। অরিন্দম দে ।
বাচ্চার মৃত্যু, ব্যাপারটা মা মেনে নিতে পারে না। আমার মা যে ভাবে কথা বলে, যেমন ভাবে, আমি তাই লিখেছিলাম। রিপোস্ট করলাম। মনে হলো এটা অনেকে পড়েননি। মনে হলো আমাদের আরো সংবেদনশীল হওয়া উচিত।
বেণী বাবু সোফায় বসতে বসতে বললেন, “সকাল থেকে তো টিভিটা চলছে। কী সারাদিন দেখো?” মালতীদেবী চায়ের কাপ এনে টেবিলে রাখলেন। কিছু বললেন না। সোফার অন্য কোণে বসে টিভির দিকে তাকিয়ে থাকলেন।
ভাঙা দেওয়াল আর ইটের স্তূপের মধ্যে ক্যামেরা ঘুরছে। ইটের মধ্যে গোলাপি রঙের একটা স্কুলব্যাগ দেখা যাচ্ছে। ব্যাগটার ওপর কার্টুন আঁকা।
মালতীদেবী বললেন, “জানো, ওরা বাচ্চাদের স্কুলে বোমা মেরেছে।”
বেণীবাবু চায়ে ফুঁ দিলেন। “কোথাকার?”
“ওই দেশটায়। যেখানে যুদ্ধ হচ্ছে।”
“আচ্ছা।” বেণীবাবু একটু কেশে নিয়ে বললেন, “চিনি একটু বেশি হয়েছে।”
“শুনেছ আমি কী বলেছি? স্কুলে বোমা মেরেছে। বাচ্চাদের স্কুলে।”
বেণীবাবু রিমোটটা তুলে নিয়ে ভলিউম কমালেন। “শুনেছি তো। যুদ্ধে এসব হয়। তাছাড়া ওরা অন্য জাতের, অন্য দেশের মানুষ। আমাদের ওতে কী। এত ভেবে কী লাভ?”
মালতীদেবী কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর বললেন, “ওরাও তো মানুষ।”
“মানুষ তো বটেই। কিন্তু আমাদের মানুষ তো না।”
“মানুষ তো মানুষই। আমাদের কী, ওদের কী।”
বেণীবাবু কাপ নামিয়ে রাখলেন। “তুমি আবার শুরু করলে। প্রতিদিন এই টিভি দেখে দেখে…”
“আচ্ছা, মানুষ কী করে পারে এসব? বলো তো? স্কুলে বোমা? যেখানে বাচ্চারা বসে খাতায় অংক করছিল? যেখানে টিফিনের সময় ওরা দৌড়াদৌড়ি করছিল? সেখানে? মিসাইল?”
টিভিতে তখন একজন বিশেষজ্ঞ বলছেন, “এটা ছিল একটা প্রিসিশন স্ট্রাইক। হাইপারসনিক মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে। এই মিসাইল ম্যাক ফাইভ স্পিডে উড়ে আসে। কোনো এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম একে ধরতে পারে না। অত্যন্ত সফল অপারেশন।”
মালতীদেবী টিভির দিকে আঙুল দেখিয়ে বললেন, “শুনছ? সফল অপারেশন। বাচ্চা মারা সফল অপারেশন। ম্যাক ফাইভ। কী সুন্দর নাম। ম্যাক ফাইভ। শুনতে চকোলেটের মতো লাগে”।
বেণীবাবু কিছু বললেন না।
মালতীদেবী বলে গেলেন। “আর ওই লোকটা? ওই যে মেডেলওয়ালা লোক? একটু আগে বলছিল, ক্যাজুয়ালটি মিনিমাল। বাচ্চা মরেছে সেটা মিনিমাল। এরকম একটা শব্দ ব্যবহার করছে মানুষ মরার জন্য। যেন দোকানে জিনিসপত্রের দাম কমেছে। মিনিমাল। ক্লিয়ারেন্স সেল।”
বেণীবাবু চা শেষ করলেন। কাপটা টেবিলে রাখলেন। “তুমি এত ভাবো কেন? ওসব দেশে সবসময় এসব হয়। ওরা নিজেরা ঝামেলা পাকায়, নিজেরা মরে।”
“আর আমাদের আঁশু?”
বেণীবাবু চুপ হয়ে গেলেন। ঘরের হওয়াটা ভারী হয়ে উঠল।
বেণীবাবু গলা পরিষ্কার করলেন। “আঁশুর সাথে এর কী সম্পর্ক?”
