শান্তনু মুখোপাধ্যায়ের কবিতা

Comments

হিসাব

মৃত ইচ্ছেটুকু কোলে নিয়ে বসে আছে সময়।
পাথর আর মানুষ, মানুষ আর পাথর যেন
তৃষ্ণার্ত বাতাস পেরিয়ে যাচ্ছে অন্ধকার মরু।

রুক্ষ ক্ষেত, নির্বাক পথ, পড়ে আছে জীবনের গল্প।
হয়তো বেওয়ারিশ লাশের মতোই অনধিকার প্রবেশে অভিযুক্ত সে।

হয়তো তার হাতে একটি অতিরিক্ত সংখ্যার জমাখরচ,
পুড়ে যাওয়া নক্ষত্রের শেষ বিন্দু —

হয়তো-বা দীর্ঘ রাত্রির ওপারে আলো জ্বেলে
বসে আছে ধ্রুবতারার অঙ্কুর।

মায়াবী ঈশ্বর

মহত্ত্বের সৌন্দর্যে ম্লান মায়াবী ঈশ্বর।
চাওয়া-পাওয়া লাভ-লোকসানের কাঁপা কাঁপা পথে
পড়ে আছে জীবনের জলছাপ যেন
হতাশা আর আশার মাঝখানে যাদুদণ্ড হাতে সময়ের মানচিত্র।
ব্রাহ্মমুহূর্তে উঠে আসা আলো ধুয়ে দেয় শীতল আতঙ্ক।
মহত্ত্বের সৌন্দর্যে ম্লান মায়াবী ঈশ্বর যেন
তলোয়ার নামিয়ে রেখে গভীর সমুদ্রে নেমে যায় বিজয়ী শিরস্ত্রাণ।

যাওয়া নিয়ে অত তাড়া করতে নেই, যাওয়া তো নিশ্চিত।
কেবল আলোর রেখায় ছায়াটুকু রেখো–

একটি অর্থহীন জিজ্ঞাসা

কত কৌশল, কত জ্যামিতি, কত সমীকরণ—
শত্রুর শেষ রেখে যেতে নেই। অথচ…
সম্মুখসমরে
বিপক্ষ বধ কিংবা প্রাণভিক্ষা নয়,
পরাজিত করাই ক্ষাত্রধর্ম।

দম্ভ, আস্ফালন—
ক্ষেপণাস্ত্রের ঠান্ডা গণিত।
ভারী থেকে আরও ভারী হয়ে ওঠে রাতের বাতাস;
বিনীত সত্যের কাছে নতজানু পরাজিতের দৃষ্টি।
মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও
যে বা যারা ওই ক্ষণটুকুর প্রতীক্ষায় বসে আছে,
তারা মৃত, না অতীত—
এই প্রশ্নই অর্থহীন।

গোলকধাঁধা

এক মূর্তিমান না মূর্তিমতী না মূর্তি না ছায়া—
আসে, খোঁজে, চলে যায়, আবার আসে।

আলোয় আসে, আঁধারে আসে, একাই আসে,
দলবেঁধেও আসে। যন্ত্রণায় আসে,
বেদনায় আসে, আনন্দেও আসে।

ওরা ভালো নেই। তবু কোথাও যেন সম্ভাবনাটা—
এখনও বেঁচে আছে।

অচেনা গন্তব্য। নতুন দিশা।
অন্ধকার না আলোর, জানা নেই;
শুধু গোলকধাঁধা থেকে বেরিয়ে আসার পথ।

ওদের বলতে শুনেছি,
পৃথিবী পথ না বদলালেও—
পথেই বদলে যায় পৃথিবী।

লক্ষ্মী পেঁচা

মেঘেদের ভেসে চলা দেখে
আনন্দে হাততালি দিতে দিতে বাচ্চা মেয়েটি,
রবিঠাকুর বলে—
নাম তার মতিবিল বহুদূর…
যে দলছুট মেঘটি এক কোণে একলা
গুটি গুটি চেয়ে থাকে,
তার নিকষ কালো বুকে ঘুমিয়ে আছে
মন খারাপের হাসি।

রাত-আকাশে মেঘেদের কবিতা শুনতে
গিয়ে দেখি— দুটো লক্ষ্মী পেঁচা।

তাদের পিছু নিতেই,
শুকতারাটি কানের কাছে মুখ রাখে—
আমার আর কবিতা শোনা হয় না।

লেখক:
Shantanu Mukhopadhaya
শান্তনু মুখোপাধ্যায় (রাজাবাবু)
কবি; কাটোয়া পূর্ব বর্ধমান

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.

About Author

বাঙালীয়ানা স্টাফ করসপন্ডেন্ট