শিশু মরিয়মের ধর্ষণকারী জামিনে, দিচ্ছে হুমকি, নিশ্চুপ ওসি কথা বলতে নারাজ

Comments

কালিয়াকৈর থানায় ৪ এপ্রিল, ২০১৯, দায়েরকৃত শিশু ধর্ষণের একটি মামলার আসামী মো. নুরু মিয়াঁ ধর্ষিতার পরিবারকে হয়রানী করছে এবং হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষিত শিশুর মা শিউলি আক্তার বাঙালীয়ানা প্রতিবেদককে এ অভিযোগ করেন।

৩ এপ্রিল দুপুরে মরিয়ম মায়ের কোলে বসে খেলা করছিল। পাশের বাড়ীর ভাড়াটিয়ার মেয়ে চৈতি এসে মরিয়মকে নিয়ে যায় তাদের বাড়ীতে। ঘন্টা খানেক পর আকাশছোঁয়া চিৎকারে কেঁপে ওঠে চারপাশ। খানিক বাদে চৌতি দৌড়ে এসে মরিয়মকে বাড়ির বারান্দায় রেখে চলে যায়। মরিয়মের মা শিউলি আঁতকে উঠে জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে? থরথর করে কাঁপতে থাকা মরিয়ম শুধু “ব্যথা…ব্যথা” বলতে থাকে বলে জানান শিউলি আক্তার।

শিউলি আক্তার বলেন, ‘ভাবছিলাম খেলতে গিয়ে হয়তো ব্যথা পাইছে। কিন্তু রাতে মরিয়মের চিৎকার বাড়তেই থাকলে সকালে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়া যাই মরিয়মকে’। দায়িত্বরত চিকিৎসক মরিয়মকে ভালভাবে পরীক্ষা করে তারপর বলে মরিয়মকে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং মরিয়মের অপরিণত যৌনাঙ্গ ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে।

২ বছর ৪ মাস বয়সের ছোট্ট মরিয়ম গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানাধীন শ্রীফুলতলী গ্রামের ফজলুল হকের পুত্র ইমরান হুসাইন (সৌদি প্রবাসী) ও শিউলি আক্তারের কন্যা।

শিশু মরিয়মকে নিয়ে ধর্ষণের বিচার চেয়ে আইনের কাছে আশ্রয় নেন হতভাগ্য মা শিউলি আক্তার। কালিয়াকৈর থানা পুলিশ বিষয়টি প্রাথমিক তদন্ত করে এবং ভিকটিম শিশু মরিয়মকে দিয়ে সরাসরি শনাক্ত করা হয় বর্বর পৈশাচিক শিশুধর্ষক মো.নুরু মিয়াঁ (৩৮) কে। সে মৃত শাহজাহানের ছেলে।

মেডিকেল পরীক্ষার জন্যে পুলিশের এসআই এবং এই মামলার আইও আয়নাল ভিকটিমকে নিয়ে যায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে।

গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানাধীন শ্রীফুলতলী গ্রামের এক বাসার ভাড়াটিয়া মো. নুরু মিয়াঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ও তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেয় নুরু মিয়াঁ।

ধর্ষিত শিশুর মা শিউলি বলেন, মামলা করার পর ৫ মাস গেছে। এখন পুলিশ কইতেছে যে মেডিকেল রিপোর্ট নাকি নেগেটিভ আসছে। এদিকে জামিনে বের হয়ে নুরু মিয়াঁ আমাকে আর আমার পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হয়রানী ও হুমকি দিয়ে চলেছে। আমাকে সমাজ থেকে আলাদা করা হইছে। পরিবারের অন্য সদস্যদেরও সমাজচ্যুত করার ভয় দেখায়া চুপ করানোর চেষ্টা চলতেছে।

এদিকে স্থানীয় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে যে নুরু মিয়াঁ স্থানীয় এক মাদক ব্যবসায়ীর জনৈক “শাহজাদা”র প্রশ্রয়ে এবং সহযোগিতায় বুক ফুলিয়ে এলাকায় নিজেকে নির্দোষ বলে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

কালিয়াকৈর থানার ওসি আলমগীর হোসেন মজুমদারের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে মামলার ফাইনাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে এসপির অনুমোদনের জন্যে পাঠানো হয়েছে বলে জানান। তিনি এই মামলা নিয়ে আর কোন কথা বলতে অস্বীকার করেন এবং ফোন কেটে দেন।

স্থানীয় সাংবাদিক কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবের সভাপতি আইয়ুব রানা প্রতিবেদককে জানান, ‘ঘটনা আমি সম্প্রতি জানতে পেরেছি। শুনেছি স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীর প্রশ্রয়ে থাকা নুরু মিয়াঁ জামিনে বের হয়ে ভিক্টিমের পরিবারকে নানা ভাবে নাজেহাল করছে।

শিশু মরিয়ম ধর্ষণের দ্রুত বিচার ও ধর্ষক নুরুমিয়াঁর শাস্তির দাবীতে স্থানীয় জনগণ রোববার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, সকাল ১০টায় কালিয়াকৈর উপজেলা কার্যালয়ের সামনে এক মানববন্ধনের আয়োজন করেছে।

বাঙালীয়ানা/সিসি/এসএল

মন্তব্য করুন (Comments)

comments

Share.