“সম্পর্ক আছে। ওই স্কুলে বাচ্চাগুলোকে যারা মারল, তারাও তো আর্মিতে আছে। যাদের মারছে তাদের আর্মিতেও তো কারো ছেলে আছে। ওই ছেলেরও তো মা আছে। ওই মাও তো তিনদিন ধরে ফোনের দিকে তাকিয়ে আছে। হয়তো তার ছেলে আর ফোন করবে না। কোনোদিন না।”
বেণীবাবু বললেন, “আঁশু তো আমাদের দেশের আর্মিতে চাকরি করে। ও আমাদের দেশকে রক্ষা করছে। ওর সাথে ওদের তুলনা কোরো না।”
মালতীদেবী বেণীবাবুর দিকে ঘুরে তাকালেন।
“ওই ছেলেগুলোও তো ওদের দেশের জন্য গেছিল। ওরাও তো ভেবেছিল ওরা দেশকে রক্ষা করছে। আচ্ছা, ওই লোকগুলো যারা যুদ্ধ শুরু করেছে, তাদের ছেলেরা কোথায় বলো তো? ওদের ছেলেদের গায়ে একটা আঁচড়ও লাগে না।”
বেণীবাবু কিছু বলার জন্য মুখ খুললেন, কিন্তু কিছু না বলে চুপ করে গেলেন।
মালতীদেবী দেবী গজ গজ করতে লাগলেন,”এ কেমন চাকরি বাপু? মানুষ হয়ে মানুষ মারার চাকরি। আমার ছেলেকে পয়সা দেয় মরার জন্য। যখন মরবে, তখন গলায় মালা পরিয়ে সম্মান দেবে। বুকে মেডেল লাগাবে। পতাকায় মোড়া কফিন আসবে। টিভিতে দেখাবে, বীরের মা কাঁদছে।”
মালতীদেবীর গলা কাঁপছে। কিন্তু কান্না আসছে না। কান্নার জায়গাটায় একটা রাগ বসে আছে।
“আর জানো সবচেয়ে বড়ো মিথ্যেটা কী? সম্মান। ওরা বলে, দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে, এর চেয়ে বড়ো সম্মান আর কী আছে। বাহ। সম্মান। আমার ছেলে মরবে, আর ওরা সম্মান দেবে। আমি সম্মান চাই না। আমি আমার ছেলেকে চাই। জ্যান্ত। দুটো হাত দুটো পা নিয়ে ঘরে ফিরুক। আমাকে মা ডাকুক। গরম ভাত খাক। ব্যস। এইটুকু। কোনো মেডেল লাগবে না।”
বেণীবাবু বললেন, “তুমি এসব বলো না। আঁশু শুনলে কষ্ট পাবে।”
“আঁশু জানে। আঁশু সব জানে। ও ফোনে বলে, মা, তুমি চিন্তা করো না।
কিন্তু… চিন্তা করাটাই আমার চাকরি। তোর বাবা বাজারে যায়, তুই বর্ডারে যাস, আমি চিন্তা করি। এটাই সংসার।”
মালতীদেবী উঠে রান্নাঘরে গেলেন।
টিভিতে তখন আরেকটা চ্যানেলে বিতর্ক চলছে। এক বিশেষজ্ঞ বলছেন, “এই যুদ্ধে যে ড্রোন টেকনোলজি ব্যবহার হচ্ছে, তা রিভোলিউশনারি। একটা ড্রোনের দাম মাত্র কয়েক লাখ, কিন্তু ইন্টারসেপ্টার মিসাইলের দাম কোটি টাকা।”
আরেকজন বললেন, “অর্থাৎ কস্ট ইফেক্টিভ ওয়ারফেয়ার!”
দুজনে হাসল। চায়ে চুমুক দিল।
কস্ট ইফেক্টিভ ওয়ারফেয়ার। সস্তায় যুদ্ধ। সস্তায় মানুষ মারা। এটাও একটা ইকোনমিক্স। চাহিদা আছে, জোগান আছে, আর মাঝখানে একটা প্রাইস ট্যাগ। ট্যাগে লেখা, কত কম টাকায় কত মৃত্যু। বাল্ক অর্ডারে ডিসকাউন্ট।
রান্নাঘর থেকে মালতীদেবী বললেন, “কতদিন হলো আঁশু ফোন করেনি?”
“তিনদিন।”
“তিনদিন আগে কী বলেছিল?”
“বলেছিল কিছুদিন ফোন করতে পারবে না।”
“বলেনি যে ও ব্যস্ত থাকবে?”
