ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। এর মধ্যেই চলছে নাগরিকপঞ্জি সংশোধনের কাজ। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাস কিছুটা হলেও তাঁদের আস্থা বাড়াবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

 

 

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.