গুজরাট দাঙ্গার পর সে রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে পদ থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী। শনিবার, ১১ মে, ২০১৯, এমন মন্তব্য করলেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা যশবন্ত সিন্‌হা। যদিও আদভানী বেঁকে বসায় শেষ মুহূর্তে ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন বাজপেয়ী, জানিয়েছেন যশবন্ত।

ভারতের লোকসভা ভোট যুদ্ধের প্রচারের কিছুটা স্বস্তিতে থাকা বিজেপি শিবিরে এরই মধ্যে এসে পড়ল ‘যশবন্ত বোমা’।  ষষ্ঠ ও সপ্তম দফার ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম জড়িয়ে গেল গুজরাট দাঙ্গার সাথে।

শনিবার মধ্যপ্রদেশের ভুপালে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে বোমাটি ফাটান এক সময় দেশের অর্থ ও বিদেশ মন্ত্রণালয় সামলানো যশবন্ত। তাঁর ভাষায়, ‘‘গুজরাটে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পরই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে মোদীকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাজপেয়ী। মোদী নিজে থেকে না সরলে গুজরাট সরকারকে বরখাস্ত করা হবে, এমনটাই ছিল তার পরিকল্পনা।’’

Advani01

বাজপেয়ী, যশবন্ত ও আদভানী

২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার সেই সময় গোয়াতে চলছিল বিজেপির জাতীয় কার্যকরী পরিষদের বৈঠক। যশবন্ত বলেছেন, সেই বৈঠকে মোদীকে সরানোর কথা জানাতেই বেঁকে বসেন আদভানী। মোদীকে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরালে তিনি পদত্যাগ করবেন বলে পাল্টা হুমকি দেন। এরপর বাজপেয়ীর সামনে আর কিছুই করার ছিল না। আদভানীর চাপেই তিনি মোদীকে বরখাস্ত করার রাস্তা থেকে সরে আসেন, এমনটাই দাবি করেছেন যশবন্ত।

যশবন্ত সিনহা নির্বাচন চলাকালেই নরেন্দ্র মোদীকে পুরনো গুজরাট দাঙ্গার সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আইএনএস বিরাট ও রাজীব গান্ধী ইস্যুতেও দেশের প্রধানমন্ত্রীকে এক হাত নিয়েছেন। আইএনএস বিরাটকে রাজীব গান্ধী ‘পার্সোনাল ট্যাক্সি’ হিসেবে ব্যবহার করেন, মোদীর এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে দেশের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘‘দেশের একজন প্রধানমন্ত্রী আর একজন প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে এই ভাষায় কথা বলতে পারে না।’’ একই সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘‘এই নির্বাচন হচ্ছে সরকারের কাজকর্মের নিরিখে, দেশের ইতিহাস নিয়ে নয়।’’

দেশের নির্বাচনে বারবার পাকিস্তান প্রসঙ্গ তুলে আনা নিয়েও শাসক দলকে তুলোধনা করেছেন যশবন্ত। তার কথায়, ‘‘ভারত ও পাকিস্তানকে সমগোত্রীয় করে তোলা হচ্ছে। চীন নিয়ে কোনও চিন্তা নেই। আমাদের এই অবস্থা দেখে নিশ্চয়ই আরও খুশি হচ্ছে বেজিং।’’

ছবি ও সংবাদ: আনন্দবাজার

বাঙালীয়ানা/এসএল

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.