“হ্যাঁ “
মালতীদেবী আবার গজ গজ করতে লাগলেন, “মা জানে ব্যস্ত মানে কী। ব্যস্ত মানে এমন কিছু যা ফোনে বলা যায় না। ব্যস্ত মানে আমি ঠিক আছি, এখন রাখি।”
মালতীদেবী আবার বললেন, “ওর ঘরটা গুছিয়ে রেখেছি। ও এলে দেখবে সব ঝকঝক করছে।”
বেণীবাবু কিছু বললেন না। উঠে গিয়ে আঁশুর ঘরের দরজায় দাঁড়ালেন। দেওয়ালে ন্যাশনাল ডিফেন্স একাডেমির ছবি। ইউনিফর্মে আঁশু হাসছে। পেছনে পাহাড়। বালিশের ওপর সেই পুরোনো টেডি বিয়ারটা। ছেলে রেখে গেছে। ছোটোবেলায় ওটা ছাড়া ঘুমাত না।
আর্মিতে যাওয়ার দিন মালতীদেবী বলেছিলেন, “এটা নিয়ে যা।” আঁশু হেসে বলেছিল, “আর্মি ব্যারাকে টেডি বিয়ার? ধরা পড়লে কোর্ট মার্শাল হয়ে যাবে।”
বেণীবাবু আবার সোফায় এসে বসলেন। টিভিতে একটা ফুটেজ চলছে। কোনো এক দেশের সামরিক কবরস্থান। সারি সারি কবর। প্রতিটা কবরে একটা করে ছোট পতাকা। এক বুড়ো বুড়ি একটা কবরের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে আছে। বুড়ির হাতে একটা ইউনিফর্ম পরা তরুণের ছবি। ছবিতে এখনো হাসি লেগে আছে।
মালতীদেবী দ্বিতীয় দফার চা নিয়ে এলেন। টিভির দিকে একবার তাকালেন।
“দেখেছ?”
“কী?”
“ওই মহিলাটাকে। ইহুদি না মুসলিম না খ্রিশ্চান কে জানে। কিন্তু দেখো ওর চোখ। সব মায়ের চোখ একই রকম হয়।
বেণীবাবু টিভি বন্ধ করতে গেলেন।
“বন্ধ কোরো না।” মালতীদেবীর গলা শক্ত। “দেখো। দেখা দরকার। কারণ আমরা না দেখলে ওরা ভাববে কেউ দেখছে না। আরও বোমা, আরও মিসাইল ছুঁড়ে আরও সফল অপারেশন করবে। আমরা যদি না দেখি, তাহলে ওই গোলাপি ব্যাগটার কোনো মানেই থাকে না।”
বেণীবাবু রিমোট নামিয়ে রাখলেন।
মালতীদেবী চায়ে চুমুক দিলেন না। কাপটা ধরে আছেন। “জানো, ওরা বলে যুদ্ধ দরকার। দেশের সম্মান। সার্বভৌমত্ব। বড়ো বড়ো শব্দ। কিন্তু শব্দগুলো যারা বলে, তাদের ছেলেমেয়ে বিদেশে পড়ে। ওরা নিরাপদ। আর মরে কে? আমাদের ছেলেরা। যে ছেলেটা চাকরি পায়নি বলে আর্মিতে গেছে। যে ছেলেটার বাবা বাজার থেকে পেঁয়াজের দাম কষে কষে কেনে।”
বেণীবাবু পেঁয়াজের ব্যাগটার দিকে তাকালেন। আজ পেঁয়াজ ষাট টাকা কেজি। গতমাসে পঞ্চাশ ছিল।
মালতীদেবী গজ গজ করে চললেন, “আর ওই মেডেল? ওই সম্মান? ওগুলো সব ঘুষ। মরার পরে দেওয়া ঘুষ। যাতে পরের ছেলেটাও মরতে রাজি হয়। দেখো, ওই ছেলেটা মরে মেডেল পেয়েছে, তুমিও পাবে। ভালো মৃত্যু। সম্মানজনক মৃত্যু। এত সুন্দর করে মৃত্যুকে সাজায় ……” মালতীদেবীর গলা কাঁপল।
বেণীবাবু নড়ে বসলেন। “এত কিছু ভেবে কী হবে? আঁশু তো ভালোই আছে।”
“এখন আছে।” মালতীদেবীর গলা নেমে গেল। প্রায় ফিসফিস করে বললেন, “কিন্তু যদি কাল…”
বাক্যটা শেষ করলেন না। শেষ করার দরকার নেই। বেণীবাবুও বোঝেন। চল্লিশ বছরের সংসার। অসমাপ্ত বাক্যের মানে দুজনেই জানেন।
ঠিক তখন ফোনটা বেজে উঠল। দুজনেই চমকে উঠে ফোনের দিকে তাকালেন। স্ক্রিনে নাম জ্বলছে। আঁশু।
মালতীদেবী ফোন তুললেন। হাত কাঁপছে। কিন্তু গলায় কোনো কাঁপুনি নেই। মায়েরা এটা পারে। শরীর কাঁপে, গলা কাঁপে না।
“হ্যাঁ বাবা।”
“মা, কেমন আছো?”
“ভালো রে। তুই কেমন আছিস? তিনদিন ফোন করিসনি।”
“একটু ব্যস্ত ছিলাম মা। বলেছিলাম তো।”
“খেয়েছিস?”
