রূপা ফারজানার কবিতা

Comments

কালকূট

কী অবিশ্বাসে তাকিয়ে থাকে মরণোত্তর কালকূট
যখন মেঘের চাতাল চুঁয়ে নির্দোষ বৃষ্টিজল
তোমার পিনিয়াল গ্রন্থি নিসৃত সোমরসে মেশে,
আর তুমি এক লহমায় বিষে নীল।

কী অবিশ্বাসে তাকিয়ে থাকে দূর্ভেদ্য দূর্গ প্রাচীর
যখন তোমার ব্যক্তিগত পাষাণ দেয়াল
নিশ্ছিদ্র সীমানায় বাঁধে নক্ষত্র মণ্ডল,
ছিন্ন করে আন্তনগর যোগাযোগের সেতু।

কী অবিশ্বাসে তাকিয়ে থাকে চাঁদের পাহাড়
যখন তোমার তামাদি পাহাড় চূড়ায় বিউগল বেজে ওঠে,
শুরু হয় যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা, আর আমি
সর্বস্ব বিকিয়ে নিম্নমুখ আরোহণে যাই।

কী অবিশ্বাসে তাকিয়ে থাকে পতনোম্মুখ ইকারুস
যখন তোমার মোমের ডানাজোড় পঙ্গুত্ব মাপে,
আর পোষা প্রজাপতিদের রঙীন পাখা
তুমি একটা একটা করে ছেঁড়ো।

বিকেল

একটা অন্ধ নুলো বিকেলের কাছে
জিম্মি ছিল মাধুকরীর গোল বর্তনখানি।
বারবার করে সুধিয়েছিলাম, “আবার কবে?”
মাধুকরী কহেন, “হবে হবে।“
হয়েওছিল সত্যি-
একটা বেকার অন্ধ ছবি
একটা ভবঘুরে নুলো গল্প।
একটা অন্ধ নুলো বিকেলের কাছে
জিম্মি ছিল বুকাই’র বিশ্লেষণী ভালোবাসা
সাংবিধানিক ফুলস্টপে এসে অযথাই
টুপ করে ঝরেছিল একটা মার্কিনি টিয়ার শেল
আর একটা গুলফাম শৈশব।
একটা অন্ধ নুলো বিকেলের কাছে
জিম্মি ছিল আমার অদ্বিতীয় সত্তা;
আর মানচিত্রের আল ধরে এগিয়ে চলা
এক জোড়া উদাসীন স্যান্ডেল।
এক মহাদেশ থেকে আরেকে যাবার
সবচাইতে সংক্ষিপ্ত পথটি খুঁজতে গিয়ে
একটা অন্ধ নুলো বিকেলে
হতভাগ্য নোম্যান্স ল্যান্ডেই নেমে পড়েছিল
জীবনের গুরুভার পাণ্ডুলিপি।

উড্ডয়ন

অনেকগুলো চন্দ্রমাস পেরিয়ে এটাই জানা হলো-
ভালোবাসা মরে গেছে বহু আগে,
এখানে তার গোরের মাটিও থিতু,
হাওয়া দিলে সরে যায় না।

অনেকগুলো চন্দ্রমাস পেরিয়ে সামনে
তাকিয়ে কিছুই দেখি না আর,
বুঝে ফেলি এখানে চড়াই শেষ,
বুঝে ফেলি এটাই উড্ডয়নের কাল।

চন্দ্রলেখা ও বরুণ

চ: বনে যাচ্ছি
সঙ্গে যাবে?

ব: বনে? না গো,
বাঘে খাবে!

চ: যাচ্ছি সাগর পাড়
না বলো না আর।

ব: যেতাম তবে
সেই যে কবে
ভুলেছি সাঁতার!

চ: সাহারা ও থর ডিঙোতে চাই
চলো এবার মরুর দেশে যাই।

ব: বেদুঈন তো নই
মরুর তপন কেমন করে সই?

চ: পাহাড় দেবো পাড়ি
না গিয়েছো যদি তবে
আড়ি আড়ি আড়ি!

ব: আড়িই দিও তবে।
পাহাড় গিয়ে প্রাণ খোয়াবো?
তেইশ পেরোলাম সবে!

চ: তুষার ভালুক, মেরুর প্রভা
দেখবো এসব দিব্য শোভা।

ব: পড়লে তুষার ঝড়ের রোষে
নাকটা জমে পড়বে খসে।

চ: আচ্ছা তবে দু’জন মিলে
অস্তাচলের প্রান্তে দাঁড়াই,
পা বাড়ালেই অভিকর্ষ
অতল মহাশূণ্যে হারাই।

ব: কী যে বলো!
হারিয়েই তো আছি,
তোমার চোখের অমানিশায়
সব হারায়ে বাঁচি।

লেখক:
Rupa Farzana01
রূপা ফারজানা, কবি ও কথাকার

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.

About Author

বাঙালীয়ানা স্টাফ করসপন্ডেন্ট