মৃদুল দাশগুপ্তের কয়েকটি কবিতা

Comments

এক

যদি বা শিখর থেকে খসে পড়ি, ফসকাই
                                     বাতাসের হাত
বেদনার আগে এসে স্থানীয় বিবিধ মেঘ
                                     জাপটিয়ে ধরে
বিপদের শিস দিয়ে ওড়ে পাখি, লাগে না আঘাত
সেহেতু কামনা করি তুমি থেকো আমার ওপরে

ঈষৎ ফড়িং যেন, ভাসমান, তবে কিনা
                                     নিশ্চিত সোনালি
দেখি যে ঝলক লাগে, এখন ভোরের রোদে,
                                     হয়তো আদরে
যখন ভূতলে নামো, চুলে লাগে সৈকতের বালি
তাও পড়ে যাই আমি, পর্বতেরা চলাচল করে

দুই

ঘুরেও না পেয়ে পথ, কেবল তাকিয়ে থাকা,
                                     থেমে যাওয়া, স্থির
তবুও অনেক কিছু পার হয়ে কোনোভাবে আসা
একটি পাহাড় কি বা দুই সেতু দুইটি নদীর
শেষের পরেও হেঁটে, বিকেল গড়িয়ে গেল,
                                     হুট করে নেমেছে কুয়াশা

দু’চোখ ঝাপসা হলো এরপর মনে হলো
                                     এ হাওয়ায় ভাসা
পাখি আমি, কি বা ড্রোন, আবহাওয়া
                                     ভেজা জবজবে
ভাঙলো মেঘের চুড়ো এরপর, গুঁড়ো গুঁড়ো
                                     হয়ে গেল আশা
তখন ভাবনা এলো, হায় হায় তোমার কী হবে

তিন

দূরের কথাটি বুঝি শোনা যাবে, ভিতরের
                                     দেখাও সম্ভব
এ সকল ভেবে যাবো কাজের বোঝাটি নিয়ে কাঁধে
রওনা হওয়ার কালে পিছনে থাকবে পড়ে
                                     শত কলরব
হয়তো থামবো গিয়ে একেবারে চাঁদে

অথবা বিপদকালে গিরিচূড়া খোঁচা দেবে বুকে
আকাশে সমুদ্র উঠে ওলটাবে তরঙ্গ উচ্ছ্বাসে
তাও তো স্ফুর্তির প্রাণে মনে মনে টোকা দেবো
                                     তোমার চিবুকে
টেরটি পাবে না কিছু কী ভূগোলে কী বা ইতিহাসে

চার

আলগা, আলতো, খোলা, পড়ে গেলে ভেঙে যাবে।
                                     ছিলো এরকম
থেকেছে আমার কাছে, কবে থেকে মনে নেই,
                                     ভাঙবার আগে
ভেবেছি বলেছে কথা, টুকটাক, তখন
                                     বয়স ছিলো কম
‘কী বাজে বকো যে তুমি’ বলে তো বুলিয়েছিল
                                     হাতখানি কাটাছেঁড়া দাগে

ক্রমে কী কাণ্ড হলো! খসে পড়ে খুলে গিয়ে
                             রোদে পুড়ে, ধারাজলে ভিজে
কী করে, কীভাবে গেলো, ঘটনার এতো ডালপালা
এখন পড়ে না মনে, না কি গেছে ভেঙে নিজে নিজে
বলেনি একটি কথা, তাছাড়াও দরজায়
                                     পড়ে গেছে তালা

পাঁচ

তোমাকে দুইটি দেখি, ছুঁতে গেলে হাত লাগে
                                     জলের গেলাসে
স্থানীয় পানীয়, তবে কিছুতেই জাদুবলে
                                     হবে না বিলাতি
এ ভুল শুধরে তোলা সহজে সম্ভব নয়,
                                     কেন না সে ভাসে
যে কিনা দণ্ডায়মান, তদুপরি হয়েছে বাঁ-হাতি

আগে কি এভাবে খেতো, ডানহাতে থালা ধরে
                       হয়তো চোখের ভুলে দেখি এরকম
হঠাৎ নিকটে এসে একযোগে যদি কি না ছোঁয়
বাতাস ঝাপট দেবে, হয়তো উঠবে ঝড় তখন চরম
প্যারিসের পথে হেঁটে হুট করে চলে যাবো
                                     শীতের মস্কোয়

ছয়

আকাশে আয়নাখানি, ঘোরে পড়ে মনে হয়
                                     বিরাট রূপসী
নিচের ধারণাগুলি জড়ো হয়ে দোলে যতো
                                     আমিও তো দুলি
বাতাসের দিকে কেন তারা ঠেলে, কেন বা
                       আমিও গিয়ে এককোণে বসি
তবু ভাসে, হাসে যেন, ঝলমল করে যেন
                             অগণিত চিন্তার কাচুলি

তবে মরো, খাদে পড়াে–বাতাস আমাকে বলে–
                                     যাক মাথা ফেটে
এখানে সকলে ওড়ে, তুমি কেন এলে হেঁটে হেঁটে

সাত

আড়ালে কোথাও আছে, ছায়া পড়ে? আবছায়া
                                     এসে জড়ো হয়?
বোঝাও যায় না কিছু ভাঁজ খুলে, তদুপরি
                                     সুতো দিয়ে বাঁধা
শেষের সামান্য আগে হঠাৎ আলগা হলে, ভাবি যেন
                                     হয়েছে সদয়
তবুও গুটিয়ে যায়, খাটো কুচো হয়ে গেলে মনে হয়
                                     এ বড়ো আলাদা

কেন আমি অকারণে এতটা সময় দেবো
                                     মুছে মুছে ঘসে?
ধাক্কায় ওল্টাবো কেন? যাবে কেন গোলমাল ঘটে?
সেহেতু দেখবো শুধু উঁকি দিয়ে চুপচাপ বসে/
হঠাৎ বোতাম খুলে এক কি বা একাধিক
                                     চাঁদ যদি ওঠে

লেখক:
Mridul Dashgupta02
মৃদুল দাশগুপ্ত
কবি, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক, শ্রীরামপুর, হুগলি, ভারত।

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.

About Author

বাঙালীয়ানা স্টাফ করসপন্ডেন্ট