“হ্যাঁ মা।”
“কী খেয়েছিস?”
“আজ জম্পেস দেশি মুরগি “
“মুরগিতে নুন বেশি দেয় না তো? তোর প্রেশার আছে। তোর মামার পুরো ফ্যামিলিতে প্রেশার।”
আঁশু হাসল। “মা, আমি বর্ডারে আছি, তুই প্রেশারের চিন্তা করছো?”
মালতীদেবীও হাসলেন। চোখের জলও মুছলেন। পৃথিবীতে, এটা শুধু মায়েরাই পারে।
“বর্ডারে থাকলে প্রেশার থাকবে না? বুলেটের চেয়ে প্রেশার বেশি খারাপ। বুলেট একবার লাগে, প্রেশার রোজ মারে।”
আঁশু চুপ হয়ে গেল। তারপর বলল, “মা।”
“হ্যাঁ?”
“তুমি খেয়েছো?”
“হ্যাঁ রে।”
মালতীদেবী আজ দুপুরে এক মুঠো মুড়ি খেয়েছেন। ব্যস। বেণীবাবু জানেন, মন মেজাজ খারাপ থাকলে মালতীদেবী কিছু খান না । কিন্তু ফোনে তা বলবেন না।
“মা, একটা কথা বলব?”
“বল।”
“আমি কিন্তু কিছুদিন আবার ফোন করতে পারব না।”
মালতীদেবীর হাত থেকে চায়ের কাপটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল। সামলে নিলেন। বেণীবাবু সোফায় সোজা হয়ে বসলেন।
“কেন রে?”
“একটু ব্যস্ত থাকব মা। তুই চিন্তা করো না। রুটিন ব্যাপার।”
ছেলে যখন বলে রুটিন, মা জানে রুটিন না, অন্য কিছু। কিন্তু মা জিজ্ঞেস করে না। জিজ্ঞেস করলে ছেলে ভাববে মা চিন্তা করছে। মালতীদেবী চুপ করে গেলেন।
“মা?”
“হ্যাঁ?”
“টেডি বিয়ারটা আছে তো?”
মালতীদেবী ছেলের ঘরের দিকে তাকালেন। দরজা খোলা। বালিশের ওপর টেডি বিয়ার।
“প্রতিদিন ঝেড়ে রাখি।”
“ফেলে দিও না কিন্তু। হা হা হা “
“ফিরে এসে নিয়ে যাস। ওটা নিয়ে যুদ্ধ করবে আমার ছেলে।”
হাসতে হাসতে ফোন রেখে দিল আঁশু।
মালতীদেবী ফোনটা কানের কাছে ধরে রইলেন কয়েক মুহূর্ত।
বেণীবাবুর চোখ ভিজে গেল। তিনি মুখ ঘুরিয়ে নিলেন। বাবারাও কাঁদেন, কিন্তু কাউকে দেখতে দেননা।
মালতীদেবী উঠে গিয়ে আঁশুর ঘরে ঢুকলেন। টেডি বিয়ারটা কোলে তুলে নিলেন।
বেণীবাবু দরজায় দাঁড়িয়ে দেখলেন। ডাইনিংয়ে ফিরে গিয়ে টিভি বন্ধ করলেন।
রাতের আকাশে ঝকঝকে তারা ফুটল। একই আকাশ। এই আকাশের কোনো এক অংশে এই মুহূর্তে কোথাও একটা মিসাইল উড়ে যাচ্ছে ম্যাক ফাইভ স্পিডে। কোথাও এক জেনারেল ম্যাপে আঙুল রেখে পরের টার্গেট ঠিক করছেন। কোথাও এক বিশেষজ্ঞ টিভিতে হাসতে হাসতে বলছে কস্ট ইফেক্টিভ ওয়ার। কোথাও একটা গোলাপি ব্যাগ ইটের নিচে চাপা পড়ে আছে।
আর কোথাও মালতীদেবী একটা টেডি বিয়ার কোলে নিয়ে অন্ধকারে বসে আছেন।
পৃথিবীতে সবচেয়ে দামি মিসাইলের দাম কয়েকশো কোটি টাকা। সবচেয়ে আধুনিক ড্রোনের দাম হয়তো কয়েক কোটি। কিন্তু সবচেয়ে দামি জিনিসটার কোনো দাম নেই। কোনো বাজেটে ধরা যায় না। কোনো ইকোনমিক্সে পড়ে না।
এখানে জীবন মূল্যহীন। একটা মায়ের অপেক্ষা মূল্যহীন। কারণ ওরা অন্য জাতের মানুষ। ওদের ভগবান অন্য কেউ।
লেখক:
অরিন্দম দে
গদ্যকার, কলকাতা